এইচপি ওমেন ১৫ : গেইমিংয়ে দারুণ, দামও চড়া নয়

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গেমিং ল্যাপটপ মানেই বেশ চড়া মূল্যের মোটা ও ভারি একটি নোটবুক কম্পিউটারই চোখের সামনে ভেসে উঠে। এইচপি এ তিন বাজে দিকের দুটি পুরোপুরি ও একটি অল্পবিস্তর বদলে দিতেই বাজারে এনেছে ওমেন সিরিজের ল্যাপটপ।

এ সিরিজের অনেকগুলো ডিভাইসের মধ্যে ১৫.৬ ইঞ্চি কোর আই ৭ ও এনভিডিয়া জিটিএক্স ১০৫০টিআই সমৃদ্ধ মডেলটির খুঁটিনাটিসহ আজ আমরা পরীক্ষা করে দেখব- এটি কি আসলেই সব ধরনের গেইম ভালোভাবে চালাতে সক্ষম কিনা।

এক নজরে এইচপি অমেন ১৫ (২০১৭)

  • সপ্তম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই ৭ ৭৭০০এইচকিউ, ২.৮ গিগাহার্জ গতির কোয়াডকোর প্রসেসর
  • ১৫.৬ ইঞ্চি, ফুল এইচডি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • ১৬ গিগাবাইট, ২৪০০ মেগাহার্জ গতির ডিডিআর৪ র‌্যাম
  • ১২৮ গিগাবাইট এম.২ এসএসডি, ১ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার ৭২০০ আরপিএম হার্ড-ডিস্ক
  • এনভিডিয়া জিটিএক্স ১০৫০টিআই গ্রাফিক্স চিপ, ৪ গিগাবাইট জিডিডিআর৫ ভির‌্যাম
  • গিগাবিট ল্যান, ৮০১.১১এসি ওয়াই-ফাই (ওয়্যারলেস ডিসপ্লে সমর্থিত), ব্লুটুথ ৪.২
  • মেমরি কার্ড রিডার
  • একটি ইউএসবি ২.০ পোর্ট, একটি এইচডিএমআই পোর্ট, একটি ল্যান পোর্ট, হেডফোন ও মাইক্রোফোন কম্বো জ্যাক
  • দুটি ইউএসবি ৩.১ প্রথম জেনারেশন ৫ গিগাবিট পোর্ট
  • ৮৮ ডিগ্রি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল হাই-ডেফিনিশন ওয়েব ক্যামেরা
  • ব্যাং অ্যান্ড অলুফসেন অডিও
  • ব্যাকলিট কিবোর্ড
  • ৪ সেল ব্যাটারি, ১৫০ ওয়াটের অ্যাডাপ্টার
  • ২.২ কিলোগ্রাম ওজন

ডিজাইন
বরাবরের মতোই গেমিং ল্যাপটপ মানেই উদ্দীপ্ত ডিজাইন ও উজ্জ্বল রং – সেই ধারণা ওমেন সিরিজটি বেশ বদলে দিয়েছে। স্মার্ট ব্ল্যাক ফিনিশের এ মডেল চোখকে টানবে না। শুধু মাঝখানে অবস্থিত লাল লোগো ও কিবোর্ডের লাল ব্যাকলাইট ছাড়া আর তেমন রঙের ছোঁয়া নেই।

ল্যাপটপটির ওপরের অংশে অনেকটা কার্বন-ফাইবারের ন্যায় টেক্সচার দেওয়া হয়েছে। এর মাঝখানে রয়েছে ওমেন লোগো – এইচপির লোগো নয়।

একই টেক্সচার দেখা গেছে ডিভাইসটির পাম রেস্ট অংশটিতেও। তবে নিচের অংশ ও মনিটরের বেজেলে কোনও টেক্সচার নেই।

নোটবুকটিতে ডেস্কটপ গ্রেড গ্রাফিক্স চিপ থাকলেও এটি কোনওভাবেই খুব মোটা বলা যাবে না।

সব মিলিয়ে, অনেকেই ল্যাপটপটি দেখে গেমিং ল্যাপটপ ভাববেন না – যা অফিসে ব্যবহার করার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ।

এটির ডান পাশে রয়েছে পাওয়ার পোর্ট, ল্যান জ্যাক, এইচডিএমআই পোর্ট, ইউএসবি ২ পোর্ট ও কার্ড রিডার। বাকি দুটি ইউএসবি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক রয়েছে বাম পাশে।

সামনে ও পেছনে কোনও পোর্ট দেওয়া হয়নি। প্রায় সকল কুলিং ভেন্ট পেছনে অবস্থিত।

চিকলেট স্টাইলের লাল ব্যাকলাইটের কিবোর্ডটি রয়েছে ডিসপ্লের ঠিক সামনেই, যার নিচে রয়েছে বর্ডারবিহীন টাচপ্যাড। অবশ্য তুলনামূলকভাবে ছোট টাচপ্যাডটির ওপরে আরও স্মুথ ফিনিশিং দেয়া যেত। এ ছাড়া বিল্ড কোয়ালিটিতে তেমন সমস্যা নেই।

ডিসপ্লে
১০৮০পি ফুল এইচডি রেজুলেশন ১৫.৬ ইঞ্চি ডিসপ্লের তুলনায় কিছুটা কম। এ রেজুলেশন গেইমের ক্ষেত্রে আজও আদর্শ হবার ফলে এ ল্যাপটপের ক্ষেত্রে তা অস্বাভাবিক নয়।

ডিসপ্লের পিক্সেল ঘনত্ব অন্যান্য ল্যাপটপের চেয়ে খুব ভাল না হলেও ব্রাইটনেস, কন্ট্রাস্ট ও কালার ব্যালান্সে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

আইপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভিউইং অ্যাঙ্গেলের দিক থেকে ল্যাপটপটি খুবই ভালো। তবে কিছু কালার শিফট চোখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ভালো পরিমাণ ব্রাইটনেস ও ম্যাট ফিনিশের ফলে ডিসপ্লেটি প্রখর রোদেও সুন্দরভাবে ব্যবহার করা যাবে। তাই বলে ম্যাকবুকের মতো ব্রাইটনেস আশা করা ঠিক হবে না। 

কালার রিপ্রোডাকশন ও হোয়াইট ব্যালেন্সের দিক থেকেও এটি বেশ এগিয়ে। গেমিংয়ের জন্য হোয়াইট ব্যালেন্স ও ৯৮% এসআরজিবি কালার অ্যাকুরেসি খুবই ভালো ইমেজ দেখাতে সক্ষম হলেও মাত্র ৬২% অ্যাডোবি আরজিবি ফটো ও ভিডিও এডিটরদের কিছুটা হতাশ করবে।

সব মিলিয়ে, ল্যাপটপটির ডিসপ্লে পুরোই গেমিংয়ের জন্য তৈরি।

পারফরমেন্স
ইন্টেল কোর আই৭ ৭৭০০এইচকিউ কেবি-লেক কোয়াডকোর প্রসেসরটি এ মুহূর্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ল্যাপটপ প্রসেসর। ফলে এটি কম্পিউটারের সব কাজই দ্রুততার সঙ্গে করতে সক্ষম।

ভারি সফটওয়্যার, যেমন অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রো-তে ফোর-কে রেজুলেশনে ভিডিও এডিট করার মত কাজও প্রসেসরটি খুব সহজেই সামলে নিতে সক্ষম। গেমিং ও অন্যান্য কাজ এর কাছে কিছুই নয় বলে মনে হবে। 

র‌্যামের দিক থেকেও ডিভাইসটিতে কোনও কার্পণ্য করা হয়নি। ১৬ গিগাবাইট র‌্যাম আজও মাল্টি-টাস্কিংয়ের জন্য যথেষ্ট। চাইলে সেটি বাড়িয়েও নেয়া যাবে। দুটি র‌্যাম স্লট থাকায় ৩২ গিগাবাইট র‌্যাম সহজেই এ ল্যাপটপে ব্যবহার করা সম্ভব।

পিসিআই এসএসডি ব্যবহারের ফলে ডাটা রিড ও রাইটের দিকেও গতির মন্থরতা দেখা যায়নি। ফলে সকল কাজই চোখের পলকেই শেষ হয়ে যাবে।

গেমিং ল্যাপটপের মূল হচ্ছে এর গ্রাফিক্স চিপ। ওমেনে ব্যবহৃত জিটিএক্স ১০৫০টিআই এ মুহূর্তে বাজারের মাঝারি পারফরমেন্সের জিপিউর একটি।

১০৮০পি রেজুলেশনে প্রায় সকল গেইমই ৬০ এফপিএসে খেলা যাবে। কিছু গেইম, যেমন রেসিডেন্ট ইভেল ৭ খেলার সময় ১০০+ এফপিএসও পাওয়া গিয়েছে।

ব্যাটলফিল্ড ওয়ান বা জিটিএ ৫-এর মতো বেশ ভারি গেইমও হাই সেটিংসে ৬০ এফপিএসের নিচে নামেনি। যারা গেইমিংয়ের জন্য ল্যাপটপ খুঁজছেন তারা মাঝারি দামের এ ডিভাইস কিনে আশাহত হবেন না।

সব মিলিয়ে, গেমিং বা ভারি কাজ – সব কিছুই ওমেন ১৫ সহজেই সামলে নিতে সক্ষম। 

থার্মাল ডিজাইন 
শক্তিশালী প্রসসের ও জিপিউ-এর তাপ সঠিকভাবে বের করে দেয়াই সাধারণত গেমিং ল্যাপটপের মূল চ্যালেঞ্জ । ওমেন ১৫-এ কাজ খুব সুন্দরভাবে করতে সক্ষম। ফুল লোডে চলার সময়ও এটি ৬৫ ডিগ্রির ওপর যায়নি।

হাত রাখার স্থানে ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপ পাওয়া গিয়েছে – যা গেমিং ল্যাপটপের ক্ষেত্রে খুবই ভালো। অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে সিপিউ বা জিপিউ থ্রটোলিংও হতে দেখা যায়নি। 

কিবোর্ড ও টাচপ্যাড
এইচপি বরাবরের মতো এটিতে চিকলেট কিবোর্ড ব্যবহার করেছে। এর কি-ট্রাভেল ২ মিলিমিটার থেকে কমিয়ে ১.২ মিলিমিটার করা হয়েছে। ফলে কিছু ব্যবহারকারীর কাছে এটি অগভীর মনে হতে পারে।

অন্যদিকে লাল ও কালোর মিশ্রণে তৈরি লাল ব্যাকলাইট সমৃদ্ধ কিবোর্ডটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। চিকলেট লেআউটটি টাইপিংয়ের জন্য বেশ উপযোগী।

গেমিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য আজকাল ল্যাপটপেও মেকানিক্যাল কিবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এ দামে সেটি আশা করা ভুল। 

টাচপ্যাডটির ক্ষেত্রে এইচপি কিছুটা কৃপণতা করেছে। ফলে মাউস ব্যবহার করা প্রায় বাধ্যতামূলক।

ল্যাপটপটির আকৃতি অনুসারে অনায়াসে এর চাইতে বড় টাচপ্যাড দেওয়া যেত। মূল্য অনুসারে পলিশড গ্লাসের টাচপ্যাড আশা করা গেলেও এইচপি এর কোনওটিই করেনি। টাচপ্যাডটির অ্যাকুরেসি ও স্ক্রলিং – দুটোই খুবই মাঝারি মানের। 

সাউন্ড ও ওয়েবক্যাম
ব্যাং অ্যান্ড অলুফসেন অডিও আছে শুনে যারা ভালো মানের সাউন্ড আশা করছেন – তাদের হতাশ হতে হবে। স্পিকার ও হেডফোনে অন্যান্য ল্যাপটপের চাইতে বেশি ভলিউম পাওয়া যাবে; কিন্তু বেস ও ট্রেবলের ভারসাম্যহীনতা সেটি নষ্ট করেছে।

স্পিকারে অতিরিক্ত ট্রেবল থাকার ফলে অনেক সময় ভিডিওর কথা বোঝা কষ্টকর হয়ে পড়ে। হেডফোনেও সাউন্ডের তেমন উন্নতি নেই। 

ওয়েবক্যামের ভিডিওর মান খুবই সাধারণ। ভিডিও কলের বাইরে তেমন কিছু করার মতো ছবি এর কাছে পাওয়া যাবে না। 

ব্যাটারি লাইফ
৬৩ ওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি সমৃদ্ধ ল্যাপটপটি ছয় ঘন্টা পর্যন্ত মাঝারি কাজে ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। গেমিংয়ের সময় ২ থেকে ৩ ঘন্টার বেশি তা পাওয়া যাবে না।

অবশ্য গেমিং ল্যাপটপ এর চাইতে বেশি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম নয়। এর চেয়ে বেশি ভালো ব্যাটারি লাইফ চাইলে আল্ট্রাবুক কেনা ছাড়া গতি নেই।

পরিশিষ্ট
গেমিং ল্যাপটপের মাঝে কিছুটা স্বল্পমূল্যের ও হালকা-পাতলা ডিজাইনের এ ডিভাইস গেমিং ছাড়াও ভারি কাজের জন্য ক্লাসরুম ও অফিসেও বেশ মানিয়ে যায়। ফলে যারা এমন দামের ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবছেন, তারা অন্তত এটি একবার দেখতে পারেন।

মূল্য : ল্যাপটপটি অফিশিয়াল ওয়ারেন্টিসহ বাজারে এক লাখ ৩১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • ডিসপ্লে
  • পারফরমেন্স
  • ওজন ও ব্যাটারি লাইফ
  • থার্মাল ডিজাইন

একনজরে খারাপ

  • টাচপ্যাড
  • অডিও
  • ওয়েবক্যাম

 

নকিয়া ৩ : কমদামি অ্যান্ড্রয়েডে ভাবাবে ডিসপ্লে, চিপসেট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাম্রাজ্য হারানো নকিয়ার আটঘাট বেঁধে অ্যান্ড্রয়েডে পদার্পণ মূলত নকিয়া ৬ ফোনটি দিয়ে। তবে এর দাম যাদের কাছে বেশি মনে হয়েছে, তাদের মন ভরাতে নকিয়া ৩ মডেলের স্বল্পমূল্যের একটি ফোন এনেছে কোম্পানিটি।

এ ফোন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে অনেকের মধ্যে। ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার মতো কী ফিচার রয়েছে ফোনটিতে, সেটিই দেখে নেওয়া যাক।

nokia_3_review_thumb800

এক নজরে নকিয়া ৩

    • ৫ ইঞ্চি, ১২৮০*৭২০ পিক্সেল রেজুলেশনের আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
    • ডুয়াল ও সিঙ্গেল সিম দুটি সংস্করণেই রয়েছে
    • মিডিয়াটেক এমটি ৬৭৩৭, ১.৩ গিগাহার্জ গতির কর্টেক্স এ৫৩ কোয়াডকোর প্রসেসর
    • মালি টি৭২০এমপি২ জিপিউ
    • ২ জিবি র‌্যাম
    • অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ নুগাট অপারেটিং সিস্টেম
    • ১৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
    • ৮ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপারচার ব্যাক ক্যামেরা
    • ৮ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপারচর ফ্রন্ট ক্যামেরা (সামনের ক্যামেরাতেও অটোফোকাস রয়েছে)
    • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, এনএফসি, এফএম রেডিও
    • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক
    • ২৬৫০ মিলি-অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ধারণক্ষমতার ব্যাটারি

ডিজাইন
স্বল্পমূল্যের মডেল হলেও, আগের মতোই নকিয়া বিল্ড কোয়ালিটি নিয়ে কোনো প্রকার আপোস করেনি। ফোনটির ফ্রেম বা শ্যাসি তৈরিতে ম্যাশিন করা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার হয়েছে। এ কারণে হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিভাইসটি মজবুত ও টেকসই, এমনই কথা মাথায় আসবে।

অবশ্য পেছনের প্যানেলে চোখ পড়লে এর দামের কথাটি মনে ভাসবে। পলিকার্বনেট প্লাস্টিকের তৈরি ব্যাক প্যানেলের মান ভালো হলেও আর যাই হোক সম্পূর্ণ ধাতব বডির সমকক্ষ নয়।

nokia_3_1

চতুষ্কোন ফোনটির কোনাগুলো কিছুটা গোলাকৃতির করা হয়েছে। একই সঙ্গে এর পাশগুলোর ফিনিশও সম্পূর্ণ সমান না করে কিছুটা গোল রাখা হয়েছে যাতে হাতের সাথে সহজেই মানিয়ে যায়। এ ডিজাইন আগে আমরা লুমিয়া সিরিজে দেখেছি। যদিও এটির ডিজাইন লুমিয়ার মতো নয়।

তুলনামূলক ছোট সাইজের স্ক্রিন হওয়ার ফলে এক হাতে ব্যবহারে এখনকার প্রায় সকল ফ্যাবলেটের চাইতে অনেক সহজ।

পাওয়ার বাটন ও ভলিউম কি ডান পাশের বেশ উপরের দিকে দেওয়া হয়েছে। ফলে হঠাৎ করে ভলিউম বাটনে চাপ পড়ার আশঙ্কা কম। তবে ভলিউম নিয়ন্ত্রণের সময় বা স্ক্রিনশট নিতে বেশ অদ্ভুতভাবে ধরতে হবে।

nokia_3_3ফোনটির ওপরে রয়েছে হেডফোন জ্যাক, বাম পাশে সিম ও মেমোরি কার্ড স্লট এবং নীচে স্পিকার, মাইক্রোফোন ও মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, পেছনে পলিকার্বনেট প্যানেল ব্যবহার করা হলেও ফোনটির ফ্রেমের মাঝেও অ্যান্টেনা ব্যান্ড রয়েছে। এটি ডিজাইনের সময় সহজেই পেছনের প্লাস্টিকের নিচে স্থান দেওয়া যেত।

chorizo-2

ফোনটির ব্যাক প্যানেলের ওপরের মাঝ বরাবর রয়েছে এর উপবৃত্তকার ক্যামেরা বাম্প-যার ওপরের অংশে রয়েছে ক্যামেরা ও নিচে এলইডি ফ্ল্যাশ।

ক্যামেরার অংশটি দেখতে অনেকটাই মটো জি৪+ বা মটো জি৪ এর মতো; প্যানেলের মাঝ বরাবর নকিয়া লোগো না থাকলে দুটি গুলিয়ে ফেলা অসম্ভব কিছু নয়।

