দুই মাস পর ৩ শতাংশ স্পেকট্রাম ফি দিল টেলিটক

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এক বছরেরও বেশী সময় তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল সেবা দেওয়ার পর লাইসেন্স দিয়েছিল টেলিটক। আর এবার ১ হাজার ৭১৪ কোটি ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা স্পেকট্রাম ফি’র মধ্যে মাত্র ৫০ কোটি টাকা জমা দিল তারা। এটি মোট ফি’র ৩ শতাংশেরও কম। তাও নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পর।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটরটি বিটিআরসি’র কাছে এই ফি জমা দেয়। টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসের কাছে ৫০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন।

Teletalk spectrum-TechShohor

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর টেলিটক লাইসেন্স ফি’র ১০ কোটি টাকা এবং লাইসেন্স ফি’র ভ্যাট হিসেবে ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করে।

অপারেটরটি ২১’শ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম নিয়েছে। তারই ফি হিসেবে এবার টাকা জমা দিল তারা। থ্রিজি’র নীতিমালা অনুসারে ২৩ অক্টোবর ছিল স্পেকট্রামের ৬০ শতাংশ মূল্য পরিশোধের শেষ দিন।

এর আগে অক্টোবরের শুরুতেই টেলিটকের পক্ষে থ্রিজি স্পেকট্রামের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ জন্যে দুটি বিকল্পের কথা বলেছে অপারেটরটি। প্রথমত ১ হাজার ৭১৪ কোটি ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মাফ করে দেওয়া, দ্বিতীয়ত দীর্ঘমেয়াদী কিস্তি।

এই চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি অর্থমন্ত্রণালয়। তবে গত সপ্তাহে টেলিযোগাযোগ সচিব এবং টেলিটকের বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, সরকার টাকা না দিলে টেলিটকের পক্ষে এই পরিমান টাকা জোগাড় করা সম্ভব হবে না। তবে সরকার এই টাকা ধার হিসেবে দিয়ে দিলে পরে টেলিটক সেটি পরিশোধ করতে পারবে।

থ্রিজি’র নীতিমালা অনুসারে অপারেটরটিকে ২৩ অক্টোবরের মধ্যেই ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ সাড়ে ১০ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি এবং ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য হিসেবে আরও ১ হাজার ২৪ কোটি ৬৩ লাভ ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর নিলামে ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২১ কোটি ডলার। ওই দিনের হিসাব অনুসারে প্রতি ডলারের মূল্য ৭৭ দশমিক ৭৫ টাকা ধরে এ সংক্রান্ত হিসাব নিরুপিত হবে। স্পেকট্রাম মূল্যের ৬০ শতাংশ দেওয়ার কথা ৮ সেপ্টেম্বরের পরের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে। সঙ্গে দিতে হবে আরও ৫ শতাংশ ভ্যাট।

মাঝখানে একটি আলোচনা এসেছিল যে, দেনার পরিমান কমাতে ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের জায়গায় টেলিটক ৫ মেগাহাডর্জ স্পেকট্রাম নেবে কিনা। কিন্তু মুজিবুর সেই চিন্তা উড়িয়ে দিয়েছেন।

নিলামে গ্রামীণফোন ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম নিলেও রবি, এয়ারটেল এবং বাংলালিংক ৫ মেগাহার্ডজ করে স্পেকট্রাম নিয়েছে। গত বছর ১৪ অক্টোবর থেকে থ্রিজি’র ‘পরীক্ষামূলক’ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে টেলিটক। এ পর্যন্ত তারা ১৮টি জেলায় সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে। টেলিটকের থ্রিজি’র গ্রাহক সাড়ে ৫ লাখ।

২০১২-১৩ অর্থ বছরের শেষে টেলিটকের রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৬৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে অপারেটিং প্রফিট ১১৭ কোটি টাকা। টেলিটক আশা করছে এর মধ্যে ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকা নেট লাভ হবে।

২০১১-১২ সালে অপারেটরটির রাজস্ব আয় ছিল মাত্র ৩৬৭ কোটি, যার মধ্যে অপারেটিং প্রফিট ৬৫ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে অপারেটরটির রাজস্ব আয় এক হাজার কোটি টাকার বেশী হবে বলেও আশা মুজিবুর রহমানের।

Related posts

*

*

Top