উইকিপিডিয়া বন্ধ করল তুরস্ক সরকার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তুরস্কে কোনো কারণ ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে উইকিপিডিয়া। বিশ্বের অন্যতম তথ্যকোষের এই সাইটটিতে শনিবার সকাল থেকে সে দেশের  কেউ প্রবেশ করতে পারছেন না।

তবে কেনো হঠাৎ করে এমন বন্ধ করে দেওয়া হলো তার কোনো স্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ।

তুরস্কের ব্লক গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষের আদেশে স্থানীয় সময় সকাল আটটা থেকে কেউ আর উইকিপিডিয়ায় প্রবেশ করতে পারছেন না।

wikipedia

রাজধানী ইস্তানবুলের কেউ আর ভিপিএন ছাড়া উইকিপিডিয়ায় সরাসরি প্রবেশ করতে পারছেন না বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।

কারিগরি কিছু বিষয় বিশ্লেষণ এবং আইনগত বিষয় বিশেষ করে আইনের ৫৬৫১ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রশাসন ওয়েবসাইটটির যাবতীয় ক্ষমতা এখন কব্জা করেছে বলে এক বিবৃতিতে বলেছে দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কর্তৃপক্ষ।

তবে কেউ নির্দিষ্ট করে কোনো কারণ না জানালেও তুরস্কের একটি সংবাদপত্র জানাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আদতালতের মাধ্যমে একটি আদেশ জারি করে এর বৈধতা দেবে কর্তৃপক্ষ।

এর আগেও দেশটিতে ফেইসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

ইমরান হোসেন মিলন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে উইকিপিডিয়া বিষয়ক কর্মশালা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কেনো বাংলা উইকিপিডিয়াকে সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন, কিভাবে একটি নতুন নিবন্ধ লিখতে হবে এমন নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে কর্মশালায়।

শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের গবেষণাগারে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

wikipedia-techshohor

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ ও বাংলা উইকিপিডিয়ার আফিফা আফরিন, ফিরদৌসুর রহমান, শহিদুল হাসান রোমান ও মো. ইব্রাহিম হোসাইন।

বক্তারা কর্মশালায় পুরোনো নিবন্ধগুলো সম্পাদনার কৌশল, উইকিপিডিয়া ও উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কুবির আইটি সোসাইটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নয়ন বণিক, সাইয়েদ মাখদুম উল্লাহ, মেহেদী হাসান, ফাহমিদ হাসান ও হরিদাস চক্রবর্তী।

তুসিন আহমেদ

বাংলা উইকিপিডিয়ার জন্য নিবন্ধ প্রতিযোগিতা চলছে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ‘আসুন আমার ভাষায় তুলে ধরি, আমার ভালোবাসার সবকিছু’ স্লোগানে উন্মুক্ত বিশ্বকোষ বাংলা উইকিপিডিয়ায় চলছে নিবন্ধ লেখা প্রতিযোগিতা।

বাংলা উইকিপিডিয়াকে সমৃদ্ধ করতে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতাটি চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় যে কেউ নির্দিষ্ট তালিকা থেকে নিবন্ধ তৈরি করে অংশ নিতে পারবেন। প্রতিটি নিবন্ধ তৈরির জন্য রয়েছে পুরস্কার।

wikipidia-techshohor
প্রতিযোগিতার সমন্বয়ক নাহিদ সুলতান জানান, বাংলা উইকিপিডিয়াতে বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে ৪৭ হাজারেরও বেশি নিবন্ধ রয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ বাংলায় নেই। বাংলায় সেই অলিখিত নিবন্ধগুলো অন্তর্ভূক্ত করাই এই প্রতিযোগিতার প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রতিযোগিতার বিষয়ে বাংলা উইকিপিডিয়ার প্রশাসক নুরুন্নবী চৌধুরী (হাছিব) বলেন, বাংলা উইকিপিডিয়ায় নিয়মিত নিবন্ধ বাড়ানোর অংশ হিসেবে আমাদের এ প্রতিযোগিতা। এ ধরনের প্রতিযোগিতা আমরা নিয়মিত করতে চাই।

