ডেটা ভয়েসে অপারেটরদের ঈদ বোনাস

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ঈদকে আনন্দময় করতে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ঈদ বোনাস হিসেবে নানা অফার ও ছাড় দিতে শুরু করেছে।

গ্রাহক বিচারে সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোন যে কোনো ডেটা প্যাকের সঙ্গে ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে নিজেদের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি গ্রাহকদেরকে এসএমএস দিয়ে এ বোনাসের বিষয়ে জানাচ্ছে।

gp-eid-bonus-techshohor

প্রায় তিন কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের অপারেটর গ্রামীণফোন এ অফার কতদিন বহাল থাকবে সে বিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট করে বলেনি।

ঈদকে সামনে রেখে বাংলালিংক প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য ৩৯ টাকা রিচার্জে যে কোনো বাংলালিংক নম্বারে আধা পয়সা প্রতি সেকেন্ড ও অন্য অপারেটরে এক পয়সা প্রতি সেকেন্ড সারাদিনের অফার নিয়ে এসেছে।

রবি তাদের ডেটা অফারের সঙ্গে ইনস্ট্রাগ্রাম ফ্রি করে দিয়েছে। একই সঙ্গে ডেটার দামও কমিয়েছে তারা।

আগে যেখানে তারা এক জিবি ডেটা এক সপ্তাহের জন্য বিক্রি করতো ৮৯ টাকায় এখন দেড় জিবি দিচ্ছে ১০১ টাকায়। সেই সঙ্গে ইনস্ট্রাগ্রাম ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অপারেটরটি।

robi-eid-bonus-techshohor

এ ছাড়া গ্রামীনফোন ঈদের কেনাকাটায় সুবিধা দিতে বেশ কিছুদিন থেকে বিভিন্ন পণ্য ও আউটলেটে ১০ থেকে ২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। স্টার গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের অফার রয়েছে।

এদিকে ঈদের বিনোদনের দিকেও নজর রেখেছে অপারেটরগুলো। এক দিকে নিজেদের প্লাটফর্মে বিনোদনের কনটেন্ট বাড়ানোর সঙ্গে বিভিন্ন টেলিভিশনে ঈদের সময় নানা নাটক ও সিরিয়ালের আয়োজনও করেছে তারা।

গ্রাহকদের মধ্যে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে অপারেটরগুলো এমন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপনে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, আড়াই লাখ টাকা জরিমানা দিল রবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিজ্ঞাপনে প্রতিশ্রুত সেবা না দিয়ে এবার আড়াই লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছে রবি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেরর খুলনা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এ জরিমানা করেছিলেন।

শিকদার শাহীনুর আলম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রবি রায়টি একাধিকবার পুনর্বিবেচনা চেয়ে সময়ক্ষেপণ করছিল। অবশেষে ১৮ জুন তারা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে।

বুধবার অভিযোগকারী আনিসুল হাই জরিমানার ২৫ শতাংশ হিসেবে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা বুঝে পেয়েছেন বলেও জানান তিনি ।

সম্প্রতি ঢাকায় তিন ভোক্তাকে প্রতারণার দায়ে অপারেটরটিকে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে  হয়েছিল। তখন জরিমানা আদায়ে ‘গা’ না করায় অপারেটরটির কার্যালয়ে পর্যন্ত গিয়েছিলেন অধিদপ্তর কর্মকর্তারা।

আনিসুল হাই অভিযোগ করেছিলেন তিনি এয়ারটেল নাম্বার হতে একটি এসএমএস মাধ্যমে অফারে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা রিচার্জে ২৮ দিন মেয়াদে দেড় জিবি ইন্টারনেট পাবেন। কিন্তু তিনি ওই নির্দিষ্ট পরিমান টাকা রিচার্জের পর তাকে দেয়া হয়ে ১ জিবি ইন্টারনেট যার মেয়াদ ৫ দিনের।

আল-আমীন দেওয়ান

স্যামসাং স্মার্টফোন কিনে রবি গ্রাহক পেলেন ক্যাশব্যাক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  মোবাইল ফোন অপারেটর রবি থেকে স্যামসাং স্মার্টফোন সেট কিনে ১০ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক পেয়েছেন এক ক্রেতা। তার নাম আবদুল হান্নান।

