এলো গুগল ক্রোমের নতুন আপডেট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সংস্করণ নিয়ে হাজির হলো গুগল ক্রোম। নতুন উইজেট,নিরাপত্তা আপডেট ও অনেকগুলো এপিআইয়ের উন্নতি সাধণ করা হয়েছে এতে।

প্রতিষ্ঠানটি এক ব্লগপোষ্টে গুগল ক্রোমের নতুন আপডেট সম্পর্কে জানায়। অ্যান্ড্রয়েড, ক্রোম ওএস, লিনাক্স, ম্যাক ও উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা নতুন সংস্করণটি ব্যবহার করতে পারবেন।

যুক্ত হওয়া নতুন সার্চ উইজেটটি ব্যবহার করে হোমস্ক্রিন থেকে ব্যবহারকারীরা সহজেই যে কোনো তথ্য খুঁজে বের করতে পারবেন। চাইলে হোম উইজেটের সাইজ সহজেই পরিবর্তন করে নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

নতুন সংস্করণে ওয়েব ব্রাউজ ও গুগল সার্চ করা করা যাবে আরও দ্রুত। এতে নতুন পেমেন্ট ও পাসওয়ার্ড এপিআই যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে ডেস্কটপ ব্যবহারকারীরা পেমেন্ট রিকুয়েস্ট এপিআই ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়া পেইন্ট টাইমিং এপিআই, সিএসএস ফ্রন্ট-ডিসপ্লে এপিআইয়ের যথেষ্ট আপডেট করা হয়েছে সংস্করণটিতে।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এই ঠিকানা, উইন্ডোজ ও ম্যাক ব্যবহারকারীরা এই ঠিকানা থেকে নতুন সংস্করণটি ব্যবহার করতে পারবেন। চাইলে ডেস্কটপ কম্পিউটারে ক্রোম ব্রাউজরের সেটিংস গিয়ে অ্যাবাউট থেকে নতুন সংস্করণটি আপডেট করে নেয়া যাবে।

গুগল ব্লগ অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

বিদেশি সফটওয়্যারের ব্যয় বাড়বে বেশ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সফটওয়্যার আমদানিতে শুল্ক বাড়ছে। ডেটাবেইজ সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে এই শুল্ক ২ শতাংশ হতে বেড়ে হচ্ছে ২৫ শতাংশ।

আর অন্যান্য কম্পিউটার সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে ১০ শতাংশ হিসেবে বসছে। তবে পৃথক এইচএস কোডে তা ১৫ শতাংশও রয়েছে।

এছাড়া ফ্লাশ মেমোরি কার্ড আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে। এটিও একই কোডে একই সারণিতে আবার ১৫ শতাংশও উল্লেখ রয়েছে। যা আগে ছিল ৫ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে এ বাড়তি শুল্কারোপের প্রস্তাব করা হয়।

দেশি সফটওয়্যার শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে বিদেশি সফটওয়্যারের উপর এই বাড়তি শুল্কারোপ করা হয়ে বলে জানিয়েছে খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাজেটে একই সঙ্গে দেশি সফটওয়্যার খাতকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। এতে এ শিল্পের কোনো ধরনের পণ্য বা সেবা সরবরাহের ওপর কোনো ভ্যাট দিতে হবে না।

আল-আমীন দেওয়ান

সফটওয়্যারসহ তথ্যপ্রযুক্তির ৮ খাতে কর অব্যাহতি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন কাস্টমাইজেশন, ওয়েবসাইট ডেভেলমেন্টসহ ৮ খাতে কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার  জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব করা হয়। বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

উল্লেখিত দুটি খাত ছাড়াও অব্যাহতির তালিকা রয়েছে ওয়েবসাইট হোস্টিং, ডিজিটাল ডেটা অ্যানালাইসিস, সফটওয়্যার টেস্ট ল্যাব সার্ভিসেস, ওভারসিস মেডিক্যাল ট্রান্সক্রিপশন, রোবোটিকস প্রসেস আউটসোর্সিং এবং সাইবার সিকিউরিটি সার্ভিসেস।

এছাড়া অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডকে কর অব্যাহতি প্রদানের কথা বলা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ‍উক্ত ফান্ডের আয় যখন বন্টিত হবে তখন তা লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত ও করযোগ্য হবে।

আল-আমীন দেওয়ান

লটারি বাতিল, গঠনতন্ত্র সংশোধনের পর ৯ পদেই বেসিস নির্বাচন

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বর্তমান নির্বাচন স্থগিতের পাশাপাশি এবার নির্বাচন পদ্ধতিই বদলে যাচ্ছে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বেসিসের।

লটারির মাধ্যমে প্রতি বছর ৩ পরিচালকের পদত্যাগ পদ্ধতি আর থাকছে না । হচ্ছে না ৩ পদের নির্বাচনও। সংগঠনটির বর্তমান গঠনতন্ত্র সংশোধনের পর হবে নতুন নির্বাচন, যা অনুষ্ঠিত হবে সবগুলো কার্যনির্বাহী পদে। এছাড়া নতুন নির্বাচনে কমিটির মেয়াদ হতে পারে ২ বছর।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বেসিস নির্বাচন নিয়ে ডিটিও’র শুনানিতে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডিটিও) আবদুল মান্নান এই শুনানি করেন।