সামনের ডিসপ্লের ঠিক ওপরের ডান কোনায় রয়েছে নকিয়া লোগো, মাঝে ইয়ারপিস ও বামে ফ্রন্ট ক্যামেরা। স্ক্রিনের নিচে রয়েছে ক্যাপাসিটিভ ন্যাভিগেশন বাটনগুলো।

নামে নকিয়া হলেও, ফোনটির সঙ্গে অন্যান্য চীনা নির্মাতাদের ডিজাইনের বেশ মিল রয়েছে। আমরা নকিয়ার কাছে আরও অসাধারণ ডিজাইন আশা করতেই পারি। তবে ‘ভেঙে যাওয়া’ একটি কোম্পানি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তাই এ মুহূর্তে এরচেয়ে বেশি কিছু দেখাতে হয়ত সক্ষম হয়নি।

ডিসপ্লে
৭২০ পিক্সেল রেজুলেশনের ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে ২০১৭ সালে বেশ বেমানান। একেবারে কম দামের ফোনেও চীনা নির্মাতারা আজকাল ১০৮০পিক্সেল ডিসপ্লে ব্যবহার করছে।

এক্ষেত্রে অবশ্য ৭২০ পিক্সেল ডিসপ্লে ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। পিক্সেলের পরিমাণ কম থাকায় ফোনের জিপিউ ল্যাগ কম।

র‌্যামে কম পরিমাণ ডাটা রাখার ফলে মাল্টিটাস্কিংয়ে সুবিধা ও সব মিলিয়ে চিপসেটের ওপর কম চাপ পড়ার ফলে ব্যাটারি লাইফ কিছুটা বেড়ে যায়।  

chorizo-1

ডিসপ্লেটির পিক্সেল ঘনত্ব কিছুটা কম হবার ফলে একই সঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানাে, ভিআর কন্টেন্ট দেখা ও খুব কাছ থেকে টেক্সট পড়ার সময় কিছুটা সমস্যা হতে পারে। সেটি তেমন বড় কিছু নয়।

কম দামের ফোনে অনেক নির্মাতারাই টিএন প্যানেল ব্যবহারের ফলে কালার, কন্ট্রাস্ট, ব্রাইটনেস, তীর্যক আলোতে ব্যবহারের সুবিধা ও পাশ থেকে দেখার সুবিধায় বেশ খারাপ প্রভাব পড়ে। ফলে ৭২০ পিক্সেল প্যানেল বলতে চোখের সামনে যে বাজে ডিসপ্লেটি ভেসে ওঠে তার আসলে ৮০ শতাংশ দোষ প্যানেলের। রেজুলেশনে ঘাটতির নয়।

ব্রাইটনেস, কন্ট্রাস্ট ও ভিউইং অ্যাঙ্গেলের সমস্যা আইপিএস প্রযুক্তির প্যানেল ব্যবহারের কারণে প্রায় সম্পূর্ণই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। ডিসপ্লেতে পোলারাইজার ব্যবহারের ফলে প্রখর রোদেও ডিসপ্লেটি সহজেই দেখা যাবে।

সব মিলিয়ে, রেজুলেশনের ঘাটতি ছাড়া সবদিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে নকিয়া ৩।

পারফরমেন্স
মিডিয়াটেক প্রসেসর ‘খুব ভালো’ পারফরমেন্স দেখাতে পারে না। শুরুতেই বলে দেওয়া যেতে পারে, যারা বাজেটের মাঝে গেইম খেলা বা অন্যান্য ভারি কাজ করার জন্য ফোন খুঁজছেন তারা নকিয়া ৩ লিস্ট থেকে বাদ দিতে পারেন।

অন্যদিকে যাদের ল্যাগ ছাড়া দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একটি ফোন প্রয়োজন তাদের জন্য এমটি ৬৭৩৭ চিপসেটটি খারাপ নয়।

চারটি কর্টেক্স এ৫৩ কোর মাত্র ১.৩ গিগাহার্জ গতিতে চলার ফলে সিঙ্গেল কোর ও মাল্টি কোর দু’ক্ষেত্রেই ফোনটি অসাধারণ কোনো পারফরমেন্স দেখাতে পারেনি।

সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সের ঘাটতির ফলে অ্যাপ লোডিং, ফটো এডিটের মতো কাজ বেশ ধীর গতিতে হবে। ল্যাগ দেখা না গেলেও, কোনও কিছুই দ্রুততার সঙ্গে শেষ হবে না।

মাত্র চারটি কোর থাকায়, যার সবগুলো একই ধীরগতির হওয়ার ফলে মাল্টি-থ্রেডেড প্রসেস, অ্যাপ সুইচিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ল্যাগ দেখা যেতে পারে।

মালি টি৭২০এমপি২ জিপিউটি বেশ কয়েক বছর ধরেই নানা হ্যান্ডসেটে ব্যবহার হয়ে আসছে। ফলে এতে খেলা যাবে না এমন গেইম প্লে-স্টোরে নেই। তবে স্লো প্রসেসরের ফলে গেইমের লোডিং টাইম কিছুটা বেশি হবে।

জনপ্রিয় সকল গেইম ২০-৩০ এফপিএস এ খেলা যাবে। গ্রাফিক্স নিজ থেকেই লো সেটিংয়ে চলে যাবে।

দুই জিবি র‌্যাম ৭২০ পিক্সেল রেজুলেশনের ডিসপ্লের জন্য আজও চলনসই। এর থেকে যদিও খুব বেশি মাত্রার মাল্টিটাস্কিং ও ঘনঘন টাস্ক সুইচিং আশা করা যাবে না। অ্যান্ড্রয়েড নুগাটে একসঙ্গে স্ক্রিনে দুটি অ্যাপ চালানোর ব্যবস্থা থাকলেও সেটি ব্যবহারের মতো পারফরমেন্স চিপসেটটির নেই। এ ছাড়া র‌্যামের স্বল্পতাতো রয়েছেই।

সব মিলিয়ে পারফরমেন্স খারাপ নয়। স্ন্যাপড্রাগন চিপসেটে সেটি আরও ভালো হতে পারত। 

ক্যামেরা
বাজেট ফোনে সাধারণত তেমন ভালো ক্যামেরা দেওয়া হয় না। নকিয়া সেদিক থেকে চেষ্টা করেছে ক্যামেরাগুলো যাতে অন্তত ব্যবহারযোগ্য হয়। পেছনের ক্যামেরার রেজুলেশন খুব ভালো না হলেও অ্যাপারচার ও পিক্সেলের সাইজ বড় হবার ফলে নয়েজের পরিমাণ ছবিতে নিয়ন্ত্রণের মাঝেই রয়েছে।

আলোর পরিমাণ যথেষ্ট হলে বা দিনের বেলা বাইরের শটে শার্পনেসের পরিমাণ খুবই ভালো। ছবিগুলো জুম না করলে সোশ্যাল মিডিয়াতে সহজেই ব্যবহার করা যাবে।

হাইলাইট ও শ্যাডোর মাঝের ডিটেইলে পার্থক্য খুবই বেশি। খেয়াল করলে দেখা যাবে, প্রায় সময়ই হাইলাইট ফেটে গিয়েছে, না হয় শ্যাডোর ডিটেইলে চরম ঘাটতি চলে এসেছে।

nokia_3_3

কালার ব্যালেন্সও কিছুটা পানসে মনে হয়েছে। ছবির বিষয়বস্তুতে একই রঙের ভিন্নমাত্রার শেড থাকলে ছবির পার্থক্য বোঝা কঠিন।

ছবির বড় অংশজুড়ে একই রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড, যেমন মাটি বা আকাশ থাকলে সেখানে কিছুটা নয়েজ দেখা গেছে। অন্ধকারে ছবিতে বেশ নয়েজ পাওয়া গেছে। তাই কম আলোয় ব্যবহার না করাই ভালো।

ফ্রন্ট ক্যামেরাটিতেও অটোফোকাস থাকাটা একটা বড় ফিচার। একই অ্যাপারচার ও রেজুলেশনের সেন্সর হওয়ার ফলে সেলফি ক্যামেরাটি তুলনামূলকভাবে ব্যাক ক্যামেরার চাইতে বেশি কাজের। যারা সেলফি ও ভ্লগ করে অভ্যস্ত তাদের বেশ কাজে আসবে ফোনটি।

nokia 3 cam1 nokia 3 cam2 nokia 3 cam3 nokia 3 cam4 nokia 3 cam5

ক্যামেরা স্যাম্পল ছবি জিএসএমএরিনার সৌজন্যে।

ব্যাটারি লাইফ

২৬৫০ এমএএইচ ধারণ ক্ষমতার ব্যাটারি ২০১৭ সালে এসে কম মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। চিপসেট অনুযায়ী এটি নিতান্তই কম নয়।

এর আগে রিলিজ হওয়া মিডিয়াটেক কোয়াডকোর ফোনগুলোতে ১৭০০ এমএএইচ ব্যাটারিও কাজ চালানোর মতো ব্যাকআপ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৪-৬ ঘণ্টা স্ক্রিন অন টাইম ও ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্ট্যান্ডবাই টাইম পাওয়া যাবে। ফার্স্ট চার্জিংয়ের অনুপস্থিতি বেশ ভাবাবে।

nokia_3_4

পরিশেষ ও দাম
নকিয়া ৩ দেশের বাজারে আসার কথা চলতি সপ্তাহেই। এইচএমডি গ্লোবাল ১২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। বাজেটে হ্যান্ডসেট আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর ফলে শেষ পর্যন্ত এ দাম থাকবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়।

এ হিসেবে শাওমি রেডমি সিরিজ, হুয়াওয়ে জি সিরিজ, মটোরোলার ই সিরিজ ও সামনে আসা সি সিরিজের সঙ্গে একে লড়তে হবে।

এক নজরে ভালো

      • বিল্ড কোয়ালিটি
      • মূল্য অনুসারে ক্যামেরা, বিশেষত ফ্রন্ট ক্যামেরা
      • সর্বশেষ ও স্কিনমুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম

এক নজরে খারাপ

    • ডিসপ্লের রেজুলেশনে ঘাটতি
    • দুর্বল চিপসেট
    • ফিচার অনুযায়ী চড়া দাম

রিভিউটি তৈরি করেছেন টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর এস এম তাহমিদ

মটো জি৫+: মাঝারি দামে ফ্ল্যাগশিপ ক্যামেরা, প্রশ্ন অন্যখানে

এস. এম. তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মটো জি সিরিজের মাধ্যমে প্রথম থেকেই মাঝারি মূল্যে ভাল ফোন ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে বদলে যাওয়া মটরোলা। এর আগে মটো জি৪ প্লাস ফোনটি মূল্য অনুসারে সবচাইতো ভাল ক্যামেরা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কাজেও তার প্রমাণ রাখতে পারায় সবার কাছে ফোনটির গ্রহণযোগ্যতাও বেড়ে গেছে।

সেই ধারাবাহিকতা এ সিরিজের নতুন ফোন মটো জি৫ প্লাস রাখতে পেরেছে কিনা- দেখা যাক।

moto-g5-plus-review-back-w782

এক নজরে মটো জি৫ প্লাস

  • ডুয়াল সিম
  • ৫.২ ইঞ্চি, ফুল এইচডি (১৯২০x১০৮০) রেজুলেশনের আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে, গোরিলা গ্লাস থ্রি প্রযুক্তির নিরাপত্তা গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫, ২ গিগাহার্জ গতির কর্টেক্স এ৫৩ অক্টাকোর প্রসেসর
  • অ্যাড্রিনো ৫০৬ জিপিউ
  • ২ অথবা ৪ গিগাবাইট র‌্যাম, তবে ইউকে তে ৩ গিগাবাইট সংস্করণ রয়েছে
  • ৩২ অথবা ৬৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ নুগ্যাট অপারেটিং সিস্টেম
  • ১২ মেগাপিক্সেল, f/1.7 অ্যাপার্চার ব্যাক ক্যামেরা, ডুয়াল টোন, ডুয়াল এলইডি ফ্ল্যাশ
  • ৫ মেগাপিক্সেল, f/2.2 অ্যাপার্চার ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ২১৬০পি, ৩০ এফপিএস ভিডিও
  • ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৪.২, এনএফসি, জিপিএস, এফ এম রেডিও
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, ওটিজি
  • সামনে অবস্থিত ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৩০০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি, ফাস্ট চার্জিং

ডিজাইন
লেনোভো মটোরোলাকে কিনে নেয়ার পর তারা মটো জি৪ তৈরি করলেও এবারই প্রথম জি-সিরিজের ডিজাইনে বিশাল রকমের পরিবর্তন এনেছে। প্লাস্টিকের বদলে এবার পুরো ফোনটিই তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম।

এতে ফোনটির চেহারায় কিছুটা বনেদিপনা এসেছে। গত বছরের জি৪+ এর তুলনায় এবারের স্ক্রিনের সাইজ ০.৩ ইঞ্চি কমানো হয়েছে – যা অনেকের কাছেই ভালো নাও লাগতে পারে।

moto-g5-plus-screen-review-w782

এর বাইরে ডিজাইনের মূল সমস্যা বলা যেতে পারে ফোনটির বেজেল। চলতি বছর বাজারে আসা অন্য ফোনের তুলনায় ডিসপ্লের চারপাশে এত খালি জায়গা থাকাটা বেমানান।

ফোনটির সামনে ডিসপ্লের ঠিক উপরে ও নিচে বেশ বড় আকৃতির বেজেল রয়েছে। যদিও তা আইফোনের চেয়ে বেশি নয়। ডিসপ্লের ওপরে মটো লোগো ও তার উপরে ইয়ারপিস ও সেলফি ক্যামেরা অবস্থিত।

নিচে হোম বাটন ও ফিংগারপ্রিন্ট রিডার রয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে বাস্তবে হোম বাটন থাকলেও ব্যাক ও মেন্যু ক্যাপাসিটিভ কি দেওয়া হয়নি ফোনটিতে। এ নিয়ে পরে বিস্তারিত লেখা হয়েছে।

ফোনটির চারপাশের বাম্পারটি বেশ চকচকে পলিশে দেয়ায় ডিভাইসটির চেহারা কিছুটা পুরাতন ডিজাইনের মনে হতে পারে। সেটি তেমন বড় ধরনের সমস্যা নয়।

moto-g4-plus-micro-sim-w782

জি৫+ এর ডান পাশে রয়েছে পাওয়ার কি ও ভলিউম বাটন। উপরে রয়েছে সিম ও মেমরিকার্ড ট্রে, বাম পাশের পুরোটাই খালি ও নিচে রয়েছে হেডফোন জ্যাক, স্পিকার, মাইক্রোফোন ও মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট।

পেছনে ক্যামেরাটির চারপাশে বিশাল একটি চক্রাকার বর্ডার রয়েছে। এতে টেবিলে রাখলে ফোনটি কোনোভাবেই সমানভাবে বসবে না। ক্যামেরার এ ডিজাইন এর আগে মটো জেড সিরিজে দেখা গেলেও এক্ষেত্রে একেবারেই বেমানান বলা যেতে পারে।

হয়ত লেনোভো চাইছে, মটো সিরিজের ফোনগুলোর এ ক্যামেরা বাম্পই মূল ডিজাইন সিগনেচার হোক। এর ঠিক নিচে রয়েছে মটোরোলা লোগো। এছাড়া আর কিছু নেই।

সব মিলিয়ে, বেশ শক্তপোক্ত ও ভারি ফোনটি যে কারোর কাছেই বেশ মানসম্পন্ন মনে হবে। বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে কোনও খুঁত নেই। এরপরও ডিজাইনে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ডিসপ্লে
৫.২ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করে অসংখ্য ফোন ইতোমধ্যে বাজারে এসেছে। তাই নতুন করে ডিসপ্লে নিয়ে বলার তেমন কিছু আসলে নেই। ৪২৪ পিপিআই ঘনত্বের এ স্ক্রিন বরাবরের মতই মাঝারি মূল্যের ফোনের মাঝে একেবারে প্রথম সারির।

আইপিএস প্রযুক্তির ফলে ভিউইং অ্যাঙ্গেল, কন্ট্রাস্ট ও কালার ডেপথে কোনও ঘাটতি নেই। ব্রাইটনেস কিছুটা বেশি হলে সরাসরি রোদে ব্যবহারের সময় আরও সুবিধা পাওয়া যেত।

আগের সাধারণ গ্লাসের পরিবর্তে ফোনটির সামনে গোরিলা গ্লাস থ্রি ব্যবহারের ফলে সাধারণ ব্যবহারে স্ক্রাচ পরার সম্ভাবনা নেই একেবারেই। যদিও মেটাল বিল্ড থাকলেও হাত থেকে পরে ফেটে যাওয়ার কিছুটা সম্ভাবনা রয়েছে।

পারফরমেন্স
স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ প্রসেসরচালিত ফোনটি মাঝারি পারফরমেন্সে চলতে সক্ষম। আট কোরের সবগুলোই কর্টেক্স এ৫৩ হওয়ায় সিঙ্গেল থ্রেড পারফরমেন্স তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম।

আজকাল সর্বনিম্ন পারফরমেন্সের কোরগুলোও দৈনন্দিন কাজের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ায় গেমিং ও ভার ফটো এডিটের কাজ ছাড়া সকল প্রোগ্রামই দ্রুত লোড কাজ করে।

এ ফোনে গেইমের ডিটেইল কিছুটা কম পাওয়া যেতে পারে। সেটি তেমন সমস্যা নয়। আট কোর থাকায় মাল্টি-থ্রেড পারফরমেন্সে প্রসেসরটি বেশ পুষিয়ে নিয়েছে। ফলে মাল্টি-টাস্কিং, সুইচিং ও ওয়েব ব্রাউজিংয়ে কোনও ঘাটতি নেই।  

অ্যাড্রিনো ৫০৬ জিপিউটিও বলা যেতে পারে মাঝারি পারফরমেন্সের। থ্রিডি মার্ক অনুযায়ী এটি সাধারন হাই গ্রাফিক্সের সব গেইম সুন্দরভাবে চালাতে সক্ষম। তবে অসাধারণ পারফরমেন্স আশা করা ভুল হবে। যদিও ১০৮০পি ডিসপ্লেতে অন্য সবকিছুই ল্যাগ ছাড়া দেখাতে সক্ষম এ জিপিউটি।

