সিম বদল কর : এনবিআরের নতুন দাবি ২৫০০ কোটি টাকা

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সিম বদলের কর হিসাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবার চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে আড়াই হাজার কোটি টাকা দাবি করেছে। এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবি করলেও সর্বশেষ ডিসেম্বরে ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা পাওনার কথা বলেছিল এনবিআর।

এনবিআরের অভিযোগ, বিভিন্ন কারণে বন্ধ সিম অপারেটরগুলো পরে নতুন করে বিক্রি করেছে। অথচ তারা দেখিয়েছে, আগের গ্রাহককেই এ সিমগুলো দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সরকারকে বিপুল পরিমান কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ দাবি অনুসারে চার মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং এয়ারটেলের কাছ থেকে এ বাবদ ২ হাজার ৪৬৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা পাবে এনবিআর।

nbr tax_techshohor

এ দফার দাবি অনুসারে এনবিআর সবচেয়ে বেশি গ্রামীণফোনের কাছে ১ হাজার ৩০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা বকেয়া দাবি করছে। বাংলালিংকের কাছে ৫৬৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, রবির কাছে ৫৫৮ কোটি ৯২ লাখ এবং এয়ারটেলের ৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা দাবি করেছে।

এর আগে এনবিআর এ বিষয়ে প্রথম দাবি তোলে ২০১২ সালে। তখন এ চার অপারেটরের কাছে ৩ হাজার ৭২ কোটি টাকা দাবি করে রাজস্ব বোর্ড। মূলত ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বদলে দেওয়া সিমের তালিকা ধরে কর দাবি করে এনবিআর।

বর্তমানে সিম প্রতি কর ৩০০ টাকা হলেও তখন এটি ৮০০ টাকা ছিল।

পরে অপারেটররা বিষয়টি নিয়ে রিট করলে উচ্চ আদালত এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করতে নির্দেশনা দেয়। এটি কারিগরি বিষয় হওয়ায় আদালত এনবিআরও, বিটিআরসি এবং অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করে এর সুরাহা করতে বলে।

এরপর এনবিআর চার অপারেটরের কাছে সিম পরিবর্তন বিষয়ে ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা দাবি করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে গত ডিসেম্বর মাসে।

মাঝখানে গত বছরের মাঝামাঝি সময় অপারেটররা একবার দাবি তোলে, সিম পরিবর্তন সংক্রান্ত এ ঝামেলার শেষ না হলে তারা থ্রিজি স্পেকট্রাম নিলামে অংশ নেবে না। তখন তড়িঘড়ি করে প্রাথমিক প্রতিবেদনের নামে আরও একটি প্রতিবেদন তৈরি করে রাজর্স্ব বোর্ড করের পরিমাণ নির্ধারণ করে মাত্র ২৫১ কোটি ২১ লাখ টাকা।

সেখানে দেখানো হয় গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা ১৯৪ কোটি টাকা, বাংলালিংকে কাছে ৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, রবির কাছে ১৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং এয়ারটেলের কাছে ১৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

কিন্তু থ্রিজির নিলামের পরেই আবার ঘুরে যায় এনবিআর।

btrc_nbr_techshohor

এ দিকে সর্বশেষ প্রতিবেদন সম্পর্কে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব বলছে, এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান না হলে শুধু টেলিযোগাযোগ খাত নয় বরং সকল বিদেশি বিনিয়োগে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নূরুল কবীর বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ বিষয়ে একটি সম্মানজনকও গ্রহণযোগ্য সমাধান চায়।

তাছাড়া ভবিষ্যতের বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারও সমাধান খুঁজছে বলেও দাবি করেন অ্যামটব সাধারণ সম্পাদক।

এ দিকে ২৫১ কোটি টাকা দাবির বিষয়্টি ছাড়া এনবিআরের অন্য কোনো দাবি গ্রহণ করেনি মোবাইল অপারেটরেরা। ফলে যাচাই-বাছাইয়ের কমিটির এ প্রতিবেদনে তারা স্বাক্ষর করেনি।

তবে এর আগে ডিসেম্বরের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিটিআরসি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে সই না করলেও এবার তারা স্বাক্ষর করেছে।

ফলে খানিকটা বেকায়দায় পড়ে গেছে মোবাইল অপারেটররা। অপারেটরগুলোর কর্মকর্তাদের দাবি, শুধু দেশে নয়-বিশ্বের কোথাও দ্বৈচয়ন পদ্ধতিতে পাওয়া কোনো জরিপের ওপর কর নির্ধারিত হয় না। ফলে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

Related posts

*

*

Top