এবার লক্ষ্য এম-গভর্ন্যান্স

পেপ্যাল, ইন্টারনেটের গতি ও দাম, ব্রডব্যান্ড, অনলাইন লেনদেন, পেপারলেস অফিসসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে টেকশহরডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান, যার প্রথম পর্ব –

এই সাক্ষাতকার যখন নেয়া হয় তখন ভোলার  লালমোহনে সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক উদ্বোধনে মঞ্চে উঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বর্তমান সরকারের তরুণ ও সর্বকনিষ্ঠ এই প্রতিমন্ত্রী। স্থানীয় সংসদ নূরুন্নবী চৌধুরী শাওনের বাসভবনে বসে প্রতিমন্ত্রীকে বেশ জোরেই কথা বলতে হচ্ছিল কারণ বাইরে হাজার হাজার মানুষের কন্ঠে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান। এর আগে আমরা সাংবাদিকরা দেখে এসেছি এই দ্বীপাঞ্চলেও সাধারণ মানুষ কীভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সুফল পাচ্ছে।

palak3

জুনাইদ আহমেদ পলক, যাকে ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ইয়াং গ্লোবাল লিডার মনোনীত করে। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গতিময় অগ্রযাত্রায় এই প্রতিমন্ত্রীর ব্যাপক প্রচেষ্টা ও সাফল্যকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ম্যাসাচুসেট ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফিনটেকের তথ্য বিশ্লেষক ডেভিড এম শায়া।

টেক শহর : দেশে আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল রূপান্তর কোন পর্যায়ে ?

জুনাইদ আহমেদ পলক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আমাদের দেশীয় ওয়ালেটের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটা হচ্ছে ই-ওয়ালেট। আগে এক সময় ছিল এটিএম কার্ড, এখন আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আছি –এরপরে নেক্সট ভার্সন হচ্ছে ই-ওয়ালেট। ফলে আমরা এম গর্ভন্যান্সকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

টেক শহর : এম গর্ভন্যান্সের জন্য প্রকল্প বা পরিকল্পনা কি তৈরি?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমরা নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করছি যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ই-গর্ভন্যান্স হতে আরেকটি ট্রান্সফর্মেশন হবে, যেটা হবে এম গর্ভন্যান্স। সেখানে আমাদের দেশীয় ওয়ালেটে জাতীয় পর্যায়ে লেনদেন হবে।

palak-2

টেক শহর : জাতীয় পর্যায়ের লেনদেনের কোনো উদাহরণ?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমাদের সোশ্যাল সেফটির ৬৪ হাজার কোটি টাকা, মাতৃত্ব ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সবগুলো আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে, যেভাবে আজকে প্রাইমারি স্কুলেরটা ১ কোটি ২০ লাখ মায়ের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে- একই রকমভাবে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার নির্দেশনায় আমরা এই ৬৪ হাজার কোটি টাকা যাতে সরাসরি গ্রাহকের হাতে পৌঁছে যায়, শেখ হাসিনা পৌঁছে দিতে পারেন তার জন্য প্রযুক্তি নিয়ে আসা হচ্ছে।

টেক শহর : সরকারের পেপারলেস অফিস ও অনলাইনে সব সেবা চালুর লক্ষ্য কতদূর এগিয়েছে?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমরা ইতোমধ্যেই একটি পাইটল প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যেটা হচ্ছে গর্ভমেন্ট রিসোর্স প্লান (জিআরপি)। এই জিআরপি পাইলট প্রজেক্টটা দেড় বছরের মধ্যেই শেষ করতে পারবো।

তারপর আমরা ইন্টিগ্রেডেড গভর্মেন্ট সলিউশন নামে একটি প্রকল্প নিচ্ছি। সেখানে পুরো ৫০টি মন্ত্রণালয় ২২০টির মতো অধিদপ্তর, সকল সংস্থাকে আমরা পেপারলেস না হলেও লেস পেপার অফিসে পরিণত করতে পারবো।

আশাকরছি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ সার্ভিস আমরা অনলাইনে নিয়ে আসতে পারবো।

palak-1

টেক শহর : পেপ্যাল নিয়ে সর্বশেষ অবস্থা?