র‌্যামের অভাব ২০১৭ সালের মাঝারি মানের ফোনে থাকা উচিৎ নয়। সে দিক থেকে ২ গিগাবাইট সংস্করণে সেটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে। ৩ বা ৪ গিগাবাইট সংস্করণের ফোনে মাল্টি-টাস্কিং নিয়ে কোনও সমস্যা দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে মাঝারি পারফরমেন্সের ফোনটি ব্যবহারকারীকে ঝামেলায় না ফেললেও অসাধারণ কোনও পারফরমেন্সও দেখাতে পারবে না।

moto g5antutu

সাউন্ড কোয়ালিটি
সাউন্ড কোয়ালিটিতে বেশ হতাশ করেছে ফোনটি। ভলিউম কিংবা সুচারু সাউন্ড – সবদিক থেকেই বেশ জৌলুশহীন মনে হয়েছে। স্পিকারের সাউন্ডও একেবারই রিংটোন শোনা ছাড়া আর কোনও কাজে ব্যবহার করার মতো নয়।

moto-g5-plus-review-micro-usb-w782

সম্প্রতি নতুন একটি আপডেটে সাউন্ড কোয়ালিটি অনেকটাই ঠিক করা হয়েছে। এর পরও হেডফোন ব্যবহারকারীরা এটিকে বলছেন যথেষ্ট নয়। সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে সংগীতপ্রেমিদের জন্য ফোনটি যুতসই নয়।

ক্যামেরা
মটো জি৪+ মাঝারি মূল্যে ফ্ল্যাগশিপ ক্যামেরা দিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। মটো জি৫+ সেটি বজায় রেখেছে। f/1.7 অ্যাপার্চার সমৃদ্ধ ক্যামেরা অনেক ফ্ল্যাগশিপেও আজকাল দেখা যায় না। অথচ এ ফোনে মটোরোলা সেটি ব্যবহার করেছে।

এতে করে কম আলোতেও প্রতিটি ছবিতেই খুব কম নয়েজ দেখা গিয়েছে। মূলত প্রফেশনাল মোডে সঠিকভাবে সবকিছু সেট করে তোলা ছবিগুলো মানের দিক থেকে ফ্ল্যাগশিপ ফোনের কাছাকাছিই চলে গিয়েছে।

IMG_20170315_113120052

অন্যদিকে ক্যামেরাটির প্রফেশনাল মোডটি যতটা ভাল, অটো মোডটি ততটা নয়। কিছু সময় ফোকাসিং নিয়ে সমস্যায় পড়তে  হয়েছে। এইচডিআর মোড অন না করা থাকলে কালার ব্যালেন্সের ঘাটতি রয়েই গিয়েছে বেশ অনেকটা।

এগুলো তেমন বড় সমস্যা নয়। ধরে নেয়া যেতে পারে, ভবিষ্যতের আপডেটে সেটি শুধরে নেওয়া হবে।

ফ্রন্ট ক্যামেরার মান বলা যেতে পারে মাঝারি। সেলফিপাগলদের জন্য ফোনটি সঠিক না হলেও সাধারণ সবার জন্য যথেষ্ট ভাল।

ভিডিওর মান নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। মাঝারি মূল্যের আর কোনও ফোনে তেমন ৪কে ভিডিও ধারণের অপশন দেখা যায় না। সেখানে মটো জি৫+ ভাল মানের ৪কে ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে অন্তত ৬৪ গিগাবাইট সংস্করণটি ব্যবহার করাই উত্তম।

IMG_20170211_062827350 IMG_20170211_062757409 IMG_20170211_053125548

ব্যাটারি লাইফ
ব্যাটারি লাইফ পুরোটাই নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর। সর্বোচ্চ ব্রাইটনেসে ও সাধারণ ব্যবহারে টানা ছয় ঘন্টা স্ক্রিন অন পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে ১৮ ঘন্টা ব্যবহারের পর ফোনটির চার্জ শেষ হয়ে যায়। সঙ্গে কুইক চার্জ থাকার ফলে ফোনটি শূন্য থেকে ফুল হতে সময় নেয় মাত্র দেড় ঘন্টা। তাই ব্যাটারি লাইফ নিয়ে তেমন কোনও সমস্যা দেখা যাওয়ার কথা নয়।

পরিশেষ
অডিও কোয়ালিটি ও অদ্ভুতুরে হোম বাটন জেসচার নেভিগেশন ছাড়া সব দিক থেকেই মটো জি৫+ ফোনটি খুবই ভালো। যারা মাঝারি মূল্যে সবচাইতে ভালো ক্যামেরা ফোন খুঁজছেন, তারা নির্দ্বিধায় ফোনটি কিনে ফেলতে পারেন।

তবে হ্যাঁ, শুধু ক্যামেরাই যাদের লক্ষ্য নয় – তারা কিন্তু একই পারফরমেন্সের ফোন আরও কম মূল্যে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে পাবেন। একই দামে অবশ্য আরও ভালো পারফরমেন্সের ফোন বাজারে রয়েছে।

moto-g5-plus-sensor-bio-w782

আগে বলা হতো, মটোরোলার কোয়ালিটি আরও ভাল; কিন্তু এখন সেই ফোন তৈরি করছে লেনোভোই। তাই আগের সেই ভ্যালুও আজ আর নেই। এ জন্য ক্যামেরা ও সফটওয়্যার আপডেট ছাড়া আর কোনও কারণ নেই জি৫+ কেনার। কিছু ভালো কিছু খারাপ- সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জটিলই হয়ে গেল, তাই না।

মূল্য
গ্রে মার্কেটে ফোনটি ২৫,০০০ থেকে শুরু করে ২৭,০০০ টাকায় পাওয়া গেলেও ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে না। অফিসিয়াল চ্যানেলে পরিবেশকদের মাধ্যমে এটি দেশে বাজারজাত হয় না।

এক নজরে ভালো

  • ক্যামেরা
  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • সফটওয়্যার আপডেট
  • ব্যাটারি লাইফ

এক নজরে খারাপ

  • সাউন্ড কোয়ালিটি
  • হোম বাটন জেসচার নেভিগেশন

অনেক ফিচারের হুয়াওয়ে পি১০ : ছোটখাট ঘাটতি দামেও অসন্তুষ্টি

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হুয়াওয়ে পি সিরিজের ফোনগুলো সবসময়ই ক্যামেরায় সেরা পারফরমেন্স দেখানোর চেষ্টা করে থাকে। ডুয়াল ক্যামেরার পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ক্যামেরা নির্মাতা লাইকার ব্র্যান্ডিং থাকায় কারও মনে এ নিয়ে সন্দেহ থাকে না। পি সিরিজের ফোন থেকে অসাধারণ সব ছবি আশা করেন সবাই।

হাইএন্ডের এ ফোনের নতুন সংস্করণে ক্যামেরা ছাড়া অন্যান্য ফিচারও কম নয়। বেশ কিছু রঙ ও ফিনিসিং, নজরকাড়া স্পেসিফিকেশনসমৃদ্ধ পি সিরিজের সর্বশেষ ফোন পি১০ কি এ ধারা অব্যাহত রেখেছে? চলুন দেখা যাক।

p10-4

এক নজরে হুয়াওয়ে পি১০

  • ডুয়াল সিম বা সিঙ্গল সিম
  • .১ ইঞ্চি, ১৯২০x ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের আইপিএসনিও এলসিডি ডিসপ্লে
  • হাইসিলিকন কিরিন ৯৬০, .৪ গিগাহার্জ গতির ৪টি কর্টেক্স এ৭৩ ও ১.৮ গিগাগার্জ গতির ৪টি কর্টেক্স এ৫৩ কোর সম্বলিত অক্টাকোর প্রসেসের
  • মালি জি৭১ এমপি৮ জিপিউ
  • ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • ৩২ অথবা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, ডুয়াল সিম মডেলে মেমরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭ নুগ্যাটের ওপর তৈরি ইমোশন ইউআই ৫.১ অপারেটিং সিস্টেম
  • ডুয়াল ২০ ও ১২ মেগাপিক্সেল, f/2.2 অ্যাপার্চার, ওআইএস, ফেইজ ডিটেকশন এবং লেজার অটোফোকাস ও লাইকা লেন্সসমৃদ্ধ ব্যাক ক্যামেরা, সঙ্গে রয়েছে ডুয়াল এলইডি ডুয়াল টোন এলইডি ফ্ল্যাশ
  • ৮ মেগাপিক্সেল, f/1.9 অ্যাপার্চার ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ২১৬০পি, ৩০ এফপিএস অথবা ১০৮০পি, ৩০এফপিএস ভিডিও ধারণের সুবিধা
  • ৮০২.১১এসি ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৪., জিপিএস, এনএফসি
  • ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট, হেডফোন জ্যাক
  • ফ্রন্ট মাউন্টেড ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৩২০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি, ফাস্ট চার্জিং

huawei_p10_review_5

ডিজাইন
হুয়াওয়ে পি৮ ফোনটির ডিজাইন সে সময় সাড়া ফেলেছিল। এ ডিজাইনকে ভিত্তি ধরে এরপর পি৯ ও আজকের পি ১০ এসেছে। পি ১০ ফোনটি বেশ কিছু রঙয়ে বাজারে পাওয়া যাবে। সিরামিক হোয়াইট, ড্যাজলিং ব্লু, ড্যাজলিং গোল্ড, প্রেস্টিজ গোল্ড গ্রাফাইট ব্ল্যাক, মিস্টিক সিলভার, রোজ গোল্ড ও গ্রিনারি থেকে পছন্দেরটি বেছে নিতে পারবেন ।

নজরকাড়া রঙের ফোনটির পেছনের অংশটিতে ডায়মন্ড কাট টেক্সচার দেওয়া হয়েছে, যেটি দেখতে সুন্দর লাগলেও হাতে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে স্যান্ডব্লাস্টিং করা ম্যাট ফিনিসের ফোনগুলো ধরতে তেমন সমস্যা নেই।

ফোনটির কিছুটা গোলাকৃতির কোনাগুলোর ফলে এটি ধরতে ও দেখতে পি৯ বা প৮-এর চেয়ে বেশ ভালো। খুবই ভালো মানের অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ফোনটির শ্যাসি খুবই শক্তপোক্ত। 

তবে সামনের পুরো অংশ তৈরিতে ব্যবহৃত গোরিলা গ্লাস ৫ ব্যবহারের ফলে স্ক্র্যাচ নিয়ে চিন্তা না থাকলেও হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ভঙ্গুর প্রবণতা অবশ্য আজকালের সব ফোনের ক্ষেত্রেই রয়েছে।

সামনে ডিসপ্লের ঠিক নিচে রয়েছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর, যার পাশে অনেকেই ক্যাপাসিটিভ কি আশা করলেও ফোনটিতে ক্যাপাসিটিভ কি দেয়ার বদলে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরে সোয়াইপ করে ব্যাক বা মেন্যুতে যাওয়ার অপশন দেওয়া হয়েছে। অনেকের কাছেই এটি বিরক্তিকর মনে হতে পারে ভেবেই হুয়ওয়ে অনস্ক্রিন ন্যাভিগেশনেরও ব্যবস্থা রেখেছে।

এ ছাড়া ডিসপ্লের ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস, সেন্সরগুলো ও ফ্রন্ট ক্যামেরা। ডান পাশে পাওয়ার বাটন ও ভলিউম কি, বাম পাশে সিমট্রে, ডুয়াল সিম সংস্করণের যার মাঝেই মেমরি কার্ড লাগানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ওপরের দিকে তেমন কিছু নেই। নিচে স্পিকার গ্রিল, ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক রয়েছে।

পেছনে ওপরের অংশে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা, যার পাশে লেজার অটোফোকাস সেন্সর, এলইডি ফ্ল্যাশ ও লাইকা ব্র্যান্ডিং।

ফোনটির পেছনে হুয়াওয়ে লোগো ছাড়া তেমন কিছুই নেই। আর অ্যান্টেনা ব্যান্ডগুলো সুন্দরভাবে বেজেলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার ফলে চোখে পড়ার সম্ভাবনা নেই।

সব মিলিয়ে বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন খুবই দৃষ্টিনন্দন ও উন্নতমানের।

huawei_p10_review_2

ডিসপ্লে
ফুল এইচডি ৫.১ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লের ফোন বাজারে অনেক থাকলেও পি ১০ ফোনে ব্যবহৃত আইপিএস নিও প্রযুক্তির প্যানেল অন্যসব আইপিএস প্যানেলের চাইতে বেশি কন্ট্রাস্ট ও ব্রাইটনেস দিতে সক্ষম। হুয়াওয়ের দাবি, ডিসপ্লেটিতে অন্তত ৬০০ নিট পর্যন্ত ব্রাইটনেস পাওয়া যাবে পরীক্ষা করে তেমনটিই দেখা গেছে।

কন্ট্রাস্টের দিক থেকেও ফোনটি খুবই এগিয়ে রয়েছে- ১৪২৩:১ কন্ট্রাস্ট রেশিও সহজ কথা নয়।

অন্যদিকে কালার অ্যাকুরেসির দিক থেকে ডিসপ্লেটি বেশ পিছিয়ে। রঙের ব্যতিচার বা ডেল্টাই এর মান খুবই বেশি। ৬ দশমিক ৫ ডেল্টাই হবার ফলে প্রায় সব রঙ ডিসপ্লেটিতে কিছুটা নীলচে দেখা গেছে। তবে সেটিংস থেকে ওয়ার্ম ডিসপ্লে মোড ব্যবহার করলে ডেল্টাই কমে ৪ দশমিক ৮-এ নেমে আসে। তবে কোনও অবস্থায়ই ডিসপ্লেটি খুব অ্যাকুরেট কালার দিতে সক্ষম নয়।

সরাসরি রোদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিসপ্লেটি খুবই ভালো। সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে ছাড়া পি১০-এর ডিসপ্লেটিকে এক্ষেত্রে হারাতে পারবে এমন ডিসপ্লে খুব বেশি নেই।

ব্রাইটনেস, কন্ট্রাস্ট ও রোদে ব্যবহারের সুবিধা কালার কোয়ালিটির কিছুটা ঘাটতি বেশ পুষিয়ে দিয়েছে।

পারফরমেন্স
বেশ কিছু বছর ধরে হুয়াওয়ে তাদের ফোনগুলোতে নিজস্ব কিরিন প্রসেসর ব্যবহার করে আসছে। কিরিন ৯৬০ প্রসেসরটিতে ৪টি কর্টেক্স এ৭৩ কোর থাকার ফলে প্রসেসরটি সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

গিকবেঞ্চ অনুসারে প্রসেসরটি সিঙ্গেলকোর পারফরমেন্সে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২১- এর সমান। মাল্টিকোর পারফরমেন্সেও প্রসেসরটি খুবই এগিয়ে রয়েছে। চারটি এ৭৩-এর সঙ্গে আরও চারটি এ৫৩ কোর সম্মিলিতভাবে কাজ করার ফলে এটি স্ন্যাপড্রাগন ৮২১-এর কোয়াডকোর পারফরমেন্সকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

সাধারণত হাইসিলিকন কিরিন প্রসেসরের জিপিউ পারফরমেন্স কোয়ালকম অ্যাড্রিনো জিপিউর চেয়ে বেশ পিছিয়ে থাকে। এ ফোনে ব্যবহৃত মালি জি৭১ এমপি৮ জিপিউটি গ্রাফিক্স পারফরমেন্সে প্রায় অ্যাড্রিনো ৫৩০-এর কাছাকাছি, তবে পুরোপুরি নয়।

বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী এটি অ্যাড্রিনো ৫৩০ এর চাইতে ১০১৫% কম শক্তিশালী। যদিও ১০৮০পি ডিসপ্লেতে এইচডি গেইম চালাতে সমস্যা হবার কথা নয়।

benchmarkp10

র‌্যামের দিক থেকে ফোনটি মূলধারায় রয়েছে। নতুন সকল ফ্ল্যাগশিপেও এখন চার গিগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই মাল্টিটাস্কিং ও টাস্ক সুইচিংয়ে কোনও ল্যাগ পাওয়া যায়নি। অবশ্য ভবিষ্যতে চার গিগাবাইট র‌্যাম কিছুটা কম মনে হতে পারে।

সব মিলিয়ে, হুয়াওয়ে পি১০ এর কাছ থেকে ফ্ল্যাগশিপ পারফরমেন্স পাওয়া গিয়েছে।সমস্যার দিক থেকে চিহ্নিত করা যায় এটির থার্মাল পারফরমেন্স। টানা ব্যবহারে ফোনটি বেশ গরম হতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে থার্মাল থ্রটোলিংয়ে পরিণত হয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পারফরমেন্স কমে যেতে দেখা গেছে।

huawei_p10_review_6

ক্যামেরা
বরাবরের মতো পি সিরিজের ফোনগুলোতে হুয়াওয়ে ক্যামেরার দিকে বেশি জোর দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম নয়। এর আগের পি৯-এর লাইকা লেন্সসমৃদ্ধ ক্যামেরাটি ছবির ডিটেইলের ক্ষেত্রে তূলনামূলক হতাশ করেছিল। তাই পি১০-এর ক্যামেরার মান নিয়ে সবার কিছুটা শংশয় থাকাই স্বাভাবিক।

ফোনটিতে পেছনে ডুয়াল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। যার একটি ২০ মেগাপিক্সেল ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট সেন্সর ও অপরটি ১২ মেগাপিক্সেল ফুল কালার সেন্সর। বলা যেতে পারে এটিই আসলে ফোনটির মূল ক্যামেরা।

দুটি সেন্সরের সামনেই f/2.2 অ্যাপার্চারের লেন্স দেওয়া হয়েছে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় কিছুটা কম বলা যেতে পারে। কেননা বেশ কিছু বছর ধরেই f/2.0 বা f/1.8 সহ ক্যামেরা মূলধারায় চলে এসেছে।

ক্যামেরায় ডুয়াল সেন্সর থাকার ফলে সেটি তেমন সমস্যা নয়। সেন্সর দুটিতে ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস থাকার পরও এর সঙ্গে লেজার অটোফোকাস যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ফোকাসিংয়ের দিক থেকে পি১০ খুবই এগিয়ে রয়েছে।

