বছর বছর লোকসান বাড়ছে বিটিসিএলের

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কোম্পানি হওয়ার পর প্রথম বছর মুনাফা করলেও পরের টানা চার বছর লোকসান থেকে বেরুতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত্ব টেলিযোগাযোগ কোম্পানি বিটিসিএল। বরং প্রতি বছর লোকসান কেবল বাড়ছেই। সর্বশেষ ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫৪৪ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে কোম্পানিটিকে।

দেশের বৃহত্তম ল্যান্ডফোন অপারেটরটি বড় ধরনের লোকসানে পড়লেও সর্বশেষ অর্থবছরে লাভের মুখ দেখেছে সরকারের অন্য চারটি টেলিযোগাযোগ কোম্পানি।

btcl-logo_techshohor

শেষ হওয়া অর্থবছরে বিটিসিএল আয় করেছে ১ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। আর ব্যয় করেছে ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। আয় কমার ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে কোম্পানিরি কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল থেকে রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার উল্লেখ করেছেন। তাদের যুক্তি আন্তর্জাতিক কল টারমিনেশনের ক্ষেত্রে এখন অনেকগুলো অপারেটর তৈরি করেছে সরকার। অথচ এক সময় একচ্ছত্রভাবে এর দখলদারিত্ব ছিল বিটিসিএলের।

আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল থেকে এক সময় এক হাজার থেকে ১২’শ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় হলেও গত অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০১ কোটি টাকায়। তবে স্থানীয় আয় আগের মতোই আছে। শেষ হওয়া অর্থবছরে এ খাতে আয় করেছে ৬৫৪ কোটি টাকা।

২০১১-১২ অর্থ বছরে বিটিসিএল আয় করেছিল ২ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। আর খরচ করেছে ২ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। এর আগের বছর আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। আর ব্যয় করেছিল ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। একইভাবে ২০০৯-১০ অর্থবছরে আয় ও ব্যয় ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ২৪১ কোটি এবং ১ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা।

তবে কোম্পানি হওয়ার পর প্রথম বছরে (২০০৮-০৯) বিটিসিএলের আয়-ব্যয়ের মধ্যে একটা ভারসাম্য ছিল। ওই বছর ১ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ৬২২ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম কলিমউল্লাহ বলেন, তারা আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় সংকোচনের চেষ্টা করছেন। তবে নানা প্রতিকূলতার কারণে ঠিক পেরে উঠছেন না।

এ দিকে সরকার গত পাঁচ বছরের সাফল্য প্রচারে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, গত বছর টেলিটক লাভ করেছে ৬০ কোটি টাকা। সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লাভ হয়েছে ১০৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া টেলিফোন শিল্প সংস্থা ৭৮ লাখ টাকা এবং খুলনায় অবস্থিত কেবল শিল্প সংস্থা ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।

Related posts

*

*

Top