জিএসএম প্রযুক্তিতে যেতে ফের সিটিসেলের আবেদন

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জিএসএম প্রযুক্তিতে যেতে আবারও আবেদন করেছে দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল। একই সঙ্গে অপারেটরটি তাদের জন্য বরাদ্দ করা স্পেকট্রামের পুরোটাও বুঝে পেতে চাইছে।

গত সপ্তাহে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এই আবেদন পাঠিয়েছে সিটিসেল।

পরে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মঙ্গলবার বিটিআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখাও করেছেন সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরী।

Citycell-btrc-TechShohor

প্রযুক্তি পরিবর্তন ও স্পেকট্রাম বুঝে নেওয়ার আবেদন এবং বৈঠক বিষয়ে মেহবুব চৌধুরী বলেন, অনেক দিন ধরে এ দুটো বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন। এখন প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িযেছে।

সিটিসেল সিইও বলেন, অস্তিত্বের কারণেই এ দুটি বিষয়ে মনযোগ দিতে হচ্ছে।

তবে সমস্যা সমাধানের জন্য বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বকেয়া পাওনা পরিশোধের শর্ত দিয়েছেন। আর সিটিসেল বলছে, তারা প্রাপ্য না পেলে দেনা পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দেশে বর্তমানে ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে সিটিসেলই কেবল সিডিএমএ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বাকি সবাই জিএসএম প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

এ কারণে বাকি সকলে সিম ব্যবহার করলেও সিটিসেল ব্যবহার করছে রিম, যা সিমের তুলনায় একটু আকৃতিতে বড়। সে কারণে তাদের পক্ষে সব মোবাইল হ্যান্ডসেটে সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আর এটিকেই সিটিসেলের জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে প্রধান বাঁধা বলে মনে করছেন সিটিসেল সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে গত মাসে অপারেটরটি বকেয়ার কিছু সামান্য অংশ পরিশোধ করেছে। মোট বকেয়ার মাত্র এক দশমাংশ টাকা সাড়ে ২৬ কোটি টাকা দিয়েছে কমিশনকে।

সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির আরও পাওনার পরিমাণ ২২৯ কোটি টাকা।

বাকি থাকা এই টাকার পুরোটাই স্পেকট্রাম সংশ্লিষ্ট। অপারেটরটি টুজি লাইসেন্স নবায়ন করে নিলেও এখনও ওই লাইসেন্সের টাকা পরিশোধ করেনি।

এ বিষয়ে মেহেবুব চৌধুরী বলেন, ‘বকেয়া রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম চার্জ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু টুজি লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে কিছু জটিলতা থাকায় ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি।’

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কাছে বিভিন্ন খাতে ২৪৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা আদায়ে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিশ দেয় বিটিআরসি। এই সময়ে টাকা দেওয়া না হলে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে যাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সিটিসেল বলছে, মোট ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে অপারেটরটি মাত্র সাড়ে ছয় মেগাহাডর্জ স্পেকট্রাম পাচ্ছে। এ কারণে নতুন বিনিয়োগও আসছে না। যা কোম্পাানির বাড়তি অর্থ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related posts

*

*

Top