ক্যামেরা দুটি এক সঙ্গে কাজ করার ফলে প্রতিটি ছবিরই ডিটেইল, এক্সপোজার, টেক্সচার ও ডাইনামিক রেঞ্জ খুবই ভাল। একমাত্র অতিরিক্ত আলোর মাঝে তোলার সময় ছাড়া উজ্জ্বল ও অনুজ্জ্বল যায়গার মাঝে ডিটেইলে তেমন পার্থক্য দেখা যায়নি।

কম আলোতে ছবি তোলার সময়ও ক্যামেরাটি হতাশ করেনি। বেশ উজ্জ্বল ও কম নয়েজ যুক্ত ছবি এটি ধারণ করতে পেরেছে। হলদে আলোতেও কালার ব্যালেন্স নিয়ে সমস্যা দেখা যায়নি।

তাই বলে ক্যামেরার দিক থেকে ফোনটির সবকিছুই ভালো এমনটি বলা যাবে না। মূল্য অনুসারে ফোনটিতে তোলা ছবিতে যেটুকু নয়েজ, কালার শিফট দেখা যাওয়া উচিৎ তার চেয়ে বেশ অনেকটুকু বেশি দেখা গেছে।

বিশেষত মেঘলা আকাশের মত উজ্জ্বল ও ভিন্ন টেক্সচারের সাবজেক্টের ছবিতে নয়েজ ও আর্টিফ্যাক্ট খুব ভালভাবে বিদ্যমান।

huawei_p10_review_bt_tower_hdr_off

ভিডিওর দিক থেকে ফোনটি পিছিয়ে নেই। ফোর কে রেজুলেশন পর্যন্ত ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরাটিতে অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন ও লেজার অটোফোকাস থাকায় ফোকাসিং ও ভিডিওর কাঁপুনি নিয়ে ভাবনা নেই।

যদিও সবকিছুই একদম নিখুঁত নয়। মূলত কম্প্রেশন আর্টিফ্যাক্ট, নয়েজ, ডিটেইলের অভাব ও মাঝে মাঝে উদ্ভট স্ট্যাবিলাইজেশন ‘জেলি’ ইফেক্ট ক্যামেরাটির ভিডিও ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

huawei_p10_review_indoor

সেলফি ক্যামেরাটির অ্যাপার্চার বেশ বড় হবার ফলে পোট্রেইট তোলার সময় পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড বোকেহ বেশ ভালোভাবে বোঝা গেলেও অনান্য দিক থেকে ক্যামেরাটি বেশ সাধারণ মানের। ক্যামেরাকেন্দ্রিক ফোনের কাছে এর চেয়ে বেশি আশা করাই যায়।

সাউন্ড কোয়ালিটি
পি১০ এর সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ উন্নতমানের। ফোনটির সিগন্যাল টু নয়েজ রেশিও বেশ ভাল, ফ্রিকুয়েন্সি রেসপন্স ২০ হার্জ থেকে ২০ হাজার হার্জ পর্যন্ত একেবারে সমান এবং স্টেরিও ক্রসটকের পরিমানও না ধরার মতই।

সমস্যা বলা যেতে পারে এর ভলিউমে। হেডফোন বা স্পিকারের উভয় ক্ষেত্রেই ফোনটি খুবই কম ভলিউমে সাউন্ড দিতে সক্ষম, যা এ দামের ফোনের ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সঙ্গীত প্রেমীরা ভলিউমে ঘাটতি বেশ ভালোভাবে টের পাবেন।

huawei_p10_review_4

ব্যাটারি লাইফ
ফোনটিতে ব্যবহৃত ৩২০০ এমএএইচ ব্যাটারিটি টানা দুই দিন স্ট্যান্ডবাই দিতে সক্ষম। স্মার্টফোন যেহেতু কেউ স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখতে ব্যবহার করেন না, তাই স্ক্রিন অন টাইমকেই মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অন্তত ৭৮ ঘন্টা স্ক্রিন অন পাওয়া যাবে।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, সাধারণ ব্যবহারে অন্তত এক দিন চার্জ না করেই ব্যবহার করা যাবে। কিছুটা কম ব্যবহারে দু’দিন সহজেই ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।

ফাস্ট চার্জিং ফোনটির বিশেষ ফিচার হলেও অপ্পো বা কোয়ালকমের চেয়ে সেটি বেশ পিছিয়ে রয়েছে। ২ শতাংশ থেকে ৩০ মিনিটে ফোনটি ৫৫ শতাংশ চার্জে যেতে সক্ষম – যা ড্যাশ (ভুক) চার্জ বা কুইকচার্জের চেয়ে ৫১০ শতাংশ কম।

পরিশিষ্ট
মূল্য অনুসারে ফোনটিকে ফ্ল্যাগশিপের কাতারে ফেলা যায়। ইদানিং অবশ্য ফ্ল্যাগশিপের মূল্য আরও বেড়ে যাওয়ায় এটি আসলে মাঝারি বাজেটের মধ্যে উচ্চ মূল্যের কাতারে পরেছে।

সে হিসেবে ডিসপ্লের রেজুলেশনে ঘাটতিম ও কিছুটা খারাপ গ্রাফিক্স পারফরমেন্স হয়ত মেনে নেওয়া যায়। তবে বাধ সেধেছে ওভারহিটিং, ব্যাটারির কুইকচার্জে বেশ ধীরগতি এবং ক্যামেরার ছবি ও ভিডিওতে বেশ বড় ধরনের নয়েজ।

এ দামে এর চাইতে ভালো ক্যামেরা, পারফরমেন্স ও স্ক্রিনের ফোন বাজারে রয়েছে। তাই বলা যায়, ফোনটি বেশ ভালো হলেও কেনার আগে ক্রেতা মনমতো পারফরমেন্স পাবেন কিনা সেটি বিবেচনা করতে হবে।

মূল্য 
ফোনটি প্রিঅর্ডারে সরাসরি হুয়াওয়ের কাছ থেকে ৫৬ হাজার ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।বাইরে গ্রে মার্কেটে আরও কমে ওয়ারেন্টি ছাড়া পাওয়া যেতে পারে।

এক নজরে ভাল

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • ব্যাটারি লাইফ, চার্জিং
  • দৈনন্দিন ব্যবহারে পারফরমেন্স
  • স্টিল ফটোগ্রাফি  

এক নজরে খারাপ

  • গ্রাফিক্স পারফরমেন্স
  • ভিডিওগ্রাফি
  • মূল্য অনুসারে ক্যামেরার ডিটেইলে ঘাটতি
  • সাউন্ডের ভলিউমে বেশ ঘাটতি

শাওমি ওয়াই-আই ফোরকে : মান ও বাজেটে ‘মাঝারি’ অ্যাকশন ক্যামেরা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শাওমি ক্যামেরা বানায় এমন তথ্য সাধারণের সবার খুব বেশি জানা নেই। সবাই মূলত এ ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন নিয়েই মাতামাতি করে বেশি। এরই মাঝে অন্যান্য ডিভাইসও বানাচ্ছে চীনা অ্যাপল খ্যাত কোম্পানিটি।

এরই অংশ হিসেবে অ্যাকশন ক্যামেরা গো-প্রো’র প্রথম সফল স্বল্পমূল্যের প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি করে শাওমির ওয়াই-আই টেকনোলজিস বেশ সাড়া ফেলেছে। সেই ক্যামেরাটির নতুন সংস্করণ ওয়াই-আই ফোরকে বাজারে এসেছে বেশ কিছুদিন আগে।

সর্বশেষ আপডেটের পর সেটি গো-প্রো’র তুলনায় কতটুকু সুবিধা করতে পেরেছে সেটাই এখন দেখার বিষয়। নতুন এ অ্যাকশন ক্যামেরার ফিচারগুলোর পাশাপাশি ভালো মন্দের বিচার বিশ্লেষণ থাকছে এ রিভিউতে।

এক নজরে শাওমি ওয়াই-আই ফোরকে

  • ১৫৫ ডিগ্রি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স
  • ১২ মেগাপিক্সেল সনি আইএমএক্স ৩৭৭ সেন্সর
  • ফোর-কে ৩০ এফপিএস, ১০৮০পি ১২০ এফপিএস ও ৭২০পি ২৪০ এফপিএস পর্যন্ত ভিডিও করার সুবিধা
  • ব্লুটুথ ও ডুয়াল-ব্যান্ড ওয়াই-ফাই সুবিধা
  • ২.২ ইঞ্চি টাচ স্ক্রিন ডিসপ্লে
  • মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • সরাসরি ক্যামেরায় চিত্র ও ভিডিও ধারণের সুবিধা ছাড়াও ফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের সুবিধা

4k-Yi-Action-Camera-Menu-techshohor

ডিজাইন
ক্ষুদ্রাকৃতির এ ক্যামেরার ডিজাইন বেশ সাধারণ। সামনে একটু পাশে রয়েছে এর লেন্স, ওপরে শাটার বাটন, পেছনের পুরোটা জুড়ে টাচ স্ক্রিন। ডান পাশে রয়েছে চার্জিং পোর্ট ও মাইক্রো এসডি স্লট ও নিচে স্ক্রু মাউন্ট ও ব্যাটারি ডোর।

বেশ শক্তপোক্ত প্লাস্টিকে তৈরি ম্যাট ব্ল্যাক ক্যামেরাটি হাতে নিলেই বোঝা যাবে এটি টুকটাক আঘাতও অনায়াসে সহ্য করে নিতে পারবে, এটি বলে দিতে হবে না।

ক্যামেরার বাটনটি কিছুটা অদ্ভুত স্থানে দেওয়ার ফলে ছবি তুলতে একটু অন্যরকম লাগবে। তবে সেটা অভ্যাসের ব্যাপার। ডিজাইনের মূল সমস্যা বলা যেতে পারে, ক্যামেরাটি পানি-নিরোধক নয়।

তাই পানির নিচে বা ভেজা অবস্থায় ব্যবহারের জন্য ওয়াটার প্রুফ কেস কেনা বাধ্যতামূলক।

Xiaomi-Yi-4K-Action-Camera-2-Harga-24-Jutaan

ব্যবহার
ক্যামেরাটির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যেতে পারে গো-প্রো হিরো৪। অ্যাকশন ক্যামেরার মূল আকর্ষণ বলতে যা বোঝায় সেটির  প্রায় সবকিছুই ওয়াই-আই ৪কে ক্যামেরাটিতে করা যাবে। তবে দামের দিক থেকে গো-প্রো’র চাইতে এটি অনেক কম।

চলার পথে ভিডিও ধারণ, দ্রুত ঘটে যাওয়া ঘটনার স্লো-মোশন ভিডিও করাসহ সাধারণ ক্যামেরা যেখানে অচল – যেমন হেলমেট মাথায় থাকলে বা সাঁতার কাটার সময় – সেসব স্থানে ভিডিও করার জন্য ক্যামেরাটি অদ্বিতীয়।

টাচ স্ক্রিনের মাধ্যমে সহজেই ক্যামেরাটির প্রায় সব ফিচার ব্যবহার করা গেলেও ফোনের অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত না করে আসলে এটির সম্পূর্ণ মজা পাওয়া যাবে  না।

ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথের মাধ্যমে ফোনের সঙ্গে একবার পেয়ারিং করার পর ফোন থেকেই সবটুকু নিয়ন্ত্রণ করে নেওয়া যাবে। তখন ক্যামেরাটি মনোপড, হেলমেট মাউন্ট, ইত্যাদির সঙ্গে জুড়ে অনেক ভিন্ন অবস্থানের ভিডিও ও চিত্র ধারণ করা সম্ভব হবে।

পারফরমেন্স
ক্যামেরার মূল পরিচয় নির্ভর করে ছবি ও ভিডিওর মানের উপর।  সেদিক থেকে ওয়াই-আই ৪কে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। স্ট্যাবিলাইজেশন থাকার ফলে প্রতিটি ফুটেজেই কাঁপুনি নেই বললেই চলে। অ্যাকশন ক্যামেরার জন্য যা খুবই গুরত্বপূর্ণ।

গো-প্রো হিরো৪-এর তূলনায় এ ক্যামেরায় ধারণ করা সব ফুটেজের ডিটেইলস তূলনামূলক কম। কন্ট্রাস্টের ঘাটতিও কিছুটা বেশি। তবে তূলনামূলকভাবে অন্ধকারেও কম নয়েজ পাওয়া গিয়েছে।

মূলত ভিডিওর জন্য তৈরি ক্যামেরাটি স্থিরচিত্র ধারণেও বেশ এগিয়ে রয়েছে। যারা সেলফি তুলতে ভালবাসেন তাদের কাছে ক্যামেরাটি ব্যবহারের পর বেশিরভাগ ফোনের ক্যামেরাই অপ্রতুল মনে হবে। শুধু সেলফি তোলার জন্য ক্যামেরাটি কেনার কোনোও মানে নেই।

এদিক থেকেও গো-প্রো’র পরিবর্তনযোগ্য ভিউইং অ্যাঙ্গেল আরও ভালো কাজ করে।

ফোরকে ছাড়াও ১০৮০পি ৬০এফপিএস ভিডিও মোডটি অ্যাকশন ভিডিও ধারণের জন্য বেশ কাজের। ২৪ এফপিএস মোড না থাকায় সিনেম্যাটিক ফুটেজ পাওয়া কিছুটা দুষ্কর।অবশ্য স্লো-মোশন মোডগুলো বেশ কাজের।

তবে গো-প্রো’র মতো ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল মোড বদলের সুযোগ না থাকায় সাবজেক্টের ওপর ফোকাস আনা বেশ কষ্টকর।

এসব শুনে মনে হবার কোনও কারণ নেই যে, ক্যামেরাটি খারাপ। গো প্রো হিরো৪ যেখানে ৪০ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হয়ে থাকে, সেখানে এটির ৭০ শতাংশ পারফরমেন্সের ক্যামেরা ২৪ হাজার টাকায় খুবই ভালো।

yi4k_vs_hero4black_first_impressions

ব্যাটারি লাইফ
গো-প্রো হিরো৪ এক চার্জে টানা ৩৮ মিনিট ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। সেখানে ওয়াই-আই ফোরকে সহজেই ৪৮ মিনিট ভিডিও ধারণ করতে পারে। এদিক থেকে ক্যামেরাটি বেশ এগিয়ে রয়েছে।

এর বিপরীতে গো-প্রো’র মতো এটির ব্যাটারি সহজে পাওয়া না যাওয়ায় দুটি-তিনটি ব্যাটারি অতিরিক্ত রাখলে চার্জ নিয়ে সমস্যাই পড়তে হবে না। কেননা এটিতে আলাদা চার্জ করার সুবিধাটি ঠিক নেই।

অ্যাপ
অ্যাকশন ক্যামেরার মূল বলা যেতে পারে এর অ্যাপ। এ দিক থেকে অনান্য চীনা প্রস্তুতকারদের চেয়ে ওয়াই-আই বেশ এগিয়ে রয়েছে।

ক্যামেরাটিতে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই থাকায় পেয়ারিং করতে কোনও দেরি হবে না। ভিডিও ধারণ করার পর সেটি ফোনে নিতেও খুবই কম সময় লাগবে।

অ্যাপটিতে যদিও এডিটিং বা শেয়ারিংয়ের সুবিধা গো-প্রো’র চাইতে বেশ কম। ফলে সেদিক থেকে কিছুটা মার্কস কাটা যাবেই।

পরিশেষ
সবদিক বিবেচনায় নিয়ে বলা যেতে পারে, অ্যাকশন ক্যামেরার রাজা গো-প্রো’র চীনা সংস্করণ এ ক্যামেরা। তবে হ্যা, মূল্য বিচারে এটিকে বাদ দিয়ে গো-প্রো কেনার কথা কোনও ভাবেই বলা যাবে না।

4k-Yi-Action-Camera-Menu-techshohor (2)

যেখানে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় ওয়াই-আই ফোরকে কেনা যাবে, সেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ বেশি ফিচারের জন্য ৪০ হাজারের বেশি টাকা ব্যয় করার কথা বলা খুবই কষ্টকর।

মূল্য : শুধু ক্যামেরা ও মনোপড ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • ছবি ও ভিডিওর মান
  • ব্যাটারি লাইফ
  • গো-প্রো’র সব অ্যাকসেসরিজ ব্যবহারের সুবিধা

এক নজরে খারাপ

  • অ্যাপের আরও উন্নতি প্রয়োজন
  • পানি-নিরোধক নয়
  • বেশ কিছু ভিডিও মোড নেই

এ রিভিউ তৈরি করেছেন টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর এস. এম. তাহমিদ

নকিয়া ৬ : বিল্ড কোয়ালিটি হার মেনেছে পারফরমেন্সের হতাশায়

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : একসময় নকিয়া ছাড়া আর কোনও ব্র্যান্ডের ফোন কেনার কথা কেউ তেমন চিন্তা করতো না। মূলত মজবুত, টেকসই ও প্রচুর ফিচারসমৃদ্ধ ফোন বাজারে এনে ফিনল্যান্ডের কোম্পানিটি সবার মন জয় করেছিল। তবে কালের আবর্তে, বেশ কিছু বাজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে ব্র্যান্ডটি কদর হারাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি মোবাইল ফোন কার্যক্রম থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয় ।

তবে কিছুদিন আগে নকিয়ার কিছু পুরাতন কর্মী নতুন করে এ ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বাজারে আনেন। নতুন ফোনটি নিয়ে হৈচৈও পরে যায়। এখন দেখে নেওয়া যাক এ ব্র্যান্ডের প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ ফোন নোকিয়া ৬-এর খুঁটিনাটি, যা ফ্যানদের আশাবাদী নাকি আশাহত করেছে।