রবি-স্যাম’সাং এর ক্যাশব্যাক অফারের আওতায় তিনি ১৩ হাজার ৪৯০ টাকা মূল্যের স্যামসাং জে২ প্রো হ্যান্ডসেটটি কিনেছেন। ক্যাশব্যাক পাওয়ায় তাকে পরিশোধ করতে হয়েছে ৩ হাজার ৪৯০ টাকা।

ঢাকার গুলশান, পল্টন ও ধানমন্ডি এবং চট্টগ্রামের জিইসি মোড় ও আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত রবি সেবা কেন্দ্রগুলো থেকে স্যামসাং মোবাইল কিনলে ক্যাশব্যাক অফার পাওয়ার যাচ্ছে।

Robi-samsung-techshohor

‘দোকানের ভিতরে আরেক দোকান’ বা ‘শপ ইন শপ (এসআইএস)’ ধারণায় পরিচালিত এই ক্যাম্পেইন উপলক্ষে রবি সেবা কেন্দ্রগুলোতে স্যামসাংয়ের বিক্রয় বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এই বুথগুলো থেকে কেনা মোবাইলের সাথে রবির গ্রাহকরা ১ জিবি ফ্রি ইন্টারনেটসহ ক্যাশব্যাক অফার গ্রহণ করতে পারছেন।

এসআইএস বুথগুলো থেকে স্যামসাং সেট কেনার পর রবি গ্রাহককে ২০১০ নাম্বারে এসএমএস পাঠাতে হবে। তাৎক্ষনিকভাবে পাল্টা এসএমএসে গ্রাহককে ক্যাশব্যাকের পরিমাণ জানিয়ে দেওয়া হবে। সকল রবি গ্রাহকদের জন্য এই ক্যাশব্যাক সুযোগ রয়েছে।

আনিকা জীনাত

নকিয়া ৩ স্মার্টফোনে রবি-এয়ারটেলের বান্ডেল অফার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নকিয়া থ্রি স্মার্টফোনে বান্ডেল অফার দিয়েছে মোবাইল অপারেটর রবি-এয়ারটেল।

এইঅফারে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের নকিয়া ৩ হ্যান্ডসেটটি কিনলে রবি ও এয়ারটেল গ্রাহকরা প্রতিমাসে ১০০ মিনিট অন-নেট রবি-এয়ারটেল, এয়ারটেল-রবি বোনাস টক-টাইম, ৫০ মিনিট অফ-নেট (রবি/এয়ারটেল-অন্যান্য অপারেটর) বোনাস টক টাইম পাবেন।

এছাড়াও ৪ জিবি বোনাস ডাটাসহ তিন মাস এ অফার উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিমাসের প্রথম ২১ দিনের মধ্যে এ বোনাস অফারগুলো গ্রহণ করতে হবে গ্রাহকদের।

Nokia-Robi-Airtel-Techshohor

গুলশান, ধানমন্ডি, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুর, উত্তরা, নারায়নগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও মুরাদপুরে অবস্থিত নির্ধারিত রবি সেবা কেন্দ্র এবং নকিয়ার আউটলেটগুলো থেকে এ অফারটি নেওয়া যাবে।

নকিয়া ৩ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে এক বছরের ওয়ারেন্টি। রবি ও এয়ারটেলের বর্তমান ও নতুন সকল প্রি-পেইড এবং এসএমই গ্রাহকরা এই অফারটি গ্রহণ করতে পারবেন।

ইমরান হোসেন মিলন

নির্দেশনা না মেনে রবির ‘অসময়’ এসএমএস

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গভীর রাতে গ্রাহকদের কাছে কোনো প্রমোশনাল এসএমএস না পাঠানোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানেনি রবি।

বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪৬ মিনিটে গ্রাহকদের প্রমোশনাল এসএমএস পাঠিয়েছে অপারেটরটি। অথচ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নির্দেশনা ছিল রাত ১২টা হতে ভোর পর্যন্ত কোনো প্রমোশনাল এসএমএস পাঠানো যাবে না।

রবি গভীর রাতে পাঠানো ওই এসএমএসে বান্ডেল প্রমোশন করে। সেখানে ৯৯৭ টাকা রিচার্জের সঙ্গে টক টাইম, ডেটা, এসএমএস ও জার্সি ফ্রি দেয়ার অফার দেয়া হয়।

২০১৬ সালের ১৫ মে সচিবালয়ে এক বৈঠকে ‘অসময়’ এসএমএস ও ফোন কল নিয়ে অপারেটরগুলোকে সতর্ক করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

