বকেয়া ২৬’শ কোটি টাকা আদায় করতে পারছে না বিটিআরসি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির আয় কমেছে গত অর্থবছরে। অথচ বিভিন্ন অপারেটরের কাছে এখনও বকেয়া পড়ে রয়েছে ২ হাজার ৬১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। গত কয়েক বছর ধরে বিপুল এ অর্থ পাওনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে সরকারি কোম্পানির কাছেই বিটিআরসির পাওনা সবচেয়ে বেশি।

জানা গেছে, বিপুল এ অর্থ আদায়ে বিটিআরসি কয়েক দফা চিঠি চালাচালি করলেও তা কাজে আসেনি। সম্প্রতি সংস্থাটি বকেয়ার পরিমাণ উল্লেখ করে একটি তালিকা টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে পাঠায়। এতে দেখা গেছে, মূলত রাজস্ব ভাগাভাগি, স্পেকট্রাম চার্জ এবং লাইসেন্স ফি বাবদ অপারেটরগুলো এ টাকা বাকি ফেলেছে।

BTRC_techshohor

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, একটি সংস্থা বছরে আট-দশ হাজার কোটি টাকা আয় করে। বিপুল এ লেনদেনের মধ্যে কিছু টাকা বাকি থাকতেই পারে। এখানে বাড়তি কোনো সমস্যা না দেখাই ভালো।

বিটিআরসির হিসাবে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ল্যান্ডফোন কোম্পানি বিটিসিএলের কাছেই বকেয়ার পরিমাণ ১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা।

বাকির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আন্তর্জাতিক গেটওয়েগুলো (আইজিডব্লিউ)। বিটিসিএল বাদে বাকি ২৮টি আইজিডব্লিউর কাছে বিটিআরসির পাওনা ৫শ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

আন্তসংযাগ এক্সচেঞ্জগুলোর কাছে পাওনা ২১১ কোটি টাকা। আর আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ের কাছে পাওনা ৩০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটকের কাছে ৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ও বেসরকারি অপারেটর সিটিসেলের কাছে ১৪৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছৈ। ওয়াইম্যাক্স অপারেটর বাংলালায়নের কাছে ২৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ও কিউবির কাছে পাওনা ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ১২ বেসরকারি ল্যান্ডফোন অপারেটরের কাছে বকেয়া রয়েছে ২৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আর অন্য বেসরকারি এবং সরকারি সংস্থার কাছে স্পেকট্রাম বাদে বিটিআরসির পাওনা ২৪ কোট ১৮ লাখ টাকা।

সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন,  এ হিসাব জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি। এরপর আরও তিন মাস পার হওয়ায় নিঃসন্দেহে পাওনা আরও অনেক বেড়েছে ।

Related posts

*

*

Top