একনজরে নকিয়া ৬

  • ৫.৫ ইঞ্চি, ১৯২০x১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশন আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • ডুয়াল সিম
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪৩০, ১.৪ গিগাহার্জ গতির কর্টেক্স এ৫৩ অক্টাকোর প্রসেসর
  • অ্যাড্রিনো ৫০৫ জিপিউ
  • ৩ বা ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১ নুগ্যাট অপারেটিং সিস্টেম
  • ১৬ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপার্চার ব্যাক ক্যামেরা, ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস ও ডুয়াল-টোন ফ্ল্যাশ
  • ৮ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপার্চার সেলফি ক্যামেরা
  • ১০৮০পি, ৩০এফপিএস ভিডিও ধারণক্ষমতা
  • ৩২ বা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, রেডিও, এনএফসি
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক
  • সামনে অবস্থিত ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৩০০০ মিলি অ্যাম্পায়ার ধারণক্ষমতার ব্যাটারি।

xxSp7j9GjvP4jK4xNR728b-1200-80

ডিজাইন
সাধারণত নকিয়ার সব ফোনের ডিজাইন কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী হলেও এক্ষেত্রে আর দশটি অ্যান্ড্রয়েডের থেকে নকিয়া ৬-এর ডিজাইনে তেমন পার্থক্য নেই। এটি তৈরিতে পুরোটাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বরাবরের মতই অন্য নকিয়ার মতো এতেও রয়েছে বেশ শক্তপোক্ত বডি।

ডিসপ্লের নিচে রয়েছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর, যার দুপাশে ক্যাপাসিটিভ কি ও স্ক্রিনের ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস ও ডানে সেলফি ক্যামেরা এবং পাশে ব্র্যান্ডের লোগো।

o5m2vSYBT8tYbG9UVM6LBa-650-80

পেছনে ম্যাট ফিনিস দেওয়া হয়েছে। এতে আঙ্গুলের ছাপ বা অন্যান্য ময়লার দাগ তেমন চোখে পড়বে না। ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ ছাড়া পেছনে আর তেমন কিছু নেই।

ফোনটি তেমন পাতলা না হওয়ায় ক্যামেরা বাম্প থাকাটা বেশ অস্বাভাবিক। ক্যামেরা বাম্পের ডিজাইনে বেশ কিছুটা মটো জি৪-এর ক্যামেরার মিল রয়েছে।

এ ছাড়া ডান পাশে রয়েছে ভলিউম ও পাওয়ার বাটন, সিম ও মেমরি কার্ড ট্রে, ওপরে হেডফোন জ্যাক ও তলদেশে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও স্পিকার গ্রিল।

44sCZ9ixuEeqCMCPSywHXa-650-80

সব মিলিয়ে, নকিয়ার কাছ থেকে সবাই যে বিল্ড কোয়ালিটি আশা করে, তার পুরোটিই রয়েছে এ মডেলে।

ডিসপ্লে
ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লের ফোনের কাতারে অবস্থান করলেও এটির ৫২২ নিট ব্রাইটনেস ও ১৩২৮:১ কন্ট্রাস্ট বাকি সব ডিসপ্লে থেকে আলাদা করেছে। যদিও ৫.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লেটিতে ১০৮০পি রেজুলেশন ব্যবহারের কারণে পিক্সেল ঘনত্ব ভিআর কন্টেন্ট দেখার জন্য যথেষ্ট নয়।

রোদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিসপ্লেটি বেশ মাঝারি মানের হলেও ব্যবহারের অযোগ্য নয়। মূল সমস্যা বলা যেতে পারে ডিসপ্লেটির হোয়াইট ব্যালেন্স।

নিউট্রাল মোড বা কুল মোডে হোয়াইট ব্যালেন্স খুবই নীলচে মনে হবে। ওয়ার্ম মোডে অবশ্য ব্যালেন্সটি প্রায় পিউর হোয়াইটের কাছাকাছি চলে আসে।

সব মিলিয়ে, ডিসপ্লেটি আর দশটি মাঝারি মানের ফোনের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও খুব বেশি নয়।

পারফরমেন্স
নকিয়া ড-এ যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি হতাশ করার মতো তা হলো প্রসেসর। স্ন্যাপড্রাগন ৪০০ সিরিজের প্রসেসর সবসময়ই মাঝারি মূল্যের মাঝে মোটামুটি নিম্ন পারফরমেন্সের প্রসেসর হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এখানেও ব্যাতিক্রম নয়।

প্রসেসরটিতে আটটি কোর থাকলেও সব কয়টি কোর-ই কর্টেক্স এ৫৩ ও ১.৪ গিগাহার্জ গতির হওয়ায় প্রসেসিং পারফরমেন্সে ফোনটি খুবই পিছিয়ে রয়েছে।

সিঙ্গেলকোর পারফরমেন্স স্বল্পগতির হওয়ায় অনেক মাঝারি মানের প্রসেসরের চেয়েও পিছিয়ে গিয়েছে। আটটি কোর থাকার কারণে যদিও মাল্টিকোর পারফরমেন্সে ফোনটি কিছুটা ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে দেবে।

গ্রাফিক্সের দিক থেকে অ্যাড্রিনো ৫০৫ জিপিউটি বেশ নিম্নমানের। থ্রিডি-মার্ক অনুযায়ী জিপিউটি মাঝারি পারফরমেন্সের বেশ কিছুটা নিচের দিকে পরেছে। ফলে সকল গেমই ৩০ এফপিএসের উপর খেলার তেমন আশা নেই।

বেশ কিছু গেইম যেগুলোর গ্রাফিক্স কোয়ালিটি বদল করা সম্ভব, সেগুলো হাই গ্রাফিক্সে দেওয়ার পর ২০ এফপিএসের নিচে ফ্রেম-রেট পাওয়া গিয়েছে। এ কারণে বলা যেতে পারে, খুব দ্রুত ফোনটিতে আর এইচডি গেইম ভাল মতো খেলা যাবে না।

র‌্যামের স্বল্পতা না থাকায় মাল্টি-টাস্কিং ও টাস্ক সুইচিং নিয়ে তেমন সমস্যা নেই। তবে প্রোগ্রাম লোড হওয়ার সময় সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সের ঘাটতি বেশ ভালভাবে টের পাওয়া যাবে। তার মানে এ নয়, ফোনটি স্লো- কিন্তু মূল্য অনুযায়ী যথেষ্ট দ্রুতগামী নয়।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, দৈনন্দিন স্মার্টফোন ব্যবহারে নকিয়া ৬ যথেষ্ট এগিয়ে থাকলেও গেমিং ও ভারি অ্যাপ্লিকেশন চালানাের মতো কাজে এটি বেশ পিছিয়ে। বিশেষত মূল্য অনুযায়ী পারফরমেন্স বেশ হতাশাজনক।

Nokia-6-camera-sample-4

ক্যামেরা
নোকিয়া ৬ এর পেছনে রয়েছে f/2.0 অ্যাপার্চার লেন্স সমৃদ্ধ ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর, যা কাগজে কলমে বেশ ভাল ছবি তুলতে সক্ষম হলেও বাস্তবে ক্যামেরাটি বেশ আশাহত করেছে।

ক্যামেরা অ্যাপ্লিকেশনটি সম্পূর্ণ নকিয়ার নিজস্ব ডিজাইনের। অনেকের কাছেই এটি প্রয়োজনের তূলনায় অতিরিক্ত সাধাসিধে মনে হতে পারে। হাতে গোনা কয়েকটি সেটিং ছাড়া তেমন কিছুই সহজে বদলে নেওয়ার উপায় নেই।

সেটিংসের ভেতরে একটু ঘাটলে অ্যাডভান্সড মোড পাওয়া গেলেও ম্যানুয়াল মোডের অভাব রয়েই গেছে। ম্যাক্রো, ইনফিনিট ও অটো ফোকাস ছাড়া ফোকাসিংয়ের আর কোনও অপশন নেই। নেই আইএসও ও এক্সপোজার সেট করে দেওয়ার সুবিধাও।

এসব বিপরীতে গাইডলাইন, এক্সপোজার ভ্যালু সেট করার সুবিধা কিছুটা কাজের বলা যেতে পারে।

রেজুলেশনের ঘাটতি না থাকার ফলে ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিগুলোতে ডিটেইলের পরিমান বেশ ভাল। এইচডিআর মোডে ছবি তুললে সেগুলোতে ডাইনামিক রেঞ্জে তেমন পার্থক্য না হয়ে উল্টো ডিটেইল কিছুটা কমে যায়। তাই এ মোড ব্যবহার না করাই শ্রেয়।

ক্যামেরাটির মূল সমস্যা বলা যেতে পারে কালার ব্যালেন্স – প্রায় প্রতিটি রঙই ছবিতে বেশ অনুজ্জ্বল ও কন্ট্রাস্টের বেশ ঘাটতি রয়েছে। ফলে ছবি তোলার পর সেগুলোকে এডিট করা ছাড়া গতি নেই।

সেলফি ক্যামেরার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা বিরাজমান। অবশ্য ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার শটগুলো সেলফি হিসেবে যথেষ্ট ভালো।

ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ক্যামেরাটি সর্বোচ্চ ১০৮০পি রেজুলেশনে ৩০ এফপিএস ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। ৭২০পিতে ৬০ এফপিএস ও ৪৮০পিতে ৯০ এফপিএস পর্যন্ত ভিডিও করা যাবে।

ক্যামেরার স্থিরচিত্রের তূলনায় ভিডিওতে বেশ ভাল ডিটেইল ও ডাইনামিক রেঞ্জ পাওয়া গেছে। বলা যেতে পারে স্থির চিত্রধারণের চেয়ে ভিডিও ধারণে বেশে উপযোগী ফোনটি।

সাউন্ড কোয়ালিটি
মাঝারি রেঞ্জের হওয়ার পরও ফোনটি সাউন্ড কোয়ালিটির দিক থেকে বেশ এগিয়ে রয়েছে। স্টেরিও স্পিকারের কল্যাণে ভিডিও দেখা বা স্পিকারে গান শোনার মতো কাজও এর মাধ্যমে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।

অন্যদিকে হেডফোনে একমাত্র অল্পবিস্তর ভলিউমের অভাব ছাড়া আর কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি। স্টেরিও ক্রসটক বা সিগন্যাল টো নয়েজ রেশিও অন্যসব মাঝারি মূল্যের ফোনের চেয়ে বহুগুনে এগিয়ে রয়েছে।

যারা মিউজিক একটু কম ভলিউমে শুনতে পছন্দ করেন, তারা ফোনটি কিনে ফেলতে পারেন।

ব্যাটারি লাইফ
আজকাল তিন হাজার মিলি অ্যাম্পায়ার ধারণক্ষমতার ব্যাটারি ৫.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের ফোনে কিছুটা কম মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। ব্যাটারি লাইফ পরীক্ষায় সেটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

কিছুটা কম শক্তিশালী প্রসেসর ব্যবহার করায় ফোনটি ৭-৮ ঘন্টা পর্যন্ত স্ক্রিন অন টাইম দিতে সক্ষম, যা সর্বাধিক শক্তিশালী অ্যান্ড্রয়েড ফোনের তূলনায় খুব একটা বেশি নয়।

স্ট্যান্ডবাই টাইমে অবশ্য নকিয়া ব্র্যান্ডের মর্যাদা ধরে রেখেছে। হালকা ব্যবহারে দু’দিন নিশ্চিন্তে চালানো যাবে।

vLoGnpL6vx8nEnCCCiqzaa-650-80

পরিশিষ্ট
বিল্ড কোয়ালিটি, ব্র্যান্ড নিশ্চয়তা ও দ্রুত অপারেটিং সিস্টেম আপডেট থাকার পরও ক্যামেরার কোয়ালিটিতে কিছুটা ঘাটতি ও পারফরমেন্সে অনেক ঘাটতি থাকায় দাম অনুযায়ী এটি কেনা কতটা যৌক্তিক তা একটু তুলনা করলেই নতুন ক্রেতাদের কাছেও পরিস্কার হবে।

তবে যারা নকিয়ার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য আজ অবধি অপেক্ষা করে আছেন, তারা শখ পূরণের জন্য এতক্ষণ হয়ত বসেও নেই।

মূল্য : দেশে গ্রে-মার্কেটে ওয়ারেন্টি ছাড়া ফোনটি ২৫,০০০ থেকে ২৭,০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

একনজরে ভালো

  • অসাধারণ বিল্ড কোয়ালিটি
  • সর্বশেষ অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ
  • উন্নতমানের সাউন্ড

একনজরে খারাপ

  • পারফরমেন্সে অনেক ঘাটতি
  • ক্যামেরার মানে শংশয়
  • অতিরিক্ত মূল্য

হেলিও এস২৫ : ডিসপ্লেতে মুগ্ধ, পারফরমেন্সে হতাশ

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যালুমিনিয়াম বডি, ডুয়াল ক্যামেরা, ৪ গিগাবাইট র‌্যাম – এমন স্পেসিফিকেশন নিয়ে হেলিও সিরিজের সর্বশেষ ফোন হেলিও এস২৫। বাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে নতুন নতুন চেষ্টার কমতি নেই দেশি কােম্পানিটির। এরই ধারাবাহিকতায় বলার মতো দারুণ সব ফিচারের নতুন সংস্করণ নিয়ে হাজির হয়েছে এবার।

ফিচার লিস্ট অনুযায়ী দুর্দান্ত ফোনটি কি আসলেই ২১ হাজার ৯৯০ টাকা মূল্যে বিক্রয়যোগ্য? চলুন দেখা যাক।

এক নজরে হেলিও এস২৫

  • ৫.৫ ইঞ্চি, ১৯২০x১০৮০ পিক্সেলে রেজুলেশনের ইন-সেল এলসিডি ডিসপ্লে
  • মিডিয়াটেক হেলিও পি১০ অক্টাকোর প্রসেসর, যাতে রয়েছে আটটি ১.৯৫ গিগাহার্জ কর্টেক্স এ৫৩ কোর
  • ডুয়াল সিম
  • চার গিগাবাইট র‌্যাম
  • মালি টি৮৬০এমপি২ জিপিউ
  • ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড মার্শম্যালো ৬.০ এর ওপর তৈরি অ্যামিগো ইউআই অপারেটিং সিস্টেম
  • ১২ মেগাপিক্সেল f/2.0 + ৫ মেগাপিক্সেল f/2.2 ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরা, f/1.0 থেকে f/4.5 ভার্চুয়াল অ্যাপার্চার, ১৩ মেগাপিক্সেল f/2.0 অ্যাপার্চার সেলফি ক্যামেরা
  • ১০৮০পি, ৩০এফপিএস ভিডিও রেকর্ডিং
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, এফএম রেডিও
  • ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর (সামনে অবস্থিত)
  • ৩০০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি

DSC00629

ডিজাইন
হেলিও এস২৫ ফোনটির গড়ন দেখে প্রথমেই আইফোন ৬ বা ৬এস এর কথা মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। ধাতব বডি, কোণাগুলো কিছুটা চক্রাকার, পেছনের অ্যান্টেনা ব্যান্ড ও স্ক্রিনের নিচে অবস্থিত হোম বাটন – সবকিছুতেই আইফোনের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ডিজাইনে মিল থাকাটা একপ্রকার ভাল লক্ষণ বলা যেতে পারে। ফোনটির অ্যালুমিনিয়াম বডিতে বেশ দৃষ্টিনন্দন কালো ফিনিস দেওয়া হয়েছে।

সামনের গরিলা গ্লাস ৪ প্যানেলের প্রায় সবটুকু জুড়েই রয়েছে। ৫.৫ ইঞ্চি ফুলএইচডি ডিসপ্লের ঠিক ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস। এটির ডানপাশে সেলফি ক্যামেরা ও বামে রয়েছে প্রক্সিমিটি সেন্সর।

স্ক্রিনের ঠিক নিচে রয়েছে হোম বাটন, যার মাঝে অবস্থান করছে ফোনটির ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর। বাটনটি কিছুটা ডাবানো হবার ফলে হঠাৎই বুঝার উপায় নেই যে এটি টাচ বাটন নয়, বরং সত্যিকারের ফিজিকাল বাটন।

শুধু তাই নয়, ফিংগারপ্রিন্ট রিডারটিতে জেসচার থাকার ফলে এটি টাচ বাটন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। হোম বাটনের দুপাশে রয়েছে ক্যাপাসিটিভ ব্যাক ও মাল্টিটাস্কিং বাটন।

DSC00640

ভলিউম বাটন ও পাওয়ার কি, দুটোই অবস্থান করছে ফোনটির ডান পাশে। সিম ও মেমরিকার্ড ট্রে রয়েছে বামে। ওপরে হেডফোন জ্যাক ও তলদেশে স্পিকার, মাইক্রোফোন ও মাইক্রোইউএসবি চার্জিং পোর্ট, যা ওটিজি ডিভাইস সমর্থন করে।

DSC00639

পেছনের মূল আকর্ষণ বলা যেতে পারে ফোনটির ডুয়াল ক্যামেরা – যা পেছনের উপরের অংশের ঠিক মাঝ বরাবর অবস্থিত রয়েছে। এর ঠিক ডান পাশে রয়েছে ফ্ল্যাশ, ঠিক নিচে রয়েছে হেলিও লোগো ও নিচের অংশে প্রায় অদৃশ্যভাবে হেলিও লেখা রয়েছে।

DSC00638

ফোনটির বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে কোনও বড়মাপের খুত নেই। কোনও স্থানে ধরে মনে হবেনা এটি বাঁকিয়ে যেতে পারে, বা একটুতেই স্ক্র্যাচ পরারও সম্ভাবনা নেই। শুধুমা্ত্র কিছুটা অদ্ভুত হোম বাটন ও ফিংগারপ্রিন্ট রিডার ছাড়া ডিজাইন নিয়ে তেমন কিছু সমস্যা নেই।

ডিসপ্লে

ইন-সেল এলসিডি ডিসপ্লের নাম তেমন শোনা না গেলেও কাজের ক্ষেত্রে এটি হেলাফেলার বিষয় নয়, সেটি এ ফোন একবার হাতে নিলেই বোঝা যাবে। কন্ট্রাস্ট, কালার ডেপথ ও ভিউইং অ্যাঙ্গেল  – প্রায় সবদিক থেকেই ডিসপ্লেটি বেশ এগিয়ে রয়েছে।

ভিডিও দেখা বা ওয়েব ব্রাউজিং, ডিসপ্লের দিক থেকে সবকিছুতেই সমান পারদর্শী হেলিও এস২৫।

IMG_20170405_222617

১০৮০পি ডিসপ্লের মূল সমস্যা ফোনটির ক্ষেত্রেও রয়ে গেছে। পিক্সেল ঘনত্ব কম হবার ফলে ভিআর কনটেন্ট দেখে তেমন মজা পাওয়া যাবে না। তবে ভি আর নিয়ে তেমন মাথা ঘামানোর প্রয়োজনও নেই।

