থ্রিজির জন্য ডিভাইস মার্কেট প্রস্তুত

তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল সেবা বা থ্রিজি সেবার অন্যতম নিয়ামক ডিভাইস (স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ফ্যাবলেট, ইন্টারনেট মডেম ইত্যাদি)। কম মূল্যে ডিভাইস সরবরাহ করে থ্রিজি সেবাকে স্বল্প আয়ের মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় দেশীয় ব্র্যান্ড ‘সিম্ফনি’।  প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ বলেছেন, ‘থ্রিজি’র জন্য দেশের ডিভাইস মার্কেট প্রস্তুত। এখন শুধু নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার কাজ বাকি। তবে থ্রিজিকে জনপ্রিয় করতে এই সেবার সাশ্রয়ী দামের পাশাপাশি স্থানীয় কনটেন্ট তৈরিতে ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

Symphony Chairman

কালের কণ্ঠের বিজনেস এডিটর মাসুদ রুমীর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের মোবাইল হ্যান্ডসেট মার্কেটের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা বলেছেন

এ বছর প্রায় দুই কোটি মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি হবে, যার গড় বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। তবে থ্রিজি নিলামের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দেশে স্মার্টফোনের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে বলে জানালেন সিম্ফনির চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘থ্রিজি চালুর কারণে দেশে প্রচুর স্মার্টফোনের প্রয়োজন হবে। তবে থ্রিজি আসার আগেই স্মার্টফোন মার্কেটের প্রবৃদ্ধি শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, চলতি মাসে সিম্ফনির এক লাখ স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে, গত বছর যার পরিমাণ ছিল মাত্র চার হাজার।

আমিনুর রশিদের মতে, ডিভাইস মার্কেটের প্রবৃদ্ধি এখনো অনেক বাকি। তিনি বলেন, ‘দেশে মোবাইল ব্যবহারকারী ১০ কোটি বলা হলেও প্রকৃত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা পাঁচ-ছয় কোটির বেশি হবে না। দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে; কিন্তু প্যানিট্রেশন কম হচ্ছে। এর চেয়ে ভালো মার্কেট আর হয় না। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছর একনাগাড়ে মোবাইল ডিভাইস মার্কেটে প্রবৃদ্ধি হতেই থাকবে।

স্মার্টফোনের বাজারে সিম্ফনির মার্কেট শেয়ার ৬৫ শতাংশ বলে জানালেন আমিনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘স্মার্টফোনের প্রবৃদ্ধি শুধু থ্রিজিতেই নয়, টুজিকে কেন্দ্র করেও হয়েছে। অনেকেই থ্রিজি সমর্থনযোগ্য স্মার্টফোন বর্তমানে টুজি নেটওয়ার্কে ব্যবহার করছে। এ ছাড়া থিজি স্মার্টফোনের চাহিদা বৃদ্ধিতে টেলিটকেরও অবদান আছে। টেলিটক যখন থ্রিজি চালু করে তখন আমরা কয়েকটি হ্যান্ডসেটের প্যাকেজ দিয়েছি। যদিও টেলিটক সুসংগঠিতভাবে থ্রিজির মার্কেট বড় করতে পারেনি, তার পরও তাদের কারণে থ্রিজি স্মার্টফোনগুলো ভালো বিক্রি হচ্ছে। অন্য অপারেটরগুলো থ্রিজি সেবা চালু করলে আমরা সাড়ে চার হাজার টাকার মধ্যে থ্রিজি স্মার্টফোন দিতে পারব।’
বৈশ্বিক বাজারে স্মার্টফোনের প্রবৃদ্ধি ফিচার ফোনকে ছাড়িয়ে গেছে। এই প্রবৃদ্ধির জোয়ার বাংলাদেশেও লেগেছে। সিম্ফনির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের বিক্রির ১৫ শতাংশই এখন স্মার্টফোন। বছর শেষে দেড় লাখ স্মার্টফোন বিক্রির আশা করছি।’