শুনানি বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস.এম কামাল, আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এ তৌহিদ, বেসিস কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট এম রাশিদুল হাসান, পরিচালক উত্তম কুমার পাল এবং সভাপতি মোস্তাফা জব্বার উপস্থিত ছিলেন।

ডিটিওর এই নির্দেশনার ফলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনটির ২০১৭-১৮ টার্মের তিনটি পদে নির্বাচনের সকল কার্যক্রম পদ্ধতিগতভাবে আর হচ্ছে না। নির্বাচন বোর্ড শিগগিরই চলমান নির্বাচন স্থগিত ও পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষার নোটিশ দেবেন।

বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস.এম কামাল টেকশহরডটকমকে জানিয়েছেন, ‘ডিটিও নির্দেশনা দিয়েছেন গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন করতে। এটি করতে মাসখানেক সময় তো লাগবে। ফলে নির্বাচন অন্ততপক্ষে এক মাস পিছিয়ে যাবে। এতে চলতি নির্বাচন স্থগিত করতে হবে।’

‘প্রতিবার লটারি করে তিন জন পদত্যাগ ও তিন পদে নির্বাচন হচ্ছে। ডিটিও জানিয়েছেন আগে যে এই আইন ছিল সরকার তা পরিবর্তন করেছেন। সম্ভবত এখন যা হবে তা হলো সব পদেই নির্বাচন।’

বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, ‘এখন আমরা ডিটিওর কাছে লিখিত নির্দেশনা চেয়েছি যে, কোন আইন-সূত্র অনুয়ায়ী সব হবে। তা দেয়া হলে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো।’

নির্বাচনের মেয়াদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেয়াদ দুই বছর, তিন বছর যেটা ইচ্ছা রাখা যাবে। যেহেতু নির্বাচন ৩ বছরে হওয়ার চেয়ে ২ বছর হওয়া ভাল, ফেডারেশনও ২ বছর করে। তাই মাদার অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ২ বছর মেয়াদে নির্বাচনের পরামর্শ দিয়েছেন ডিটিও।’

উদ্ভুত পরিস্থিতে কার্যনির্বাহী কমিটি রোববার বৈঠকে বসার কথা।

নির্বাচন নিয়ে বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তি মোস্তাফা জব্বার এর কাছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ডিটিওর নির্দেশনা অনুযায়ী সব হওয়া উচিত। আইন-নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবারের নির্দেশনায় করণীয় কী হবে তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, গঠনতন্ত্র সংশোধনের নির্দেশনা আগেই ছিল। বিষয়টির প্রক্রিয়া তখনই উল্লেখ করেছিলাম।

গত ২৫ মে বেসিস সভাপতিকে লেখা ডিটিও’র চিঠিতে বলা হয়েছিল,  ‘বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ১৯৯৪ এর বিধি ২১ বিলুপ্ত করা হয়েছে । এমতাবস্থায় বাংলাদেশ সফটওয়্যারে  বেসিস এর সংঘস্মারক এবং সংঘবিধি সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ পরিবর্তন বা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হল।’

তখন মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানিয়েছিলেন, ‘একটি উপ-কমিটি করে দেয়া হবে। এর পর সংঘস্মারক-সংঘবিধির কোথায় কী সংশোধন হবে তা সনাক্ত করতে হবে।’

‘কমিটি পুরো গঠনতন্ত্র যাচাই-বাছাই করে সংশোধন চিহ্নিত করে নির্বাহী কমিটির কাছে সুপারিশ করবে। নির্বাহী কমিটি পর্যালোচনা করে  এতে মতামত বা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। মন্ত্রণালয় সংশোধন যথাযথ বলার পরে অতিরিক্ত সাধারণ সভা (ইজিএম) ডেকে সেখানে তা তোলা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইজিএম এর জন্য ২১ দিনের সময় লাগবে। ইজিএমে পাশ হলে উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষরসহ সংশোধিত গঠনতন্ত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়ার পরে জয়েন্ট স্টকে দিয়ে হালনাগাদ করতে হবে। আর এর পরই ওই সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী নতুন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

 

 

র‍্যানসমওয়্যার থেকে বাঁচতে বিনামূল্যের সাত টুলস

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কম্পিউটারের কিছু ব্যবহারকারী আছেন যারা অ্যান্টিভাইরাসের জন্য অর্থ ব্যয় করতে চায় না। তাদের জন্য ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস বা নিরাপত্তামূলক টুলসই শেষ ভরসা।

বর্তমান সময়ে ভয়ংকর র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণে বিপাকে পড়েছেন সারা বিশ্বের লাখ লাখ কম্পিউটার ব্যবহারকারী। আর যারা আক্রমণের শিকার হয়নি তাদের মধ্যে কাজ করছে আতঙ্ক।

