Maintance

ওলোর বিষয়ে মুখ খুলল মোবাইল ফোন অপারেটররা

প্রকাশঃ ৬:৫০ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১০, ২০১৩ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:১৩ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১০, ২০১৩

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: সরকারের একেবারে শেষ মুহূর্তে কয়েক হাজার কোটি টাকার স্পেকট্রাম নামমাত্র মূল্যে ওয়াইম্যাক্স সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ওলোকে দেওয়ার বিষয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। কোম্পানিটিকে নূন্যতম মূল্যে ২৬০০ ব্যান্ডের মূল্যবান স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়ায় রাষ্ট্রের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছে অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব।

রাজধানীর একটি হোটেলে রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওলোকে মাত্র ২৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকায় ২৬০০ ব্যান্ডের ২০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম দেওয়ার সমালোচনা করেন অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক নূরুল কবীর। এর আগে গত বৃহস্পতিবার টেলিযোগাযোগমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে দেখা করে আপত্তির কথা জানান গ্রামীণফোন, বাংলালিংক এবং রবির সিইওরা। অন্য অপারেটরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

রোববার সাংবাদিকদের অ্যামটব নেতারা বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলো প্রতি মেগাহাডর্জ স্পেকট্রামের জন্য ১৫৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দিলেও একই ক্যাটাগরির স্পেকট্রাম ওলোকে মাত্র ৬ কোটি টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না। একই সঙ্গে তারা আলোচনার মাধ্যমে ওয়াইম্যাক্সের সংশোধিত নীতিমালা পুনমূল্যায়ন করা, স্পেকট্রাম প্রাইসিং ঠিক করাসহ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুস্পস্ট নীতিমালার দাবি জানিয়েছেন।

ollo_techshohor

নূরুল কবীর জানান, তবে এখনই তারা আইনী আশ্রয়ের কথা চিন্তা করছেন না।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গ্রামীণফোনের কর্পোরেট বিভাগের প্রধান মাহমুদ হোসাইন, রবির কর্পোরেটর বিভাগের প্রধান মাহমুদুর রহমান, বাংলালিংকের জাকিউল ইসলাম এবং এয়ারটেলের আশরাফুল হক চৌধুরীও নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

এই প্রথম রাশিয়ান কোম্পানি মাল্টিনেটের মালিকানাধীন বাংলাদেশ ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ লিমিটেডকে (ব্র্যান্ড নেম ওলো) স্পেকট্রাম বরাদ্দ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলল মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। যদিও এর আগে তারা বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার সরকার এবং বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে।

Symphony 2018

গত বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের ব্যানারে তারা মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মন্ত্রী তাদেরকে জানান, কর্মকর্তাদের পরামর্শে গত ৪ নভেম্বর একটি কোম্পানিকে ২০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামসহ ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গত ৪ নভেম্বর ওলোকে এ লাইসেন্স দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। ২৫১০-৩০ আপলিংক এবং ২৬৩০-৫০ ডাউন লিংকের ২০ মেগাহার্ডজসহ ওয়াইম্যাক্স এবং এলটিইর এ লাইসেন্সের জন্য কোম্পানিটি সরকারকে দেবে মাত্র ২৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ মেগাহার্ডজের স্পেকট্রামের বাজার মূল্য বর্তমানে নূন্যতম ৩ হাজার ৪২৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বলে টেলিকম বিশেষজ্ঞদের দাবি।

টেলিকম বিশেষজ্ঞরা জানান, গত সেপ্টেম্বরে থ্রিজির স্পেকট্রামের নিলামে একই ক্যাটাগরির প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম দুই কোটি ১০ লাখ ডলারের কিনেছে মোবাইল অপারেটররা। সে হিসাবে ২০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৪২ কোটি ডলার। এর সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ৩ হাজার ৪২৮ কোটি টাকার বেশি।

মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের সিইও বিবেক সুদ, বাংলালিংকের সিইও জিয়াদ সিতারা, রবির ভারপ্রাপ্ত সিইও মতিউল ইসলাম নওশাদ, অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক নূরুল কবীর এবং সিটিসেলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে একই সময়ে এয়ারটেলের অন্য অনুষ্ঠান থাকায় তাদের কেউ বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি বলে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মোবাইল অপারেটরদের জন্যে বরাদ্দ রাখা মূল্যবান স্পেকট্রাম সরকার বা বিটিআরসির এমনভাবে নামমাত্র মূল্যে অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া ঠিক নয় বলে বৈঠকে বিভিন্ন অপারেটরের কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে অবহিত করেছেন।

টেলিকম বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, থ্রি জির ২১০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রামের চেয়ে ২৬০০ ব্যান্ডের এ স্পেকট্রাম অনেক বেশী শক্তিশালী ফলে এর দামও অনেক বেশী। তারা জানান, এ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম দিয়ে উচ্চগতির এলটিই সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ওলো পাবে মোবাইল অপারেটরদের মতো ভয়েস সার্ভিস দেওয়ার সুযোগও।

এর আগেও কয়েকবার অ্যামটব সরকারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু সরকার শেষ পর্যন্ত তাদের অনুরোধ রাখেনি।

*

*

Related posts/