সীমান্তে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত, সমাধান হচ্ছে না

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সীমান্তের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের ইন্টারফেয়ারেন্স সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকলেও এর সমাধান হচ্ছে না।

এ কারণে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সীমান্তের দুই থেকে ছয় কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত তিনটি ভারতীয় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

mobile phone network_techshohor

হিলি স্থলবন্দরসহ সীমান্তবর্তী অনেক এলাকায় স্থানীয়রা ভারতীয় মোবাইল ফোনে বেশি কথা বলেন। এসব এলাকায় বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরের সংযোগ মিললেও নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল। আবার কোথাও কোথাও ভারতীয় কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক এবং স্পেকট্রামের মধ্যেও সাংঘর্ষিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা সরকারি পর্যায়ে কাজ করছেন। খুব তাড়াতাড়ি এর সমাধান হয়ে যাবে বলেও আশা করেন কমিশনের  ইঞ্জিনিয়ারিং ও অপারেশন বিভাগের মহাপরিচালক কর্নেল জাকির হোসেন।

গত মাসে এক অনুষ্ঠানে ডিজি বলেন, এ বিষয়ে ভারতকে কয়েকবার লেখা হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টির সমাধানে সরকারি পর্যায়ে মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ উল্টো অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তারা বলছেন, বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক ওই দেশের অভ্যন্তরে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত রয়েছে। স্পেকট্রামের সংঘর্ষিক প্রতিক্রিয়ার (ইন্টারফেয়ারেন্সর) কথা জানিয়েছে তারা। বিজিবির মাধ্যমে এমন অভিযোগ বিটিআরসির কাছে এসেছে।

তবে বাংলাদেশি অপারেটরগুলোও সীমান্তে ইন্টারফেয়ারেন্স পাচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করতে গ্রামীণফোন এবং রবি সীমান্তে টেকনিক্যাল জরিপও করে। তাতে তিনটি ভারতীয় মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে সীমান্তে গ্রামীণফোন এবং রবির নেটওয়ার্কের সমস্যা ধরা পড়ে।

ভারতের বিএসএনএল ও রিলায়েন্সের স্পেকট্রামের কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোয় রবির স্পেকট্রামে ইন্টারফেয়ারেন্স হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের শীর্ষ মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের স্পেকট্রামের সমস্যা বাড়াচ্ছে ভারতের বোডফোনের স্পেকট্রাম।

গ্রামীণফোন এবং রবি বিটিআরসির কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করে। অপারেটর দুটি কমিশনে দেওয়া তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার মাঠ পর্যায়ের জরিপের তথ্যও দিয়েছে।

বিটিআরসি বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় টাওয়ার বা বেস স্পেশান নির্মানের ক্ষেত্রে কোনো দেশের মোবাইল ফোন অপারেটর নিয়ম মানে না। উভয় দেশে সীমান্তের খুব কাছাকাছি টাওয়ার স্থাপন করা হয়। সে কারণে সমস্যা বেশি হয়েছে।

বিটিআরসিতে জমা দেওয়া গ্রামীণফোনের প্রতিবেদনে জানা গেছে, দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটারের ভেতরে ভারতীয় ভোডাফোনের নেওটওয়ার্ক পাওয়া যায়। সহজেই সীমান্তের এ দূরত্বের মধ্যে থেকে ওই মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে কথা বলা যায়। তাছাড়া এ দূরত্ব পর্যন্ত ভোডাফোনের স্পেকট্রামে গ্রামীণফোনে ইন্টারফেয়ারেন্স হয়। একই অপারেটরের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার জীবন নগর ও নওগাঁর কয়েকটি এলাকায় সাড়ে চার কিলোমিটার পর্যন্ত নেটওয়ার্কে সমস্যা হয়।

কুষ্টিয়ার পরাগপুরও সীমান্তের ভেতরে চার কিলোমিটারের বেশি এলাকায় ভোডাফোনের সংযোগ মেলে। চাপাঁইনবাগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে নেটওয়ার্ক মেলে। তাছাড়া সাতক্ষ্মীরার দেবহাটা বা পঞ্চগড়েও অনেক এলাকায়ও একই সমস্যার কথা উল্লেখ করে গ্রামীণফোন।

একইভাবে রবির নেটওয়ার্কেও সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারফেয়ারেন্স হয়। অপারেটররা জানিয়েছেন, সীমান্তের অনেক এলাকায় দুই দিকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক এমন হয়ে গেছে যে, একটি আরেকটির ওপর ওভার ল্যাপ করে।

এ সমস্যার কারণে কখনো সীমান্তবর্তী এলাকায় দেশি মোবাইল ফোনে কথা বললেও সেটি ভারতীয় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক হয়ে আসে। যার কারণে সেটি রোমিং কল হিসেবে বিবেচিত হয়।

সূত্র জানিয়েছে, কিছুদিন আগ পর্যন্ত ভারতীয়রা সীমান্তের দশ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের অপারেটরগুলো সীমান্তের আট কিলোমিটার দূরে বিটিএস বসাত। কিন্তু ভারতীয়রা এ কড়াকড়ি শিথিল করে সীমান্তের একেবারে কাছে চলে আসে। পরে বিটিআরসিও নীতিমালা শিথিল করে সীমান্তের এক কিলোমিটারের মধ্যে বিটিএস বসানোর অনুমোদন দেয়।

তবে সীমান্তে বিটিএস স্থাপনের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা থাকলেও কিছুদিন আগে একটি মোবাইল ফোন অপারেটর বিটিআরসির কোনো রকম অনুমোদন না নিয়েই সীমান্তে ১৯১টি বিটিএস বসায়। পরে  তারা ক্ষমা চাইলে বিটিআরসি নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেয়।

Related posts

*

*

Top