আবারও নানকের পারিবারিক কোম্পানিকে ছাড়

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : একই অপরাধে অন্য কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হলেও আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানকেরমেয়ে ও স্ত্রীর কোম্পানি রাতুল টেলিকমকে বারবার ছাড় দিচ্ছে সরকার।

সরকারের ইচ্ছায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনও (বিটিআরসি) কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ কারণে কোম্পানিটির কাছে পাওনা প্রায় একশ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার বিটিআরসির ১৬৭তম কমিশন বৈঠকে নানকের স্ত্রী আনজুমান্দ বানু ও মেয়ে সৈয়দা আমরিন রাখির মালিকানাধীন কোম্পানি রাতুল টেলিকমের বিরুদ্ধে মামলা করার পরিবর্তে আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

IGW-image_techshohor

কমিশন শত কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধের জন্য৩১ মে পর্যন্ত রাতুল টেলিকমকে সময় দিয়েছে বলে বিটিআরসির এক কমিশনর জানিয়েছেন। জানা গেছে, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সুপারিশে কমিশন এ সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেন।

আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটরটি বকেয়ার পরিমাণ ৯৬ দশমিক ৭৯ কোটি টাকা। সঙ্গে ১৫ শতাংশ বিলম্ব ফি যোগ করলে তা শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ২০১২ সালের শেষের দিকে বিদেশ থেকে কল আনার ব্যবসা শুরু করে রাতুল টেলিকম।

রাতুল টেলিটকের ৫০ শতাংশের মালিক নানকের মেয়ে সৈয়দা আমরিন রাখি এবং ২০ শতাংশের মালিক তার স্ত্রী আনজুমান্দ বানু।

এর আগে সাবেকমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন রাতুল টেলিকমকে বকেয়া ৯৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা তিন কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেন। ৩১ জানুয়ারি তৃতীয় কিস্তির সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এক টাকাও পরিশোধ করেনি কোম্পানিটি।

পরে রাতুল ফেব্রুয়ারিতে আরও সময় চাইলে বিটিআরসি তাতে সম্মতি দেয়নি। এর মধ্যে কমিশন কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতি শুরু করে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মামলা করার চূড়ান্ত প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।

একই অপরাধে কমিশন ইতোমধ্যে ভিশন টেলিকম, টেলেক্স, বেস্ট টেক এবং কে টেলিকমিউনিকেশন্সনামের চারটি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

তবে রাতুল টেলিকম মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর কাছে গেলে তিনি আবার সময় দেওয়ার সুপারিশ করেন।

নিয়ম অনুসারে বিদেশ থেকে আসা ফোন কলে প্রতি মিনিটে তিন সেন্ট করে পায় আইজিডব্লিউগুলো। এর মধ্যে ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বিটিআরসিকে দেওয়ার কথা। রাজস্ব ভাগাভাগির এ অর্থই বাকি ফেলেছে অপারেটরগুলো।

Related posts

*

*

Top