৩ হাজার কোটি টাকার টানাটানিতে এনবিআর – মোবাইল অপারেটর

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটন্টে কাউন্সলির : পুরনোটির বদলে নতুন সিম বরাদ্দ করলেও চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর গত বছর পর্যন্ত যথাযথভাবে কর দেয়নি। টাকার অংকে এর পরিমাণ তিন হাজার ৭২ কোটি টাকা। থ্রিজি স্পেকট্রামের নিলামকে সামনে রেখে অপারেটরগুলো বিপুল এ বকেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতায় এসেছিল । তবে নিলাম শেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এখন আবার পুরো অর্থ দাবি করছে।

এনবিআরের অভিযোগ বন্ধ হওয়া সিমগুলো অপারেটরগুলো নতুন করে বিক্রি করেছে। যদিও কাগজে কলমে দেখিয়েছে আগের গ্রাহকের পুরনো সিমই তারা বদলে দিয়েছে। এ জন্যে সিম প্রতি আগের হার অনুযায়ী ৮’শ টাকা করে কর দাবি করেছে রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাটি।

Mobile SIM Cards_techshohor

শুরুতে সিম প্রতি কর আটশ টাকা এবং পরে তা ছয়শ টাকা নির্ধারিত ছিল। গত মে মাস থেকে প্রতি সিমের ওপর সরকার তিনশ টাকা হারে কর নিচ্ছে।

নিয়ম অনুসারে নতুন সিম বিক্রির ক্ষেত্রে কর থাকলেও পুরনো গ্রাহকের সিম হারিয়ে গেলে তাকে যদি একই নম্বরের নতুন সিম দেওয়া হয় তাহলে কোনো কর নেই। এ যুক্তিতে গত বছর আদালতে যায় শীর্ষস্থানীয় তিন অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক এবং রবি।

হাইকোর্ট সে সময় অপারেটরগুলোকে এনবিআরের কাছে ফেরত পাঠিয়ে ১২০ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিস্পত্তি করতে বলে। এ সময় পেরিয়ে গেলেও তা আরও অনেক আগে পার হয়েছে।

এনবিআরের দাবি অনুসারে কেবল গ্রামীণফোনের কাছে এ বাবদ পাওনা ১ হাজার ৫৮০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। বাংলালিংকের কাছে ৭৭৪ কোটি, রবির কাছে ৬৫৪ কোটি ৯৯ লাখ এবং এয়ারটেলের কাছে পাওনা ৫৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

থ্রি জির নিলামকে সামনে রেখে সরকার অপারেটরগুলোর সঙ্গে একটি সমঝোতা করে। তখন করের পরিমাণ কমে মাত্র ২৫১ কোটি ২১ লাখ টাকা করা হয়। নতুন এ হিসাবে পাওনা দেখানো হয় গ্রামীণফোনের কাছে ১৯৪ কোটি টাকা, বাংলালিংকে কাছে ৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, রবির কাছে ১৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং এয়ারটেলের কাছে ১৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

সে সময় কিছু সিম যাচাই বাছাইরে মাধ্যমে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এখন এনবিআর আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন করে আবার যাচাই বাছাই শুরু করেছে। আর এখানেই দুশ্চিন্তায় পড়েছে অপারেটররা।

এ বিষয়ে রবির এক কর্মকর্তা বলেন, এনবিআর মনে করছে অপারেটররা তথ্য জালিয়াতি করেছে। সেটিই এখন তারা যাচাই বাছাই করে দেখতে চাইছে।

ইতোমধ্যে এয়ারটেল এবং রবির তথ্য পুন:যাচাই করা হয়েছে। এখন চলছে বাংলালিংকের তথ্য যাচাইয়ের কাজ। এরপর এনবিআর কর্মকর্তারা যাবেন গ্রামীণফোনে। তারপরেই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে এনবিআর। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের বিষয়ে মুখ খুলছে কোনো পক্ষ।

এনবিআরের নতুন এ উদ্যোগে কিছুটা হলেও দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। তাদের কর্মকর্তারা বলেন, একটি সেটেল বিষয়কে আনসেটেল করা হচ্ছে। এতে গোটা খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা দ্রুত এ বিষয়টির ফয়সালা চান।

Related posts

*

*

Top