বিদেশ থেকে কল আসায় ধস

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গত চার মাসে বিদেশ থেকে বৈধ পথে আসা টেলিফোন কল প্রায় ৩৯ দশমিক ৫০ ভাগ কমে গেছে। হঠাৎ করে এভাবে ইনকামিং কল পড়ে যাওয়ায় এ খাত থেকে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি কোম্পানিগুলোর আয়ে বড় রকমের প্রভাব পড়েছে।

তবে গত কয়েক মাসে টানা কল পড়ে গেলেও সামগ্রিকভাবে ২০১৩ সালে কলের পরিমাণ আগের বছরগুলোর তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের শেষে সব মিলে ইনকামিং কলের পরিমাণ ১ হাজার ৭৩২ কোটি মিনিট। ২০১২ সালের শেষে এটি ছিল ১ হাজার ৩৪২ কোটি মিনিট। তবে ২০১১ সালের ১ হাজার ৬৮৬ কোটি মিনিট এখনও পর্যন্ত রেকর্ড। ২০১০ সালে এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৭০ কোটি মিনিট।

telephone-computer-internet_ Tech Shohor

বিটিআরসি থেকে জানা গেছে, আগস্টে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা টেলিফোন কলের পরিমাণ ছিল ২০৬ কোটি ৬২ লাখ মিনিট। আর ডিসেম্বর আসতে না আসতেই তা কমে হয়েছে ১২৫ কোটি ৬ লাখ মিনিট।

মাঝখানে প্রতি মাসে একটু একটু করে কলের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে এসে কলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭২ কোটি ৭১ লাখ মিনিট। অক্টোবরের তা নেমে আসে ১৬৭ কোটি ৪ লাখ মিনিট এবং নভেম্বরে ছিল ১৩১ কোটি ৩১ লাখ মিনিট।

সরকারের নির্দেশনা অনুসারে প্রতি মিনিটের বৈধ ইনকামিং কলের জন্য দেশে আসে ৩ সেন্ট বা ২ টাকা ৩৫ পয়সা। আগস্টের তুলনায় ডিসেম্বরে প্রায় ৮১ কোটি মিনিটের কল কমে যাওয়ায় মাসে অন্তত ১৯০ কোটি টাকা আয় কমেছে।

এ বিষয়ে টেলিকমিউনিকেশন ইনফ্রস্ট্রাকচার অপারেটর অব বাংলাদেশের সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, “আমরা জানি বাজারে কল আছে। কিন্তু সেগুলো বৈধ পথে দেশে আসছে না। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব বিটিআরসির। আশা করি তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।”

মীর নাসির একই সঙ্গে আইজিডব্লিউ মীর টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। নিজের প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, তারা ধারাবাহিকভাবে দিনে ৩০ লাখ মিনিটের কল আনেন। কিন্তু পুরনো কয়েকটি অপারেটর বাদ দিলে বাকি কেউই তেমন ধারাবাহিক নয়। বিটিআরসির বিষয়টিতে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ বলেও দাবি করেন তিনি।

মীর নাসির বলেন, প্রতিদিন বিদেশে যাওয়া লোকের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় কল বিশ আসছে না। বরং আগের সময়ের মতোই রয়েছে কলের পরিমাণ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল আসলে যেহেতু বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসে সে কারণে এটি সরাসরি রপ্তানির সামিল। কোনো খরচ ছাড়াই ঘরে বসে এ আয় পাওয়া সম্ভব। সুতারং সরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এ বিষয়ে আরো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা।

Related posts

*

*

Top