থ্রিজি ভোগান্তিতে গ্রাহক, নির্বিকার টেলিটক

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন টেলিটকের থ্রিজি ব্যবহারকারীরা। মডেমের পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারেও নেটওয়ার্ক বিভ্রাটে পড়েছেন তারা। যখন তখন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে অভিযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।

টেলিটক কর্তৃপক্ষ নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকার কথা স্বীকার করলেও কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে তা জানাতে পারছে না। বিরোধী জোটের অবরোধকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের পথে বাধা হিসাবে দাঁড় করিয়েছে।

Teletalk_3G_Techshohor

অনেকে বাধ্য হয়ে টেলিটকের ফেইসবুকে পেইজ ‘টেলিটক লাইভ’ এ অভিযোগ করছেন। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া নেই কর্তৃপক্ষের। গত ২৯ ডিসেম্বর এ সমস্যার কথা স্বীকার করে একটি স্ট্যাটাস দেয় টেলিটক। সেখানে বলা হয়, ‘টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়েছে। তবে অবরোধের কারণে সেটি স্থগিত। এ জন্য অনেকে ডিসকানেক্ট সমস্যায় ভুগছেন। এটি সাময়িক, যে কোনো সময় ঠিক হয়ে যাবে।’

সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান দিতে না পেরে টেলিটক পেইজটি থেকে একটি থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে। তবে সফটওয়্যারটি অ্যান্টিভাইরাস দেওয়া কম্পিউটারগুলোতে ট্রোজান ভাইরাস হিসেবে দেখাচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

এ সমস্যার সমাধান কবে হবে সে বিষয়ে পেইজটিতে অনেকেই জানতে চাইলেও কোনো উত্তর দেয়নি কর্তৃপক্ষ। পেইজটিতে গিয়ে দেখা গেছে, কাস্টমার কেয়ারের মতো ফেইসবুক পেইজ থেকেও গ্রাহকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় না।

রাষ্ট্রায়ত্ব মোবাইল অপারেটরটি দেশে সবার আগে থ্রিজি সেবা নিয়ে আসে। প্রথম দিকে গ্রাহকরা বেশ আগ্রহ নিয়ে নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহারে টেলটককে বেছে নেন। অন্য অপারেটররা পুরাতন সিমে থ্রিজি সেবা দিলেও টেলিটক গ্রাহকদের নতুন সিম কিনতে হয়েছে। সেবার প্রায় ২ বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রাহক ভোগান্তি দূর হয়নি এখনও।

টেলিটকের থ্রিজি ব্যবহারকারীদের অভিযোগ বেশ কিছু দিন ধরেই। বিশেষ করে মডেম কিংবা স্মার্টফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটছে। ভাগ্যগুণে সংযোগ থাকলেও স্পিড অনেক ধীরগতির। বেশিরভাগের অভিযোগ ফেইসবুক কিংবা গুগলের মতো ওয়েবসাইট লোড হতেও ২/৩ মিনিট লেগে যাচ্ছে। সেখানে অন্য ওয়েবসাইটের তো কথাই নেই!

প্রথম থেকেই টেলিটক থ্রিজি ব্যবহারকারী দৈনিক মানবকন্ঠের সাংবাদিক এনামুল হক মনি বলেন, ‘মডেমের সংযাগ এই আছে, এই নেই। কাস্টমার কেয়ারে কল করলেও কেউ ফোন ধরেন না। এমনকি কাস্টমার ম্যানেজারদের পেলেও তারা শুধু সময় ক্ষেপন করেন। কোনো পথ বাতলে দেওয়ার বদলে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে কল ট্রান্সফার করে দায় সারেন।’

তাসাউর ইন্টার‍্যাক্টিভের প্রোডাক্ট ইভানজেলিস্ট অমি আজাদেরও অনেক অভিযোগ কল সেন্টার নিয়ে।

একইভাবে জুয়েল মল্লিক নামে একজন বলেন, ‘দেশের টাকা কিভাবে দেশে রাখবো? নেট ভালো না, কাস্টমার কেয়ারে ফোন ধরে না, কানেকশন পাইতে পাইতে শেষ। তাহলে কিভাবে এটা ব্যবহার করা যাবে?’

স্মার্টফোন থেকেও নেট ব্যবহারে একই সমস্যার হচ্ছে জানিয়ে ফেইসবুকে অভিযোগ করেছেন- রোটেটিং রোটর, আরিফুল ইসলাম আরমান, তরিকুল আনিস, সারওয়ার জামান চন্দন, জোবায়দা ইসলাম, মাবরুর হাসান, মুরশিদুল মারুফ, পিয়াল খান, হৃদয় পার্থ, মাজহারুল ইসলাম মুন্না, আশিক রহমানসহ অনেকে।

এ বিষয়ে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান গ্রাহক ভোগান্তির কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, “সমস্যাটি মূলত টেলিটকের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি সেবাদানকারী হুয়াওয়ের দিক থেকে। তাদেরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে হরতাল-অবরোধের কারণে তারা কাজ করতে পারছেন না। তবে সব সমস্যা পেরিয়ে খুব শিগগিরই এই সমস্যা সমাধান করা হবে”।

Related posts

*

*

Top