কালার ব্যালেন্স নিয়ে অনেক ফোনেই বেশ সমস্যা দেখা যায়। এ ফোনটিও তার ব্যতিক্রম নয়। কোনও রঙ মাত্রাতিরিক্ত মনে হবে না ও হোয়াইট ব্যালেন্সের দিক থেকেও কোনও সমস্যা দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে, যাদের ফোনের ডিসপ্লের খুঁত সহজেই চোখে পরে তাদের কাছেও এটির ডিসপ্লে খুবই ভালো লাগবে।

পারফরমেন্স
অক্টাকোর প্রসেসর, চার গিগাবাইট র‌্যাম, ৬৪ গিগাবাইট রম- এমন স্পেসিফিকেশনের ফোনের পারফরমেন্স খুবই ভালো হবে এমনটাই আশা করা যায়। তবে সেদিক থেকে এস২৫ ফোনটি বেশ হতাশ করেছে।

মিডিয়াটেক ৬৫৭৭ বা হেলিও পি১০ প্রসেসরটিতে রয়েছে ১.৯৫ গিগাহার্জ গতির আটটি কর্টেক্স এ৫৩ কোর। কর্টেক্স এ৫৩ কোরগুলো মূলত স্বল্পশক্তির হবার ফলে সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সে ফোনটি খুবই পিছিয়ে রয়েছে।

গিকবেঞ্চ অনুসারে ২০১৩-১৪ সালের প্রসেসরগুলোও পি১০-এর চাইতে সেদিক থেকে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

Screenshot_20170405-215500

তবে আট কোর হওয়ায় মাল্টি-টাস্কিংয়ে ফোনটি তেমন হতাশ করেনি। গিকবেঞ্চে অনুযায়ী, অন্যান্য অক্টাকোর প্রসেসরের চেয়ে এটি তেমন পিছিয়ে নেই।

চার গিগাবাইট র‌্যাম থাকার ফলে মাল্টি-টাস্কিং নিয়েও সমস্যা দেখা যায়নি। বেশিরভাগ সময়ই দুই গিগাবাইট র‌্যাম খালি পাওয়া গিয়েছে।

Screenshot_20170405-215508

এর পরও ফোনটির পারফরমেন্সের ব্যাপারে বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন রয়ে গেছে। কেননা এতে ব্যবহৃত জিপিউটির মান একেবারেই আশানুরূপ নয়।

থ্রিডি-মার্ক ও আনটুটু বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী, মালি টি৮৬০এমপি২ জিপিউটি হাই-ডেফিনিশন গেম চালাতে পারদর্শী নয়।

বেঞ্চমার্কই সব কথার শেষ কথা নয়। তাই বেশ কিছু গেইম, যেমন ব্রেক-নেক বা অ্যাসফল্ট এক্সট্রিম খেলেও বেশ ভাল পরিমান ল্যাগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, অ্যাপ সুইচ করা বা ডুয়াল উইন্ডোতে অ্যাপ চালানোর সময়ও কিছু ল্যাগ পাওয়া গেছে। দুর্বল জিপিউর কারণেই এমনটি হয়েছে।

Screenshot_20170405-215535

স্টোরেজের গতি ও সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্স খারাপ হওয়ার কারণে ফোনটিতে অ্যাপ ইনস্টল, লঞ্চিং দুটো ক্ষেত্রেই বেশ ভাল সময় লেগে যায়। এমন দাম ও স্পেসিফিকেশনের ফোনের কাছ থেকে এটি আশা করা যায় না।

Screenshot_20170405-215556

সব মিলিয়ে, সিম্ফোনি হেলিও এস২৫ ফোনটির পারফরমেন্সে বেশ ভালো ঘাটতি রয়েছে। কেনার আগে এ বিষয়গুলো যে কোনো ক্রেতাই বিবেচনা করতে ভুল করবে না।

IMG_20170405_181659

ক্যামেরা
ফটোগ্রাফিনির্ভর ফোনটিতে তিনটি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। পেছনে মূল ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের সনি আইএমএক্স সেন্সর, সঙ্গে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেল স্যামসাং সেন্সর। সামনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের ক্যামেরা।

ডুয়াল ক্যামেরা সেন্সর থাকায় ক্যামেরাটিতে একটি বিশেষ মোড রয়েছে – যার নাম দেয়া হয়েছে বোকেহ মোড। এ ছাড়া ডুয়াল ক্যামেরা হার্ডওয়্যারের তেমন কোনও ব্যবহার নেই। অতএব, বোকেহ মোড ছাড়া বাকি সব মোডে শুধু ১৩ মেগাপিক্সেল সেন্সরটিই ব্যবহার হয়ে থাকে।

ক্যামেরা অ্যাপ খোলার সাথেই চোখে পড়বে বেশ কিছু মোড। তবে বাম দিকে নিচের কোণায় অবস্থিত বাটনে চাপ দিয়ে আরও বেশ কিছু মোডেও ছবি তোলা যাবে। এগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য ব্যাতিক্রমি কিছু মোড বলা যেতে পারে- জিআইএফ ক্যামেরা, স্লো-মোশন, টেক এনিটাইম, প্রফেশনাল মোড ও এর আগে লেখা বোকেহ মোড।

সাধারণ ফটো মোডে ছবি তোলার সময় প্রথমেই খটকা লাগবে এর ফোকাসিং স্পিড। ডুয়াল ক্যামেরার একটি ফোনের কাছ থেকে এর চাইতে দ্রুত ও নির্ভুল ফোকাসিং থাকা উচিত ছিল। বিশেষত ম্যাক্রো ফোকাসিংয়ের ক্ষেত্রে ক্যামেরাটি আশাহত করেছে।

IMG_20170405_181644

অটো মোডে তোলা ছবিগুলোর ডিটেইলের মাত্রায় বেশ ঘাটতি রয়েছে। মূলত বলা যেতে পারে খুব ভারি নয়েজ রিডাকশন করার ফলে ছবিতে ডিটেইলের পরিমান বেশ কমে গেছে, যা এরূপ রেজুলেশনের থেকে আশা করা যায় না।

ডাইনামিক রেঞ্জ ও হাইলাইট-মিডটোন ও শ্যাডোর মাঝে কন্ট্রাস্টেও বেশ ঘাটতি দেখা গেছে। খুব ভাল পরিমান আলোতে ছবি না তোলা হলে ছবিতে নয়েজের পরিমান বেশ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে ডিটেইলের ঘাটতি চরম আকার ধারণ করে। বলা যেতে পারে কম আলোতে ছবি না তোলাই ভাল।

তবে ছবি তোলার ক্ষেত্রে অন্তত নয়েজ কম রাখার জন্য প্রফেশনাল মোডটি ব্যবহার করা যেতে পারে – যার মাধ্যমে ফোকাসিং, আইএসও ও শাটার স্পিড নিজ থেকে নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে কিছুটা ভাল ছবি তোলা সম্ভব। এরপরও অবশ্য ডিটেইলের ঘাটতি রয়েই যাবে- সে ব্যাপারে কিছু করার নেই।

IMG_20170405_181552

টেক এনিটাইম মোডে ক্যামেরাটি শাটার চাপার আগে থেকেই ছবি ধারণ করতে শুরু করে। ফলে দ্রুত ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার চিত্রও ধারণ করা সম্ভব। জিআইএফ ক্যামেরার মাধ্যমে অ্যানিমেটেড ছবি বা জিআইএফ ফরম্যাটে ঘটনা রেকর্ড করা যাবে।

সেলফি ক্যামেরাতে ধারণ করা ছবিগুলোতেও বেশ ভাল পরিমান নয়েজ রিডাকশন ও বিউটিফাই ইফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে চেহারার ডিটেইল ও ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ ডিটেইলবিহীন মনে হতে পারে, যা ১৩ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

ভিডিওর ক্ষেত্রেও প্রায় একই কথা বলা যেতে পারে, তবে ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশন থাকার ফলে অযথা কাপুঁনি দেখা যাবে না। তবে ডিটেইলে প্রচুর ঘাটতি, ডাইনামিক রেঞ্জের অভাব ভিডিওগুলোর প্রানশক্তিই কেড়ে নিয়েছে অনেকটাই।

সব মিলিয়ে, হেলিও এস২৫ দাম অনুসারে ক্যামেরা পারফরমেন্সে আহামরি কিছু দেখাতে পারেনি।

সাউন্ড কোয়ালিটি
ভলিউম বা ইকুইলাইজার – দুটি দিক থেকেই ফোনটি বেশ এগিয়ে রয়েছে। বাধ সেধেছে স্টেরিও ডিস্টরশন, নয়েজ ও স্যাম্পলিং রেট।

হঠাৎ করেই এদিকগুলো চোখে না পরলেও, ভাল মানের একটি প্লেয়ারে একই গান শোনার পর ফোনটির ব্যার্থতাগুলো প্রকট হয়ে উঠবে।

DSC00636 (2)

তবে যারা সাউন্ডের মান নিয়ে তেমন মাথা ঘামান না, শুধু উচ্চ ভলিউম ও বেস হলেই চলবে তাদের জন্য ফোনটি যথেষ্ট।

সফটওয়্যার
ফোনটিতে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০-এর কাস্টমাইজ করা সংস্করণের ভাল ও খারাপ উভয়ই বিরাজমান। প্রথমত, ডুয়াল উইন্ডো থাকার ফলে একসঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানো যেতে পারে – নিঃসন্দেহে বেশ কাজের।

টাস্ক সুইচারটিতে আইওএস লুক দেয়া হয়েছে, সেটিংসএ ও আনা হয়েছে বেশ ভিন্নতা। স্ক্রিনশট নেওয়ার সময় অটো স্ক্রোল বা কিছুটা যায়গা শট নেবার সুবিধাটিও তারিফ করার মতো।

তবে নিচ থেকে ওপরে সোয়াইপ করে নোটিফিকেশন টগল আনার ব্যবস্থা, ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরে জেসচার থাকার ফলে হোম বাটন চাপার সময় সাইডবার চলে আসা বিরক্তিকর।

সবচাইতে বিরক্তিকর বলা যেতে পারে, বেশ কিছু ফিচারের নাম উল্টোপাল্টাভাবে লেখা রয়েছে। মনে হতে পারে চাইনিজ ফার্মওয়্যার কেউ কাঁচা ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দুর্বল জিপিউর কারণে মাঝে মাঝে ল্যাগ তো রয়েছেই। ফোনের সঙ্গে দেওয়া সকল অ্যাপ্লিকেশনই ফোন অ্যাক্সেস বা এসএমএস একসেস চাওয়ার প্রবণতাও বিরক্তি তৈরি করে। মিউজিক অ্যাপ বা ভিডিও অ্যাপের কেন কল লগ পড়তে হবে- চিন্তার বিষয় বটে।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, ফোনটির অপারেটিং সিস্টেমটির আরও কিছু উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যাটারি লাইফ
ফোনটির স্ট্যান্ডবাই টাইম অসাধারণ। অব্যবহৃত অবস্থায় ব্যাটারি ড্রেইন নেই বললেই চলে। তবে ব্যবহারের সময় বেশ দ্রুতই চার্জ কমে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

চার্জিং টাইমও নেহাত কম নয়। একদিনের বেশি চার্জ থাকবে এমন আশা করা ভুল হবে।

পরিশেষ
সিম্ফোনির ফোনটিকে বলা যেতে পারে, ২০১৪ সালের ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর মতো শক্তিশালী ও ফিচারবহুল। এখনকার বিচারে এটি মিড-রেঞ্জ; কিন্তু বাধ সেধেছে এর মূল্য।

প্রায় ২২ হাজার টাকা দামের ফোনটির পারফরমেন্স একই দামের অন্যান্য ফোনের চেয়ে বেশ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এখনকার স্মার্ট ক্রেতারা এ বিষয়গুলোতে অনেক সচেতন। তারা বাজার যাচাইয়ের পাশাপাশি ফোনগুলোর রিভিউ ও টুকিটাকি তথ্য বেশ আমলে নিয়ে থাকেন।

মূল্য : সিম্ফোনির কাছ থেকে ২১ হাজার ৯৯০ টাকায় ফোনটি কেনা যাবে।

এক নজরে ভাল

  • বিল্ড ও ডিজাইন
  • ডিসপ্লে
  • কিছু ইউজার ইন্টারফেস সুবিধা

এক নজরে খারাপ

  • পারফরমেন্স
  • ক্যামেরার ডিটেইল, ডাইনামিক রেঞ্জ, ও কিছু লেন্স ডিস্টরশন
  • সাউন্ড কোয়ালিটি

হুয়াওয়ে জিআর৫ : ডিজাইনের হতাশা কাটবে ডিসপ্লে, ডুয়াল ক্যামেরায়

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডুয়াল ক্যামেরার হুয়াওয়ে পি৯ বাজারে বেশ সাড়া ফেলে দেয়ার পর থেকে মাঝারি মূল্যের ফোনেও সেটি যোগ করতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্বল্প মূল্যের সংস্করণ হলো হুয়াওয়ে জিআর৫ ২০১৭, যা কিছু দেশে অনার ৬এক্স নামে পরিচিত।

মাঝারি স্পেসিফিকেশনের এ ফোনের মূল আকর্ষণ হিসেবে হুয়াওয়ে ডুয়াল ক্যামেরাকে প্রাধান্য দিলেও, এটি কি আসলেই অসাধারণ ছবি উপহার দিতে পেরেছে? চলুন দেখা যাক।

এক নজরে হুয়াওয়ে জিআর৫ ২০১৭ (অনার ৬এক্স নামেও পরিচিত)

gr51

  • ৫.৫ ইঞ্চি, ১৯২০x১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের এলটিপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • ডুয়াল সিম, হাইব্রিড স্লট
  • হাই-সিলিকন কিরিন ৬৫৫ প্রসেসর, চারটি ২.১ গিগাহার্জ ও চারটি ১.৭ গিগাহার্জ কোর সম্বলিত অক্টাকোর সিপিউ
  • মালি টি৮৩০এমপি২ জিপিউ
  • ৩ অথবা ৪ গিগাবাইট র‌্যাম, স্টোরেজের ওপর নির্ভর করে
  • ৩২ অথবা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, হাইব্রিড মাইক্রোএসডি স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড ৬ মার্শম্যালোর ওপর তৈরি ইমোশন ইউআই অপারেটিং সিস্টেম, সামনে অ্যান্ড্রয়েড ৭ আসার কথা রয়েছে
  • ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরা। একটি ১২ মেগাপিক্সেল, অপরটি ২ মেগাপিক্সেল। ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস ও এলইডি ফ্ল্যাশ রয়েছে
  • ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ১০৮০পি, ৩০ এফপিএস ভিডিও
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, হেডফোন জ্যাক
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, এফ এম রেডিও
  • ফিংগারপ্রিন্ট স্ক্যানার
  • অপরিবর্তনযোগ্য ৩৩৪০ এমএএইচ ধারণ ক্ষমতার ব্যাটারি
  • মূল্য : ২০,৫০০-২২,০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ডিজাইন
অ্যালুমিনিয়াম চ্যাসিস ও সামনে গ্লাস প্যানেলে তৈরি ফোনটিতে বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে হুয়াওয়ে কমতি রাখেনি। হাতে নেয়ার সময় প্রথমেই নজরে আসবে এর ওজন। ১৬২ গ্রাম নেহাত হালকা নয়। তবে ওজনের কারণে এটি বেশ শক্তপোক্ত মনে হবে।

সোনালী, ধূসর ও রূপালী এ তিন রঙের মধ্যে মূলত ধূসর রঙের মডেলটি ক্রেতাদের বেশি টেনেছে।

Huawei-GR5-2017-08-1

ডিজাইনের দিক থেকে তেমন নতুনত্ব নেই, বিশেষত যারা এর আগের জিআর৫ দেখেছেন তাদের কাছে প্রায় একই ফোন মনে হবে।

কোনও ক্যাপাসিটিভ বা হোম বাটন না থাকায় এটির ফ্রন্ট প্যানেলে ডিসপ্লের ঠিক নিচে কিছুটা খালি জায়গা রয়েছে – মনে হতে পারে কিছু একটা নেই। অনার মডেলটিতে অবশ্য সেখানে লোগো থাকায় সেটি তেমন প্রকট নয়।

ডিসপ্লেতে তেমন বেজেল নেই। এর চাইতে কম বেজেল শুধু ফ্ল্যাগশিপ ফোনের কাছেই আশা করা যায়। স্ক্রিনের ঠিক ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস, ডান পাশে সেলফি ক্যামেরা ও বামে রয়েছে বেশ কিছু সেন্সর।

একমাত্র বেজেলে সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, ধূসর ফোনে দেওয়া হয়েছে কালো রঙ।

পেছনের অংশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম। নিচে ও উপরের কিছু অংশ সিগন্যাল অ্যান্টেনার জন্য প্লাস্টিক রাখা হয়েছে। পেছনে নিচের অংশে লোগো, মাঝে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর ও ঠিক তার ওপরে ডুয়াল ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ ছাড়া কিছুই নেই।

ক্যামেরা দুটি বরাবরের মতই বডি থেকে হালকা পরিমান বেরিয়ে রয়েছে। ক্যামেরা বাম্প যাদের পছন্দ নয়, তাদের কাছে যা দৃষ্টিকটু মনে হতে পারে।

এ ছাড়া ডানে রয়েছে ভলিউম কি ও পাওয়ার বাটন, বামে সিম স্লট ও মাইক্রো এসডি কার্ড ট্রে (মেমরি কার্ড ব্যবহারের জন্য ২য় সিম স্লট ছেড়ে দিতে হবে)। ওপরে রয়েছে হেডফোন জ্যাক ও নিচে স্পিকার গ্রিল, মাইক্রোফোন ও মাইক্রোইউএসবি পোর্ট।

সব মিলিয়ে, ডিজাইন ও বিল্ডে মানের দিক থেকে কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। ডিজাইনে ফোনটি আর দশটি মাঝারি মূল্যের চীনা ব্র্যান্ডের চাইতে আলাদা নয়। আশা করা যায়. পরের সংস্করণে হুয়াওয়ে ডিজাইনে কিছু চমক দেখাবে।

