বিটিসিএলে দুই হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির খোঁজ দিল টিআইবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিটেডে (বিটিসিএল) প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আন্তর্জাতিক কল আদান প্রদান এবং কল রেকর্ড টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে বড় ধরনের এ অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে বলে জানায় গবেষণা সংস্থাটি।

টিআইবি জানায়,বিদেশি কোম্পানির রাজস্ব ফাঁকি ও আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ দুনীর্তির আয়োজন। আন্তর্জাতিক কল আদান প্রদানের মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকা এবং কল রেকর্ড টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ১৫০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে।

টিআইবি বিটিসিএলে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রায়ত্ব ল্যান্ডফোন অপারেটরটির বিশাল এ দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

btcl-logo_techshohor

রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বুধবার এ সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির রিসার্চ এন্ড পলিসি প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিপু রায়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজ উদ্দিন খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিটিসিএলের নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কল আদান প্রদানের জন্য বিদেশি ক্যারিয়ারগুলোর কাছ থেকে জামানত হিসেবে মূল্য পরিশোধের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি নেওয়া হয়।

কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিসিএলের আন্তজাতিক শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেরাই বিদেশি কোম্পানি সেজে দেশে বসে এ ব্যবসা পরিচালনা করে।

এ কোম্পানিগেুলো মার্কিন ডলারে ব্যাংক গ্যারান্টি না দিয়ে স্থানীয় মুদ্রায় ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়। পরে এসব কোম্পানি কিছু দিন ব্যবসা করে বেশি অংকের বিল জমা করে তা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়।

এ কোম্পানিগুলো পরে আবার নতুন নাম ব্যবহার করে পুনরায় কাজ শুরু করে। বিটিসিএলের আন্তজাতিক শাখা এ বিষয়গুলো জেনেও অবৈধ অর্থ গ্রহণ করে তাদেরকে কাজ করার সুযোগ দেয়।

এ অবৈধ প্রক্রিয়ার কারণে বিটিসিএল কল আদান প্রদান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের কাছে ৯শ ৬৫ কোটি টাকা পাওনা পাবে। এর মধ্যে ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে ৫শ কোটি টাকা পাওনা থাকলেও তা আদায়যোগ্য নয়।

এ অর্থ ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিসিএলের আন্তজাতিক শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিটিসিএলের আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ দেখিয়ে ফোন কলের রেকর্ড টেম্পারিং চালু করা হয়। কিন্তু ২০১১ থেকে ১২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কলের কোনো রেকর্ডই পাওয়া যাচ্ছে না। এ সময়ের মধ্যে দিনে কত মিনিট বিদেশি কল আদান প্রদান হয়েছে তারও কোনো হিসেব নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মহাখালীর আইটিএক্সের কলের রেকর্ড ডিটেইলও(সিডিআর) পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় দু’বছর ধরে এ সিডিআর নষ্ট বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাই প্রতিদিন গড়ে আন্তর্জাতিক কলের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ মিনিটের বেশি হলেও কল সংখ্যা মুছে দেওয়ার কারণে গড় কল দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ মিনিট।

এর মাধ্যমে অন্যান্য আইসিএক্স এবং মোবাইল কোম্পানিগুলোর কাছে বিটিসিএলের পাওনা প্রায় ১৫শ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

– আল আমীন দেওয়ান

Related posts

*

*

Top