বকেয়ার ফেরে বাংলালায়ন-কিউবি, এলটিই চালুতে এগিয়ে ওলো

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এলটিই চালু করতে লাইসেন্স পেলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনতে পারছে না দুই ওয়াইম্যাক্স অপারেটর বাংলালায়ন ও কিউবি। তবে অপর বিদেশি অপারেটর ওলো অনুমোদন পাওয়ার আগেই এলটিইর যন্ত্রপাতি আমদানি করে নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ শুরু করেছে। যদিও পরে সর্বশেষ অপারেটর হিসাবে লাইসেন্স পেয়েছে ওলো।

জানা গেছে, আগের বকেয়া পরিশোধ না করায় বাংলালায়ন ও কিউবিকে এলটিইর (লং টার্ম ইভলিউশন) সরঞ্জাম আমদানির অনুমতি দিচ্ছে না টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি।

আগের কয়েক প্রান্তিকে রাজস্ব ভাগাভাগি (রেভিনিউ শেয়ারিং) এবং তরঙ্গ ফি হিসেবে এ দুই অপারেটরের কাছে পাওনার পরিমাণ ৫১ কোটি টাকা।

wimax lte_techshohor

গত বছরের শেষ দিকে ওয়াইম্যাক্স অপারেটর দুটিকে এলটিই প্রযুক্তি গ্রহণের অনুমোদন দিলেও এখন যন্ত্রপাতি আমদানির অনুমতি দিচ্ছে না বিটিআরসি।

এ দিকে এ দুটি অপারেটরের পরে গত বছরের একেবারে শেষ দিকে এলটিইর অনুমোদন পায় ওলো। কিন্তু লাইসেন্স নেওয়ার আগেই গত বছরের শুরুতে এ জন্য যন্ত্রপাতি আমদানি করে তা স্থাপনের কাজ শুরু করে দিয়েছে অপারেটরটি।

কমিশনের এ অবস্থানকে একই যাত্রায় দ্বিমুখী নীতি হিসাবে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

এখন পর্যন্ত এলটিই লাইসেন্স পাওয়া তিন অপারেটরের কেউ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। তবে একটি পক্ষ অভিযোগ করেছেন, কেবল ওলোর এলটিই লাইসেন্স নিয়ে যাতে কম আলোচনা হয় সে কারণে বাংলা লায়ন এবং কিউবিকে আগে এলটিইর অনুমোদন দেওয়া হয়। আর এখন টাকা বাকি থাকার অজুহাতে নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ আটকে দিয়ে ওলোকে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে দিচ্ছে কমিশন নিজেই।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলালায়ন এবং কিউইবির কাছে অনেক আগে থেকে টাকা বাকি বিটিআরসির। কিন্তু এতদিন তারা এ বিষয়ে যতোটা না সোচ্চার ছিলেন এখন তারচেয়েও অনেক বেশি তাগাদা দিচ্ছেন। আর এটিকেই সন্দেহের চোখে দেখেছেন অনেকে।

সূত্র জানিয়েছে, বাংলালায়নের কাছে তরঙ্গ ফি ও রেভিনিউ শেয়ারিং বাবদ বিটিআরসির ৩৩ কোটি ৯ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। কিউবির কাছে তাদের পাওনা ১৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এর আগে কোম্পানি দুটিকে বকেয়া পরিশোধে কিস্তি সুবিধা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কোম্পানি দুটি টাকা পরিশোধও করছে। কিন্তু এলটিই প্রযুক্তি আমদানির প্রসঙ্গ আসতেই অনুমোদিত কিস্তি সুবিধার কথা এড়িয়ে গিয়ে বিটিআরসি পুরো টাকাই দাবি করছে বলে জানিয়েছে সূত্র।

এদিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ওলো ইতোমধ্যে ঢাকার বেশ কিছু এলাকা এবং যশোরের কয়েকটি এলাকায় এলটিই প্রযুক্তি বসানোর কাজ শুরু করেছে। খুব তাড়াতাড়ি তারা উন্নততর ডাটা স্থানান্তরের এ প্রযুক্তি দেশে চালু করবে বলেও জানিয়েছে সূত্র।

Related posts

*

*

Top