Maintance

এক প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের রেকর্ড মুনাফা

প্রকাশঃ ২:৫৬ অপরাহ্ন, অক্টোবর ২৬, ২০১৩ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:৫৬ অপরাহ্ন, অক্টোবর ২৬, ২০১৩

অনন্য ইসলাম, টেক শহর প্রতিবেদক : দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটি নিট মুনাফা করেছে প্রায় ৫৭৪ কোটি টাকা। যা এর আগের যে কোনো প্রান্তিকের চেয়ে বেশি।

সর্বশেষ প্রান্তিকে আয় বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহক সংখ্যাও বেড়েছে। গত তিন মাসে আরও ২০ লাখ ৭ হাজার নতুন গ্রাহক তাদের নেটওয়ার্কে যোগ হয়েছে। এ নিয়ে মোট গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪৬ লাখ। গ্রাহক বৃদ্ধির হার ১২.৪ শতাংশ।

রাজধানীতে হোটেল সোনারগাঁয়ে শনিবার তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে অপারেটরটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সুদ। তিনি জানান, গ্রামীণফোন জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে নিট মুনাফা করেছে ৫৭৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২২.৯ শতাংশ বেশি। ২০১২ সালের একই সময়ে তাদের লাভের পরিমাণ ছিল ৩১৬ কোটি ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪ দশমিক ২৫ টাকা, যা ২০১২ সালের একই সময় ছিল ২ দশমিক ৩৪ টাকা। এর ফলে ৮১ দশমিক ৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর সব মিলে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৭১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় প্রান্তিকে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ২ হাজার ৫০১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। যা ২০১২ সালের একই সময়ের তুলনায় ৯.৪ শতাংশ বেশি।

আয় বৃদ্ধি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার আশংকা থাকলেও ঈদের সময় জমজমাট ব্যবসা তাদেরকে এ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানত রিচার্জভিত্তিক ক্যাম্পেইন এবং কম চার্জের প্রচারণামূলক অফারের কারণে ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি হয়।

গ্রামীণফোনের সিইও বিবেক সুদ জানান, গত প্রান্তিকে অপারেটটি নিলামে ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম কিনেছে। তবে সব মিলে থ্রিজির স্পেকট্রাম কেনা এবং নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিনিয়োগে এ সময়ে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, এখন প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১২শ’ থ্রিজি গ্রাহক পাচ্ছেন তারা। আগামী বছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে দেশের ৪০ শতাংশ জনগনকে থ্রিজি সেবার নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

গ্রামীণ ফোন, টেক শহর

এ সময়ে নিজেদের সাফল্যের বিষয়ে সুদ বলেন, গ্রামীণফোন আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে বাজার প্রবৃদ্ধির যথাযথ অংশ লাভ করতে পেরেছ। আর নতুন প্রযুক্তি বিষয়ে বলেন, সবার কাছে ইন্টারনেট দেওয়ার নতুন তথ্যভিত্তিক যুগের সূচনা করতে পেরে অত্যন্ত উৎসাহিত।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, থ্রিজির পাশাপাশি টুজির এইজ, ওয়াইম্যাক্স এবং একই সঙ্গে ওয়াইফাইকেও তারা ইন্টারনেটের প্রসারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে। কোম্পানি আশা করছে, সিম রিপ্লেসমেন্টের ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবী করা কর সংক্রান্ত জটিলতা অল্প দিনের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে।

আর এর মধ্যে বিটিআরসি নম্বার পোর্টেবিলিটি চালু করার নির্দেশনা দিলেও এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি কোনো অপারেটর। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত সময়সীমা নিয়ে গ্রামীণফোন এবং অন্যান্য অপারেটররা তাদের আশংকার কথা জানিয়েছে বলেও জানান সুদ। নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে অ্যামটবের সাথে আলোচনা করার জন্য বিটিআরসির প্রতি আহবান জানিয়েছে গ্রামীণফোন।

-টেক শহর

*

*

Related posts/