থ্রিজির স্পেকট্রাম বদলাতে চায় টেলিটক

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নিলামের এক বছর আগে দশ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম নিয়ে পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে টেলিটক। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এটি ব্যবহার করে সেবাও দিচ্ছে রাষ্ট্রয়ত্ত্ব মোবাইল অপারেটরটি। তবে এখন স্পেকট্রাম বদলে নিতে চায় তারা।

দেশের ১৮ জেলায় থ্রিজির বাণিজ্যিক সেবা দিলেও এখনও পরীক্ষামূক অবস্থাতে রয়েছে অপারেটরটি। এ পরিস্থিতিতে ২১০২ সালে বরাদ্দ নেওয়া স্পেকট্রাম বদলে ১৯৩০-১৯৪০ মেগাহার্ডজে আপলিংক এবং ২১২০-২১৩০ মেগাহার্ডজে ডাউনলিংক চাইছে তারা। এটি না হলে একটি বিকল্প হিসাবে ১৯৪০-১৯৫০ মেগাহার্ডজে আপলিংক এবং ২১৩০-২১৪০ মেগাহার্ডজে ডাউনলিংক চেয়ে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসিকে প্রস্তাব দিয়েছে।

Teletalk_3G_Techshohor

শুরুতে থ্রি জির জন্য ১৯৬০-১৯৭০ মেগিাহার্ডজে আপলিংক এবং ২১৫০-২১৬০ মেগাহার্ডজে ডাউনলিংক নেয় টেলিটক।

স্পেকট্রাম বদলে নেবার কারণ হিসাবে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, তাদেরকে ওপরের দিককার স্পেকট্রাম দেওয়া হয়েছে। এটি ততোটা শক্তিশালী নয়, যতোটা শক্তিশালী নিচের দিককার স্পেকট্রাম। সে কারণেই এটি বদলে নিতে চেয়েছিলেন তারা।

সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরটির এমন প্রস্তাব টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) পাঠিয়েছে। বিটিআরসি অবশ্য ইতোমধ্যে এমন প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেলিটক বা মন্ত্রনালয়ের যে কোনো একটি প্রস্তাব গ্রহণ করলে নিলামের মাধ্যমে বরাদ্দ করা স্পেকট্রাম পুনবিন্যাস করতে হবে।

ব্যাখ্যা হিসেবে কর্মকর্তারা বলছেন, থ্রি জির জন্য সব মিলে স্পেকট্রাম আছে ৭০ মেগাহার্ডজ। অত্যন্ত শক্তিশালী এ স্পেকট্রামের অবস্থান আপলিংকে ১৯২০-১৯৬০ এবং ডাউনলিংকে ২১২০-২১৭০ পর্যন্ত।

আগে ১৯৬০-১৯৭০ মেগাহার্ডজে আপলিংক এবং ২১৫০-২১৬০ মেগাহার্ডজে ডাউনলিংক দশ মেগাহার্ডজ বাদ রেখে নীচের ২৫ মেগাহার্ডজ বরাদ্দ নিয়েছে চারটি অপারেটর। সেক্ষেত্রে এখন খালি আছে কেবল একেবারে নীচের দিকের ১৫ মেগাহার্ডজ।

এ ১৫ মেগাহাডর্জ নিয়ে বিটিআরসির আরও বড় রকমের পরিকল্পনা আছে বলে জানা গেছে। এখান থেকে টেলিটককে দেওয়া হলে তখন বিটিআরসির খালি থাকা স্পেকট্রাম দুটি ভিন্ন ভাগে পড়ে যাবে। পরবর্তীতে বিক্রি করতে গেলে দুটি ভিন্ন জায়গায় হওয়ায় এর যথাযথ মূল্য পাওয়া যাবে না, বলে বিটিআরসির কর্মকর্তাদের আশংকা।

তাছাড়া টেলিটক যেভাবে চেয়েছে তাতে প্রথম বিকল্পে গ্রামীণফোনের দশ মেগাহার্ডজের মধ্যে পাঁচ মেগাহার্ডজ এবং এয়ারটেলের পাঁচ মেগাহার্ডজ চেয়েছে তারা।

দ্বিতীয় বিকল্পে খালি থাকা পাঁচ মেগাহার্ডজের সঙ্গে তারা চেয়েছেন গ্রামীণফোনের পাঁচ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম।

তবে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর বলেন, ২০১২ সালে যখন স্পেকট্রাম বরাদ্দ করা হয়, তার পরপরই তারা স্পেকট্রাম পরিবর্তনের বিষয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, অন্তত দেড় বছর পর তাদের আবেদন বিটিআর কমিশন বৈঠকে উঠিয়েছে। সে কারণে এখন মনেহচ্ছে গ্রামীণফোনের নামে বরাদ্দ করা স্পেকট্রাম থেকে টেলিটক বরাদ্দ চাইছে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়।

Related posts

*

*

Top