Huawei-GR5-2017-10-2

ডিসপ্লে
মাঝারি মূল্যের ফোনে সাধারণত আইপিএস এলসিডি প্যানেলের ডিসপ্লে ব্যবহার করেই নির্মাতারা ক্ষান্ত দিয়ে থাকেন। এলটিপিএস ডিসপ্লে ব্যবহারে হুয়াওয়ে এখানে বেশ ব্যতিক্রম।

কেননা রঙ ও ভিউ অ্যাঙ্গেলের দিক থেকে আইপিএস এলসিডির চাইতে তেমন তফাত না হলেও এলটিপিএস প্যানেল আরও ব্যাটারি সাশ্রয়ী, আরও উজ্জ্বল এবং আরও ভালো কন্ট্রাস্ট দিতে সক্ষম।

এলটিপিএস প্যানেল ব্যবহারের ফলে ফোনটি কড়া রোদেও বেশ ভালভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।  কন্ট্রাস্টের দিক থেকে এ তাসের প্রায় সব ফোনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ও কালার অ্যাকুরেসিও খুবই ভাল।

একমাত্র সমস্যা বলা যেতে পারে এলটিপিএস প্যানেলের হোয়াইট ব্যালেন্স সবসময়ই কিছুটা নীলচে থাকে, সেটি এখানেও রয়েছে। ব্রাইটনেসেরও কোনও কমতি নেই, ৫০০+ নিট ব্রাইটনেসের ডিসপ্লেটি অন্ধকারে ৫.৫ নিট পর্যন্ত নেমে যেতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে ডিসপ্লের দিক থেকে ফোনটি দুর্দান্ত – যার একমাত্র বাজে দিক বলা যেতে পারে পিক্সেল ঘনত্ব। ৪০১ পিপিআইর ফোনটি ভিআর কন্টেন্ট দেখার উপযোগী নয়। এ দামে সেটা আশা করাও ভুল।

পারফরমেন্স
হুয়াওয়ের নিজস্ব কিরিন ৬৫৫ প্রসেসরটি মূলত মাঝারি কাজের জন্য তৈরি, যা সহজেই কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬০০ সিরিজ ও মিডিয়াটেক অক্টাকোরের সঙ্গে টেক্কা দিতে সক্ষম। যদিও তা স্ন্যাপড্রাগন ৬৫0+ সিরিজের প্রসেসরের চাইতে বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

চিপটিতে চারটি হাই পারফরমেন্স ও চারটি পাওয়ার সেভিং কোর ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোয়ালকমের প্রসেসরের মতই। মিডিয়াটেকের সবগুলো একই কোর ব্যবহার থেকে ভিন্ন। আটটি সিপিউ কোর ছাড়াও একেবারে স্বল্প কাজের জন্য একটি লো পাওয়ার কোরও চিপটির মাঝে দেওয়া হয়েছে।

প্রসেসিং ক্ষমতার দিক থেকে কিরিন ৬৫৫ একমাত্র স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২-এর চাইতে পিছিয়ে রয়েছে – তাও খুব বেশি নয়। তবে যারা ফোনে ভারি কাজ করে অভ্যস্ত তাদের স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২ চালিত ফোন নেওয়াই ভালো হবে। তবে সেটি খুব বেশি ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও সবগুলো কোর ব্যবহারের ফলে কিরিন ৬৫৫ স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২কে বেশ ভালোভাবেই হারিয়ে দিয়েছে।

গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার লক্ষ্য করা গেছে – একমাত্র স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২ ছাড়া বাকি সব মাঝারি মূল্যের চিপসেটকেই হারিয়ে দিয়েছে মালি টি৮৩০এমপি২।

গেইম খেলার জন্য যারা ফোন কিনতে চাচ্ছেন তাদের আশাহত হবার কোনও প্রয়োজন নেই। এটিতে সব গেইম ভালোভাবে খেলা যাবে। তবে হাই গ্রাফিক্সে খেলার আশা ছেড়ে দিতে হবে।

Huawei-GR5-2017-12-1

র‌্যামের ঘাটতি ফোনটির কোনও সংস্করণেই নেই। ৩ গিগাবাইট র‌্যামে মাল্টিটাস্কিং খুবই স্মুথ। ৪ গিগাবাইট র‌্যামের সংস্করণে স্বাভাবিকভাবেই গতি আরও বেশি।

তবে স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২-এর চাইতে পারফরমেন্সে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও কিরিন ৬৫৫ টানা চলার সময় গরম কিছুটা কম হয়ে থাকে। বেশ কিছু অ্যাপ্লিকেশন এক সঙ্গে চালানাের ক্ষেত্রেও কিরিন ৬৫৫ বেশ এগিয়ে।

অতএব একটি অ্যাপ্লিকেশনে পারফরমেন্স জরুরি, নাকি দীর্ঘ সময় কম গরমে ফোন চালু রাখা জরুরি- সেটির উপর নির্ভর করে ব্যবহারকারীরা কোন প্রসেসর সমৃদ্ধ ফোন কিনবেন তা নির্ধারণ করা উচিৎ।

edf

ক্যামেরা
ফোনটির মূল আকর্ষন ডুয়াল ক্যামেরা। ১২ মেগাপিক্সেল মূল সেন্সরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাটি ছবির গভীরতা নির্ণয়ের কাজ করে। এটি ব্যবহার করে ক্যামেরাটি f/0.95 থেকে f/16 পর্যন্ত ভার্চুয়াল অ্যাপার্চারে ছবি তুলতে সক্ষম।

তবে মনে রাখতে হবে এটি লেন্সের অ্যাপার্চার নয়, বরং এটি ব্যবহার করে অ্যাপার্চার কমানো বা  বাড়ানোর ইফেক্ট ছবিতে যোগ করা হয়ে থাকে।

ডুয়াল ক্যামেরার এ বিশেষ মোড ছাড়া  জিআর৫ ২০১৭ ফোনটি সাধারণ মোডেও ছবি তুলতে সক্ষম। বরং বলা যেতে পারে, ওয়াইড অ্যাপার্চার মোড ছাড়া ডুয়াল ক্যামেরার তেমন কোনও ব্যবহারই আসলে ফোনটিতে নেই।

সাধারণ অটো মোডে ছবি তোলার সময় দেখা গেছে এক্সপোজার, ডাইনামিক রেঞ্জ ও নয়েজের দিক থেকে ফোনটি বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বিষয়টি ক্যামেরাকেন্দ্রিক একটি ফোনে ঠিক মেনে নেয়া যায় না। কেননা কাছাকাছি মূল্যে আরও ভাল ক্যামেরার ফোন বাজারে রয়েছে।

লো-লাইট বা এইচডিআর মোডের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে। যেখানে ডুয়াল ক্যামেরা ব্যবহারে দুটি ক্ষেত্রেই ছবিতে বেশ ভাল পরিমানে মান-উন্নয়ন করা যেত, সেখানে হুয়াওয়ে সেটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে বেশ নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছে।

একই সমস্যা ডুয়াল ক্যামেরা ব্যবহারকারী মোড ওয়াইড-অ্যাপার্চার শটেও রয়ে গিয়েছে – শুধু পার্থক্য বোকেহ যুক্ত করা বা না করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

sdr
sdr

সেলফি ক্যামেরাতেও ডাইনামিক রেঞ্জের অভাব অপরিবর্তিত রয়েছে। ৮মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের ফ্রন্ট ক্যামেরাটিতে সাবজেক্টের ডিটেইল ভালোভাবে বোঝা গেলেও, ব্যাকগ্রাউন্ড ডিটেইল ও হাইলাইটস নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, স্টিল ক্যামেরার প্রায় সকল সমস্যা ভিডিওর ক্ষেত্রে নেই। শার্পনেসের অল্প ঘাটতি আর স্টেবিলাইজেশনের অভাব ছাড়া ১০৮০পি ভিডিওগুলোর অন্য কোনও দিকে তেমন ঘাটতি দেখা যায় নি।

এমনকি, ক্যামেরা অ্যাপটি ভিডিওর ক্ষেত্রেও ম্যানুয়াল মোডে রেকর্ড করার সুবিধা দিচ্ছে – যা অনেক ফ্ল্যাগশিপেও নেই।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, ফোনটিতে ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে কোনও ঘাটতি নেই। সমস্যা মূলত সফটওয়্যারে।

আশা করা যেতে পারে ভবিষ্যতের আপডেটে সেটি শুধরে নেয়া হবে। এর আগে পর্যন্ত ফোনটির ক্যামেরার কোয়ালিটি নিয়ে বেশ হতাশ হওয়া ছাড়া গতি নেই।

সাউন্ড কোয়ালিটি
সাউন্ড কোয়ালিটির দিক থেকে এটি বেশ এগিয়ে। এ দামের অনেক ফোনের হেডফোনে কম ভলিউমে সাউন্ড দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। এক্ষেত্রে সে সমস্যাটি নেই – তবে স্টেরিও ক্রসটক ও ফ্রিকুয়েন্সি রেসপন্সের দিক থেকে কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, মাঝারি মূল্যের এ ফোন বেশ ভালো মিউজিক প্লেয়ার হতে পারে।

Huawei-GR5-2017-05-1

ব্যাটারি লাইফ
ক্যামেরার মতই ব্যাটারি লাইফেও কিছুটা মিশ্র পারফরমেন্স দেখা গেছে। মূলত স্ট্যান্ডবাই টাইমের দিক থেকে পারফরমেন্স খুবই ভালো। অন্তত ৬-৭ ঘন্টা বা আরও বেশি স্ক্রীন অন টাইম পাওয়ার আশা করা যেতেই পারে।

এর খারাপ দিকটি হচ্ছে, বিশাল সাইজের ব্যাটারিটি দ্রুত চার্জের কোনও উপায় নেই। হুয়াওয়ে কোনও প্রকারের ফাস্ট চার্জিং সুবিধা যুক্ত করেনি।

এক নজরে ভাল

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • ব্যাটারি লাইফ
  • প্রসেসিং ক্ষমতা ও মাল্টি-টাস্কিং
  • মিউজিক প্লে-ব্যাকের মান
  • ডিসপ্লে কোয়ালিটি

এক নজরে খারাপ

  • মাঝারি মানের ক্যামেরা
  • কিছুটা দুর্বল জিপিউ
  • মূল্য অনুসারে কিছুটা পানসে ডিজাইন

মূল্য: বাজারে ৩২গিগাবাইট সংস্করণটি ২১,৯০০ টাকায় ও ৬৪ গিগাবাইট সংস্করণটি ২৭,৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনানুষ্ঠানিক ভাবে দেশে আসা ফোনগুলোর মূল্য এর থেকে বেশ কিছুটা কম হতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

ই-লাইট : বাতিতে স্মার্টফোনের ছোঁয়া

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোন, স্মার্টটিভি, স্মার্টফ্রিজ, এমন কি স্মার্ট জ্যাকেটসহ আরও অনেক গ্যাজেটেই ফোন যুক্ত করে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিশমায় সব কিছুই স্মার্ট হয়ে উঠছে।

তবে কিছুদিন আগে পর্যন্তও দৈনন্দিন ইলেক্ট্রনিকস যেমন- ফ্যান বা লাইটে এ সুবিধা ছিল না। ফিলিপস তাদের হিউ লাইটগুলোর মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা করে।

বাতির রঙ, কালার টেম্পারেচার ও ব্রাইটনেস বদলের সুবিধা মূলত জীবনকে সহজ করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। সঠিক রঙ, হোয়াইট ব্যালেন্স ও ব্রাইটনেস চোখের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।

হিউ লাইটের পথ ধরেই শাওমি তাদের ই-লাইট সিরিজে বেশ কিছু ডিভাইস নিয়ে এসেছে। সেগুলোর কয়েকটি নিয়েই আজকের রিভিউ।

02

প্রতিটি ডিভাইসেরই মূলে রয়েছে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে সেগুলো ফোন থেকে নিয়ন্ত্রণের সুবিধা। ডিভাইসগুলো শাওমি ইলাইট অ্যাপের মাধ্যমে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে সংযুক্ত থাকে – ফলে ব্যবহারকারী একই ফোন থেকে প্রতিটি ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

ডিভাইসগুলোর মূল সুবিধাও কাছাকাছি। এগুলোর আলোর রঙ, ঔজ্জ্বল্য ও অন – অফ করা যাবে ফোন থেকেই। সাধারণ বাতি যেখানে একটি রঙেই সীমাবদ্ধ, সেখানে ই-লাইটগুলোর রঙ নিজের মনমতো বদলে নেয়া যাবে।

শাওমির দাবি অনুযায়ী, ১৬ মিলিয়ন কালার কম্বিনেশন পর্যন্ত করা সম্ভব। ইচ্ছে অনুযায়ী কালার ও হোয়াইট ব্যালেন্স ঠিক করে নেয়ার সুবিধা যেমন মজার, তেমনি ফটোগ্রাফি বা ভিডিওগ্রাফির ক্ষেত্রে বেশ কাজের।

১। ই-লাইট আরজিবিডব্লিউ বাল্ব

  • ৯ ওয়াট
  • ১৬ মিলিয়ন কালার
  • ১৭০০কে-৬৫০০কে হোয়াইট ব্যালেন্স
  • ৬০০ লুমেন পর্যন্ত ব্রাইটনেস
  • মূল্য : ২০০০-৩০০০ টাকা

IMG_1516JPG

ই-লাইট সিরিজের প্রথম ডিভাইসটি হচ্ছে ই-লাইট আরজিবিডব্লিউ এলইডি বাল্ব। এটির ডিজাইন পুরোপুরি আর দশটি এলইডি বাল্বের মতই। ফলে বাসার যে কোনও লাইটের হোল্ডারেই এটি ব্যবহার করা যাবে।

ফুল কালার রেঞ্জ ও ব্রাইটনেস বদল করার সুবিধা সম্বলিত বাল্বটি ওয়াল হোল্ডার ছাড়াও ল্যাম্প ও ঝাড়বাতির সঙ্গেও ভালোভাবে কাজ করবে।।

ডিজাইনের দিক থেকে ফিলিপস হিউয়ের সাথে এটির বেশ ভালো মিল রয়েছে। দেখতে কোন আকারের বাল্বটির ওপরের অংশে রয়েছে লাইট ডিফিউজার ও নীচের অংশটি অ্যালুমিনিয়ামের ওপর প্লাস্টিক কোটিং দিয়ে তৈরি।

এটি ১৭০০কে থেকে ৬৫০০কে পর্যন্ত কালার টেম্পারেচার দেখাতে সক্ষম ও সর্বোচ্চ ৬০০ লুমেন আলো পাওয়া যাবে।

01 (1)

২। ই-লাইট বেডসাইড ল্যাম্প

  • ১০ ওয়াট
  • ১৬ মিলিয়ন কালার
  • ১৭০০-৬৫০০কে হোয়াইট ব্যালেন্স
  • ৩০০ লুমেন পর্যন্ত ব্রাইটনেস
  • টাচ ডায়ালের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য
  • মূল্য : ৪০০০-৫০০০ টাকা

দ্বিতীয় বাল্বটি শাওমি মূলত বিছানার পাশের টেবিলে রাখার জন্য তৈরি করেছে। ছোট সিলিন্ডারের মত দেখতে এটি একেবারে ১৭০০কে থেকে শুরু করে ৬৫০০কে পর্যন্ত কালার টেম্পারেচার দিতে সক্ষম।

আলোর রঙও বদলে ফেলা যাবে সহজেই। এটিতে বাড়তি সুবিধা হিসেবে রয়েছে সর্বোচ্চ ৪টি পর্যন্ত রঙ নিজ থেকেই সাইকেল করার মোড।

একই সঙ্গে ওপরে অবস্থিত টাচ সেন্সরের মাধ্যমে ব্রাইটনেস বাড়ানো-কমানো, কালার বদল ও স্লিপ টাইমার দেয়ারও সুবিধা রয়েছে।

তবে টাচ সেন্সর ছাড়াও ডিভাইসটি ই-লাইট অ্যাপের মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

01 (2)

৩। এমআই-জা ডেস্কটপ ল্যাম্প

  • ৬ ওয়াট
  • ২৭০০-৬৫০০কে হোয়াইট ব্যালেন্স
  • ১%-১০০% ব্রাইটনেস নিয়ন্ত্রনের সুবিধা
  • ডায়ালের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রনযোগ্য
  • মূল্য : ৩০০০-৪০০০ টাকা

সিরিজের তৃতীয় ডিভাইসটিও একটি ল্যাম্প। এটি মূলত ডেস্কে কাজ করার জন্য তৈরি। এতে রঙ বদলানোর সুবিধাটি রাখা হয়নি। কেননা ডেস্ক ল্যাম্পে সেটির প্রয়োজনও নেই।

কালার টেম্পারেচার ও ব্রাইটনেস কমানো বাড়ানোর সুবিধা অবশ্য বাদ দেয়া হয়নি। একইভাবে বাদ পরেনি ডায়ালের মাধ্যমে ফিচার দুটি নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও।

বিশেষ ফিচার হিসেবে সময় অনুসারে আলো কমিয়ে চোখের ওপর চাপ কমানোর জন্য  একটি টাইমার যুক্ত করা হয়েছে ।  

01

৪। এমআই লাইটস্ট্রিপ

  • ১২ ওয়াট
  • ২ মিটার লম্বা
  • ১৬ মিলিয়ন কালার
  • ১%-১০০% ব্রাইটনেস নিয়ন্ত্রনের সুবিধা
  • দেশের বাজারে আপাতত নেই
  • মূল্য : চীনে ৩০ ডলার

৫। এমআই এলইডি প্যানেল

    • ২৮ ওয়াট
    • ২৭০০-৬৫০০কে হোয়াইট ব্যালেন্স
    • ০.১-১৮০০ লুমেন পর্যন্ত ব্রাইটনেস
    • দেশের বাজারে আপাতত নেই
    • মূল্য: চীনে ৭৫ ডলার

উপরের তিনটি ডিভাইসই মূলত আলাদা লাইটিং ডিভাইস হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। সিরিজের শেষ দুটি ডিভাইস তৈরি করা হয়েছে ঘরের সঙ্গে লাইটিং প্রযুক্তি একেবারে খাপ খাওয়ানোর জন্য।

এমআই লাইট স্ট্রিপ ও ওয়াল এলইডি প্যানেল বলা যেতে পারে যথাক্রমে ই-লাইট বাল্ব ও ডেস্ক ল্যাম্পের দেয়াল ও সিলিংয়ে লাগানোর জন্য তৈরি সংস্করণকে।