প্রতিযোগিতার বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানায়

ইমরান হোসেন মিলন

বাংলা উইকিপিডিয়া সম্পর্কে জানলো শিক্ষার্থীরা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : উন্মুক্ত বিশ্বকোষ বাংলা উইকিপিডিয়া শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী কাজটিতে যুক্ত করতে কর্মশালা করেছে। বুধবার রাজধানীর নটরডেম কলেজে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের উদ্যোগে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালাটিতে সহযোগিতা করেছে নটরডেম কলেজ ডিবেটিং ক্লাব। কর্মশালায় বাংলা উইকিপিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

কিভাবে বাংলা উইকিপিডিয়ায় অবদান রাখা যায়, ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়। এছাড়া উইকিপিডিয়ার সহ-প্রকল্প উন্মুক্ত ছবির ভাণ্ডার উইকিমিডিয়া কমন্সে ছবি যোগ করার পদ্ধতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

Bangla Wikipedia Workshop_Techshohor

কর্মশালায় বক্তব্য দেন নটরডেম কলেজের প্রভাষক ও ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর মো. শহিদুল হাসান পাঠান, উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সভাপতি আলী হায়দার খান তন্ময়, বাংলা উইকিপিডিয়ার প্রশাসক নুরুন্নবী চৌধুরী হাছিব ও নাহিদ সুলতান।

কর্মশালা পরিচালনা করেন উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সদস্য অংকন ঘোষ দস্তিদার ও প্রত্যয় ঘোষ।

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের উদ্যোগে বাংলা উইকিপিডিয়ার নিয়মিত কর্মশালার অংশ হিসেবে এটি অনুষ্ঠিত হয়। নিয়মিত এ ধরনের আরও কর্মশালা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে বলেও উইকিপিডিয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইমরান হোসেন মিলন

১৩৪ স্থাপনার ছবি তুলবে উইকিপিডিয়া রাজশাহী

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর  :  নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ও আলোচনা-আড্ডায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উইকিপিডিয়া রাজশাহী কমিটির মিটআপ।

বুধবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মিটআপে অংশ নেয় উইকিপিডিয়া কমিউনিটির অর্ধশতাধিক সদস্য।

মিটআপে বিশ্বব্যাপী চলা উইকিপিডিয়ার ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা নিয়ে নিজেদের করণীয় ঠিক করা হয়। এতে রাজশাহীর উইকিপিডিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা বিভাগের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ১৩৪টি  ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় অর্ধশতাধিক দেশে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে উইকি লাভ মনুমেন্টস নামের এই প্রতিযোগিতা চলবে।

wiki

এছাড়া চলতি বছরের নভেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য উইকিপিডিয়ার প্রথম সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয় । আন্তর্জাতিক ওই সম্মেলনে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশননের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা  অংশগ্রহণ করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নতুন সদস্যদের জন্য উইকিপিডিয়া বিষয়ক প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে।

মিটআপে উপস্থিত ছিলেন উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের নির্বাহী মাসুম আল হাসান রকি, পরিচালনা কমিটির সদস্য নাহিদ হোসেন ও মুশফিক মুন্না, সদস্য এম.এন নাহিদ, ওমর ফারুকসহ অনেকে ।

মিটআপে  কমিউনিটির সদস্যদের ছবি তোলা বিষয়ক পরামর্শ দিয়েছেন রাজশাহী ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ফরিদ আক্তার পরাগ ।

উইকিপিডিয়ার ১৫তম জন্মদিন উদযাপন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ১৫তম জন্মদিন উদযাপন করেছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইন্টারনেটে মুক্ত তথ্যকোষ উইকিপিডিয়া।

২০০১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জিমি ওয়েলসের বাতিল করা প্রকল্প ন্যুপিডিয়া থেকে জন্ম হয় সেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে পরিচালিত এই তথ্য ভান্ডার।
বিশ্বের প্রথম অনলাইন তথ্য ভান্ডারটি ইংরেজী ভার্সনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে।

জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিমি ওয়েলস বলেছেন উইকিপিডিয়ার জন্ম ছিল সংকটপূর্ণ। ছিল উত্থান-পতন। এতো জটিলতার পরও আশা ছেড়ে দেননি তিনি।

Wikipedia_

 

১৫তম জন্মদিন উপলক্ষে উইকিপিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি এডিট করা ১৫টি পেইজের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এডিট করা পেইজ ছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিুউ বুশের তথ্য নিয়ে তৈরি করা পেইজটি। এটি ৪৫ হাজার ৮৬২ বার এডিট করা হয়েছে।

দেশটির বর্তমান প্রেসিডেট বারাক ওবামা আছেন তালিকার ৯ নম্বরে। আর তালিকার তিন নম্বরে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এডিট করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৭৪২বার।

তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছে রেসলিং গেইমের খেলোয়ারদের পেইজ। এটি এডিট করা হয়েছে ৪২ হাজার ৮৩৬ বার। চার নম্বরে আছে উইকিপিডিয়ার নিজস্ব পেইজ। এডিট করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৯৫৮ বার।

সবচেয়ে বেশি এডিটের তালিকায় আছেন এডলফ হিটলার। একমাত্র নারী হিসেবে তালিকায় আছেন পপস্টার ব্রিটনি স্পেয়ার্স। ১৫ টি পেইজের শেষ পেইজ হচ্ছে ভারত।

২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি এডিট করা হয়েছে নোটেবল ডেথ বা উল্লেখযোগ্য মৃত্যু।

বিবিসি অবলম্বনে সৌমিক আহমেদ

অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাঁথা

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথায় জন্ম নেয় বাংলাদেশ। ১৬ ডিসেম্বর বাঙালী জাতির জীবনে এক অবিস্মরনীয় দিন। বিজয়ের পর পেরিয়ে গেছে অনেক বছর। তবুও মুক্তিযুদ্ধের গল্প, স্বাধীনতার সেইসব দিনগুলো আজও অমলিন।

অনলাইনের বিশাল জগতে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে হাজারো কাজ চলছে। নিত্যনতুন ওয়েবসাইট যেমন তৈরি হচ্ছে, তেমনি ব্লগেও চলছে ইতিহাস নির্মাণ। গবেষকরাও নতুন করে গড়ে তুলছেন নানা তথ্যভান্ডার।

এ ছাড়া অনেক ফেইসবুক পেইজে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জয়গান তুলে ধরা হয়েছে নানা পর্যায় থেকে। নানা তথ্য ও ছবি শেয়ার করা হয় এগুলো থেকে। তবে অনেক পেইজ আছে সেগুলো মিথ্যা এবং ভুল তথ্য প্রচার করে। সবার উচিত এগুলো থেকে সাবধান থাকা।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে কিছু সাইটের কথা জানাতে এ প্রতিবেদন।

Victory-Day-Final-Cover-Page-1

জেনোসাইড বাংলাদেশ ডটআর্গ ওয়েবসাইটিতে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে।যুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাবে এতে।

রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে তথ্য, বই এবং জার্নাল। সাইটির টাইমলাইন বিভাগে রয়েছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার ছবি এবং বিররণ।

‘এদের চিনুন’ নামক বিভাগে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি ও পাকিস্তানের দোসর রাজাকাদের বিভিন্ন দম্ভোক্তি ও ছবি।

মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ সর্ম্পকে অনেক তথ্য। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, মুক্তিবাহিনীর নির্বাচিত জীবনী রয়েছে বাংলা উইকিপিডিয়ায়।

এ ছাড়া মিত্রবাহিনী, রাজাকার, আলবদর, আল শামস, শান্তি কমিটি সর্ম্পকে তথ্য দেওয়া আছে। তবে সেসব তথ্যগুলো খুব বেশি মান সম্মত নয়। তথ্যের অনেক ঘাটতি রয়েছে।

বাংলাগ্যালারি ডটকমে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ছবি। মুক্তিযুদ্ধের আগের রাজনীতির নানা ছবিও রয়েছে এতে।

‘ওয়ার ক্রাইম’ বিভাগে রয়েছে রাজাকারদের ছবি। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের অনেক ডকুমেন্ট ও বই পাওয়া যাবে এতে।