ওই বৈঠকে তারানা বলেছিলেন, বিভিন্ন অপারেটর গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন বা প্রমোশনাল এসএমএস পাঠায়। শুধু এসএমএস নয়, অপারেটরের কাছ থেকে ফোন কলও আসে যাতে গ্রাহকরা বিরক্ত হন। অথচ গ্রাহকরা এগুলো এড়াতে পারেন না।

প্রতিমন্ত্রী অপারেটরদের নির্দেশনা দেন, অনেক আগেই বলা হয়েছিল রাত ১২টা থেকে ভোরে, ফজরের নামাজ অব্দি এইসব প্রমোশনাল এসএমএস দেওয়া যাবে না।

‘অন্ততপক্ষে রাত ১২টা থেকে শুরু করে ভোরে নামাজ পর্যন্ত কোনো টেক্সট ম্যাসেজ যাবে না। আশা করি আপনারা এটা ফলোআপ করবেন।’

এর পর গ্রাহকরা অনেকদিন এই বিরক্তি হতে রেহাই পেয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীর এই নির্দেশনা ভেঙ্গে রবি আবার এই গ্রাহক বিরক্তির কাজ শুরু করলো।

আল-আমীন দেওয়ান

 

গ্রাহক বাড়াতে মরিয়া রবি, বিলাচ্ছে ফ্রি সিম

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রাহক বাড়াতে একীভূত কোম্পানি রবি এতোটাই মরিয়া হয়ে উঠেছে যে তারা ফ্রি সিম বিলাতে শুরু করেছে।

এর আগে তাদের সঙ্গে একীভূত কোম্পানি এয়ারটেলের সিম ফ্রি দিলেও এবার রবির ০১৮-ই ফ্রি বিলাতে শুরু করেছে অপারেটরটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাহক বাড়াতে সিম প্রতি বড় ধরনের লোকসানও মেনে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে অপারেটরটি।

এমনকি প্রতিটি সিমে একেক অপারেটরের আড়াই’শ টাকার মতো খরচ হয়। এখন ফ্রি সিম দিয়ে দিয়ে একেকটি সিমে অন্তত পক্ষে আড়াই’শ টাকার ক্ষতি মেনে নিতে হয় অপারেটরটিকে।

এর আগে এয়ারটেলের ক্ষেত্রে সরাসরি ফ্রি বললেও এবার খানিকটা ঘুরিয়ে বলছে তারা। এবার নতুন সিমের সঙ্গে ছয় জিবি ইন্টারনেট ফ্রি দিচ্ছে অপারেটরটি। এর বাইরে ৫০টি এসএমএস।

যার দাম সব মিলে বলা হচ্ছে একশ টাকা। কিন্তু এই সিমটি পেতে গ্রাহককে দিতে হবে মাত্র ৮৪ টাকা।

আর এক্ষেত্রে আগের বারের মতো বড়সড় কোনো প্রচারণাও চালাচ্ছে না তারা। সেক্ষেত্রে একটা সিম ফ্রি দিলেও সেটি যে শেষ পর্যন্ত টিকবে তেমনটা হয় না। বাজারের এখনকার হিসেব অন্তত নতুন পাঁচটা সিম বাজারে গেলে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে একটা টেকে। তাহলে প্রতিটি নতুন গ্রাহক ধরতে এয়ারটেল বা তাদের একীভূত কোম্পানির অন্তত বার’শ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

শনিবার ফার্মগেটে এক খুচরা বিক্রেতা হাকডাক করে রবির সিম বিক্রি করছিলেন। তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রতি সিমের দাম যে ৮৪ টাকা নেওয়া হচ্ছে এর কোনো কিছুই রবির অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে না। পুরোটাই থেকে যাচ্ছে খুচরা বিক্রেতা আর বিপননকারীদের কাছে।

শুধু বায়োমেট্টিক পদ্ধতিতে আঙ্গুলের ছাপ আর জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েই মিলছে এই সিম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রবির হাতে যেহেতু ০১৬ এবং ০১৮ মিলিয়ে ২০ কোটি পর্যন্ত নম্বর বিক্রি করার সুযোগ আছে সুতরাং এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চান তারা।

অন্যদিকে গ্রামীণফোন তাদের ০১৭ সিরিজে প্রায় দশ কোটি নম্বর বিক্রি করে ফেলেছে। আর বিটিআরসি যেহেতু তাদেরকে নতুন নম্বর সিরিজ দিচ্ছে না, সুতরাং এই সুযোগে জিপি তার নিজের জায়গায় আটকে থাকলেও রবি অনেকটাই এগিয়ে যাবে।

