বকেয়া আদায়ে সিটিসেলকে লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শুধু দেশের নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলকে লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। দীর্ঘদিনের ২৫০ কোটি টাকা আদায়ের প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অপারেটরটিকে ১৫ দিনের মধ্যে পুরো টাকা আদায়ের জন্যে গত সোমবার বলা হয়েছে। তা না হলে একই সঙ্গে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

Citycell-btrc-TechShohor

সিটিসেলের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে প্রায় ২৪৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা পাবে বিটিআরসি। বেশ কিছু দিন থেকে এসব টাকা বকেয়া রয়েছে। বিভিন্ন সময় এ টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়া হলেও কোনো সাড়া দেয়নি দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটরটি।

বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন অপারেটরের কাছে বাকি পড়া কয়েক হাজার কোটি টাকা আদায়ের অংশ হিসাবে সর্বশেষ ১৬১তম কমিশন বৈঠকে বিটিআরসি সিটিসেলকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে এক কমিশনার বলেন, সিটিসেল নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে আইন অনুসারে লাইসেন্স বাতিলের জন্যে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে। তবে একই সঙ্গে টাকা আদায়ে মামলাও করা হতে পারে।

তবে খবরটি আগে ভাগেই জেনে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে সিটিসেল। গত বৃহস্পতিবার অপারেটরটি তাদের অবস্থান জানিয়ে বিটিআরসিকে চিঠি দেয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় প্রজন্মের লাইসেন্স ফির টাকা পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি। তবে স্পেকট্রাম ফির বেশ খানিকটা বাকি রয়েছে। তবে তাদের জন্য বরাদ্দ থাকা ১০ মেগাহার্জ স্পেকট্রামের মধ্যে আর সাড়ে তিন মেগাহার্জ না পেলে তারা টাকা দিতে পারবে না। কিন্তু বিটিআরসি এ যুক্তি মানছে না। সিটিসেলকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় মেগাহার্জ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অপারেটরটি গত টানা ৮ মাস ধরে গ্রাহক হারাচ্ছে বলে সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে। বছরের শুরুতে ১৮ লাখ গ্রাহক থাকলেও সেপ্টেম্বরের শেষে সিটিসেলের গ্রাহক ১২ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহক সংখ্যায় এখন তারা দেশের সবচেয়ে ছোট অপারেটর।

জুন পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির পাওনা ছিল ১৪৫ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে কেবল স্পেকট্রাম ফি এবং রেভিনিউ শেয়ারেরিংয়ের অংশ হিসাব করা ছিল। আর সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত এই অংক ২৪৯ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ হিসাবে এর মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অংশ এবং লেট ফিও যোগ করা হয়েছে।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অপারেটরের কাছে ২ হাজার ৬১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে।  তবে ইতিমধ্যে এ বকেয়ার পরিমাণ তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর বড় অংশ পাওনা রয়েছে সরকারি টেলিফোন কোম্পানি বিটিসিএলের কাছে।

সূত্র জানিয়েছে, কমিশন টাকা আদায়ে প্রয়োজনে সরকারি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করাসহ অনেকের লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।

সিটিসেল ছাড়াও রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ল্যান্ডফোন কোম্পানি বিটিসিএলের কাছে বিটিআরসির পাওনা ১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা।  টেলিটকের কাছে পাওনার পরিমাণ ৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর বাইরে আন্তর্জাতিক গেটওয়েগুলো (আইজিডব্লিউ) বিটিসিএল বাদে বাকি ২৮টি আইজিডব্লিউর কাছে পাওনা ৫০০ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

আন্তসংযাগ এক্সচেঞ্জগুলোর কাছে ২১১ কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ের কাছে পাওনা ৩০ লাখ টাকা। ওয়াইম্যাক্স অপারেটর বাংলালায়নের কাছে ২৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ও কিউবির কাছে পাওনা ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

১২ বেসরকারি ল্যান্ডফোন অপারেটরের কাছে ২৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং অন্য বেসরকারি ও সরকারি সংস্থার কাছে স্পেকট্রাম বাদে পাওনা ২৪ কোট ১৮ লাখ টাকা।

বিটিআরসির এক কর্মকর্তা জানান, এ বকেয়ার হিসাব গত জুন পর্যন্ত সময়ের। তাই পরবর্তী তিন মাসে পাওনা আরও অনেক বেড়েছে।

এ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিটিআরসি। এক্ষেত্রে সরকারি একটি সংস্থা কিভাবে আরেকটি সরকারি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করবে সে বিষয়েও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Related posts

টি মতামত

*

*

Top