বিসিএসের আগামী নেতৃত্বকে কৌশলী হতে হবে : শাহিদ-উল-মুনীর

আল আমীন দেওয়ান : দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বিসিএসের ২৯ মার্চের নির্বাচনকে সামনে রেখে টেকশহরডটকমের সিরিজ প্রতিবেদনের সঙ্গে থাকছে বর্তমান ও সাবেক নেতা, প্রার্থী ও ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতা।

নির্বাচনকে ঘিরে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সদস্যরা এখন বেশ আলোচনায়। ভোটের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা ভোটার সদস্যদের সঙ্গে সংগঠনের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের বিষয় আশয় নিয়ে আলাপচারিতায় ব্যস্ত।

নির্বাচনের এ ডামাডোলের মধ্যে টেকশহরডটকমও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৃহত্তম এ সংগঠনের বর্তমান হালচাল, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, ভোটারদের চাওয়া পাওয়ার বিষয়ে জানতে কথা বলেছে অনেকের সঙ্গে। এ প্রতিবেদনে থাকছে বর্তমান মহাসচিব মো. শাহিদ-উল-মুনীরের সঙ্গে আলাপচারিতার চুম্বক অংশ।

২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে থেকে বিসিএসকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহিদ-উল-মুনীর। বর্তমান কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন মহাসচিব হিসাবে। তিনি ইপসিলন সিস্টেমস অ্যান্ড সলিউশন লিমিটেডের সিইও।

shahid-ul-munir_techshohor

টেকশহরডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় বর্তমান কমিটি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নসহ কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। সংগঠনকে আগামীতে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলেছেন তিনি।

বিসিএসের ঝিমিয়ে পড়া ও সাধারণ সদস্যদের ক্ষোভের বিষয়ে মহাসচিব বলেন, সদস্যদের প্রত্যাশার মাত্রা বেশি হলে এ সমস্যা এড়ানো মুশকিল। অনেক ক্ষেত্রে এক হাজার সদস্যের একটি সংগঠনের সবার প্রত্যাশার সবটা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এ কারণে কিছু বিষয় মেনে নিতেই হবে।

সমিতি নিয়ে সদস্যদের আগ্রহ কমে যাওয়া প্রসঙ্গে শাহিদ বলেন, একটি সমিতিতে সবাই ‘সিরিয়াস’ সদস্য হয় না। বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) মতো গুরুত্বপূর্ণ সভাতেও কোনো বিনোদন বা ‘গালা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে না। তাই হয়তো সদস্যরা উপস্থিত হন কম। আসলে বিসিএস যে লেভেলে কাজ করে তা অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয় না। সাধারণ সদস্যদের অনেকেই হয়ত জানতে পারেন না যে আমরা ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়নে কাজ করেছি। পলিসি লেভেলে কাজ করছি, যার তাৎক্ষণিক ফল হয়ত থাকে না কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সুফল সদস্যরা ভোগ করেন।

ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে শাহিদ বলেন, এটা ঠিক যে ‘মার্কেট ডিস্ট্রিবিউশন পলিসি’ নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। এ বিষয়ে কেউ কোনো নীতি মানে না। পণ্যের সরবরাহ চ্যানেলে কোনো এমআরপি ঠিক করা নেই। অতীতে এটা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তিক্ত ঝামেলাও হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত এটার উন্নতি করে ভালো পর্যায়ে আনা যায়নি। এখানে সবাই ভুক্তভোগী।

মহাসচিব বলেন, বর্তমান কমিটি কর ও ভ্যাট নিয়ে কাজ করেছি। কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের অনেক যন্ত্রাংশে শুল্ক উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়ে গেছে। এ নিয়েও কাজ চলছে। নীতিমালায় ইলেকট্রনিক্স পণ্য থেকে কম্পিউটার বিষয়ক পণ্যকে আরও স্পেসিফিক করতে কাজ চলছে। সরকারি ক্রয় নীতিমালায় বিসিএসের প্রতিনিধি রাখার বিষয়ে চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মূল সমস্যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। যে কারণে বিষয়টি ঝুলে থাকছে।

BCS Election-TechShohor

একটি গ্রহণযোগ্য ‘ওয়ারেন্টি পলিসি’ তৈরি করতেও বিসিএস কাজ করছে উল্লেখ করে শাহিদ বলেন, নীতিমালার খসড়া তৈরি করে সকলের কাছে পাঠানো হয়েছে। সবার মতামত নিয়ে এটি শীঘ্রই চূড়ান্ত করা হবে।

আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে আলাপকালে মহাসচিব বলেন, বিসিএস আগামী নেতৃত্বকে অনেক কৌশলী হতে হবে। এ খাতের প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করবেন এবং কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন নেতৃত্বই আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি। নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব পালনে একে অপরের দিকে ঠেলাঠেলি না করে দলগতভাবে কাজ করতে হবে। এতেই সুফল আসবে।

শীর্ষ পদে ভাগাভাগির নেতৃত্বের বিষয়ে বর্তমান মহাসচিব মনে করেন, এক মেয়াদে তিন জন সভাপতি হলে কিছুটা সমস্যাতো হয়ই। তবে সভাপতিরা সবাই কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে নির্বাচিত হওয়ায় খুব একটা ঝামেলা হয় না। এমন হয়নি যে, একজন সভাপতি একটা কাজ শুরু করেছেন আর পরের জন এসে তা বন্ধ করে দিয়েছেন।

Related posts

*

*

Top