শত কোটি টাকা বাকি রেখে লাপাত্তা রাজনৈতিক আইজিডব্লিউ

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কাউন্সিলর: সরকারের কাছে শত শত কোটি টাকা বাকি ফেলে লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া অনেক আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটর। এর মধ্যে অনেকে আবার নিজেদের গা বাঁচাতে কোম্পানির থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থাই (বিটিআরসি) এই পরিস্থিতি স্বীকার করেছেন। এমনকি সংসদীয় কমিটিতেও বিষয়টি তুলেছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস।

আইজিডব্লিউগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী টাকা (১৩১ কোটি) বাকি রেখে লাপাত্তা হয়েছে ‘ভিশন টেলিকম’। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের মেয়ে ইফাত হোসাইনের কোম্পানি এটি। ইফাত অবশ্য দাবি করছেন, গত বছর ডিসেম্বরে এটি বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাগজে কলমে বিক্রি করেছেন কিন্তু আবার পেছন থেকে পরিচালনা করছেন এমন কোম্পানি এখন অনেকগুলো।

শামীম ওসমানের কোম্পানি ‘কে টেলিকমিউনিকেশন্স’ গত সেপ্টেম্বর মাসে বিক্রি হয়ে গেছে বলে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এখনো এই কোম্পানির পুরো নেতৃত্ব তার কাছে। ৮৯ কোটি টাকা বাকি থাকায় এই কোম্পানিটির অপারেশন বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি। এর বাইরে সুনামগঞ্জ-২ আসনের এমপি এবং টেলিযোগাযাগ মন্ত্রনালয় সম্পর্তিক সংসদীয় কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন তার আইজিডব্লিউ ‘বাংলাটেল’ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

অন্যদিকে ব্যবসায় থাকলেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে তার কোম্পানির নাম ‘সেনগুপ্ত টেলিকম’ -এর বদলে ‘ক্রস ওয়ার্ল্ড টেলিকম লি:’ করে নিয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মেয়ে সৈয়দা আমরিন রাখি এবং স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান্দ বানুর ‘রাতুল টেলিকম’র কাছে সরকারের পাওনা শত কোটি টাকা। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছ। ‘বেস্টটেক’র ৪০ শতাংশের মালিক আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ। এই প্রতিষ্ঠানর কাছে সরকারের পাওনা ১১৫ কোটি টাকা। এ টাকা পরিশাধ না করায় গত ২৬ অক্টোবর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এর কার্যক্রম।

IGW-image

টেলেক্সের কাছেও সরকারের ৬২ কোটি টাকা বাকি রয়েছে এবং সে কারণে তাদের লাইসেন্সও বাতিল করার সুপারিশ করেছে বিটিআরসি।
এর বাইরে আরো নয়টি আইজিডব্লিউ বর্তমানে রয়েছে যারা রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের টাকা না দেওয়ায় কল আনতে পারছে না। এর মধ্যে সরকারের একাধিক মন্ত্রী এবং মহাজোটের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের কোম্পানিও রয়েছে। এসব বিষয়ে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, কিছু কোম্পানি ‘ডিফল্টার’ হয়ে গেলেও তাদের খোঁজ মিলছে। আবার কিছু কোম্পানির কোনো হদিসই পাওয়া যাচ্ছে না। হদিস না পাওয়াদেরকে নিয়েই আমাদের চিন্তা।

তিনি জানান, সরকার লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ দিলে পারে এদের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের জন্যে মামলা করা হবে।

আইজিডব্লিউ’র নীতিমালা অনুসারে প্রতি মিনিট আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল দেশে আনার সঙ্গে তিন সেন্ট করে দেশে আসে। আর এই তিন সেন্টের ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ রেভিনিউ শেয়ারিং হিসেবে বিটিআরসি তথা সরকারকে দিতে হয়।

Related posts

*

*

Top