বছরে সরকারের ক্ষতি ১৩৪ কোটি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে সরকার দুই ধরনের গেটওয়ে অপারেটরের লাইসেন্স নবায়ন ফি অর্ধেক কমিয়ে দিল। এতে বছরে সরকারের ক্ষতি হবে ১৩৪ কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) লাইসেন্স নবায়ন ফি বছরে সাত কোটি থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা এবং আন্তসংযোগ এক্সচেঞ্জের (আইসিএক্স) ফি আড়াই কোটি থেকে এক কোটি ২৫ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। ২০০৮ সালে প্রথমবার লাইসেন্স নবায়ন ফি ঠিক করা হয়েছিল।

IGW_ICX_BTRC_TechShohor

অর্থমন্ত্রণালয় মঙ্গলবার লাইসেন্স নবায়ন ফি কমানোর এ সিদ্ধান্তের কথা টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়কে জানিয়েছে। এর আগে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সুপারিশ ক্রমে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় অর্থমন্ত্রনালয়ের কাছে লাইসেন্স ফি কমানোর প্রস্তাব পাঠায়।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের একাধিক কর্মকর্তা লাইসেন্স নবায়ন ফি কমানোর এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুবিধাভোগীদের বিশেষ সুবিধা দিতেই ফি কমানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, অর্থমন্ত্রনালয় এত দ্রুত এ প্রস্তাব অনুমোদন করবে তা তারা ভাবতে পারেননি। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন গেটওয়ে অপারেটরগুলো এ নিয়ে বিটিআরসি এবং সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীদেরকে দফায় দফায় চাপ দিচ্ছে। রাজনৈতিক অনেক ব্যক্তির স্বার্থ জড়িত হওয়ার কারণেই ফাইল এত দ্রুত পাস হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিটিআরসির প্রস্তাবে ২০১৩ সালের লাইসেন্স নবায়ন ফি থেকেই এটি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রনালয় তা ২০১৪ সাল থেকে কার্যকর করতে বলেছে। ফলে অনেক আইজিডব্লিউ এবং আইসিএক্স লাইসেন্স নবায়ন ফি বাকি রাখলেও এখন এগুলোকে আগের নিয়মেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

বর্তমানে ২৯টি আইজিডব্লিউ এবং ২৬টি আইসিএক্স ব্যবসা করছে। ২০০৮ সালে মাত্র ৪টি আইজিডব্লিউ এবং তিনটি আইসিএক্সকে লাইসেন্স দেওয়া হয়।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের লাইসেন্স দিতে গিয়ে অপারেটরের সংখ্যা বাড়ানো হয়। এরপর থেকে এসব অপারেটর একবারও লাইসেন্স নবায়ন ফি দেয়নি। গত এপ্রিলে প্রতিটি অপারেটরের এক বছর পার হয়েছে। পরে মন্ত্রী এ বিষয়ে কিছুটা সময় বাড়ান। সর্বশেষ ১১ আগস্ট সেই নির্ধারিত সময়ও শেষ হয়েছে।

দুই ধরনের অপারেটরের কাছে মোট ১৭২ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি ছাড়াও আইজিডব্লিউগুলোর কাছে সরকারের পাঁচশ কোটি টাকার বেশি এবং আইসিএক্সগুলোর কাছে আরও দু’শ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

Related posts

*

*

Top