এলইডি স্ট্রিপগুলো ১৬ মিলিয়ন কালার দেখাতে সক্ষম ও ওয়াল এলইডি প্যানেলগুলো কালার টেম্পারেচার ও ব্রাইটনেস বদলে ঘরে আলো দেয়ার জন্য তৈরি।

001

সব কয়টি ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের জন্য শাওমি তৈরি করেছে ই-লাইট অ্যাপ। ঝামেলাবিহীন অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একাধিক ই-লাইট ডিভাইস এক সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

নতুন ই-লাইট পেয়ার করা ও প্রয়োজনে টাইমার সেট করা – সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করবে এই একটি অ্যাপ।

y1 y2 y3

কিছু কিছু ক্ষেত্রে লাইটিং পুরো পরিবেশই বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। সেটি যদি সহজেই ফোন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভ হয়, তাহলে তো কথাই নেই।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, এ ডিভাইসগুলো হয়ত কারো কাছে প্রয়োজনীয় নয়; কিন্তু ব্যবহারে বেশ মজা রয়েছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

চাবি মানিব্যাগ খুঁজে দেবে নাট স্মার্ট ট্র্যাকার

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ছোটখাট কিন্তু জরুরি জিনিস, যেমন চাবি বা ওয়ালেট হঠাৎ খুঁজে না পাওয়া গেলে ভোগান্তি চরমে উঠতে দেরি হয় না। বিশেষত যাদের এসব জিনিস সহজেই হারিয়ে ফেলার প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য খুবই কাজের একটি গ্যাজেট ব্লুটুথ ট্র্যাকার।

প্রযুক্তি এখন জীবন যাপনকে অনেক সহজ করেছে। এ ডিভাইস তার একটি দারুণ উদাহরণ। স্বল্প মূল্যের একটি ট্র্যাকার হচ্ছে নাট ব্লুটুথ ট্র্যাকার ২।

ক্ষুদ্রাকৃতির এ ডিভাইস ব্লুটুথের মাধ্যমে ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সেটির সঙ্গে রাখা যে কোনও কিছুর অবস্থান বের করার কাজটি করে থাকে

DSC0203621

এক নজরে নাট ব্লুটুথ ট্র্যাকার

  • ব্লুটুথ ৪.০ কানেকশন
  • ৩ মাস পর্যন্ত ব্যাটারি লাইফ, কয়েন-সেল লিথিয়াম ব্যাটারি
  • ফোন থেকে হারানো ডিভাইসে অ্যালার্ম বাজানোর সুবিধা
  • ডিভাইস থেকে হারানো ফোনে অ্যালার্ম বাজানোর সুবিধা
  • ডিভাইস রেঞ্জের বাইরে চলে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি ব্যবহারকারীকে জানানোর সুবিধা

গঠন
নাট ট্র্যাকার২ ডিভাইসটির গঠন খুবই ছোট আকৃতির। চতুষ্কোন প্লাস্টিকের বক্সের এ যন্ত্রে রয়েছে নাট লোগো ও একটি বাটন। পুরোটি প্লাস্টিকে তৈরি হলেও, খুবই উন্নতমানের প্লাস্টিক ব্যবহার করায় সহজেই নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা নেই।

ডিভাইসটি খুলে ফেলার পর দেখা যাবে একটি কয়েন-সেল ব্যাটারি লাগানোর স্থান রয়েছে। নাটের দাবি অনুযায়ী একটি ব্যাটারিতে ডিভাইসটি প্রায় তিন মাস পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম।

ডিভাইসের উপরের বাটনটি দেখে সেটি পাওয়ার বাটন মনে হলেও, ডিভা‍ইসটিতে আসলে কোনও পাওয়ার বাটন নেই। খুবই কম শক্তি ব্যবহার করায় এটি সবসময়ই চালু থাকে। বাটনটির মূল কাজ হচ্ছে অ্যালার্ম বন্ধ করা ও ফোনে অ্যালার্ম বাজানো।

nut.m2t_snapshot_01.04_2015.03.28_00.15.331

ব্যবহারের নিয়ম
নাট ডিভাইসটি ব্যবহার করতে হলে প্রথমেই ফোনে সেটির অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে নিতে হবে। ডাউনলোড হয়ে যাবার পর সেটির মাধ্যমে ডিভাইসটি পেয়ার করে নেবার পর আর কোনও কাজ নেই।

এবার নাটটি যে জিনিস খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজন সেটির সঙ্গে সংযুক্ত করে দিলেই হবে। হারানো জিনিসটি খুঁজে পেতে ফোনের অ্যাপ থেকে অ্যালার্ম বাজালেই ডিভাইসটি বাজতে শুরু করবে – এরপর শব্দ শুনে তা বের করে নেয়া যাবে সহজেই।

এ ছাড়া ডিভাইসটি একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে চলে যাওয়ার সাথে সাথে ফোনে অ্যালার্ম বাজতে শুরু করবে ও শেষ কোথায় সেটি দেখা গিয়েছিল সেটির তথ্য জানাবে।

এমনকি অনান্য নাট ব্যবহারকারীদের মাঝে তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার অপশন দেওয়া যাবে, যাতে অন্য কেউ খুঁজে পেলে যোগাযোগ করতে পারে।

nut.m2t_snapshot_01.12_2015.03.28_00.16.41

শুধু ট্র্যাকারটি হারিয়ে গেলে ফোন থেকে খুঁজে পাওয়াই নয়, ফোন হারিয়ে গেলে ট্র্যাকারের বাটনটি চেপে ধরে ফোনে অ্যালার্ম বাজিয়ে সেটিও বের করা যাবে।

ট্র্যাকারটির মূল সমস্যা বলা যেতে পারে ব্যাটারিটি রিচার্জেবল নয়। ফলে সেটি কিছু মাস পর পর বদল করতে হবে।

এ ছাড় ট্র্যাকারটি পানি-নিরোধক নয়। এ কারণে সেটি বাইরে বৃ্ষ্টির মাঝে ব্যবহার করার মত জিনিসের সাথে চালানো যাবে না। তবে দাম অনুসারে এ টুকু সমস্যা মেনে নেয়া যায়।

মূল্য : ট্র্যাকারটি ৭০০-১০০০ টাকায় দেশের বাজারেও পাওয়া যাবে।

একনজরে ভাল

  • হালকা, শক্তপোক্ত
  • স্বল্পমূল্য
  • ভাল ব্যাটারি লাইফ

একনজরে খারাপ

  • ব্যাটারিটি রিচার্জেবল নয়
  • পানি নিরোধী নয়

রেডমি নোট ৪এক্স : ক্যামেরার খুঁত বাদে মাঝারি মূল্যে সেরা

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শাওমি রেডমি নোট ৪এক্স বা নোট ৪ স্ন্যাপড্রাগন ফোনটির জন্য প্রচুর শাওমি ভক্তরাই অপেক্ষায় ছিলেন। মূলত রেডমি নোট ৪ ফোনটির মিডিয়াটেক প্রসেসরটি বদলে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ প্রসেসর যুক্ত করা হয়েছে। মডেলটি এর আগের রেডমি নোট ৩ প্রো ফোনটির উত্তরসূরী বলা যেতে পারে।

তবে নোট ৩ প্রো-এর মতো ফোনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।চলুন দেখা যাক এটির হাল হকিকত।

gsmarena_003

এক নজরে রেডমি নোট ৪এক্স

  • ৫.৫ ইঞ্চি ফুল এইচডি। ১৯২০x১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশন আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫, ২ গিগাহার্জ গতির অক্টাকোর কর্টেক্স এ৫৩ ৬৪বিট প্রসেসর
  • অ্যাড্রিনো ৫০৬ জিপিউ
  • ৩ অথবা ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • ৩২ বা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • ডুয়াল সিম, হাইব্রিড সিম স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড ৬ মার্শম্যালোর ওপর তৈরি এমআই-ইউআই অপারেটিং সিস্টেম
  • ১৩ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপার্চার ব্যাক ক্যামেরা, ফেজ ডিটেকশন অটোফোকাস ও ডুয়ালটোন ফ্ল্যাশ
  • ১০৮০পি, ৩০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ড ভিডিও ধারণক্ষমতা
  • ৫ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপার্চার সেলফি ক্যামেরা
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, এফএম রেডিও
  • মাইক্রো-ইউএসবি পোর্ট, ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক
  • ইনফ্রারেড ব্লাস্টার (রিমোট কন্ট্রোলের জন্য)
  • ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • খোলার অযোগ্য ৪১০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি

Xiaomi-Redmi-Note-4X-v

ডিজাইন
রেডমি নোট সিরিজের অনান্য ফোনের সঙ্গে ডিজাইনে এটির তেমন পার্থক্য নেই। পেছনের ঠিক মাঝে রয়েছে ব্যাক ক্যামেরা, যার নিচে রয়েছে ডুয়াল এলইডি ফ্ল্যাশ ও ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর।

Xiaomi-Redmi-Note-4X-4

পুরো বডি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হলেও উপরে ও নিচে প্লাস্টিকের দুটি প্যানেল রয়েছে – যেগুলোর মূল কাজ রেডিও সিগন্যাল আদানপ্রদান করার অ্যান্টেনাটির জন্য বাঁধাবিহীন জায়গা করে দেওয়া।

Xiaomi-Redmi-Note-4X-3-1

ডানে রয়েছে ভলিউম ও পাওয়ার বাটন, বাম পাশে রয়েছে সিম ও মেমরি কার্ড ট্রে। উপরে রয়েছে হেডফোন জ্যাক ও আই-আর ব্লাস্টার ও নিচে স্পিকার, মাইক্রোফোন ও মাইক্রো-ইউএসবি জ্যাক।

Xiaomi-Redmi-Note-4X-16

সামনে ৫.৫ ইঞ্চি বিশাল ডিসপ্লেটির নিচের দিকে রয়েছে ক্যাপাসিটিভ বাটন এবং উপরে হেডসেট স্পিকার, সেলফি ক্যামেরা ও কিছু সেন্সর।

সব মিলিয়ে অ্যালুমিনিয়ামের ধাতব বডির ফোনটির বিল্ড কোয়ালিটি খুবই ভাল। নোট ৪ এর চাইতে এটি হাতের সঙ্গে আরও ভালভাবে মানিয়ে যায়। ফ্রেমের সাইডগুলো বেশ গোলাকার করা হয়েছে।

তবে কিছুটা খুঁত ধরতে গেলে বলা যেতে পারে, পেছনের অ্যালুমিনিয়ামের অংশের সঙ্গে প্লাস্টিকের অংশগুলোর রঙ বেশ বেমানান। মূলত গোল্ড ও গ্রে কালারের ক্ষেত্রে সমস্যাটি কিছুটা প্রকট হলেও তেমন বড় সমস্যা নয়।

xiaomi-redmi-note-4x-review-03

ডিসপ্লে
শাওমি বরাবরের মতই নোট সিরিজে ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করেছে। নোট ৩ বা ৪-এর তূলনায় এবারের ডিসপ্লেটি বেশ উজ্জ্বল ও আরও ভালো কালার দেখাতে সক্ষম।

ডিসপ্লেটির কালার ব্যালেন্স কিছুটা ওয়ার্ম এবং সফটওয়্যারে সেটি বদলানোর সুবিধা রয়েছে। কন্ট্রাস্টের দিক থেকেও কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।

যদিও রেজুলেশন ও সাইজের কারণে ভিআর কনটেন্ট উপভোগ করতে কিছুটা পিক্সেলেশন সহ্য করতে হবে। অবশ্য বাজেট অনুযায়ী এর চাইতে ভাল ডিসপ্লে আশাও করা যায় না।

পারফরমেন্স
কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ মূলত মাঝারি পারফরমেন্সের প্রসেসর। ৬০০ সিরিজের বেশ নিচের দিকের এ প্রসসেরে হাই পাওয়ারের কোনও কোর নেই।

ফলে এটির প্রসেসিং পারফরমেন্সে মিডিয়াটেক প্রসেসর সমৃদ্ধ নোট ৪-এর চাইতে খুব একটা বেশি নয়, যা হয়ত কিছু ব্যবহারকারীদের হতাশ করবে।

অন্যদিকে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের সঙ্গে যুক্ত অ্যাড্রিনো জিপিউটি সাধারণত সমমানের মিডিয়াটেক প্রসেসরের মালি সিরিজের জিপিউর চাইতে বেশি শক্তিশালী হওয়ায় সব মিলিয়ে কিছুটা ভাল গেইমিং বা স্মুথ অপারেশন পাওয়া যাবে ডিভাইসটিতে।

আনটুটু বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী ডিভাইসটির স্কোর ৬০,০০০ – যা ফ্ল্যাগশিপ স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ চিপের চাইতে অনেক কম। এ স্কোর মাঝারি মানের সব ফোন বা স্ন্যাপড্রাগন ৮১০ চিপসমৃদ্ধ ফোনগুলোর কাছাকাছি।

এ কারণে বলা যেতে পারে ফোনটিতে প্রায় ৯৮% গেইম বা অ্যাপ্লিকেশন খুব ভালো ভাবে খেলা বা চালানো যাবে। এ নিয়ে বাড়তি চিন্তার দরকার নেই।

antutu

র‌্যামের দিক থেকেও ফোনটি এগিয়ে রয়েছে। সর্বনিম্ন ৩ গিগাবাইট ও সর্বোচ্চ ৪ গিগাবাইট পর্যন্ত র‌্যাম সমৃদ্ধ ফোনগুলোতে মাল্টিটাস্কিং নিয়ে কখনই ঝামেলায় পরতে হবে না।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, বাজেট অনুসারে ভাল পারফরমেন্সের ডিভাইস রেডমি নোট ৪এক্স। যারা কেনার কথা চিন্তা করছেন, তারা চোখ বুঁজে কিনে ফেলতে পারেন।

সাউন্ড
সাউন্ড কোয়ালিটির দিক থেকেও এটি বেশ এগিয়ে রয়েছে। হাই-ফাই অডিও প্লেব্যাক অপশন থাকায় লসলেস ফ্ল্যাক ফরম্যাটের গান চালানো যাবে সহজেই।

স্পিকারে সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ ভালো হলেও ভলিউম কিছুটা কমিয়ে না রাখলে সাউন্ড একটু ফেটে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

হেডফোনে সাউন্ড কোয়ালিটি ভালো শোনায়, যদিও ডেডিকেটেড অ্যাম্প না থাকায় ভলিউম কিছুটা কম। এ বাজেটে এর চাইতে বেশি আশা না করাই ভালো।

ক্যামেরা
শাওমি রেডমি নোট ৪এক্সে সনি আইএমএক্স২৫৮ সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি রেডমি প্রো ফোনেও ব্যবহার করা হয়েছিল। ছবির মানের দিক থেকে তাই তেমন নতুনত্ব নেই।

ক্যামেরাটির f/2.0 অ্যাপার্চার বেশ আলো প্রবেশ করতে দেওয়ায় ছবিগুলো বেশ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার। তবে কালার ব্যালেন্স, ডিটেইল ও ডাইনামিক রেঞ্জের বেশ ঘাটতি রয়েছে।

ক্যামেরাটির ফেস ডিটেকশন অটোফোকাস কিছুটা ধীরগতির। এতে দ্রুত পরিবর্তনশীল কোনও দৃশ্য ধারণ করাটা একটা চ্যালেঞ্জ। অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন না থাকায় ভিডিও ধারণের সময় কিছুটা কাঁপাকাঁপি রয়েই যায়।

সেলফি ক্যামেরাটি কাজ চালানোর মতো হওয়ায় সেলফিপ্রেমীরা তেমন মজা পাবেন না।

নীচে কিছু ক্যামেরা স্যাম্পল দেয়া হলো।

Xiaomi-Redmi-Note-4X-camera-samples-3 Xiaomi-Redmi-Note-4X-camera-samples-8 Xiaomi-Redmi-Note-4X-camera-samples-5 Xiaomi-Redmi-Note-4X-camera-samples-4

ব্যাটারি
মাঝারি মানের চিপসেট ও আকারে বিশাল ব্যাটারির কারণে ফোনটি চার্জ ধরে রাখার ক্ষেত্রে রাজা হবে সেটি নতুন নয়। ৪১০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারিটি অন্তত ১১ ঘন্টা পর্যন্ত স্ক্রন অন টাইম বা ফোন ব্যাবহারের সুযোগ দেবে।

স্ট্যান্ডবাই রাখলে দু’দিন পর্যন্ত চার্জ না করেই ব্যবহার করা সম্ভব। যারা প্রতিদিন দু-তিন বার চার্জ দেওয়া নিয়ে বিরক্ত তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।

সর্বশেষ
ভালো ডিজাইন, বিল্ড কোয়ালিটি, ব্যাটারি লাইফ ও মানানসই পারফরমেন্সের বিচারে রেডমি নোট ৪এক্স এই দামে অদ্বিতীয়। ক্যামেরা পারফরমেন্সে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও এ বাজেটে বিকল্প পাওয়া খুবই মুশকিল।

যারা এ ফোন কেনার চিন্তা করছেন; কিন্তু কিছুটা বেশি দাম দিয়ে ৪এক্স না কিনে ৪ মডেল কেন কিনবেন না, সেটি ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না- তাদের বলা যেতে পারে, সাধারণত স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর সমৃদ্ধ ফোনগুলো দ্রুত অ্যান্ড্রয়েড আপডেট পেয়ে থাকে ও থার্ড পার্টি রম চালানোর সুবিধা ভোগ করে।

যাদের এসব তেমন প্রয়োজন নেই, তারা নোট ৪ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবেন; কিন্ত টেক-অনুরাগী ক্রেতারা অবশ্যই নোট ৪এক্স বেছে নেবেন।

দাম : ১৭ বা ১৮ হাজার টাকায় বাজারে পাওয়া যাবে।

এক নজরে ভালো

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • মূল্য অনুসারে পারফরমেন্স
  • ব্যাটারি লাইফ
  • ডিসপ্লে কোয়ালিটি
  • স্টোরেজ, বিল্ট-ইনের পরিমান ও কার্ড ব্যবহারের সুবিধা

এক নজরে খারাপ

  • ক্যামেরা মাঝারি মানের
  • এক সঙ্গে দুটি সিম ও মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা নেই