কিভাবে র‍্যানসমওয়্যার থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে  তার উপায় খুঁজতে ব্যস্ত কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা। তাদের জন্য র‍্যানসমওয়্যার থেকে বাঁচতে বিনামূল্যের চমৎকার সাতটি টুলস নিয়ে এই প্রতিবেদন। আর র‍্যানসমওয়্যার থেকে বাঁচতে করণীয় কী হবে তা এই টিউটোরিয়ালটিও দেখতে পারেন।

ransomware-feature-techshohor

অ্যাভাস্ট ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস ২০১৭
অ্যাভাস্ট আমাদের দেশে চেনাজানা জনপ্রিয় একটি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার। এটি পেইড সংস্করণের পাশাপাশি ফ্রি ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এতে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, ইউআরএল ব্লকিং ইত্যাদি ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

সহজ ইন্টারফেসে ডিজাইন করা সফটওয়্যারটি ব্যবহারকারীদের ব্যানসমওয়্যার থেকে নিরাপত্তা দেবে। এতে থাকা অ্যাভাস্ট পাসওয়ার্ড ফিচারটি ব্যবহারকারীদের ভালো লাগবে। ফিচারটি ব্যবহার করলে পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে।

এছাড়া অ্যান্টিভাইরাসটিতে সেইভজোন ব্রাউজার সুবিধা থাকায় আর্থিক সেবা বা অনলাইনে কেনাকাটাকে করবে নিরাপদ। এই ঠিকানা থেকে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

সাইবারইসন র‍্যানসমফ্রি
এটি র‍্যানসমওয়্যার থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার একটি টুলস। সাইবারইসন র‍্যানসমফ্রি এমনভাবে ডিজাইন করা যা কম্পিউটারে ইন্সটল থাকলে অ্যান্টিভাইরাসের পাশাপাশি সক্রিয় থেকে কাজ করবে। কম্পিউটারে অচেনা ও অনিরাপদ কোন ফাইল প্রবেশ করলে এটি তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

এই টুলসটি গোপনে কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয় থাকার ফলে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ করলে তা টুলসটি নিরাপত্তা ভেদ করতে পারে না। যখন র‍্যানসমওয়্যার কোনো ফাইলে এনক্রিপশন করতে চায় তখন টুলসটি বাধা দেয়। এই ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

img3File_thumb800

ম্যালওয়্যারবাইটস অ্যান্টি-র‍্যানসমওয়্যার বেটা

ম্যালওয়্যারবাইটস দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার নিরাপত্তা দুনিয়াতে বিশ্বস্ত এক নাম। প্রতিষ্ঠানটি ক্রিপ্টোমনিটর নামে অ্যান্টি-র‍্যানসমওয়্যার টুলটি কিনে নেয় তারপর কিছুপরে নতুন করে তা উন্মুক্ত করেন। এটি এখনো বেটা পর্যায়ে থাকলেও র‍্যানসমওয়্যার ঠেকাতে কাজের টুল এটি।  এই ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে

ডুপলিক্যাটি

রানসমওয়্যার ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি ঝামেলা পড়েন কম্পিউটারে থাকা দরকারী ফাইল নিয়ে। এই ঝামেলা থেকে মুক্তি দেবে ডুপলিক্যাটি। এটি একটি ফ্রি ওপেনসোর্স টুলস যা ব্যবহারকারীদের কম্পিউটার থাকা ফাইল এনক্রিপটেড অনলাইনে স্টোরের সুবিধা দিয়ে থাকে। এটি এফটিপি, এসএসএইচ বা ওয়েবডেভ এর মত স্ট্যাটার্ড পটোকলসের মত কাজ করে। যাকে আমরা অনেকটা মাইক্রোসফটের ওয়ানড্রাইভ, গুগল ড্রাইভের সাথে তুলনা করতে পারি। এটি ব্যবহার করে কম্পিউটারে থাকা তথ্য অনলাইনে নির্দিষ্ট সময় পর পর স্বয়ক্রিয়ভাবে ব্যাকআপ রাখা সম্ভব। এটি স্মার্টফোন থেকে শুরু করে সব জায়গা অনায়াসে ব্যবহার করা সম্ভব। এই ঠিকানা থেকে এটি ডাউনলোড করা যাবে।

করবিন ব্যাকআপ ১১
ডুপলিক্যাটি মতই এটি একটি  ফাইল ব্যাকআপ রাখার টুলস। করিন ব্যাকআপ জনপ্রিয় অফলাইন ব্যাকআপ টুলস। এটির নেভিগেট ইউআই ইন্টারফেস চমৎকার। এই অ্যাপে ফাইল এনক্রিপশন, ইনকোডার, ট্র্যান্সলেটরসহ নানা ফিচার রয়েছে। ব্যাকআপ রাখার জন্য শিডিউল ও নানা ফিল্টার রয়েছে। এই ঠিকানা থেকে এটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