আর এটাকেই সুযোগ হিসেবে নিয়ে ফ্রি সিম বিলানোর প্রতিযোগিতা শুরু করেছে রবি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগেও রবি একটি রবি সিমের সঙ্গে একটি এয়ারটেল সিম ফ্রি হিসেবে দিয়েছে।

আর. এস. হুসেইন

রবি ও নিপা গ্রুপ চুক্তি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ফোন অপারেটর রবির সঙ্গে একটি কর্পোরেট চুক্তি করেছে নিপা গ্রুপ।

চুক্তির আওতায় নিপা গ্রুপের কর্মীরা রবির বিশেষ কল রেট, ডেটা বান্ডেল প্যাক ও ভয়েস সংযোগের পাশাপাশি কল কনফারেন্স ও ক্লোজ ইউজার গ্রুপ সুবিধাসহ অন্যান্য ভ্যালু অ্যাডেড সেবা পাবে।

PR-robi-nipa-techshohor

রাজধানীতে নিপা গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির এমডি খসরু চৌধুরী ও রবির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আদিল হোসেন চুক্তিতে সই করেন।

এ সময় নিপা গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো: ফজলুল কবির জুয়েল, রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, ম্যানেজার মো: আবুল কালাম আজাদ ও নাজমুল হুদা উপস্থিত ছিলেন।

আনিকা জীনাত

মার্জার সার্টিফিকেট না নিয়েই ফিরেছেন আজিয়াটা প্রধান

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ‘অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স’ না নিয়েই ফিরে গেছেন আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদের এমডি, প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার জামালুদ্দিন ইব্রাহিম।

বুধবার রাতে একদিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন রবির মূল কোম্পানি আজিয়াটার এই শীর্ষ কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার দিন শেষে তিনি ফিরে যান।

আর বৃহস্পতিবারই টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কাছ থেকে ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিটিআরসির চেয়ারম্যান দেশে না থাকা এবং আরও কিছু কারণে এই লাইসেন্স দেয়া যায়নি।

একীভূতকরণের পর রবির ব্যবস্থাপনা পরিষদ ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পর্যালোচনা, নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলাপসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজে সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসেছিল আজিয়াটার শীর্ষ কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি।

দলটি টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর কাছে এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণের পর রবির অগ্রগতি তুলে ধরেন আজিয়াটার প্রধান।

বৈঠকে ছিলেন আজিয়াটার দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল সিইও ড. হানস বিজয়সুরিয়া, রবির ম্যনেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, আজিয়াটা গ্রুপর চিফ কর্পোরেট অফিসার মোহাম্মদ ইধাম নাওয়াউই ও রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড পিপল অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ।

আজিয়াটা প্রধান রবির ব্যবস্থাপনা পরিষদ ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে রবির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। তখন আরও কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন আজিয়াটা গ্রুপ চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার বিবেক সুদ, গ্রুপ চিফ বিজনেস অপারেশন্স অফিসার মোহাম্মদ আসরি হাসান সাবরি, গ্রুপ চিফ এইচআর অফিসার ডারকি এম সানি, গ্রুপ চিফ ট্যালেন্ট অফিসার দাতিন বদরুন্নিসা মো. ইয়াসিন খান, গ্রুপ চিফ টেকনোলজি অফিসার আমানদীপ সিং এবং গ্রুপ চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার ডমিনিক পল অ্যারেনা।

রবিকে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল কোম্পানিতে রূপান্তরে রবি একসেলারেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সদস্যরা অপারেটরটিকে ডিজিটাল কোম্পানি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

অাল-আমীন দেওয়ান

অবশেষে একীভূতকরণের স্বীকৃতি পাচ্ছে রবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নানা টানা টানাপড়েনের পর অবশেষে এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে রবি।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কাছ থেকে ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ বৃহস্পতিবার পাওয়ার কথা বলে জানা গেছে।

প্রায় নয় মাসে একীভূতকরণের অনুমোদন পাওয়ার পর গত কয়েক মাসে শীর্ষ এ দুই অপারেটর কার্যত রবির মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে আর্থিক দেনাপাওনার হিসাব সংক্রান্ত জটিলতায় বিটিআরসি এতদিন এ লাইসেন্স দেয়নি।

airtel -robi_techshohor

বুধবার মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের বাজেট বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে রবির চিফ পিপলস অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ বলেন, একীভূতকরণ শেষ পর্যন্ত যথাযথভাবে হচ্ছে। এ উদ্যোগ উভয় কোম্পানির জন্য সুফল নিয়ে আসবে।

