বিটিসিএলের জন্য ১৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ল্যান্ডফোন অপারেটর বিটিসিএলের জন্য চীন থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার ঋণ নিচ্ছে সরকার।

সম্প্রতি এক হাজার ৮৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির অংশ হিসাবে এনজিএনভিত্তিক টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক স্থাপন শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বৈঠকে উপস্থিত না থাকার এটির অনুমোদন দেওয়া হয় নি।

btcl-logo_techshohor

প্রকল্পের আওতায় বিটিসিএলের (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিঃ) দেশব্যাপী বিদ্যমান সকল এক্সচেঞ্জের পুরনো ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি ও কপারভিত্তিক টেলিফোন নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করে আধুনিক ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি এবং ফাইবার কেবল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে।

সারাদেশে বিটিসিএলের ৯ লাখ ৩০ হাজার ল্যান্ডফোন গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে এখনও ৬ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক আধুনিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের বাইরে রয়ে গেছে।

এ জন্য চীনের অর্থায়নে নেওয়া এ প্রকল্পটির মাধ্যমে ৭ লাখ গ্রাহককে ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে।

এজন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ৪০৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে ব্যয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ঋণ পেতে চীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম সব চূড়ান্ত করেছে অর্থনৈতিক সম্পক বিভাগ (ইআরডি) । শিগগিরি এ বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, বিটিসিএল এবং চীন সরকারের নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান মেসার্স চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের (সিএমইসি) মধ্যে ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তিও সই হয়েছে।

চীন সরকারের সঙ্গে ইআরডির ফাইনান্সিং এগ্রিমেন্টের জন্য সমঝোতাও শেষ হয়েছে। তবে শর্তের বিষয়ে এখনো মুখ খুলতে চাননি সংশিষ্টরা।

একনেক প্রকল্পটির অনুমোদন দিলে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে রাজধানীর ১ লাখ পুরনো টেলিফোন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্কের আওতায় আনাসহ আরও ৭১ হাজার নতুন সংযোগ দিতে একটি প্রকল্প নেয় বিটিসিএল। এটিও এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

পরে আবারও দেড় লাখ পুরনো টেলিফোন প্রতিস্থাপনসহ আরও ৫০ হাজার নতুন টেলিফোন সংযোগ দেওয়ার জন্য জাইকার সহায়তায় টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে।

Related posts

*

*

Top