ওয়াই-ফাই বিষয়ক জিজ্ঞাসা ও সমাধান

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ডিভাইসের জনপ্রিয়তার সঙ্গে বাড়ছে ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবহার। তারবিহীন প্রযুক্তির যুগে এ প্রযু্ক্তি স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে ইন্টারনেট ব্যবহারে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেল স্টেশন, হোটেলে কিংবা শপিং মলে এখন উম্মুক্ত ওয়াই-ফাইয়ের ছড়াছড়ি।

চাইলেই স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে সহজেই ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার আগে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে উম্মুক্ত ওয়াইফাই ব্যবহার কতটুকু নিরাপদ? আর নিরাপদ না হলে ব্যবহারের কৌশল কি? ফ্রিকোয়েন্ট কোশ্চেন অ্যান্ড অ্যানসারে হরহামেশাই এমন প্রশ্ন করে থাকেন অনেকেই।

এমন প্রশ্নকারীদের জন্য প্রথম উত্তর হলো- পাবলিক প্লেসের ওয়াই-ফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতামূলক বিষয় রয়েছে। ব্যবহারের আগে বিষয়গুলো সর্ম্পকে জানা জরুরি। এ টিউটোরিয়ালে থাকছে সেগুলোই।

wifi_techshohor

গত বছর ভোক্তা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যাঙ্করফ্রির এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ৮৪ শতাংশ পর্যটক পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। ফলে তাদের ডিভাইসের তথ্য সাইবার অপরাধী ও হ্যাকারদের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যায়।

অনেক হ্যাকার ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবার জনবহুল স্থানকে লক্ষ্য করে ওত পেতে থাকেন। নিরাপত্তার ধাপগুলো মেনে না চললে এসব নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীর ডিভাইসের তথ্য চলে আসে হ্যাকাদের কাছে। হ্যাকিংয়ের এটি অন্যতম একটি কৌশল। তাই স্মার্টফোন কিংবা ল্যাপটপের অটোমেটিক সংযোগ অপশন বন্ধ রাখা উচিত। যেন য়েখানে সেখানে অপরিচিত কোনো নের্টওয়াকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিভাইসটি যুক্ত না হয়।

বর্তমানে অনলাইন ব্যাংক, শপিং, ই-কমার্স সাইটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যাংক একাউন্টের পাসওয়ার্ডটি যদি কেউ জানতে পারে তাহলে আর্থিক ক্ষতি হবে ব্যবহারকারীর। তাই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজ করার সময় এনক্রিপ্টেড ওয়েব ঠিকানা ব্যবহার করা উচিত। ওয়েবসাইটের আগে এইচটিটিপিএস(https://) থাকা মানে ওয়েবসাইটি এনক্রিপ্ট করা আছে।

পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে ডিভাইসটি যুক্ত করার সময় কি কি তথ্য চাওয়অ হচ্ছে তা ভালো করে পড়ে বুঝে উত্তর দেওয়া উচিত। সব ইয়েস দিলে সমস্যা হতে পারে।

ওয়াই-ফাই সংযোগ চালুর পর কোনো অপরিচিত সফটওয়্যার আপডেট চাইলে সেটা আপডেট করা উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়ায় হ্যাকাররা ব্যবহারীর আগোচরে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দেয়।

ডিভাইসের অপারেটিং সিষ্টেম,  ব্রাউজার, অ্যাপস সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশনগুলো সবসময় আপডেটেড রাখা উচিত। আপডেট না থাকলে হ্যাকাররা সহজে আক্রমণ চালাতে পারে। তাই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের জন্য সব সময় ডিভাইস ও অ্যাপস আপডেট রাখতে হবে।

Related posts

*

*

Top