পর্যায়ক্রমে তা গ্রাহকদের মধ্যেও সঞ্চারিত হবে বলে উল্লেখ করেন।

যদিও এর আগে রবি একাধিকবার বলেছে, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছ থেকে একীভূতকরণ বিষয়ে তাদের এ ধরণের কোনো লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বিটিআরসির দাবি করা বাড়তি টাকা ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েই ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ বুঝে নিচ্ছে রবি।

ইতিমধ্যে তারা এয়ারটেলের ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ বিটিআরসিকে ফেরত দিয়েছে।

 

২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মোট ২১ শর্ত দিয়ে রবি ও এয়ারটেলের একীভূতকরণ অনুমোদন দেয় বিটিআরসি।

১০০ কোটি টাকা একীভূতকরণ ফি ও ৩০৭ কোটি টাকা এয়ারটেলের তরঙ্গ সমন্বয় ফি হিসেবে মোট ৪০৭ কোটি টাকা, যা ভ্যাট-ট্যাক্স মিলে ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।

এর মধ্যে ২০ নভেম্বর ৩১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করে রবি। বাকি ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধের কথা থাকলেও তা দেয়নি অপারেটরটি। শর্ত প্রতিপালন না করায় অনুমোদনের পরও গত প্রায় নয় মাস ধরে একীভূতকরণ চূড়ান্তের বিষয়টি ঝুলে ছিল।

এ দীর্ঘ সময়ে একীভূতকরণের শর্ত পূরণ নিয়ে রবিকে বেশ কয়েক দফা চিঠি দেয় বিটিআরসি। পরে শোকজও করে।

এর মধ্যে একীভূতকরণ বাতিলের হুমকিও দেয়।

পরে টাকা পয়সা পরিশোধের শর্তে অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স নিতে বিটিআরসির কাছে আবেদন করলে এ জটিলতা নিরসন হয়।

কম দামে বেশি স্পেকট্রাম চায় অপারেটরগুলো

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজি সেবায় বেশি দামে কম স্পেকট্রামের পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামে পুরো স্টেকট্রাম কিনতে চায় মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য দুই কোটি ডলারের নিচে নামিয়ে আনতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে দেশের বড় তিন অপারেটরের মূল কোম্পানি।

গ্রামীণফোনের মূল কোম্পানি টেলিনর, রবির মূল কোম্পানি আজিয়াটা ও বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিয়েনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে গত ২৯ মে পাঠানো যৌথ এ চিঠিতে তিন কোম্পানির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা সই করেছেন।

GP-banglalink-robi-4G-techshohor

তারা বলছেন, ২০১৩ সালে দেশে থ্রিজি চালুর আগে সরকারের হাতে থাকা স্পেকট্রামের মাত্র কিছু অংশ বিক্রি হয়েছিল। উচ্চ মূল্যের কারণেই অপারেটরগুলো অল্প স্পেকট্রাম কিনে থ্রিজি সেবা চালু করতে বাধ্য হয়।

এখন থ্রিজি ব্যান্ডে অনেক অবিক্রিত স্পেকট্রাম রয়ে গেছে। সরকার তখন নিলামে এই স্পেকট্রামের ভিত্তিমূল্য ধরেছিল প্রতি মেগাহার্ডজ দুই কোটি ডলার। নিলামে তা দুই কোটি ১০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।

দেশে ফোর জি সেবা চালু করতে এখন কয়েকটি ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বিক্রি করতে চায় বিটিআরসি। নিরামে এগুলোর কোনোটির ভিত্তিমূল্য তিন কোটি থেকে সাড়ে তিন কোটি ডলার পর্যন্ত ধরা হচ্ছে।

এত দাম না বাড়িয়ে অপারেটরগুলো বরং সরকারকে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে অনুরোধ করছে। তারা প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য দুই কোটি ডলারের নিচে নামিয়ে আনার অনুরোধ করেছে।

দাম কমানো হলে অপারেটরগুলো বেশি স্পেকট্রাম কিনতে বিনিয়োগ করতে পারবে, তাতে ফোরজিতে গ্রাহক সেবার মান উন্নত হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে তারা ফোরজিতে অপারেটরগুলোর রাজস্ব ভাগাভাগি কিছুটা কমিয়ে আনা এবং স্পেকট্রামে বাড়তি মূল্য না নিয়ে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা দেওয়ার ‍অনুরোধ করেন।