ANTI-RANSOMWARE-TOOL-KASPERSKY-techshohor

ক্যাসপারস্কি অ্যান্টি-রানসমওয়্যার
এটি সম্পূর্ণ ফ্রি টুলস যা অন্যান্য রানসমওয়্যার ব্লকারের মতই কাজ করে। টুলসটি কম্পিউটারের সিস্টেমের ব্যাকগ্রাউডে চালু থেকে কম্পিউটার মনিটরিং করে। কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ফাইল পেলে তা ব্লক করে দেয় টুলটি। এই ঠিকানা থেকে এটি ডাউনলোড করা যাবে।

মাইক্রোসফট ইএমইটি
এটি মাইক্রোসফটের নিরাপত্তামূলক টুলস। এটি কম্পিউটারে ইন্সটল থাকলে বিভিন্ন ম্যালওয়্যারের হাত থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করবে। এই ঠিকানা থেকে এটি নামিয়ে ব্যবহার করা যাবে।

আরও পড়ুন: 

পদত্যাগ করতে রাসেল উত্তম রাশিদুলকে বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চিঠি

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বেসিসের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট এম রাশিদুল হাসান ও পরিচালক উত্তম কুমার পালকে পদত্যাগ করতে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন বোর্ড।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনটির ২০১৭-১৮ মেয়াদের তিনটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রক্রিয়া শুরু করতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই চিঠি দেয় বোর্ড।

পদত্যাগ নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় বোর্ড ‘পদে থাকার জ্যেষ্ঠতা’র ভিত্তিতে তাদের পদত্যাগ করতে বলেন।

তবে পদত্যাগ নিয়ে নির্বাচন বোর্ডের সিদ্ধান্তে ‘আপত্তি’ করছেন তিন নেতা। তারা আপিল বোর্ডে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে আবেদন করেছেন।

নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী ২৩ মে তারিখে পদত্যাগ করতে হবে। ৮ জুলাই হবে নির্বাচন। নির্বাচন বোর্ড নমিনেশন আহবান করে নোটিশ দেবে ২৫ মে।

বেসিস নির্বাচন বোর্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম রাউলি টেকশহরডটকমকে জানান, গঠনতন্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও শাখার নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে নির্বাচন বোর্ড তিনজনকে পদত্যাগের চিঠি দিয়েছে।

আপিল বোর্ডে আবেদনের বিষয়ে বেসিসের সাবেক এই সভাপতি বলেন, এটা একটা প্রক্রিয়া। নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তার জন্য আপিল বোর্ডে আবেদন করার সুযোগ থাকে।

‘এখানে সবাই ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এখানে আমরাও চাই না কাউকে কোনো ইনফ্লুয়েন্স করার জন্য। আমরা চাই ইন্ডিপেন্ডেন্টলি কাজ করার জন্য। এটা আপিল বোর্ডের ব্যাপার। আমরা আপিল বোর্ডের রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করবো।’

basis-techshohor-2

পদত্যাগে সমঝোতা না হওয়া এবং লটারি করতে গেলে ‌‌’সমতা’র অধিকার ভঙ্গের বিষয় নিয়ে বেসিস বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনেরই নির্বাচন কমিশন বা বোর্ডই গণমাধ্যমকে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অবহিত করে। কারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর হতে এ সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু বলার এখতিয়ার শুধু নির্বাচন বোর্ডের। কোনো বিষয় প্রশ্ন থাকলে বোর্ড হতে জানতে পারবেন।

পদত্যাগ করতে বলা তিন নেতাই টানা চারটি সেশনে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বেসিসের কার্যনির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন।

রাসেল টি আহমেদ ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ সেশনে মহাসচিব এবং ২০১৪-১৬’তে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বর্তমান ২০১৬-১৯ সেশনের প্রথম টার্মেও তিনি সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।

এম রাশিদুল হাসান ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ সেশনে যুগ্ম-মহাসচিব এবং ২০১৪-১৬’তে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বর্তমান ২০১৬-১৯ সেশনের প্রথম টার্মেও তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।

উত্তম কুমার পাল ২০১২-১৩ সেশনে কোষাধ্যক্ষ, ২০১৩-১৪ সেশনে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০১৪-১৬’তে মহাসচিব ছিলেন। বর্তমান ২০১৬-১৯ সেশনের প্রথম টার্মেও তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।

বর্তমান কমিটির অন্যদের মধ্যে সভাপতি মোস্তাফা জব্বার এর আগে ১৯৯৭-৯৯ সেশনে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। ২০০২-০৩ সেশনে ছিলেন পরিচালক।

পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির ২০১০-১২ সেশনে ছিলেন পরিচালক, ২০১২-১৩-এ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০১৩-১৪ ‘তে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।

পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল ২০১৪-১৬ সেশনে যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ রহমান ২০০৮-০৯ সেশনে ছিলেন কোষাধ্যক্ষ, ২০১০-১২ তে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

এছাড়া পরিচালক সোনিয়া বশির কবির এবং রিয়াদ এস এ হোসেইন এবারই প্রথম বেসিসের কার্যনির্বাহী কমিটিতে এসেছেন।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যনির্বাহী কমিটির সেশন ৩ বছর। সে হিসেবে চলতি সেশন ২০১৬-১৯ সাল। তবে এই সেশন সময়ে প্রতি টার্মে কার্যনির্বাহী কমিটি হতে ৩ জন পদত্যাগ করবেন। এক বছর সময়ের ওই টার্মে পদত্যাগ করে শূন্য হওয়া ৩ পদে হবে নির্বাচন।

