টেলিযোগাযোগ নীতিমালা হালনাগাদের তাগিদ

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দীর্ঘ ১৬ বছরের পুরনো টেলিযোগাযোগ নীতিমালা সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয় কথা বলেছেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ এ খাতের সকলেই।

বুধবার এ নীতিমালা সংশোধন শীর্ষক এক সেমিনারে মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা নীতিমালা তৈরির সময় সমন্বিত লাইসেন্স দেওয়া ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের রোডম্যাপ অর্ন্তভূক্ত করার পরামর্শ দেন।

TRNB Meeting-TechShohor

টেলিকম রিপোটার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) রাজধানীর একটি হোটেলে এ বিষয়ক প্রথম গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ নীতিমালা হালনাগাদের আলোচনার সূত্রপাত করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, এ খাতের গণমাধ্যম কর্মীরা যে আলোচনার সূত্রপাত করেছেন তা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অপারেটর এবং সরকারের দিক থেকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, আরও অনেক আগে এ নীতিমালা সংশোধন করা প্রয়োজন ছিল।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন নীতিমালার বিষয়ে সবাই মিলে আলোচনা করে একটি পর্যায়ে নিতে পারলে প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বলতে পারবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, এটিও খেয়াল রাখতে হবে বতর্মান নতুন প্রযুক্তির পুরোটাই বাণিজ্যিকারণের সৃস্টি। নীতি তৈরির ক্ষেত্রে এটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

অন্য আলোচকরা বলেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে টেলিযোগাযোগ খাতে সমন্বিত লাইসেন্স দেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স দেওয়ার ফলে টেলিযোগাযোগ খাত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সর্বোপরি এর শিকার হচ্ছেন গ্রাহকেরা।

টেলিযোগাযোগ নীতি সংশোধনী বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লার্ন এশিয়ার চেয়ারম্যান রোহান সামারাজিভা। টিআরএনবি সভাপতি আবদুল্লাহ মামুনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সজল।

বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, সরকার কিভাবে কাজ করবে তা বিনিয়োগকারীরা জানতে চান। তাই টেলিযোগাযোগ নীতিমালায় এখনই পরিবর্তন আনা দরকার।

টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আবু সাঈদ খান বলেন, ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের বিষয়গুলো নীতিমালায় আসতে হবে। নীতিমালায় আমূল পরিবর্তন দরকার।

টেলিযোগাযোগ খাতে একটি নীতির সঙ্গে আরেকটি নীতিমালার সমন্বয় নেই উল্লেখ করে এ বিশেষজ্ঞ একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় সমন্বিত লাইসেন্স দেওয়ার পরামর্শ দেন।

গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মাহমুদ হোসেন বলেন, আমূল পরিবর্তন করতে গিয়ে আগের নীতিমালার ভালো দিকগুলো যেন বাদ না দেওয়া হয়। অনেক ক্যাটাগরির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ইউনিফাইড লাইসেন্স যাতে দেওয়া হোক। ফরেন ইনভেস্টমেন্ট আইনে পরিবর্তন আসলে বিনিয়োগে সুবিধা হবে।

রবির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান বলেন, টেলিযোগাযোগ নীতিমালার সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলালিংকের সিনিয়র ডিরেক্টর জাকীউল ইসলাম বলেন, স্পেকট্রামের একটি রোডম্যাপ থাকা উচিত। কনটেন্ট কিভাবে সহজলভ্য এবং বাংলায় করা যেতে পারে তা নীতিমালায় আসতে পারে। বিভিন্ন ক্যাটাগরির লাইসেন্সের কারণে গ্রাহকরাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলালিংকের সিনিয়র ডিরেক্টর তাইমুর রহমান বলেন, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে কিভাবে টেলিকম খাতকে ব্যবহার করা যায় তা নীতিমালায় আসতে পারে।

গ্রামীণফোনের ডিরেক্টর মুনির হাসান বলেন, তরঙ্গের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে এর পুন:গঠন প্রয়োজন। সেই সঙ্গে তরঙ্গ বরাদ্দের বিষয়ে একটি রোডম্যাপ থাকা চাই।

এয়ারটেলের হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স শাহ মোঃ ফজলে খোদা বলেন, তরঙ্গ শেয়ার করা যেতে পারে। তাহলে তরঙ্গের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

Related posts

*

*

Top