থ্রিজি সেবার দাম, স্পিড, নেটওয়ার্ক কাভারেজ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের না হলে বাংলাদেশে থ্রিজি মোবাইল সেবা সফল হবে না বলে মনে করেন আমিনুর রশীদ। তিনি বলেন, ভারতে এত ক্যাম্পেইনের পরও তাদের থ্রিজির মার্কেট শেয়ার মাত্র ৭ শতাংশ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তূলনা করলে ৩ থেকে ৪ শতাংশের বেশি থিজির মার্কেট শেয়ার হওয়ার কথা নয়। ভারতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় সে দেশের অপারেটররা থ্রিজি সেবার দাম ব্যাপকভাবে কমানো শুরু করেছে। বাংলাদেশে লাইসেন্স ফি এত বেশি না নিয়ে পরবর্তী সময়ে এটি সফল হলে সরকার নানাভাবেই রাজস্ব পেত। যেহেতু থিজির লাইসেন্স ফি বেশি হবে, তাই এই সেবার দাম সাশ্রয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে অপারেটরদের থ্রিজি সেবার দাম নির্ধারণ ও সেবার মানের ওপর। থ্রিজি লাইসেন্স পাওয়ার পর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কতটা হবে, তাও একটি ইস্যু। আর ডিভাইসের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই এবং দাম অনেক কমে এসেছে। ভবিষ্যতে আরো কমবে।

সিম্ফনির চেয়ারম্যানে বলেন, ‘অনেক দেশ ফোরজি অথবা এলটিই চালু করছে। এলটিই অনেক উন্নত প্রযুক্তি এবং এর নেটওয়ার্ক ডিপ্লইমেন্ট খরচ কম। আমাদের দেশে থ্রিজি আসতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তার পরও একে সফল করতে হলে প্রতিযোগিতামূলক সেবা ও দাম নির্ধারণ করতে হবে।
টেলিটকের সঙ্গে সিম্ফনি প্রথম থেকেই কাজ করছে। গ্রামীণফোন ও রবির সঙ্গেও আমরা আছি। অন্য অপারেটরাও অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে সাশ্রয়ী দামে থ্রিজি স্মার্টফোনের কথা চিন্তা করছে। আমরা তাদের সঙ্গে থাকব। তবে থ্রিজি সেবার মান ও দাম যাই হোক এটা স্মার্টফোনের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। আর এ ক্ষেত্রে সিম্ফনি এগিয়ে থাকবে।’

ফিচার এবং স্মার্টফোন উভয় ক্যাটাগরিতেই সিম্ফনির মার্কেট শেয়ার প্রায় ৪৫ শতাংশ বলে দাবি করলেন আমিনুর রশীদ। তিনি জানান, এ বছরের শুরুতে ১৩ থেকে ১৪ লাখ মোবাইল ফোন আমদানি হতো, যা এখন ১৮ লাখে পৌঁছেছে। আর গ্রে মার্কেট (অবৈধ উপায়ে) দিয়ে আরো এক থেকে দেড় লাখ ফোন আসে। এর সিংহভাগ প্রবৃদ্ধিতেই নেতৃত্ব দিচ্ছে সিম্ফনি। আইফোন, নকিয়া, ব্ল্যাকবেরি, এইচটিসি, স্যামসাং ইত্যাদি স্মার্টফোন এখনো অনেক মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে পৌঁছায়নি। সিম্ফনি স্মার্টফোনকে মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে এনে দিয়েছে।’

আগামী বছরও স্মার্টফোনে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করেন সিম্ফনির এই উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, ‘গত এক-দেড় বছর ধরে আমরাই মার্কেট লিডার।’ দুটি ঈদে প্রায় ২৫ শতাংশ বিক্রয় প্রবৃদ্ধি হয়। এবারের ঈদেও স্মার্টফোনে বাড়তি চাহিদা লক্ষ করেছি।

গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলোর হ্যান্ডসেটের দাম বেশি হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তাদের বিজনেস পলিসি। তারা শতভাগ মার্জিন করে, আমরা করি মাত্র ১০ শতাংশ। নকিয়া-স্যামসাংয়ের মতো গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো এমনভাবে প্রডাক্ট ডিফাইন করছে, এমন ফিচার দিচ্ছে, যা বাংলাদেশের মার্কেটে হয়তো দরকার নেই। আমরা এ দেশের মানুষের উপযোগী ফিচার দিয়েই স্মার্টফোন আনছি। ফিচার, প্রডাক্ট ডেফিনেশন এবং মার্জিন স্ট্রাকচার আমরা এমনভাবে করছি, যেন ডিভাইসগুলো ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসে।’

গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলোর মতো উঁচুমানের স্মার্টফোন সিম্ফনিও আনছে বলে জানালেন আমিনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্র ১৯ হাজার ৯০০ টাকায় জেড-ওয়ান এবং জেড-টু স্মার্টফোন এনেছি। ৮ ও ১৩ মেগাপিঙ্লে ক্যামেরার এসব স্মার্টফোন খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে। আমাদের এখন পি-১০ লঞ্চ হচ্ছে ফ্যাবলেট ২৩৯০০ টাকা।

ডিসেম্বরে আমরা অক্টাকোর লঞ্চ করতে যাচ্ছি। অক্টোবরে কোয়ার্ডকোর ট্যাবলেট আনতে যাচ্ছি, যা এখনো কোনো ব্র্যান্ড আনতে পারেনি। এ বছরও আমাদের ৬৫ হাজার ট্যাবলেট বিক্রির পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া থ্রিজি এলে আমরা সিম্ফনি ডঙ্গল আনব। আমরা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসছি। কোয়ালিটি, ডিজাইন, স্পিড, ডিউরেবিলিটি, ক্যামেরা ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে আমরা যেকোনো গ্লোবাল ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। ক্রেতারাও বুঝতে পারছে একই বা কাছাকাছি জিনিসের বাড়তি দাম কেন দেবে? একটি ভালো ব্র্যান্ড যেসব বিষয় নিশ্চিত করে আমরা প্রথম থেকেই তা করছি। বাংলাদেশে একমাত্র সিম্ফনিরই এত সুসংগঠিত বিক্রয়-উত্তর সেবা আছে। আমাদের ৩৯টি সার্ভিস সেন্টার এবং ১০টি কালেকশন পয়েন্টে আফটার সেল সার্ভিসের জন্য প্রায় সাড়ে তিন শ কর্মী আছে।’

সিম্ফনি ক্রমাগত উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন স্মার্টফোন বাজারে আনছে। আমিনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের জেড ওয়ান দেশের সবচেয়ে স্লিম স্মার্টফোন। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম ডুয়ালকোর, কোয়ার্টি কি প্যাড, সবচেয়ে স্লিম ফোন লঞ্চ করি। আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা ফুল এইচডি পর্দার ফোন লঞ্চ করব, যা ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। বেশি লাভ, বেশি বিক্রি করব সেদিকে আমাদের নজর ছিল না, ক্রেতাদের যেন ভালো পণ্য দিতে পারি সেই চেষ্টায়ই করেছি। ক্রেতাদের রাইট ভ্যালুটা দিয়ে তাদের সন্তুষ্ট রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’

আমিনুর রশীদ আরো বলেন, ‘অরিজিনাল ডিজাইন ম্যানুফ্যাকচারিং বা অডিএম পদ্ধতিতে আমাদের পার্টনাররাও আমাদের পণ্য নিয়ে নিরন্তর গবেষণা ও উদ্ভাবন করছে। এ ছাড়া চীনে আমাদের নিজস্ব কার্যালয় আছে।’ তিনি জানান, পুরো মার্কেটের প্রায় ৭০ শতাংশই এখন অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোন। ভালো ব্র্যান্ডগুলো সব সময় জনপ্রিয় ইকোসিস্টেমের সঙ্গে থাকতে চায়। নকিয়া খুব ভালোমানের ব্র্যান্ড হওয়া সত্ত্বেও তারা শুধু অপারেটিং সিস্টেমের কারণে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারল না। অ্যান্ড্রয়েড এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সবাই সমানভাবে ব্যবসায়িক সুবিধা নিতে পারে। এখানে স্থানীয় এবং গ্লোবাল ব্র্যান্ড সবই একই। মূল ফিচারগুলোর প্রায় সবই অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের।’