প্রতিটি টার্মে নতুন নির্বাচিত এবং পুরোনো মিলে ৯ পরিচালক নতুন করে কার্যনির্বাহী কমিটির পদের দায়িত্ব নেওয়ার নির্বাচন করবেন।

আরও পড়ুন: 

পিসিতে ভিডিও দেখুন আরও সহজে

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কম্পিউটারে ভিডিও দেখার জন্য ডিফল্টভাবে উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার দেওয়া থাকে। তবে এ সফটওয়্যার অনেকের পছন্দ নয়। উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের কাছে মিডিয়া প্লেয়ার হিসেবে কেএমপ্লেয়ার বেশ জনপ্রিয়। তবে এটির নতুন সংস্করণগুলোতে বিজ্ঞাপণের ঝামেলা রয়েছে ও হ্যাং করে।

এসব ঝামেলা থেকে মুক্তি দেবে ‘গম প্লেয়ার’ নামে সহজ সরল ইন্টারফেসের সফটওয়্যারটি। এটি কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ভিডিও দেখা করবে আরও উপভোগ্য করবে।

gom-player-techshohor

এক নজরে সফটওয়্যারটির ফিচারগুলো

এটি সাউন্ড ও ভিডিও চলাকালীন সময়ে সহজেই কিবোর্ডের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও ও থ্রিডি দেখার সুবিধা রয়েছে এতে।

সেটিংস থেকে ভিডিওয়ের ব্রাইটনেস ও অডিও কোয়ালিটি কেমন হবে তা ব্যবহারকারীরা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন।

সফটওয়্যারটির মজার ফিচার হলো ট্রান্সফারেন্ট। এটি উপরে পাওয়া যাবে।

এমপিফোর, এভিআই, এমকেভিসহ ভিডিওয়ের সব ধরনের ফরম্যাট সমর্থন করে সফটওয়্যারটি।

বিনামূল্যে অ্যাপ্লিকেশনটি এ ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

আরও পড়ুন

রিভ অ্যান্টিভাইরাসের ট্রায়ালে লাইসেন্সড ভার্সনের ফিচার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশি সাইবার সিকিউরিটি সফটওয়্যার রিভ অ্যান্টিভাইরাসের লাইসেন্সড ফিচারগুলো এখন ফ্রি ট্রায়ালেও পাওয়া যাবে।

কেনা ভার্সনের জন্য বেশির ভাগ সেবা সীমাবদ্ধ রাখা হলেও রিভ অ্যান্টিভাইরাসের ট্রায়াল ভার্সনেও অ্যাডভান্সড প্যারেন্টাল কন্ট্রোলসহ অন্যান্য সেবা পাওয়া যবে। এছাড়াও ব্যবহারকারীরা প্রতিটি কম্পিউটার ভার্সনের সাথে ফ্রি মোবাইল সিকিউরিটিও ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

ফ্রি ট্রায়াল ব্যবহারকারীদের জন্যও  ওয়েবসাইটে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা গ্রাহক সেবা দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে ফোন কল সাপোর্ট তো থাকছেই।

reve-techshohor

প্রতিষ্ঠানটি জানায়,  অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাসের নজরদারী কার্যক্রমে কেবল নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ব্লক করা গেলেও রিভ অ্যান্টিভাইরাসের উন্নত প্যারেন্টাল কন্ট্রোলে ক্যাটাগরি ও টাইমবেসড ব্লকিংয়ের পাশাপাশি সার্ভেইলেন্সের সুযোগ রয়েছে। এতে অন্যান্য ডিভাইসে কী করা হচ্ছে তা জানার পাশাপাশি চাইলে নিয়ন্ত্রণও করা যাবে ফ্রি মোবাইল অ্যাপ থেকেই।

রিভ অ্যান্টিভাইরাসের ট্রায়াল ভার্সন ডাউনলোড করতে ভিজিট করতে হবে, এই ঠিকানায়। অ্যান্টিভাইরাস, ইন্টারনেট সিকিউরিটি, টোটাল সিকিউরিটি – এই তিনটি প্রোডাক্টের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয়টি ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে।

ফ্রি ট্রায়ালের ৩০ দিন মেয়াদ শেষে চাইলে অনলাইনে কার্ডের মাধ্যমে কিংবা ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ ভিত্তিতে ঘরে কিংবা অফিসে বসেও রিভ অ্যান্টিভাইরাস সংগ্রহ করা যাবে।

ইমরান হোসেন মিলন

সফটওয়্যার সেবায় ধ্রুবতারা হতে চায় ধ্রুবক

ভালো একটি চাকরি চাই- বেশিরভাগের এমন ভাবনার মাঝে ব্যতিক্রম দুই তরুণ। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস নিয়ে তাদের নতুন কিছু করার চিন্তা পরিণত হয়েছে এক সফল উদ্যোগে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন।

