বিটিসিএলকে ডিজিটাল করতে ১,৮৬৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাষ্ট্রায়ত্ত্ব টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানিকে(বিটিসিএল)পুরোপুরি ডিজিটাল অপারেটরে পরিণত করতে ১ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এ প্রকল্পের কাজ শুরুর অনুমোদনও দিয়েছে সরকার।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য এনজিএনভিত্তিক টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে বিটিসিএলের কপার ক্যাবলের পরিবর্তে সব জায়গায় ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বসানো হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্রাম অঞ্চল পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপিত হবে। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করা যাবে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট টেলিফোন ও ভিডিও কনফারেন্সিং চালুর সুযোগ সৃস্টি হবে।

btcl-logo_techshohor

একই সঙ্গে সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ভোকেশনাল ট্রেনিঙ ইনস্টিটিউটগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানও তখন সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বের অনুষ্ঠিত বৈঠকে শীর্ষ মন্ত্রীরা অংশ নেন।

প্রকল্পটিতে সরকারি অর্থায়নের পরিমাণ ৪৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। বাকি ১ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা চীন প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দেবে।

প্রকল্পটির মেয়াদকাল ধরা হয়েছে চলতি বছরের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিটিসিএল ভয়েস কল ছাড়াও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য বিদ্যমান এক্সচেঞ্জগুলোতে স্থাপিত কম ক্ষমতা সম্পন্ন পুরানো ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি আধুনিক ইন্টারনেট ও মাল্টিমিডিয়া বেইজড ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করবে।

জনসাধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে আইসিটি সুবিধা পৌঁছে দিয়ে দেশে টেলিডেনসিটি বৃদ্ধি এবং টেলিএক্সেস সুবিধার আরও সম্প্রসারণ করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ।

বিটিসিএলের বোর্ড চেয়ারম্যান ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবুবকর সিদ্দিক প্রকল্প অনুমোদনের খবর জানিয়ে বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিটিসিএল পুরোপুরি ডিজিটাল অপারেটর হিসেবে কাজ করতে পারবে।

প্রকল্পের আওতায় ৭ লাখ সংযোগ ক্ষমতাসম্পন্ন ঢাকায় ১টি ইন্টারনেট প্রটোকল মাল্টিমিডিয়া সাবসিস্টেম (আইএসএস) প্লাটফর্ম স্থাপন করা হবে। এর অতিরিক্ত হিসেবে চট্টগ্রামে একই ক্ষমতাসম্পন্ন আরো ১টি আইএসএস প্লাটফর্ম স্থাপিত হবে।

বর্তমানে দেশে বেসরকারি খাতে একাধিক মোবাইল অপারেটর থাকলেও তারা মূলতঃ ভয়েস কল সেবা প্রদান করে থাকে।

সীমাবদ্ধ ব্যান্ড ইউথে ডাটা সার্ভিস (ইন্টারনেট) প্রদান করলেও তা বেশ ব্যয় বহুল। আলোচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে বিটিসিএল এর বিদ্যমান নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন করে ভয়েস কলের পাশাপাশি ইন্টারনেট ও ভিডিও আদান প্রদান সেবা প্রদান করা হবে।

ফলে ১০ লাখ ল্যান্ড টেলিফোন গ্রাহকদের নতুন করে সংযোগ না নিয়ে ইন্টারনেট সুবিধার আওতাভুক্ত হবে। এর ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে ভয়েসকল ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য দেশে একটি সুষম ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টি হবে বলেও ‘একনেক’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনার সভায় জানানো হয়।

Related posts

*

*

Top