লাইসেন্স পেল ওলো

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আদালতের রুলিং উপেক্ষা করে ওলোর মূল কোম্পানি বাংলাদেশ ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জকে (বিআইএল) ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স দিল টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত রোববার কোম্পানিটিকে নামমাত্র মূল্যে অধিক শক্তিশালী স্পেকট্রাম সম্বলিত লাইসেন্স দেয় কমিশন।

অথচ এর আগের সপ্তাহের রোববারে হাইকোর্ট টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে রেসপন্সিভ করে রুল জারি করে কেন লাইসেন্স প্রদান অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। কিন্তু উচ্চ আদালতের রুলের জবাব না দিয়েই লাইসেন্স দিল বিটিআরসি।

 

ollo_techshohor

 

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওলোকে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে সরকারের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় ও বিটিআরসির বিরুদ্ধে রিট করেছিলেন ওমর ফারুক নামের এক আইনজীবী। এতে টেলিযোগাযোগ সচিব, এক জন যুগ্ম সচিব এবং বিটিআরসির একজন মহাপরিচালকসহ আরও কয়েকজনকেও পক্ষ করা হয়।

রিটের পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, বিআইএল নামের কোম্পানিটিকে লাইসেন্স দেওয়া অবশ্যই আইনের খেলাফ। বিটিআরসির আইনেই আছে নিলাম ছাড়া কোনো লাইসেন্স বা স্পেকট্রাম কাউকে দেওয়া যাবে না। অথচ সংস্থাটি ঘোলাটে এক পরিস্থিতিতে লাইসেন্স দিচ্ছে।

বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আদালতের আদেশ সম্পর্কে বলেন, আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছেন। কিন্তু লাইসেন্স না দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দেশনা নেই।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিআইএল কর্তৃপক্ষ ১৫% ভ্যাটসহ ১৪১ কোটি ২৮ লাখ ৩২ হাজার টাকা জমা দিয়ে রোববার লাইসেন্স নিয়েছে। রাশিয়ান মালিকানাধীন এ কোম্পানিকে আরও সমপরিমান টাকা দিতে হবে পরের দুই সপ্তাহের মধ্যে।

এর আগে ৪ নভেম্বর মন্ত্রণালয় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের স্পেকট্রাম ওলোকে মাত্র ২৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকায় দেওয়ার অনুমোদন দেয়। ২৬০০ ব্যান্ডের ২০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম দেওয়ার বিরোধিতা করছে মোবাইল ফোন অপারেটরাও।

এর আগে ২০০৮ সালে ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্সের নিলামে বাংলালায়ন এবং কিউবির সঙ্গে অংশ নেয় ওলো। কিন্তু কোম্পানিটি ওই সময় নিলামে হেরে যায় এবং ছয় মাসের মধ্যে জামানতের তিন কোটি টাকাও তুলে নেয়। এর মধ্যে আওয়ালীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশি মালিকানা থেকে বাংলাদেশ ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ চলে যায় রাশিয়ার মাল্টিনেটের হাতে। তারাই এখন এই সেবা পরিচালনা করছেন। এরপর চলতি বছরে এপ্রিলে তারা নতুন লাইসেন্সের জন্যে আবেদন করে। তারপর থেকেই বিটিআরসি এই প্রক্রিয়া শুরু করে।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব এ লাইসেন্স এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের বিরোধীতা করে দাবি করেছে, ২৬০০ ব্যান্ডের মূল্যবান স্পেকট্রাম দিয়ে দেওয়ায় রাষ্ট্রের বহু অর্থের ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা আলোচনার মাধ্যমে ওয়াইম্যাক্সের সংশোধিত নীতিমালা পুনমূল্যায়ন করা, স্পেকট্রাম প্রাইসিং ঠিক করাসহ স্পেকট্রাম বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুস্পস্ট নীতিমালার দাবি জানিয়েছে।

Related posts

*

*

Top