দেশে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে দক্ষতায় সেরাদের একজন মেহেদী হাসান খান। একই ভাবনার সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন সফটওয়্যারে বিশেষ পারদর্শী আশিক-উজ-জোহাকে। বুয়েটে প্রকৌশল শিক্ষা গ্রহণের সময়ই তাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা রূপ নিয়েছে ধ্রুবক ইনফোটেক সার্ভিসেসে

তরুন এ দুই প্রকৌশলী নিজেরাই কিছু করতে চেয়েছিলেন। নিজেদের দেশেই সফটওয়্যারের বিকাশে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্লাটফর্মকে। তাদের সেই যৌথ প্রচেষ্টা এখন বাস্তব রূপ পেয়েছে।

Drubak-infotech-techshohor

মোবাইল প্ল্যাটফর্মে উভয়ের আগ্রহ ও দক্ষতার সুবাদে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, গেইমস, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের সেবা প্রদানে বেশ সুনাম করেছে তাদের প্রতিষ্ঠানটি।

বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা করা আশিক ও মেহেদী মিলে ২০১৩ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠা করেন ধ্রুবক ইনফোটেক সার্ভিসেস লিমিটেড। চার বছর পর তাদের এ উদ্যোগ ক্রমে বড় হয়েছে। এখন তাদের সঙ্গে কাজ করছেন আরও আট প্রকৌশলী। দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছেন।

সফটওয়্যার প্রকৌশলী আশিক ধ্রুবকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মেহেদী ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।

dhurok-all-rounder-techshohor

পিছন ফিরে দেখলে

সব উদ্যোগেরই পেছনে তাকালে সাধারণ হোক আর অসাধারণই হোক, একটা গল্প উঠে আসে। ধ্রুবকের রয়েছে তেমনি একটি গল্প। সাদামাটা হলেও তরুন এ দুই উদ্যোক্তার দৃঢ়তা, নিবিড় পরিশ্রম ও সংগ্রামের চিত্র উঠে এসেছে তাতে।

আশিক বলেন, বুয়েটে পড়ালেখার সময় তিন ও মেহেদী বেশিরভাগ ল্যাব, প্রজেক্ট, থিসিসগুলোতে একই গ্রুপে ছিলেন। সেই সুবাদে বন্ধুত্ব ও কাজকর্মের ব্যাপারে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।

পুরনো দিনের কথা তুলে ধরে তরুন এ উদ্যোক্তা জানান, তারা বিভিন্ন বিষয়, আইডিয়া নিয়ে আলাপ করতেন। পড়ালেখা শেষের দিকে থাকায় ক্যারিয়ারের চিন্তাটা সামনে চলে আসে। দুজনেই তখন নিজেরা কিছু করা যায় কিনা সে বিষয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই ভাবনা রূপ নেয় পরিকল্পনায়, গড়ে ওঠে ধ্রুবক।

নিজের এ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার দিনগুলো খুব সহজ ছিল না তাদের। এ সময়ে চোখের সামনে ‘ভালো’ চাকরির হাতছানিও ছিল। সেগুলো গ্রহণ করবেন, নাকি নিজেরা কিছু করে ভবিষ্যতে অন্যদের সেখানে চাকরি দেবেন- সে সিদ্ধান্ত নিতেও তাদের বেগ পেতে হয়েছে।

আশিকের ভাষায়, ‘আমাদের প্যাশন ছিল মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট। ছাত্র অবস্থায় ২০১১ সালে ফ্রিল্যান্স ডেভেলপার হিসেবে মার্কেটপ্লেসে কাজ করা শুরু করি। ২০১২-১৩ সালের দিকে তখন মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ব্যাপারটায় এখনকার মত ক্রেজ ছিল না। মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্টকে কেন্দ্র করে ক্যারিয়ার শুরু করতে চেয়েছি, তাই নিজেরাই কোম্পানি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই।’

বুয়েটে পড়ে ভালো চাকরির পিছনে না ছুটে তখন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াকে অনেকটাই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন এ দুই উদ্যোক্তা। তবে সামাজিক অবমূল্যায়নের ভয়কে থোড়াই কেয়ার করে, নিজেদের পরিকল্পনায় থেকেছেন অটল।

আশিক বলেন, বড় সমর্থনটাই পেয়েছি পরিবার থেকে। ক্যারিয়ারের শুরুতে এ রকম একটা সিদ্ধান্তে পরিবারের সমর্থন অনেক বড় ব্যাপার। ছাত্র অবস্থায় জমানো সামান্য কিছু টাকা নিয়ে স্নাতকের পরই বনশ্রীতে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ধ্রুবক ইনফোটেক সার্ভিসেস যাত্রা শুরু করে। এরপর ২০১৪ সালের শেষের দিকে অফিস মেরুল বাড্ডাতে বাণিজ্যিক ভবনে চলে আসে।