আইসিএসফোরাম ডটঅর্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সাহায্য করেছে তাদের সর্ম্পকে নানা তথ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে সাইটটি।

এতে তাদের অপরাধের নানা দলিল এবং তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে উইকি ডটকম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক একটি উইকিভিত্তিক ওয়েবসাইট। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী, সেক্টর কমান্ডার, বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উওম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক অনুসারে সাজানো আছে।

এতে রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক শ্রেণী ক্যাটাগরি যেখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চিত্রের তালিকা দেওয়া আছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন বাহিনী জেড ফোর্স, কে ফোর্স, নৌ কমান্ডো, কাদেরিয়া বাহিনী ও মুজিব বাহিনী সর্ম্পকে তথ্য রয়েছে।

তবে বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ওয়েবসাইটটি একটু হতাশ করবে। খুব সামান্য তথ্য ছাড়া খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না এতে।

সাইটটিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংবলিত একটি ফিচার লিঙ্ক রয়েছে। লিঙ্কটিতে কয়েকটি বিভাগে মুক্তিযুদ্ধের পুরো ইতিহাসটি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিহাস নামক লিঙ্কটিতে যে যৎসামান্য তথ্য রয়েছে তার বেশিরভাগই আবার ‘৭১ পূর্ববর্তী ইতিহাস।

ওয়েবসাইটের একটি লিঙ্কে বীরশ্রেষ্ঠদের নাম থাকলেও বীরউত্তম, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীকদের কোনো তথ্য নেই।

৭ মার্চে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণ ও ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের ভিডিও চিত্র দেখা যাবে।

তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট হিসেবে যেসব তথ্য থাকার দরকার এর বেশিরভাগ তথ্যই এখানে পাওয়া যায় না।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইট বেশ সমৃদ্ধ। ইংরেজি এবং বাংলা ভাষায় সাজানো এ সাইটে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিদেশী ধারনা পাবেন।

১৯৭১ এর ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নানা তথ্য রয়েছে এতে। এতে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ভিডিও এবং জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি সর্ম্পকে তথ্য রয়েছে। তবে বেশ কিছুদিন থেকে সাইটটি বন্ধ রয়েছে। কেন বন্ধ- এ সর্ম্পকে সঠিক তথ্য জানা যায় নি।

বাংলাদেশের  প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা তাজউদ্দীন আহমদ এর ওয়েবসাইটটিতে মহান এ মুক্তিকামী নেতার কর্মজীবন তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ছবির গ্যালারি যেখানে রয়েছে সাদামাটা এ নায়কের বিভিন্ন ছবি।

স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে রয়েছে অনেক বির্তক। সেই বির্তক অবসান হবে যদি আপনি জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের বেস্ট ব্লগের পুরষ্কার পাওয়া ব্লগার ডা: নিয়াজ এর ব্যক্তিগত ব্লগের সংগ্রহে থাকা লিংকগুলোর বিভিন্ন তথ্য পড়ে নেন।

আগ্রহ নিয়ে আরও কিছু ওয়েবসাইটে গেলে পাবেন বাংলার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অজানা সব তথ্য। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও নানা তথ্য সমৃদ্ধ আরেকটি ওয়েবসাইট ভার্চুয়াল বাংলাদেশ (www.virtualbangladesh.com)।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার জন্য একটি উইকিভিত্তিক ওয়েবসাইট http://muktijuddho.wikia.com। বর্তমানে এখানে ৬৪টি ভুক্তি রয়েছে।

গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরেকটি চমত্‍কার ওয়েবসাইট www.muktadhara.net। সাইটটির http://www.muktadhara.net/page35.html ঠিকানায় পাবেন একাত্তরের গণহত্যার তথ্য ও ছবি, ঘটনাবলী, ভিডিও, মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা বিষয়ক ওয়েবসাইটের সংযুক্তি, প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার ছাড়াও অনেক কিছু ।

এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক ক্রাইম স্ট্র্যাটেজি ফোরামের ওয়েবসাইট www.icsforum.org -এ একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর অনেক প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে একটি ই-লাইব্রেরি তৈরী করা হয়েছে ।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ই-বুক ও বিভিন্ন বইয়ের ই-সংস্করণ পাওয়া যায় অনলাইনে। জাহানারা ইমামের লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি” অনলাইনে বসে পড়তে পারবেন http://kamalres.tripod.com/main.html-এ ঠিকানায়।

মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বইটি ডাউনলোড করতে পারবেন www.liberationwarbd.org ঠিকানা থেকে। মাত্র বাইশ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট বইয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পুরো ইতিহাস তুলে ধরেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে ব্লগাররাও নিয়েছেন বিভিন্ন উদ্যোগ। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তেমনি অসাধারন একটি ই-সংকলন ‘ ফিরে দেখা ৭১’ নিয়ে এসেছেন স্যামহোয়ারইন ব্লগের কয়েকজন তরুণ।

পিডিএফ আকারে সংগ্রহে রাখার মতো সংকলনটি বিনামূল্যে http://www.mediafire.com/?wn1n2po29xs ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা আরও কিছু বই ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন http://www.edunews4u.com/admission/index.php/1971 -এ ঠিকানা থেকে ।

আরও কিছু ওয়েবসাইট হলো- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনাল্পয়সেক্টর কমান্ডারদের ফোরাম,গণহত্যার আর্কাইভ ও রাজাকারদের তালিকাওয়ার ক্রাইম স্ট্র্যাটেজি ফোরামভারতীয় ওয়েবসাইট ও মুক্তিযুদ্ধবাংলাদেশ ১৯৭১যুদ্ধাপরাধের দলিলপত্রবীরশ্রেষ্ঠস্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইডিজিটাল প্রকাশনাই মুক্তিযুদ্ধমোবাইলে মুক্তিযুদ্ধ, www.bangladesh1971.org, www.1971bd.org, www.bd71.blogspot.com, www.bharat-rakshak.com/1971, http://www.gendercide.org/case_bangladesh.html

Screenshot_4

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অ্যাপ
বর্তমানে স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সেই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জানতে স্মার্টফোনের উপযোগী বেশ কয়েকটি আ্যাপ্লিকেশন রয়েছে।

তেমনি একটি অ্যাপ হলো ১৯৭১ এর ডায়েরি। একাত্তরের দিনগুলোর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সাজানো এ অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে এ ঠিকানা থেকে।

খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কেও তথ্য আছে। অ্যাপটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, যুদ্ধের বিবরণ, নৃশংসতার ভয়াবহতা, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা, স্মৃতিস্তম্ভ সম্পর্কে জানা যাবে মুক্তিযুদ্ধ নামের এ অ্যাপ থেকে। এটি ডাউনলোড করা যাবে এ ঠিকানা থেকে।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়বাংলাদেশমুক্তিযুদ্ধ,  সাত বীরশ্রেষ্ঠ ও একাত্তর নামের অ্যাপগুলো থেকে জানা যাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের গেমস
অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের তথ্যবহুল ভান্ডার থাকলেও এ নিয়ে গেইম তৈরি হয়েছে খুব কম।স্বাধীনতা যুদ্ধ নামের একটি পাওয়া যাবে http://bit.ly/1OHM5Js -এ ঠিকানায়।

এ ছাড়া হিরোজ অব ৭১’গেইমটি তৈরি করেছে দেশীয় অ্যাপ্লিকেশন গেইম নিমার্তা প্রতিষ্ঠান পোর্টব্লিস। ১৬ ডিসেম্বর  বিজয় দিবসে গেইমটি উন্মুক্ত করা হবে।

ডিজিটাল প্রকাশনায় মুক্তিযুদ্ধ
সরকারি উদ্যোগে ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখার তেমন নজির চোখে না পড়লেও বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংগ্রহের কিছু বেসরকারী উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ’৭১ নামে একটি ডিজিটাল প্রকাশনা বের করেছিল হাইটেক প্রফেশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত এ সিডিতে ১৯৪৭ থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রায় দুই হাজার পৃষ্ঠার একটি সংকলন প্রকাশ করা হয়।

