সিটিসেল নিয়ে দ্বিধায় বিটিআরসি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বকেয়া টাকা পেতে ১৫ দিন সময় দিয়ে নোটিশ দিলেও সিটিসেল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এরই মধ্যে এক মাস পেরিয়ে গেছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে কমিশনের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা থাকায় ধীরে চল নীতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং আইন-কানুন এবং বিধিবিধান আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর দেশের ও দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কাছে বিভিন্ন খাতে ২৪৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা আদায়ে লাইসেন্স বাতিলের কথা জানিয়ে নোটিশ দেয় বিটিআরসি। এ সময়ের মধ্যে টাকা দেওয়া না হলে লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

Citycell-btrc-TechShohor

চিঠি পাওয়ার পর সিটিসেল এপ্রিল পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করে। কিন্তু অপারেটরটির অনুরোধ যেমন বিটিআরসি অনুমোদন করেনি, তেমনি তা প্রত্যাখ্যানও করেনি। বরং মধ্যবর্তী একটি অবস্থান নিয়েছে কমিশন।

এদিকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে সিটিসেল কি পদক্ষেপ নিতে পারে সে ধারণা মন্ত্রনালয়কে দিয়ে রেখেছে কমিশন। মন্ত্রনালয়ও কমিশন কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেছে। আইনগতভাবে লাইসেন্স বাতিলের একমাত্র এখতিয়ার সরকারের। এক্ষেত্রে বিটিআরসি কেবল সুপারিশ করতে পারে।

জুন পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির পাওনা ছিল ১৪৫ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে শুধু স্পেকট্রাম ফি এবং রেভিনিউ শেয়ারেরিংয়ের অংশ হিসাব করা ছিল। আর সেপ্টেম্বর শেষে এ অংক ২৪৯ কোটি টাকা পেরিয়ে গেছে। এবার এর মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অংশ এবং লেট ফিও যোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির এক কমিশনার বলেন, টাকা বাকি রাখার জন্যে সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের জন্যে সুপারিশসহ  একই সঙ্গে তারা টাকা আদায়ে মামলাও করতে পারে বিটিআরসি।

এদিকে অপারেটরটি গত টানা ১৮ মাস ধরে গ্রাহক হারাচ্ছে বলে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে। বছরের শুরুতে ১৮ লাখ গ্রাহক থাকলেও সেপ্টেম্বরের শেষে গ্রাহক ১২ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহক সংখ্যায় এখন তারা দেশের সবচেয়ে ছোট অপারেটর।

এর আগে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন অপারেটরের কাছে বকেয়া বাবদ কয়েক হাজার কোটি টাকা আদায়ের অংশ হিসেবে ১৬১তম কমিশন বৈঠকে বিটিআরসি সিটিসেলকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিটিআরসি জানিয়েছে, টাকা আদায়ে প্রয়োজনে সরকারি কোম্পানিসহ সব অপারেটর ও প্রতিষ্ঠানের  বিরুদ্ধে মামলা করাসহ লাইসেন্স বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত জুন পর্যন্ত পাওনার পরিমাণ ২ হাজার ৬১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। তবে ইতোমধ্যে তা তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে কমিশন কর্মকর্তারা জানান।

Related posts

*

*

Top