প্রতিষ্ঠানটিতে এখন আটজন কর্মী কাজ করছেন। যাদের বেশিরভাগই কম্পিউটার প্রকৌশলী।

যে ধরনের কাজ করে ধ্রুবক
ধ্রুবক মূলত সপটওয়্যার ডেভলপমেন্ট সেবা প্রদান করে। তাদের প্রতিষ্ঠান গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের জন্য মোবাইল অ্যাপ ও আনুষঙ্গিক সিস্টেম ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরিতে বিশেষভাবে পারদর্শী।

এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি পিএইচপি (লারাভেল, কোড-ইগনাইটর) এবং জাভাস্ক্রিপ্ট (নোড জেএস, অ্যাঙ্গুলার জেএস) ফ্রেমওয়ার্কগুলোতে ওয়েবসাইট ও ওয়েবঅ্যাপ বানায়।

dhrubok-techshohor-office

গ্রাহক কারা
ধ্রুবক থেকে সেবা গ্রহণের তালিকায় দেশি-বিদেশি টেক-স্টার্টআপ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোই উল্লেখযোগ্য বলে বলেন আশিক-উজ-জোহা। তিনি বলেন, দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো স্টার্টআপ হিসেবে শুরু করে ব্যবসায়িক দিকটি ভালো নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা করতে পারলেও, প্রযুক্তিগত দিক থেকে কিছুটা দুর্বল। তাদের সেবা দেওয়া একটা লক্ষ্য ধ্রুবকের।

ধ্রুবক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবার ধরন, গ্রাহকের চাহিদা ও সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে যথোপযুক্ত সার্ভার সিস্টেম, রেস্ট(REST) এপিআই, মোবাইল অ্যাপ, ম্যানেজমেন্ট ও অ্যানালাইটিক সিস্টেম নির্মাণে সহায়তা করে ।

প্রতিবন্ধকতা

ধ্রুবক ইনফোটেক সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠার পরে গত চার বছরে অনেক প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়েছে বলে বলেন আশিক।

প্রতিষ্ঠানের জন্য দক্ষ, যোগ্য ও সঠিক মননের সফটওয়্যার প্রকৌশলী খুঁজে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, ভালো সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। একজন প্রোগ্রামারকে প্রতিনিয়ত নিজের জ্ঞানের পরিধি, ব্যাপ্তি ও গভীরতা বৃদ্ধি করতে হয়; নতুন প্রযুক্তি, ল্যাংগুয়েজ ও প্রক্রিয়ায় নিজের পারদর্শিতা বৃদ্ধি করতে হয়। কিন্তু এমন সুপরিকল্পিত প্রকৌশলীর অভাব বোধ করেছেন তারা।

এ ছাড়াও বড় একটা সমস্যা ছিল পেমেন্ট গেটওয়ে। তাদের বেশিরভাগ গ্রাহক বিদেশি কোম্পানি ও নাগরিক হওয়ায় অধিকাংশ আয় আসে বিদেশ থেকে বিশেষ করে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। সেই অর্থ নিয়ে আসতে পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। পোহাতে হয়েছে অনেক হয়রাণি।

ভবিষৎ পরিকল্পনা
তাদের স্বপ্ন ধ্রুবকে দেশে ও দেশের বাইরে সফটওয়্যার তৈরি ও সেবায় একটি ব্র্যান্ড ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের অনেকটাই কম্পিউটার ভিশন, মেশিন লার্নিং ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কেন্দ্রিক। সেই লক্ষ্যে তারা ধ্রুবকে এসব প্রযুক্তিতে দক্ষ ও পারদর্শী জনবল তৈরিতে কাজ করছেন।

প্রতিষ্ঠানটি মোবাইলকেন্দ্রিক বুদ্ধিমান সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যমে দেশি ও আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চায়।

যোগাযোগ
সেঞ্চুরি সেন্টার (ফ্লোর ৮)
খ ২২৫ প্রগতি সরণী
মেরুল বাড্ডা
ঢাকা ১২১২
ওয়েবসাইট: www.dhrubokinfotech.com
ফেইসবুক পেইজ

উদোর পিণ্ডি বেসিসের ঘাড়ে, ঘর ছাড়ার দশা সংগঠনটির

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের কাছে ব্যাংকের ১০ কোটি টাকা ভাড়া বকেয়ার দায় চেপেছে বেসিসের ঘাড়ে।

পার্কটিতে ২৪ কোম্পানির কাছে স্পেস ভাড়া হিসেবে এই বড় অংকের পাওনা বেসিসের কাছে দাবি করেছে ভবনটির মালিক বিডিবিএল ব্যাংক। পাওনা আদায়ে সংগঠনটিকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে ব্যাংকটি। চলতি মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে বেসিসকে এসব জায়গা খালি করে দিতে বলা হয়েছে।

অন্যের বকেয়ার দায় নিয়ে এখন নিজের ঠিকানা রক্ষা করতেই ভাবতে হচ্ছে দেশের সফটওয়্যার সেবা খাতের শীর্ষ সংগঠনটিকে । অথচ সংগঠনটি নিজ কার্যালয়ের ভাড়া পরিশোধ করেছে নিয়মিতই। সফটওয়্যার খাতের সংগঠন হিসেবে পার্কে অবস্থিত কোম্পানিগুলোকে নানা সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে দেখভাল করে থাকে বেসিস। আর সেই কোম্পানিগুলোই সংগঠনটিকে এবার বিপাকে ফেলেছে।

