এক বছর পর লাইসেন্স ফি দিল টেলিটক

অনন্য ইসলাম, টেক শহর প্রতিবেদক : এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল সেবা দেওয়ার পর অবশেষে লাইসেন্স ফির ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করল রাষ্ট্রায়ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক। একই সঙ্গে লাইসেন্স ফির ভ্যাট হিসেবে আরও ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি। তবে এখনও দেয়নি স্পেকট্রামের ১ হাজার ২৪ কোটি টাকা।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসিতে বুধবার টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান নিজে এ অর্থ পরিশোধ করেন।

অপারেটরটি গত বছর অক্টোবরে পরীামহৃলকভাবে থ্রিজি চালু করলেও এতদিন অর্থ পরিশোধ করেনি। বুধবার ছিল প্রথম ধাপের অর্থ পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন। এ দিন ২১’শ ব্যান্ডে নেওয়া ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম ফির ৬০ শতাংশ মূল্য পরিশোধের কথা ছিল। জানা গেছে, মূলত আর্থিক সংকটের কারণেই অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না টেলিটক।

যদিও ঈদের আগেই টেলিটকের পে থ্রিজি স্পেকট্রামের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে অপারেটরটি। এ জন্য দুটি বিকল্পের কথা বলেছে তারা। ফি বাবদ ১ হাজার ৭১৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার পুরোটা মওকুফ কিংবা দীর্ঘমেয়াদী কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে সরকারি এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

থ্রিজির নীতিমালা অনুসারে অপারেটরটিকে বুধবারের মধ্যে ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ সাড়ে ১০ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি এবং ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য হিসেবে আরও ১ হাজার ২৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

Teletalk_3G_Techshohor
গত ৮ সেপ্টেম্বরের নিলামে ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২১ কোটি ডলার। ওই দিনের হিসাব অনুসারে প্রতি ডলারের মূল্য ৭৭ দশমিক ৭৫ টাকা ধরে এ হিসাব করা হয়। ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ স্টেক্সকট্রাম মহৃল্যের ৬০ শতাংশ দেওয়ার কথা নিলামের পরের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে।

এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ সচিব ও টেলিটকের চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানি হওয়ায় এটিকে বাঁচিয়ে রেখে এর উন্নতির বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সরকারের। তাই সরকার এ অর্থ মওকুফ কিংবা বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে পারে।

স্পেকট্রাম ফির অর্থ পরিশোধ করতে হিমশিম খাওয়ায় দেনার পরিমাণ কমাতে মাঝে ১০ মেগাহার্ডজের জায়গায় টেলিটক ৫ মেগাহাডর্জ স্পেকট্রাম নেবে কি না তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে এমডি মুজিবুর সেই আশংকা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্পেকট্রাম কমিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

গত ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নিলামে গ্রামীণফোন ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম নিলেও বাকি তিন অপারেটর রবি, এয়ারটেল এবং বাংলালিংক ৫ মেগাহাডর্জ করে স্টেক্সকট্রাম নিয়েছে।

গত বছর ১৪ অক্টোবর থেকে থ্রি জির ‘পরীাক্ষামূলক’ বাণিজ্যিক কার্যত্রক্রম শুরু করে টেলিটক। এরপর থেকে সব মিলে ১৮টি জেলায় সেবা কার্যত্রক্রম শুরু করেছে তারা। আর এ সময়ে থ্রি জির গ্রাহক পেয়েছে সাড়ে ৫ লাখ। তবে খুব বেশি আর্থিক সফলতা আসেনি।

জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে টেলিটকের রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৬৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। কর্তৃপক্ষ আশা করছে এর মধ্যে ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা হবে। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৬৭ কোটি টাকা আয়ের মধ্যে নিট মুনাফা ছিল ৬৫ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজস্ব আয় এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন টেলিটক এমডি।

-টেক শহর

Related posts

*

*

Top