প্রায় এক হাজার দুর্লভ ছবি ও ভিডিওচিত্রের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছিল এ সিডি। এটি তৈরিতে কাজ করেছিলেন প্রজন্ম ’৭১ নামের একটি সংগঠনের কর্মীরা।

এটি প্রকাশ হওয়ার পর প্রচুর সাড়া পড়ে। বিক্রি হয় কয়েক লাখ কপি।

‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাঁথা নিয়ে লেখা বিভিন্ন প্রকাশনা ডিজিটাল মাধ্যমে এসেছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে ডিজিটাল প্রকাশনা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার তত্ত্বাবধায়নে নির্মিত ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’।

এ ছাড়া জাগরণ সাংস্কৃতিক ও গবেষণা কেন্দ্রের ‘জাগরণের গান’ নামের ৬ সিরিজের একটি সিডিতে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রেরণাদানকারী গান রয়েছে।

উইকিপিডিয়া খুলে দিয়েছে রাশিয়া

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বন্ধের কয়েক ঘণ্টা পর আবার বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া খুলে দিয়েছে রাশিয়া।

মাদকদ্রব্য গাঁজা নিয়ে নিবন্ধ না সরানোয় রাশিয়ার অনলাইন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রস্কোমনাদজর দেশের ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে (আইএসপি) রাশিয়ান ভাষায় উইকিপিডিয়া বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরেই আবার তা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে খুলে দেয়া হয়।

বিতর্কিত নিবন্ধ নিয়ে সংশোধনী দিয়েছে উইকিপিডিয়া। প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্রসহ নিবন্ধটি আবার প্রকাশ করেছে। ফলে আর কোনো অভিযোগ না থাকায় তা খুলে দেয় রস্কোমনাদজর।

wikipedia

উইকিপিডিয়ার রাশিয়ান ভাষার সংস্করণে ১০ লাখের বেশি নিবন্ধ রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি মানুষ ভিজিট করে।

সম্প্রতি রাশিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেড্ডিট ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেয়া হয়।

ইমরান হোসেন মিলন

উইকিপিডিয়া বন্ধ করে দিল রাশিয়া

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : উম্মুক্ত বিশ্বকোষ উ্ইকিপিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া।

মাদকদ্রব্য গাঁজা নিয়ে নিবন্ধ না সরানোয় রাশিয়ার অনলাইন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রস্কোমনাদজর দেশের ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে (আইএসপি) রাশিয়ান ভাষায় উইকিপিডিয়া বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।

উইকিপিডিয়া রাশিয়ান ভাষার সংস্করণে ১০ লাখের বেশি নিবন্ধ রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি মানুষ ভিজিট করে।

wiki

মাদক সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ না সরানোয় পুরো সাইটটি বন্ধ করে দেয়া হলেও রস্কোমনাদজর দাবি, কনটেন্ট প্রকাশের নীতিমালা ভঙ্গ করায় উইকিপিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাশিয়ায় রেডইট ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দিয়েছে। তবে রাশিয়া উইকিপিডিয়ার বিকল্প তৈরির কথাও ভাবছে।

টেক ক্রাঞ্চ অবলম্বনে ইমরান হোসেন মিলন

 

মার্কিন নজরদারি বন্ধ চান উইকিপিডিয়া সহপ্রতিষ্ঠাতা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নিরাপত্তার নামে ব্যক্তি গোপনীয়তা নিয়ে ছেলেখেলা করে আসছে মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)। নানা অসৎ উপায় অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি ও সংগঠনের উপর সাইবার নজরদারি চালিয়ে আসছে।

এ নিয়ে এনএসএ’র বিরুদ্ধে নিন্দা-সমালোচনা হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের নজরদারি বন্ধ করেনি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়াসহ আরও আটটি প্রতিষ্ঠান মিলে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা দায়ের করেছে। এই মামলায় জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জিমি ওয়ালেস।

উইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, আমরা বিশ্বাস করি, এনএসএ’র বিরুদ্ধে আমরা জয়ী হবোই। তাদের গণ-নজরদারিতে নানা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ আছে আমাদের হাতে।

