মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা চরমে

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাজধানী ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ‘এই আছে এই নেই’ অবস্থায় চলছে। কল ড্রপ বেড়েছে আশংকাজনক হারে। কথা বলার মাঝখানে যখন তখন লাইন কেটে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এসএমএস পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ঘন্টার পর ঘন্টা বিলম্ব হচ্ছে।

মোবাইল ফোন অপারেটররা বলছে, উচ্চগতির থ্রিজির নেটওয়ার্ক তৈরি করতে গিয়ে গ্রাহক সেবায় বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টুজি প্রযুক্তির নেটওয়ার্ককে থ্রিজিতে আপগ্রেড করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক উল্টো আরও সংযোগ বিচ্ছিন হয়ে যেতে পারেন।

mobile intwork_techshohor

রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় বেসরকারি অপারেটরগুলো এখন থ্রিজি নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ করছে, সে কারণে এসব এলাকার গ্রাহকদেরকে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

অপারেটররা স্বীকার করেছেন, এসব এলাকায় তাদের ভয়েস কলের সাক্সেস রেট আগের চেয়ে কমে গেছে। সব মিলে আগামী আরও অন্তত তিন থেকে ছয় মাস এ পরিস্থিতি থাকতে পারে বলে বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের কারিগরি কর্মকর্তাদের আশংকা।

তবে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের একটি ছাড়া আর কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অনানুষ্ঠানিকভাবে তারা বলেছেন, ছয় মাস লাগবে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে। তারপর আরও তিন মাস লাগবে এর অপটিমাইজেশন করতে। এ সময় পর্যন্ত গ্রাহকদের খানিকটা সমস্যা হবে বলে জানান তারা।

রবির প্রধান কারগরি কর্মকর্তা একেএম মোরশেদ এ বিষয়ে বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ না হলেও মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় এ অবস্থা থাকবে। তবে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা রাতের বেলায় কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

মোরশেদ বলেন, এরপরও একটি এলাকায় নেটওয়ার্ক তৈরির পর টিউনিং শেষ হওয়া পর্যন্ত সাত থেকে দশ দিন পর্যন্ত লাগছে। এ সময়ে গ্রাহকদের দূর্ভোগের জন্যে রবির পক্ষ থেকে দু:খ প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে ইতিমধ্যে দেশের ১৮টি জেলায় থ্রিজি নেটওয়ার্ক তৈরি করা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, গত বছর অক্টোবর মাসে প্রথম দিকে তারা যখন থ্রিজি নেটওয়ার্ক তৈরি করছিলেন তখন তাদেরকেও একই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। নতুন চারটি অপারেটরকেও এ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

মুজিবুর রহমান বলেন, এ পরিস্থিতি অপারেটরগুলো কিভাবে মোকাবেলা করবেন সেটির ওরপর নির্ভর করবে গ্রাহক ভোগান্তি কোন পর্যায়ে পৌঁছায়।

লাল রঙের একটি মোবাইল অপারেটরের এক কর্মকর্তা বলেন, ইতিমধ্যে তারা বিটিএসগুলো থেকে ১৮০০ ব্যান্ডের উপযোগী অ্যান্টিনা খুলে নিতে শুরু করেছেন। তার বদলে সেখানে যোগ করছেন ১৮০০ ও ২১০০ ব্যান্ডের উপযোগী ডুয়েল অ্যান্টিনা। এসব পরিবর্তনের সময়ে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে গ্রাহক ভোগান্তি অনেক বেশি হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যতোদিন পর্যন্ত পুরো দেশের নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ শেষ না হবে, ততো দিন এলাকাভেদে কম-বেশি সমস্যা থাকবে। এর আগে অপারেটরগুলো যখন নেটওয়ার্ক সোআপ করেছে তখনও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

Related posts

*

*

Top