ফ্রি সিমে এয়ারটেলের লোকসান ২৫০ টাকা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শুধু দোকানে নয়, বাসা বাড়িতে গিয়েও ফ্রি সিম দিচ্ছে এয়ারটেল। রবির সঙ্গে একীভূত হওয়া এ অপারেটর গ্রাহক বাড়াতে এ জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিও মেনে নিচ্ছে। সিমপ্রতি আড়াইশ টাকা লোকসান দিচ্ছে।

মুখে অবশ্য ফ্রি বললেও খানিকটা চাতুরি রেখে দিয়েছে তারা। এ কারণে বড়সড় করে কোনো প্রচারণাও চালাচ্ছে না।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একশ’ টাকায় একটি এয়ারটেল সিম দিচ্ছেন তারা। গ্রাহক এজন্য টক টাইম পাবেন ৯৬ টাকার। এটিকেই ফ্রি বলছে অপারেটরটি।

বর্তমানে একটি সিমে সরকারের একশ’ টাকা ট্যাক্সসহ রিটেইলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশনসহ সব মিলে রবির অন্তত আড়াইশ’ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একীভূত অপারেটরটি গ্রাহক বাড়াতে সাময়িক এ ক্ষতি মেনে নিলেও তা কতটুকু ফলপ্রসু হবে সেটা দেখার বিষয়। কেননা একটা সিম ফ্রি গ্রাহকের হাতে গেলে সেটি শেষ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ব্যবহার হয় না।

বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে অন্তত নতুন পাঁচটা সিম বাজারে গেলে শেষ পর্যন্ত টেকে মাত্র একটি। সে হিসাবে প্রতিটি নতুন গ্রাহক ধরতে একীভূত কোম্পানির অন্তত এক হাজার ২০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

রবির সঙ্গে একীভূত হওয়ার ২১ শর্তের একটি হলো আগামী দুই বছর এয়ারটেলের ব্র্যান্ডনেম ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে ০১৬ সিরিজের নম্বরও তারা এ সময় পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবে।

এ সুযোগ নিয়ে দেদারছে ০১৬ বিক্রি শুরু করেছে অপারেটরটির মূল কোম্পানি রবি-আজিয়াটা। মাঝখানে রবি সিমের সঙ্গে একটি এয়ারটেল সিম ফ্রি হিসেবেও দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুই বছর পর ০১৬ বা এয়ারটেল ব্র্যান্ড বন্ধ হওয়ার আগেই বড় একটি গ্রাহক সংখ্যা তৈরির পরিকল্পনা থেকে রবি এমন কৌশল নিয়েছে।

একই ভাবে ০১৬ নম্বর সিরিজ ধরে রাখতেও এমন পদক্ষেপ নিয়েছে অপারেটরটি। কেননা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ০১৬ সিরিজের নম্বরকে ০১৮-এ নিয়ে আসতে বললে তখন গ্রাহক সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে যাতে সেটি ‘অসম্ভব’ হয়ে পড়ে সেটিও আছে রবির পরিকল্পনায়। 

এখন ৭২ লাখের মতো ০১৬ নম্বর কার্যকর থাকলেও বাজারে এ সিরিজের নম্বর আছে তিন কোটির মতো।

ফলে নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যে এ সংখ্যা আরও দুই-তিন কোটি বাড়িয়ে নিতে পারলে তখন প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অন্তত এ জায়গায় এগিয়ে থাকবে একীভূত রবি-এয়ারটেল কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি অপারেটরের কাছে দুটি নম্বর সিরিজ থাকা মানেই- সে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ এগিয়ে থাকছে।

গ্রামীণফোন তাদের ০১৭ সিরিজ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন আর নতুন সিরিজ চেয়েও পাচ্ছে না। সে কারণে বাজারে তাদের গ্রাহক সংখ্যাও সেই অনুসারে বাড়াতে পারছে না।

তবে দুটি নম্বর সিরিজ থাকলে ১০ কোটির চেয়েও কয়েক কোটি বেশি গ্রাহকের কাছে সিম বিক্রি করতে পারবে রবি। এ কারণেই ০১৬ সিরিজ ধরে রাখতে ভবিষ্যতের কথা ভেবে বড় আর্থিক ক্ষতিও মেনে নিচ্ছে তারা।

আর. এস হুসেইন