Maintance

ইন্টারনেটে গলাকাটা মুনাফা নয়

প্রকাশঃ ২:৪১ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:৪৭ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট ব্যবসায় গলাকাটা মুনাফা না করার আহবান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এগিয়ে যাওয়ার আরও ৪ বছর’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাইরে কথা বলার সময় ধারণা দেয়া হয়েছিল যে, সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি ৬২৫ টাকা বা এই রকম একটা দামে ইন্টারনেট দিয়ে থাকে । আর তাদের  সঙ্গে বৈঠক করে জানলাম চট্টগ্রামে শুধু ২০৪ টাকায় এই ব্যান্ডউইথ দিয়ে থাকে ।’

‘এখন এর সঙ্গে খরচ-মুনাফা ব্যবসায়ীরা যোগ করবেন কিন্তু সেই মুনাফা গলাকাটা হবে না। এটিই হওয়া উচিত।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘কেবলমাত্র মোবাইলের ব্রডব্যান্ড দিয়ে আসলে জনগণের ইন্টারনেটের চাহিদা পূরণ করা যাবে না। সিঙ্গাপুর ২০১৫ সালে এক জিবিপিএস গতির স্বপ্ন দেখেছে আর বাংলাদেশে ২০৪১ সালে এই গতি পাওয়া যাবে না, তা হতে পারে না । এ জন্য তারের মাধ্যমে ইন্টারনেট পৌঁছতে হবে। সেই পরিকল্পনা আমরা করছি  ‘

‘সরকার ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে আর আমাকে ডেটা কিনতে হয়। কি কারণে আমি ব্যান্ডউইথ অথবা আনলিমিটেড প্যাকেজ অথবা ডেটা,  এই জায়গায় যেতে পারবো না-তার কোনো যুক্তিসঙ্গত উত্তর আমি আমার নিজের কাছে পাইনি’ বলেন মন্ত্রী।

এটি নিজের কাজে চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি এর সমাধান করাকে নৈতিক দায়িত্ব মনে করেন। বাংলাদেশের জনগণ সারাদেশে এক রেটে ইন্টারনেটে পাবে এ বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করবেন বলে জানান।  

ইন্টারনেটে মানুষের জীবন যেন কঠিন করে না তুলতে পারে সেজন্য এর অপব্যবহারকারীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, ডটবিডি ও ডটবাংলা ডোমেইন সহজে নিবন্ধন এবং এখানে সব নামের ডোমেইনের দাম এক করা হবে বলে জানান তিনি।

টেলিকম ডিভিশনের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো ঐতিহাসিকভাবে রুগ্ন, জরাগ্রস্ত এবং এগুলো ঠিক জায়গায় আনা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে ডাক বিভাগ। প্রযুক্তিগত দিক হতে এটি ডাইনোসরের সময়ে পৌঁছেছে। কিন্তু এটি তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এটিকে বিলুপ্ত হতে দিতে পারি না।’

এ সময় তিনি টেলিটক ও টেশিসের কথাও উল্লেখ করে বলেন, এগুলোকেও সেরা জায়গায়, ভাল অবস্থানে আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এই চার বছরে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নানা অগ্রগতি তুলে ধরেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সফটওয়্যার রপ্তানির আয় ৮০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে চলতি বছরের মধ্যে এটি ১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২১ সাল নাগাদ পাঁচ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।

পলক বলেন, ‘২০১৮ সালে আরও ৪০ হাজার তরুণ-তরুণী যেন ঘরে বসে কাজ করতে পারে সেজন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘শি পাওয়ার’ নামে একটি প্রকল্পে ১০ হাজার ৫০০ নারীকে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করা হবে। তারা নয় মাসের প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবেন।’

২০২১ সালের মধ্যে ৮২টি মন্ত্রণালয় ও ১২০টি সংস্থাকে ডিজিটাইজড করার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ই-গভর্ন্যান্সে এগুলোর সেবা আরও সহজলভ্য হবে।

পলক বলেন, চলতি বছরের জুনে টিয়ার ফোর ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ শেষ হবে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশে ২৮টি আইটি পার্ক নির্মাণও সমাপ্ত হবে। এতে তিন লাখ তরুণ-তরুণী কাজের সুযোগ পাবে ।

উপস্থাপনায় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি, শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফিউচার টেকনোলজি, স্মার্ট সিটি, গ্লোবাল সিইও আউটরিচ ইত্যাদি বিষয়ে নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ প্রতিমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/