নিয়ম ভেঙ্গে বিটিআরসির ৩৩৩ কোটি টাকার তহবিল

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টেলিযোগাযোগ আইনের যথাযথ বিধি-বিধান ও আইন প্রয়োগ ও দেখভাল করার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির। অথচ কমিশন নিজেই আইন ভঙ্গ করে গঠন করেছে শত কোটি টাকার তহবিল।

টেলিযোগাযোগ আইনের বিধিমালা প্রণয়নের পরই সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের (এসওএফ) জন্য মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের কথা ছিল। তবে বিটিআরসি নিজেই এখন তা মানছে না। গত দু’বছরে এ তহবিলে অপারেটরদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৩৩৩ কোটি টাকা।

btrc, techshohor

জানা গেছে, আইনের বিধি প্রণয়নের কাজ এখনও শেষ হয়নি। অথচ দুই বছর ধরে মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকে কোম্পানিগুলোর আয়ের এক শতাংশ হারে তুলছে বিটিআরসি। আর সব মিলে এখানে তহবিলের আকার দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ কোটি টাকা। বিধি না থাকার কারণে এ অর্থও করা সম্ভব হচ্ছে না।

এরই মধ্যে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং এয়ারটেলের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে টেলিটক এবং সিটিসেল এ খাতে এখনও কোনো টাকা জমা করেনি।

শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ খাতে জমা দিয়েছে ১৬৮ কোটি টাকা। বাংলালিংক দিয়েছে ৭৩ কোটি ৮০ লাখ। রবি দিয়েছে ৬৯ কোটি ৮৩ লাখ এবং এয়ারটেল দিয়েছে ২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলেন, সিটিসেল এবং টেলিটক আয়ের এক শতাংশ জমা দিলে আরও অন্তত ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা এ খাতে জমা হতে পারত।

এ দিকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের অভিযোগ, টেলিযোগাযোগ আইন না মেনেই এ অর্থ জমা করছে বিটিআরসি। ২০০১ সালের টেলিযোগাযোগ আইনের উদ্ধৃতি দিয়ে অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা বলেন, আইনে বলা আছে এসওএফ-এর টাকার হার এবং তা খরচের পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। কিন্তু বিধি না হলেও তাদেরকে এক শতাংশ হারে আয়ের অংশ দিতে হচ্ছে। যেটি সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত বলেও দাবি তাদের।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের কর্পোরেট বিভাগের প্রধান মাহমুদ হোসাইন সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, যে টাকা আমরা দিচ্ছি সেটি খরচের ক্ষেত্রে কি নিয়ম হতে যাচ্ছে সেটি জানার সুযোগও আমাদের থাকা দরকার। আর এ জন্যে বিধি প্রণয়নের অংশও হতে চান তারা।

২০১২ সালের জুন মাসে বিধির খসড়া করে সেটি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে পাঠায় বিটিআরসি। কিন্তু তারপর থেকেই সেটি ঝুলে আছে।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, অনেক টাকা জমা হচ্ছে যা দিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতের বড় ধরনের উন্নয়ন করা সম্ভব। কিন্তু যেহেতু হাতে বিধি নেই তাই তারা এ বিষয়ে কিছুই করতে পারছেন না।

তবে আইন অনুসারে বিধি প্রণয়ন না করেই এসওএফ-এর জন্যে টাকা তোলা নিয়মের বরখেলাপ কি না সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

বর্তমানে প্রতি তিন মাসে এ খাত থেকে বিটিআরসির কোষাগারে জমা পড়ছে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে এসওএফ চালু করার পর প্রথম দুই মাসে আসে ২২ কোটি ৩০ টাকা। ২০১২ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিটিআরসি পায় ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পরের প্রান্তিকে যা দাঁড়ায় ৪৩ কোট ৭০ লাখে। একই বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে আসে ৪৫ কোট ৭০ লাখ টাকা। আর বছরের শেষ প্রান্তিকে যা দাঁড়ায় ৪৩ কোটিতে।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আসে ৪৩ কোটি ৬৯ লাখ এবং গত ছয় মাসে এসেছে মোট ৯৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

Related posts

*

*

Top