এক মাসে রবির গ্রাহক কমল পৌনে ১৭ লাখ

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রাহক সংখ্যা হ্রাসের বিবেচনায় আরও একবার বড় রকমের ধাক্কা খেল মোবাইল ফোন অপারেটর রবি। মার্চে অপারেটরটির গ্রাহক কমেছে ১৬ লাখ ৭৫ হাজার। যদিও একই সময়ে অন্য পাঁচ অপারেটরের গ্রাহক বেড়েছে ১০ লাখ ৬৯ হাজার।

রবির গ্রাহক কমার প্রভাব পড়েছে দেশের মোট অ্যাক্টিভ গ্রাহকের সংখ্যা হিসাবে। ফেব্রুয়ারির শেষে সবগুলো অপারেটর মিলে মোট গ্রাহক ছিল ১১ কোটি ৫৮ লাখ। মার্চের শেষে তা ৬ লাখ কমে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৫২ লাখে।

আর এই এক মাসেই রবির গ্রাহক ২ কোটি ৫৬ লাখ থেকে নেমে এসেছে ২ কোটি ৩৯ লাখে। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এর ফলে রবির গ্রাহক ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমেছে।

robi logo_techshohor

সার্বিক বিবেচনায় মোট গ্রাহক কমেছে শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ। গত ১৫ মাস টানা প্রবৃদ্ধির পর এই প্রথম গ্রাহক সংখ্যা হ্রাসের হার দেখল মোবাইল ফোন খাত।

গত বৃহস্পতিবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রকাশ করেছে গ্রাহক সংখ্যার এই হিসাব। যেখানে সার্বিকভাবে মোবাইল গ্রাহক কমার তথ্য থাকলেও বেড়েছে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা।

২০১২ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ গ্রাহক কমেছিল। তখন প্রিঅ্যাক্টিভিশন এবং পোস্ট অ্যাক্টিভিশনের ঝামেলার কারণে সবগুলো অপারেটরের গ্রাহকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। এরপর টানা ১৫ মাস ধরে গ্রাহক বৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু এরপরেই এ ধাক্কা।

রবির কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত হিসাব সংক্রান্ত জটিলতায় এটি কমে গেছে। তবে বাস্তবে তাদের গ্রাহক তেমন কমেনি।

বিটিআরসির নিয়ম অনুসারে কোনো একটি সিম টানা ৯০ দিন অকার্যকর থাকলে অর্থ্যাৎ সিমটিতে কোনো কল না আসলে বা করা না হলে কিংবা কোনো এসএমএস আদান প্রদান না হলে সেটিকে অকার্যকর ধরতে হয়। আর অ্যাক্টিভ সিমের হিসাব থেকে তখন তা বাদ দিতে হয়।

রবির শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলছেন, এতোদিন সিমের হিসাব করার সময় এ নিয়ম সঠিকভাবে মানা হয়নি। কিন্তু এখন নিয়মটি প্রয়োগ করতে গিয়ে গ্রাহকের সংখ্যা কম দেখাচ্ছে।

এতে অন্য মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যার ওপরে প্রভাব পড়বে না দাবি করলেও তা হয়নি। বিষয়টি বিটিআরসিকে জানানো হয়েছে বলেও জানান রবির কর্মকর্তারা।
তবে বিটিআরসি বলছে, রেগুলেটর হিসাবে বিষয়টি আরও বিস্তারিত জানতে রবির ব্যাখ্যার পরেও তারা আরও তথ্য চাইবেন।

Mobile SIM Cards_techshohor

এর আগে ২০০৯ সালেও একবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল তখনকার একটেল (বর্তমানে রবি)। সেবার এক ধাক্কায় ২১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক কমেছিল। ২০০৯ সালের অক্টোবরের শেষে একটেলের গ্রাহক ছিল এক কোটি নয় লাখ ৯০ হাজার এবং নভেম্বরের শেষে তা চলে এসেছিল মাত্র ৮৮ লাখ ৭০ হাজারে।

এবার রবির গ্রাহক কমার কারণে সার্বিক গ্রাহক তথ্যের ওপর যখন নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তখন দেশের শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোন নতুন চার লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক যোগ করেছে। এতে করে মার্চের শেষে অপারেটরটির অ্যাক্টিভ গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৭ লাখে।

দ্বিতীয় গ্রাহক সেরা অপারেটর বাংলালিংক মার্চে যোগ করছে ৩ লাখ ১৫ হাজার নতুন গ্রাহক করায় মোট অ্যাক্টিভ গ্রাহক ২ কোটি ৯৪ লাখে দাঁড়িয়েছে।

এয়ারটেল এ মাসে যোগ করেছে ৪৬ হাজার গ্রাহক, যা নিয়ে তাদের মোট গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৮৪ লাখ ৮ হাজারে।

অন্যদিকে সরকারি অপারেটর টেলিটক এখন বেশ ভালো অবস্থায় আছে। মার্চের শেষে তাদের গ্রাহক ৩৪ লাখ ৩৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে। নতুন গ্রাহক যোগ হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার।

অনেক দিন ধরে গ্রাহক কমার ধাক্কায় থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম অপারেটর সিটিসেলও মার্চে নতুন ১৬ হাজার গ্রাহক বাড়াতে পেরেছে। এতে মোট গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ১৪ হাজারে।

এ দিকে মার্চের আগে দেশে মোট মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটি ৪৬ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫৩ লাখে। সার্বিক বিবেচনায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬৯ লাখ।

Related posts

*

*

Top