Maintance

ডটবাংলা মিলছেই না, যুক্তরাষ্ট্রে তারানার চিঠি

প্রকাশঃ ৫:৩৭ অপরাহ্ন, জুন ২১, ২০১৬ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:২৫ অপরাহ্ন, জুন ২১, ২০১৬

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কয়েকদফা ঘোষণা দেয়ার পরও ডটবাংলা চালু করতে পারেননি টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ডোমেইন ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইন্ড নেইমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইক্যান) এর অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কমার্স সেক্রেটারির কাছে চিঠি লিখেছেন প্রতিমন্ত্রী।

কান্ট্রি কোড টপ-লেভেল এই ডোমেইন হিসেবে বাংলাদেশের জন্য ডটবাংলার বরাদ্দ থাকলেও ডোমেইন ম্যানেজার হিসেবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডকে (বিটিসিএল) আজও অনুমোদন দেয়নি আইক্যান। তাদের ওয়েবসাইটে রুট জোন ডাটাবেইজে স্পন্সরিং অর্গানাইজেশনে ঝুলে আছে ‘নট অ্যাসাইন’ স্ট্যাটাস।

এদিকে আইক্যানের কাছে আবেদন করে ডোমেইন ম্যানেজার হিসেবে সকল কাজ সম্পন্ন করেছে বিটিসিএল। দীর্ঘদিন আগে সংস্থাটির কাছে আবেদনও করেছে তারা। অথচ সংস্থাটির বোর্ড সভাতে অনুমোদনের জন্য তা উঠছেই না।

গত ৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কমার্স সেক্রেটারিকে লেখা চিঠিতে আইক্যানে ডটবাংলার অনুমোদনে প্রয়োজনীয় আবেদনে করা হয়েছে কথা উল্লেখ করে তারানা লিখেছেন, ‘আন্তজার্তিক মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও আবেগের স্থান হতে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ডটবাংলা চালুর ঘোষণা দিয়েছিলাম।’

চিঠিতে ডটবাংলার জন্য রুট-জোন ডেলিগেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করার জন্য কমার্স সেক্রেটারিকে অনুরোধ জানান তারানা হালিম।

মঙ্গলবার তারানা হালিম সাংবাদিকদের বলেন, আমি এখন পর্যন্ত আমার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। এই ডটবাংলার বিষয়ে এখনও অপেক্ষায় আছি। খুব শীঘ্রই এটাও বাস্তবায়ন করে ফেলবো।

.bangla

দেশে ডোমেইন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সরকারি সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটরস গ্রুপের (বিডিনগ) সহযোগিতায় বিটিসিএল প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, সার্ভার স্থাপন, বিভিন্ন কারিগরি প্রক্রিয়া ও ডোমেইন বিক্রির নীতিমালাও চূড়ান্ত করে রেখেছে।

ইন্টারনেট যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বিডিনগ বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ সাবির মঙ্গলবার টেকশহরডটকমকে জানান, ‘বাংলাদেশের দিকের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। যেহেতু আইক্যান যুক্তরাষ্ট্রের কমার্স ডিপার্টমেন্টের অধীনে তাই এ বিষয়ে ওদের সঙ্গে নিয়মিত যোগযোগ রেখে দ্রুত কাজটি করিয়ে নেয়াই ছিল প্রধান কাজ।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কমার্স ডিপার্টমেন্ট থেকে এখনও ছাড়পত্র পায়নি আইক্যান। তাই ডটবাংলাকে টপ লেভেল ডিএনএস সার্ভারগুলোতে লিপিবদ্ধ করতে অনুমোদন দেয়া হয়নি।’

তবে এই ইন্টারনেট যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ জানান, ‘আজ পর্যন্ত কোনো আবেদন বাতিলের রেকর্ড নেই আইক্যানের।’

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জাব্বার বলেন,‘প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তিনি ডটবাংলার জন্য চিঠি লিখেছেন, উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এখন আমরা দ্রুত এটি বাস্তাবয়নের অপেক্ষায়। তবে প্রতিমন্ত্র্রীর বর্তমান উদ্যোগের আগে ২০১০ সাল হতে এটি কোল্ডস্টোরেজে জমে ছিল তাতেই তো ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।’

তারানা হালিমকে সাধুবাদ জানিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের এই সদস্য বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের ভিত বাংলাভাষা। যদি ভাষা অন্দোলন না হতো তাহলে স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট আসতো না।  ডটবাংলা চালুর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের এটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে আইক্যানের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটরস গ্রুপের (বিডিনগ) সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম পাপ্পু।

তিনি তখন টেকশহরডটকমকে জানিয়েছিলেন, ‘ডটবাংলার জন্য পিসিএইচ ব্যাকআপ করে দেয়া হয়েছে। এতে কোনো কারণে বিটিসিএলের সার্ভার ডাউন থাকলে ডটবাংলার নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হবে না। সব প্রস্তুতি থাকার পরও আইক্যান আজও ডটবাংলার রুট জোন অ্যাসাইন করেনি।’

উল্লেখ্য, প্রথমে ২০১৫ সালের আগস্টে ঘোষণা দেয়া হয় ১৬ ডিসেম্বর ইন্টারন্যাশনালাইজড ডোমেইন নেইমে (আইডিএন) বাংলার(ডটবাংলা) উদ্বোধন করা হবে। পরে ১৭ নভেম্বর বিটিআরসির সঙ্গে এক বৈঠকে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন শুরুর কারণে ১৬ ডিসেম্বরের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এটি উদ্বোধন হবে।

এর পর ৬ জানুয়ারি সচিবালয়ে সরকারের দুই বছরে টেলিযোগাযোগ বিভাগের অর্জন ও ভবিষৎত পরিকল্পনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারানা আবারও বলেন, মাতৃভাষার প্রতি মর্যাদা জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ডোমেইন ডটবাংলার উদ্বোধন হচ্ছে।

কিন্তু পারেননি তারানা। আজও ঝুলে আছে ডটবাংলা।

তারও আগে ২০১১ সালে ইন্টারন্যাশনালাইজড ডোমেইন নেইমে (আইডিএন) লেখার ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় বাংলাদেশ।

২০১০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক ডোমেইন হিসেবে ‘ডটবাংলা’ কার্যকর করতে আইক্যান এর কাছে আবেদন করেছিল।
বাংলাদেশের আবেদনের পর সংস্থাটি বাংলা ভাষাকে মূল্যায়ন করে। এরপর ইন্টারনেট অ্যাসাইনড নাম্বারস অথোরিটির (আইএএনএ) অনুমোদনও মেলে।

এর পর এই ডটবাংলার দায়িত্ব কে নেবে সে বিষয়ে আইডিএনের কাছে আবেদন করে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি অবশিষ্ট ছিলো। কিন্তু ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তই নেয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: 

*

*

Related posts/