লাইসেন্স ছাড়া বাংলাফোনের ট্রান্সমিশন ব্যবসা, রাজস্ব ফাঁকি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : লাইসেন্স না নিয়ে কেবল পারমিটের বদৌলতে বছরের পর বছর ব্যবসা করছে বাংলাফোন নামের একটি ল্যান্ডফোন কোম্পানি।

শুধু তাই নয়, বেসরকারি ল্যান্ডফোন সেবা দেওয়ার জন্য অনুমোদন থাকলেও কোম্পানিটি ট্রান্সমিশনের ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির পারমিট নিলেও সরকারের অনুমোদন নেই।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে বেসরকারি পর্যায়ে ল্যান্ডফোন কার্যক্রম চালাতে লাইসেন্স পায় আমজাদ খান নামে এক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর এ কোম্পানি। তবে ২০১১ সাল থেকে একের পর এক পারমিট নিয়ে ট্রান্সমিশনের ব্যবসা চালাচ্ছে অপারেটরটি।

bangla phone_techshohor

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পারমিটের মাধ্যমে ট্রান্সমিশনের ব্যবসা করতে গিয়ে বাংলাফোন সরকারকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এ ব্যবসার জন্যে এনটিটিএন লাইসেন্স নিলে ফি দিতে হবে ৩ কোটি টাকা। প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন ফি আরও ২৫ লাখ টাকা। এর প্রতিটির সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট। সঙ্গে রয়েছে রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের শর্ত। এ ছাড়া নেটওয়ার্ক রোলআউটের অবলিগেশন এবং এ জন্য জামানত দশ কোটি টাকা।

অন্যদিকে আইন অনুসারে পারমিট সংক্রান্ত যে কোনো বিষয় বিটিআরসির সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা সরকারের। কিন্তু এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে দফায় দফায় তাগাদা দিয়েও বিটিআরসির কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পায়নি।

তবে সম্প্রতিটি বিষয়টি জানাজানি হলে পারমিটের ভূতপূর্ব অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পাঠায় বিটিআরসি। পাশাপাশি এ পারমিটের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে কমিশন।

সর্বশেষ দফায় ট্রান্সমিশনের জন্য বাংলাফোনের পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে আগামী এপ্রিলে।

মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এতসব কিছু ফাঁকি দিয়ে কেবল পারমিটের মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অপারেটরটি। আর এর পেছনে বিটিআরসির পদস্থ কর্মকর্তারা জড়িত আছে বলেও অভিযোগ অনেকেরে।

এদিকে এনটিটিএন নীতিমালা অনুসারে কোনো মোবাইল ফোন বা ল্যান্ডফোন অপারেটর এ লাইসেন্স পাবে না। সেক্ষেত্রে বাংলাফোনের এ লাইসেন্স পাওয়ার কোনো সুযোগও নেই। তবে ট্রান্সমিশন ব্যবসায় নামতে হলে অবশ্যই ল্যান্ডফোনের ব্যবসা ছাড়তে হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ২০০৮ সালে একটি মামলা দায়ের করা হলে আদালতও বিটিআরসির পক্ষে রায় দেয়। এমনকি মামলা করে আদালতের সময় নষ্ট করায় বাংলাফোনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করেন বিচারক।

ওই মামলায় বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, আইনগত কারণে বাংলাফোন ট্রান্সমিশন ব্যবসা করতে পারবে না। এমনকি লাইসেন্স পেতে হলে ল্যান্ডফোনের লাইসেন্স ছাড়তে হবে।

কিছুদিন আগে বিটিআরসির বর্তমান আইন উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানও বাংলাফোনকে ট্রান্সমিশনের পারমিট না দিতে বিটিআরসিকে এক প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে। তবে এ সুপারিশকে পাত্তা দিচ্ছে না কমিশন।

Related posts

*

*

Top