স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনে যাওয়ার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানালেন সিম্ফনি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে একটি ভালো প্রযুক্তির ব্যবস্থা করতে পারছি- এটা স্থানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে আমাদের বড় অর্জন। তবে ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।’
এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে সারাবিশ্বের সেন্টার হচ্ছে চীন। ভারতসহ এশিয়ার অনেক দেশ চেষ্টা করেছে এটি বিকেন্দ্রীকরণের। কিন্তু চীনের সঙ্গে কেউ প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠেনি। মোবাইল যতটা না শ্রমঘন খাত তার চেয়ে এটি প্রযুক্তিঘন। বাংলাদেশে গার্মেন্ট, পাট এবং হাল্কা শিল্পে কিছু সাফল্য এসেছে। কিন্তু আমাদের দেশে প্রযুক্তিতে এখনো তূলনামূলক সুবিধা তৈরি হয়নি।’

থ্রিজির অ্যাপ্লিকেশন মার্কেট নিয়েও কাজ করছে সিম্ফনি। আমিনুর রশীদ বলেন, ‘শিশুদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম একটি অ্যাপ্লিকেশন স্টোর করেছি গ্রামীণফোনের সঙ্গে। এ ছাড়া ভারতের মোম্যাজিকের সঙ্গে আমরা থ্রিজি অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করার জন্যও কাজ করছি।’

সবচেয়ে কমদামি হ্যান্ডসেটে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়গুলো কিভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে জানতে চাইলে সিম্ফনির চেয়ারম্যান বলেন, পৃথিবীতে ১৭০ কোটি মোবাইল সেট তৈরি হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চীনে তৈরি হয়। রেডিয়েশনের ক্ষেত্রে অন্য সবার মতো গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করেই আমরা হ্যান্ডসেট বাজারে ছাড়ি।’ মোবাইল ফোনের দাম প্রতিনিয়তই কমছে, আগামী দিনে আরো কমবে বলে জানালেন সিম্ফনির অধিকর্তা। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মোবাইলের চিপসেট পিসিডিএ বা মাদারবোর্ড সার্কিটের দাম কমে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতে মোবাইলের অ্যাঙ্সেরিজের মার্কেটেও অবস্থান দৃঢ় করতে চায় সিম্ফনি। সিম্ফনির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বছরখানেক হলো আমরা মোবাইল অ্যাঙ্সেরিজের ব্যবসায় এসেছি। স্মার্টফোনের সঙ্গে ফ্লিপ কভার, ব্যাকপার্ট, ব্লুটুথ, স্টেরিও হেডসেট, পাওয়ার চার্জার ইত্যাদির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হচ্ছে। আমরা ফিচার ফোনের পাশাপাশি স্মার্টফোনের এসব অ্যাঙ্সেরিজ নিয়েও কাজ করছি। তবে বিরাট এই মার্কেটের কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। যদিও এটি প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মার্কেট। ব্যাটারি, চার্জারসহ প্রচুর নকল পণ্যে বাজার সয়লাব। দ্রুত এই খাতে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা না নিলে ক্রেতারা প্রতারিত হতেই থাকবে। আমাদের অনুরোধ এটা ইমপোর্ট স্টেজেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের জন্য অথরাইজ ইমপোর্টাররাই এটা ইমপোর্ট করবে। এ ছাড়া মার্কেটেও কিছু নজরদারি রাখা উচিত। এ ছাড়া বিটিআরসি গ্রে মার্কেটটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করলেও এখনো তারা বেশ সক্রিয়। নিয়ন্ত্রণ করার পরও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হ্যান্ডসেট গ্রে মার্কেট চ্যানেল দিয়ে আসছে। এটা পুরো মার্কেটকে অ্যাফেক্ট করছে। আমরা যারা ট্যাক্স দিয়ে কোয়ালিটি মেনে কাজ করছি। আমরা নিজেরাও আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছি।

*

*

Top