Jimmy Wales

তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মার্কিন আদালত এনএসএ’র এমন কাজের একটা বিহিত করবে বলেই আমি মনে করি।

মামলাটি নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্রকে কিছু বলতে বলা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করা হয়। এ ব্যাপারে উইকিমিডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, এনএসএ’র গণ-নজরদারিতে মানুষের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানুষ অনলাইনে তাদের দরকারি তথ্য শেয়ারে অনাগ্রহী হয়ে উঠছে। মানুষের আস্থা ফিরে পেতে হলে এনএসএ’র এমন কার্যক্রম বন্ধ করাটা জরুরি।

২০১৩ সালে এনএসএ’র নজরদারি নিয়ে এ রকম আরেকটি মামলা করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের অভাবে মামলাটি খারিজ করে দেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত।

পিসি ওয়ার্ল্ড অবলম্বনে আহমেদ মনসুর

উইকিপিডিয়ার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান স্বয়ং ওয়েলস

মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক নাম। সম্প্রতি বাংলা উইকিপিডিয়ার এক দশক পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। এর সারসংক্ষেপ জানাচ্ছেন ফখরুদ্দিন মেহেদী।

জিমি ওয়েলস ক্যারিয়ারের শুরুতে শিকাগো ফিউচার অ্যান্ড অপশন ফার্মে রিসার্চ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তৈরি করেন বিনোদন নির্ভর ওয়েব পোর্টাল বোমিস। এর ফান্ড দিয়েই নির্মাণ করেন উইকিপিডিয়া।

মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার এই সহ-প্রতিষ্ঠাতা ১৯৬৬ সালের ৭ আগস্ট অ্যামেরিকার হান্টসভ্যালিতে জন্ম গ্রহণ করেছেন। অ্যালাবামার রেনডোল্ফ স্কুলের এই ছাত্র অ্যাওবার্ন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা থেকে ফিন্যান্স বিভাগে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে তিনি পিএইচডি করেন বার্মিংটনের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটিতে।

টেক শহর : অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে উইকিপিডিয়াকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে আপনারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন কি?

জিমি ওয়েলস  : না।  এ প্রশ্নটার মুখোমুখি আমাকে অনেকবার হতে হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে যতোটা সম্ভব বিশুদ্ধ কনটেন্ট উইকিতে যুক্ত করা। তাই কনটেন্ট বাছাইয়ের সময় কয়েকটি গেইট পার হয়ে তাকে অ্যাপ্রোভ করা হয়। কিন্তু এরপরও ফাঁক থেকে যেতে পারে। তাই রেফারেন্স হিসেবে এগুলোকে বেছে না নেওয়াই ভালো।

টেক শহর : উইকিপিডিয়াতে তো সবাই অবদান রাখতে পারে। তো বিষয়গুলোর যথোপযুক্ততা কিভাবে নিরূপণ করেন আপনারা?

জিমি ওয়েলস : যথোপযুক্ততা নিরূপণের ক্ষেত্রে আমরা সোর্স কতটা সক্রিয় সেটাকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে থাকি। তাছাড়া লোকাল কমিউনিটি তো আছেই। তাদেরকে বিশেষভাবে বলা আছে, কোনভাবেই যেন আবোলতাবোল পোস্টকে গ্রহণ না করা হয়।

jimi 2

টেক শহর : জ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট হওয়া সত্ত্বেও উইকিপিডিয়া বিশ্বের জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে ছয় নম্বর অবস্থানে আছে। এই জনপ্রিয়তার কারণ কি?

