সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিটিআরসির নজরদারি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণের (ফিল্টারিং) উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য চলতি বছরের এপ্রিলে দেড়শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিলেও এর কাজ তেমন একটা এগোয়নি। এ কারণে বিকল্প পথে হাঁটছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি।

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর নানাবিধ ব্যবহার বাড়তে পারে। এগুলোর মাধ্যমে যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ওপর কড়া নজর রাখছে বিটিআরসি। তবে এক্ষেত্রে ব্যবস্থা বলতে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়েগুলোর মাধ্যমে ওয়েবসাইট বা ব্লগ বন্ধ করে দেওয়া।

তবে যতদিন পর্যন্ত ফিল্টারিংয় প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ না হচ্ছে সে পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের ফেইসবুক বা টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব নয় বলে সংস্থাটির নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন।

Social-media-monitoring-TechShohor

ফেইসবুকে কটুক্তির জের ধরে সম্প্রতি পাবনায় হিন্দু বাড়িতে আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর কক্সবাজারের রামুতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পেছনেও মূল ভূমিকা ছিল ফেইসবুকে প্রকাশিত একটি ছবি। এসব কারণে সরকার এসব মাধ্যমের ওপর কড়া নজর রাখছে।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নজর রাখা হচ্ছে। অন্য কোনো সাইট হলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব। কিন্তু ফেইসবুক হলে হয়ত কিছু করা সম্ভব হবে না। কারণ এ সামাজিক মাধ্যমটির কর্তৃপক্ষ আমাদের কথা অনুসারে চলবে না। আর এটি বন্ধ করে রাখাও সম্ভব নয়।

তবে এ পরিস্থিতিতে জনগণেকে ইন্টারনেট ব্যবহারে আরও সচেতন করে তুলতে বড় রকমের প্রচারণায় নামতে চাইছে বিটিআরসি।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, ফিল্টারিংয় প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এ প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের কাজ চলছে। প্রাথমিক যাচাই বাছাইয়ের পর সাত কোম্পানিকে আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে দরপ্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। তারপর প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। তবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প হওয়ায় এ বিষয়ে অনেক ভেবে চিন্তে ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগের এসব মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পক্ষে বিপক্ষে উভয় ধরনের মত রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে মানুষের কণ্ঠ রোধ করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, এতে মানুষের মত প্রকাশের ভাষা ও গণতন্ত্র ব্যহত হবে।

অন্যদিকে আইনপ্রণেতারা একটু কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। গত ২২ অক্টোবর সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ফেইসবুক নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন। তারা বলেন, নেতা-নেত্রীদের নামে এ মাধ্যম ব্যবহার করে কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে।

এদিকে সরকার তথ্য প্রযুক্তি আইন সংশোধন করে অপ্রচারের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল জরিমানার বিধান করেছে।

Related posts

*

*

Top