বিডিবিএলের সঙ্গে বেসিস, হাইটেক পার্ক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুয়ায়ী সফটওয়্যার পার্কটিতে অবস্থিত কোম্পাটিগুলোর ভাড়া বেসিস হয়ে পরিশোধ করা হতো। ব্যাংক কোম্পানিগুলোর ভাড়া বেসিস হতে নিত আর কোম্পানিগুলো বেসিসকে ভাড়া পরিশোধ করতো।

বিডিবিএলের লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখিত পাওনার মধ্যে রয়েছে, ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল ভাড়া, ইউটিলিটি বিল ৮১লাখ ৫৩ হাজার, আরোপিত সুদ ৩ কোটি ৪ লাখ এবং ভ্যাট ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

basis-techshohor

বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, সংগঠনটির দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি নিজে জোর উদ্যোগে কয়েকবার ভাড়া আদায় করে বিডিবিএলকে পরিশোধ করেছেন।

‘এখন বিষয়টি পরিষ্কার। যারা ভাড়া পরিশোধ করবে না তারা থাকবে না আর থাকলে সে দায়িত্ব বেসিস নেবে না। নিয়মের বাইরে এখানে কিছুই হবে না। অনিয়মকারীদের উচ্ছেদে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’

যেসব কোম্পানির কাছে অনেক টাকা পাওনা তাদের উচ্ছেদের করা হলেও বকেয়া কীভাবে আদায় হবে সে বিষয়ে এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ বলেন, বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিডিবিএল ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সমস্যাগুলো চুক্তিতে অংশীদারদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হবে।

ভবনটিতে ভাড়াসহ সার্বিক বিষয়ের দায়িত্বে থাকা বিডিবিএল ব্যাংকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ১০ কোটি টাকার মতো বকেয়া রয়েছে। ভাড়া আদায়ে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং নোটিশ অনুয়ায়ী ভাড়া পরিশোধ না করলে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। পরবর্তীতে নিয়মানুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বকেয়া থাকা ২৪টি কোম্পানির মধ্যে ৩ কোটি টাকার বেশি পাওনা শুধু ৫-৬টি কোম্পানির কাছে। কোটি টাকার বেশি পাওনা ডেভেলপমেন্ট প্লানার্স অ্যান্ড কনসালটেন্ট (ডিপিসি) নামের কোম্পানির কাছে। দি ডিকোড ও ইস্ক্যানের কাছে বাকী ৭০ লাখ টাকা। কোম্পানি দুটির মালিক বেসিসের সাবেক সভাপতি সরওয়ার ই আলম।

এছাড়া সিনেসিস আইটির কাছে ৫০ লাখ, ইএটিএলের কাছে ৩৫ লাখ পাওনা। অন্যদিকে বকেয়া নিয়ে লাইট হাউস গ্রুপসহ তিনটি কোম্পানির মামলাও চলছে। তারা বেসিসকে ভাড়া দেন না।

এই বড় অংকের পাওনায় কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া বাকীগুলোর কাছে দুই হতে ছয় মাস পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে।

বেসিস বলছে, অল্প অংকের বকেয়া থাকা অধিকাংশ কোম্পানিই পাওনা পরিশোধ করে দেয়ার কথা বেসিস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। কিন্তু এই ৫-৬টি কোম্পানি যাদের কাছে ৩ কোটি টাকারও বেশি পাওনা, এদের নিয়ে জটিলতা আছে।

সফটওয়্যার অ্যানালাইটিক্স বাজার ১৮ বিলিয়ন ডলার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এই বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী বিজনেস ইন্টেলিজেন্স ও অ্যানালাইটিক্স সফটওয়্যারের বাজারের পরিমাণ হবে ১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬ সালের এই যা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। গবেষনা প্রতিষ্ঠান গার্টনার এই তথ্য জানিয়েছে।

গার্টনার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের শেষে আধুনিক বিজনেস ইন্টেলিজেন্স ও অ্যানালাইটিক্স বাজার দ্রুত বেড়ে ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌছাবে।

Analytics Software-TechShohor

গত কয়েক বছর ধরে আধুনিক বিজনেস ইন্টেলিজেন্স ও অ্যানালাইটিক্স প্লাটফর্ম বেশ ভালো রাজত্ব করছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্সেসিবিলিটি ও গভীর বিশ্লেষনের জন্য এসব প্লাটফর্ম ব্যবহৃত হচ্ছে।

গার্টনারের রিসার্চ ভাইস প্রেসিডেন্ট রিতা সালাম বলেন, যারা নিজেদের ও সম্মিলিত সাফল্যের তথ্য বিশ্লেষন এবং সামনে তুলে ধরতে চান তাদের কাছে এ ধরণের সফটওয়্যার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যা বাজার বৃদ্ধিতে ও প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে।

ইকোনমিক টাইমস অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