মোবাইল ফোন অপারেটরদের অডিট নিয়ে ফের তোড়জোড়

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ফোন অপারেটরদের আয়-ব্যয়, ট্যাক্স-ভ্যাটসহ পরিচালন পদ্ধতি ও আর্থিক হিসাব অডিট করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সে জন্য নতুন করে আবারও আগ্রহপত্র (ইওআই) আহবান করেছে বিটিআরসি। নতুন ইওআই অনুসারে সবগুলো অপারেটরের অডিট (নিরীক্ষা) করা হবে।

তবে এর আগে ২০১১ সালে গ্রামীণফোনের অডিট করে বিটিআরসি ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা দাবি করে। তবে এ অডিট কার্যক্রমকে শীর্ষ অপারেটরটিসহ অনেকেই বিতর্কিত আখ্যা দিয়েছিলেন।

mobile operator_telecom_companies_techshohor

 

এমনকি অডিটকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠান ফজল অ্যান্ড কোম্পানির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে গ্রামীণফোন। বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতে গেলে অডিটর নিয়োগ অবৈধ ছিল বলে রায় দেয় হাইকোর্ট। পরে এ মামলার বিরুদ্ধে বিটিআরসি অবেদন করলে গত ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও আগের আদেশ বহাল রাখে।

এখন গ্রামীণফোনের অডিটও নতুন করে করা হবে কিনা সেটি অবশ্য কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। তবে বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল, সিটিসেল এবং টেলিটকের অডিট হবে।

এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে টেলিটকের অডিট হয়েছে। আর আগে গ্রামীণফোনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলালিংকের অডিট শুরু করা হলেও নানা করণে আর তা শেষ হয়নি।

নতুন ইওআই অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোনো নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানকে সহযোগী হিসেবে রেখে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে অডিট কার্যক্রমের মূল দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম দফায় আহবান করা ইওআইতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকেই মূল দায়িত্ব দেওয়ার উল্লেখ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

জানা গেছে, অডিট খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস বাংলাদেশের (আইসিএবি) আপত্তির প্রেক্ষিতে এক বছরের বেশি সময় পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে বিটিআরসি।

তবে নতুন করে ইওআই আহবান করায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার অনুমোদন দেয়া ইওআই অনুযায়ী আইসিএবির অনুমোদন রয়েছে এমন কোন আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে।

আবেদন করতে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা লাগবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

এর আগে মোবাইল অপারেটরগুলোর অডিটের জন্যে বিটিআরসি গত বছরের ৯ জানুয়ারি আগ্রহপত্র আহবান করে। তখন ১১টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। সেখান থেকে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকাও করা হয়। কিন্তু তারপর আটকে যায় সব।

এখন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে দরপত্র আহবান থেকে শুরু করে অন্যান্য কার্যক্রম। ফলে অডিট শেষ করতে এখন আরও অনেক সময় লাগবে। এতে করে সামগ্রিক লক্ষ্য ঝুলে যেতে পারে বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন।

Related posts

*

*

Top