আরও এনটিটিএন ও নিক্স লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সরকার আরও অন্তত দুটি এনটিটিএন লাইসেন্সসহ অল্প সময়ের মধ্যে নিক্স লাইসেন্স দেবে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দীক।

রোববার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বেসরকারী বিনিয়োগ এবং প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করতে বেসিস এবং এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক যৌথ সংলাপে সংশ্লিষ্টদের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বর্তমানে মাত্র দুটি ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) কোম্পানি দেশব্যাপী ফাইবার নেটওয়াকিংয়ের কাজ করছে।

অন্যদিকে  ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (নিক্স) কার্যক্রম চালু হলে দেশের মধ্যে কম খরচে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়বে। এতে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমে আসবে বলে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের অভিমত।

basis_techshohor

সংলাপে এ দুটি বিষয়ে দাবি ওঠার পর মন্ত্রী বলেন, “আমার সামনে উত্থাপন করা হলে কালকেই (সোমবার) আরও এনটিটিএন লাইসেন্স দেব। এ ছাড়া নিক্স লাইসেন্সও দেওয়া হবে।”

সংলাপে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস যত দ্রুত সম্ভব আরও এনটিটিএন লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব করেন। চারটি আবেদন যাচাই বাছাই করে মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছে কমিশন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, অন্তত দুটি আবেদন গ্রহণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমাতে তিনি নিক্স লাইসেন্স দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করেন।

মন্ত্রী তৎক্ষনাৎ তার আবেদন গ্রহণ করেন। এক সংলাপেই অনেকগুলো সমস্যার সমাধান করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ গ্রহণ এবং লাইসেন্স নীতিমালা সংশোধনের বিষয়েও মন্ত্রী তার সহমত পোষণ করেন।

সংলাপে উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের মতে, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিখাতে এটিই স্মরণকালের সবচেয়ে সফল সংলাপ।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের কথা বিবেচনা করে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে রাজি আছেন তিনি। এক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে বড় ধরণের পরিবর্তন পক্ষেও তার মত দেন।

বেসিস সভাপতি শামীম আহসানের সভাপতিত্বের সংলাপে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।

সংলাপে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মোট তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম রোকনুজ্জামান তার উপস্থাপনায় বলেন, বাংলাদেশে মাথাপিছু ব্যান্ডউইথ ব্যবহার মাত্র শূন্য দশমিক ৩ কেবিপিএস। ভারতে সেটি এক মেগাবাইট ও সিঙ্গাপুরে ২৫৮ কেবিপিএস।

বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, সিঙ্গাপুরে প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ডউইথের মূল্য ৫ ডলার বা চারশ টাকা। ঢাকায় তা ২,৮০০ টাকা। ঢাকার বাইরে গেলে তা ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত চলে যায়।

এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ব্যাকহোল মূল্য কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার আবু সাঈদ খান বলেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র যদি ট্যাক্স হলিডে পেতে পারে তাহলে ব্যান্ডউইথের জন্যও ইনটেন্সিভ দেওয়া দরকার।

সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন এশিয়া ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হাসান মজুমদার, বেসিস মহাসচিব রাসেল টি আহমেদ, বেসিস পরিচালক একেএম ফাহিম মাশরুর, ফাইবার অ্যাটহোমের সাবির আহমেদ সুমন, গ্রামীণফোনের মনির হাসান প্রমুখ।

Related posts

*

*

Top