জিমি ওয়েলস : আমরা মূলত মানুষের মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে বেশি নজর দিয়ে থাকি। এটাই মূল কারণ। যেমন ধরুন, আপনি কোথাও যাবেন বা কোন একটি ঐতিহাসিক বিষয় জানতে চান। চট করে উইকিতে সার্চ দিলে একটা প্রাথমিক ধারণা পেয়ে যাবেন।

বাংলাদেশ সম্পর্কে আমিও তেমন কিছু জানতাম না। এখানকার সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও ছিলো অজানা। আসার আগে আমি উইকিপিডিয়ায় গেলাম, দেশটি এবং এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্কে জানতে পারলাম। আমার মতো অনেকেই এই কাজগুলো নিয়মিত করেন। এটাই উইকিপিডিয়াকে জনপ্রিয় করেছে।

টেক শহর : কিভাবে জিরো উইকিপিডিয়া নেট নিরপেক্ষতায় ভূমিকা রাখতে পারে?

জিমি ওয়েলস : এটা খুবই জটিল প্রশ্ন। সারা বিশ্বেই ইন্টারনেট একটি বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু জিরো উইকিপিডিয়ার ধারণা ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে হাতে নেয়া হয়নি। এই প্রজেক্ট আফ্রিকা মহাদেশ এবং বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সেখানকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে মানুষ সচেতন হয়েছে। এতে দিনদিন এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। বিভিন্ন দেশের নেটওয়ার্ক অ্যাক্টিভিস্টরা এটি নিয়ে আন্দোলন করছেন। তবে ব্যবসায়িক মনো-ভাবনার সাথে পাল্লা দিয়ে এটা কতদূর এগুবে সেটা বলা মুশকিল। তবে সরকারগুলো যদি পদক্ষেপ নেয়, সবার জন্য ইন্টারনেট ভাবনা বাস্তবায়ন হবেই।

টেক শহর : উইকিপিডিয়া অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, কিন্তু এর ফান্ড অসে কোথা থেকে?

জিমি ওয়েলস : আমরা প্রতি বছর ফান্ড তুলি। আমি নিজেও এ কাজের সাথে যুক্ত থাকি। বড় বড় দাতারা আমাদের ফান্ডে টাকা দেন। এখন পর্যন্ত আমরা ৪ বিলিয়ন ডলার ফান্ড পেয়েছি। এই টাকা পুরোটাই ব্যাংকে জমা থাকে। শুধু এর লভ্যাংশ দিয়ে উইকির বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

wikipedia 2

 

টেক শহর : আপনি বলেছেন কনটেন্টের দিক থেকে বাংলা উইকিপিডিয়া ইংরেজি ও মেসোডোনীয় ভাষার পরেই। এখানকার উইকিপিডিয়ানদের উৎসাহ যোগায় এমন কিছু বলুন।

জিমি ওয়েলস : বাংলাদেশের উকিকিপিডিয়ানরা দারুণ সব কাজ করছেন। আরও যারা কাজ করতে চান তাদেরকে স্বাগতম। আসলে বাংলা আপনাদের ভাষা। এটা নিয়ে কাজ করার দায়িত্বও আপনাদের।
২০ বছর পর সবাই ইন্টারনেটে তার নিজের ভাষায় কথা বলবে। সে ক্ষেত্রে নিজেদের ভাষায় কনটেন্ট না থাকলে পিছিয়ে পড়তে হবে। জ্ঞান আহরণের পথকে উন্মুক্ত করতেই কনটেন্টের অভাব দূর করতে হবে।
এবারের ভ্রমণে আমি মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য এসেছি। এর পরে কখনো আসলে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যাবো। উইকিপিডিয়ানদের সাথে মন খুলো আড্ডা দিবো।

jimi

টেক শহর : উইকিপিডিয়ার মূল অফিস দেখতে কেমন?

জিমি ওয়েলস : উইকিপিডিয়া আসলে অলাভজনক সংগঠন। বিভিন্ন দেশের কমিউনিটির মাধ্যমেই উইকির কনটেন্ট উঠে আসে। কিন্তু মানুষ মনে করে, আমাদের হয়তো অনেক বড় কোন কোম্পানির মতো অফিস আছে, যেখানে এই মহাযজ্ঞ চলে। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তা নয়। সানফ্রান্সিসকোতে আমাদের ছোট্ট একটি অফিস আছে। অন্যান্য অফিসের মতো সাধারণ একটা অফিস। এখানে বিভিন্ন প্রজেক্ট টিমগুলো কাজ করে।