ছয় বছর পর টেলিটক ছাড়লেন মুজিবুর

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অবশেষে টেলিটকে ‘শেষ’ অফিস করলেন অপারেটটির দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মুজিবুর রহমান। সাড়ে ছয় বছর এ পদে থাকার পর বৃহস্পতিবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে তার।

এ দিকে রাষ্ট্রায়ত্ব এ মোবাইল অপারেটরটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে বিজ্ঞাপন দিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রনালয়।

ইতোমধ্যে বেশ কিছু আবেদনও পড়েছে বলে জানা গেছে। আবেদন করেছেন মুজিবুর রহমানও।

Mujibur-Rahman-Teletalk MD-TechShohor

এর আগে জোর তদবির চালালেও মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বিভিন্ন জনের কাছে মুজিবুর রহমানের চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর কথা বলেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। নতুন কাউকে খুঁজে পেতে নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটিকেও নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে টেলিটক এমডি বার্সেলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে যেতে চাইলে মন্ত্রী সফরের অনুমোদন দেননি।

এর আগে মুজিবুর ২০০৮ সালের শুরু দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় টেলিটকের এমডি পদে নিয়োগ পান।

পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফরিদপুরে বাড়ি হওয়ার সুবাদে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের মাধ্যমে তিনি টেলিটকসহ নানা পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেন।

তখনকার মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর সঙ্গেও তিনি ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে সক্ষম হন। সে কারণে প্রথম দফায় তিন বছরের মেয়াদ পার হওয়ার পর ছয় মাস, এক বছর এবং দুই বছর করে কয়েকবার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে এ পদে থাকতে স্বক্ষম হন তিনি।

এবারও স্বপদে বহাল থাকতে নানা চমক দেখাতে শুরু করেন মুজিবুর। মাঝখানে গত মাসে হাজার কোটি টাকা বাকি রেখেও মুনাফা করার ঘোষণাও দেন তিনি। এর মধ্যে আবার টেলিটকের কর্মীদেরকে সমর্থন পেতে দিয়েছেন মহার্ঘভাতাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব কিছু কাজে আসনি।

মুজিবুর দাবি করেছিলেন শেষ হওয়া বছরে টেলিটক ৪৬ কোটি টাকা লাভ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরেই টেলিটক থেকে মন্ত্রী ও সচিবদের জন্য সব সময় কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি কিনে তা ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন। এর বাইরে নানা সুযোগ সুবিধা দেওয়ার ঘটনার কথাও আলোচিত রয়েছে। টেলিটকে চাকুরি দিয়েছেন মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাদেরও।

এ দিকে মুনাফার বিষয়ে অপারেটরটির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, বিটিআরসির কাছে কোম্পানির দুই হাজার কোটি টাকার দেনা রয়েছে। এর বাইরে চীনা দুটি কোম্পানি পাবে আরও দুই হাজার কোটি টাকা। তাদের মতে, এ গুলো বাকি রেখেই মুনাফার ঘোষণা দেওয়া অযৌক্তিক এবং ধাপ্পাবাজি।

তবে এমডি হিসাবে তার গ্রাহক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কৃতিত্বও রয়েছে। ১০ লাখ থেকে অপারেটরটির গ্রাহক ৩০ লাখে উন্নীত করেন তিনি। তার সময়েই থ্রিজি যুগে প্রবেশ করে টেলিটক।

Related posts

*

*

Top