জুনাইদ আহমেদ পলক : পেপ্যাল নিয়ে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ে আসতে পারবো।

আইটি কোম্পানির বৈদেশিক লেনদেনের পরিমান বাড়লো

রুদ্র মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বৈদেশিক লেনদেনের পরিমান ২০ হাজার ডলার থেকে ২৫ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাণিজ্যিক সংগঠন বেসিসের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার এই সার্কুলার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ১৮ এপ্রিল বেসিস বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ফজলে কবীরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির প্রতিবছরে বৈদেশিক লেনদেনের পরিমান ২০ হাজার ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত করার অনুরোধ জানায়। সে সময় বিষয়টি বিবেচনার জন্য বেসিস নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর।

besis b bank-Techshohor
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্ণরকে বেসিসের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি প্রদান (ফাইল ছবি)

বেসিসের ৫০ হাজার ডলারের অনুরোধ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলেও ৫ হাজার ডলার বৃদ্ধি করে ২৫ হাজার ডলার করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণর মো.আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারে নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ফলে এখন থেকে দেশের কোম্পানিগুলো ডোমেইন, হোস্টিং, সার্ভার, নেটওয়ার্ক পেরিফেরালসহ আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার খরচ করতে পারবে। এজন্য আগের নিয়মানুসারেই বেসিস থেকে একটি ‘অথোরাইজেশন লেটার’ নিতে হবে।

BB Circular on Foreign exchange transaction for IT Software firms-TechShohor

উল্লেখ্য, বেসিসের আবেদনেই ২০১০ সালের ২ সেপ্টেম্বর আইটি কোম্পানির জন্য বৈদেশিক লেনদেনের পরিমান ১০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঐ পরিমান বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়।

আরও পড়ুন :

অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে সেমিনার বৃহস্পতিবার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও প্রতারণা ধরতে সেমিনারের আয়োজন করেছে সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট ভবনে দিনব্যাপী এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

আইটি নিরাপত্তা এবং জালিয়াত সনাক্তকরণ : বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ শিরোণামে এই সেমিনারের সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)।

unnamed

সোমবার সেমিনার আয়োজন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার বলেন, অনলাইন ব্যবসা বাড়ার সাথে সাথে ব্যাংকিং খাতে অনলাইন লেনদেনও বাড়ছে। বিগত কয়েক দশকে বিশ্বে অনলাইন লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় এর নিরাপত্তার দিকটি সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। তথপ্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিসহ অনলাইন লেনদেনের ঝুঁকিও বেড়েছে। তাই এ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি ও প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি।

তিনি বলেন, নিরাপদ লেনদেনের পূর্বশর্ত হলো সচেতনতা তৈরি করে জালিয়াত চক্রের ফাঁদে পা না দেওয়া। তাই সেমিনারের মধ্য দিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজটিই করা হবে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিআইবিএম এর ডিরেক্টর জেনারেল ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ভিসা কার্ডের ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার চিফ রিস্ক অফিসার শিবকুমার শ্রীরমন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এসএম মাঈনউদ্দিন চৌধুরী, সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নওয়াদ ইকবাল, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি হেড অব আইটি ড. ইজাজুল হক, সিটিও ফোরামের কার্যনির্বাহী সদস্য শ্যামা প্রসাদ ব্যাপারি।

ইমরান হোসেন মিলন

মার্কেটিংয়ের সাত নতুন ফিচার ফেইসবুকে

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফেইসবুকের ব্যবসায়িক পেইজগুলোর জন্য যোগ করা হচ্ছে ‘কল টু অ্যাকশন’ নামে সাতটি নতুন ফিচার। এগুলো প্রতিষ্ঠানের অনলাইন মার্কেটিংকে আরও সহজ করবে।

ফিচারগুলো হলো বুক নাও, কন্টাক্ট আস, ইউজ অ্যাপ, প্লে গেইম, শপ নাও, সাইন আপ এবং ওয়াচ ভিডিও।

ফেইসবুক জানিয়েছে, আপাতত কল টু অ্যাকশন বাটনের ফিচারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। আগামী বছর নাগাদ সারা বিশ্বের জন্য তা উন্মুক্ত করা হবে।

calls-to-action

কল টু বাটনে সাতটি ফিচার থাকলেও সবগুলো একসাথে পেইজে ব্যবহার করা যাবে না। এডমিন কেবল একটি বাটন পছন্দ করে তা পেইজে রাখতে পারবেন। তবে তা প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যাবে।

জানা গেছে, অ্যাপ বানানোর প্রয়োজনে ডেভেলপাররা কল টু অ্যাকশন বাটনে একসেস পাবেন। বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহীরাও পাবেন বিশেষ সুবিধা।

ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে ব্যবসার প্রসারে ফিচারগুলো আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। বিক্রি ও ভিউয়ার পেতেও তা কার্যকরী ভূমিকার রাখবে বলে ফেইসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এর মাধ্যমে পেইজ অ্যাডমিন ফেইসবুক ছাড়াও অপরাপর সামাজিক মাধ্যমগুলোতে পৌঁছুতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে কোনোভাবেই এই সুযোগের অপব্যবহার করা যাবে না।

পেইজকে হ্যাকিং থেকে বাঁচাতে কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ফেইসবুকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে সাইট ট্র্যাকিংয়ের পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এছাড়া ব্যবহারকারীদের কর্তৃপক্ষ বরাবর রিপোর্ট করার সুযোগ থাকবে। এতে আমার নির্দিষ্ট চ্যানেল মনিটর করে হ্যাকিং প্রতিরোধ করতে পারবো।

ভেঞ্চার বিটস অবলম্বনে ফখরুদ্দিন মেহেদী

অনিচ্ছা সত্ত্বেও শীর্ষ ধনী সেই জ্যাক মা!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ‘ধনী হওয়াটা যন্ত্রণার, ধনী হতে চাই না’ গত নভেম্বরে এই ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি এশিয়ার সেরা ধনীদের তালিকায় প্রথমেই উঠে এসেছে জ্যাক মা’র নাম! চীনের বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘আলিবাবা’র এই প্রতিষ্ঠাতা পেছনে ফেলেছেন হংকংয়ের আরেক ধনকুবের ভূমি ব্যবসায়ী লি কা-শিংকে।

ব্লুমবার্গের বিলিয়নিয়ার্স সূচকে আর্থিক সম্পদের হিসাবে শীর্ষস্থান দখল করেছেন চীনের এই উদ্যোক্তা।

jack ma

মূলধনের দিক থেকে আলিবাবা ছাড়িয়ে গেছে আমাজন ডটকম ও ইবের মতো দুটো জায়ান্ট ই-কমার্স সাইটকে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মূলধন ২৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ব্যবসা থেকে আসা বিপুল সম্পদের কারণে শীর্ষ ধনীর মুকুট পেয়েছেন মা। এছাড়া অনলাইনের অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান আলিফও তাকে এই আসনে বসাতে সাহায্য করেছে।

জানা গেছে, জ্যাক মা ১৯৯৯ সালে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করেন। ঐ বছরই তিনি আলিবাবা থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেন। বর্তমানে এই ‘মানবহিতৈষী’র  সম্পদের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 

টাইমস অব ইন্ডিয়া ও বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে আহমেদ মনসুর

অনলাইনে নিরাপদ লেনদেনের সতর্কতার কৌশল

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তিকে পুঁজি করে লেনদেনের ধরণেও এসেছে পরিবর্তন। কাগজের টাকার বদলে এসেছে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড। সরাসরি অনলাইনেও লেনদেন হচ্ছে। দেশেও নতুন ধরনের এ লেনদেন পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি জনপ্রিয় হচ্ছে। শুরুর দিকের অস্বস্তি কাটিয়ে এখন সাচ্ছন্দেই অনলাইন লেনদেন হচ্ছে।

কাগজের টাকা বহনের ক্ষেত্রে চোর-ডাকাতের ভয় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় অনেককে। সেদিক থেকে অনলাইন কিছুটা সুবিধাজনক হলেও সেখানেও রয়েছে ডাকাতের ভয়। একটু অসাবধান হলেই হ্যাকার নামের এসব ডাকাতরা এক নিমিষেই ফতুর করে ছাড়বে।

দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এ মাধ্যমে সামান্য কিছু ভুলের জন্য হয়ে যেতে পারে অনেক বড় ক্ষতি। তাই সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই।

top-10-tips-for-safe-online-card-transactions

এ কারণে অনলাইনে ক্রেডিট কিংবা ডেবিট কার্ড নম্বর ব্যবহার করে লেনদেনসহ অনলাইন ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা বাধ্যতামূলক। কিছু বিষয় মনে রাখলে অনলাইনে নিরাপদে লেনদেন করা যায়, অর্থ চুরির আশংকা এড়ানো যায়।

অনলাইনে লেনদেনে সচেতন ও সতর্ক থাকার উপায়গুলো নিয়ে টিউটোরিয়ালভিত্তিক এ প্রতিবেদন।

এন্টিভাইরাস ব্যবহার
ভাইরাসের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হ্যাকারদের সবচেয়ে জনপ্রিয় কৌশল। ইন্টারনেটের বিশাল জগতে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নিত্য নতুন ভাইরাস। তাই সর্বশেষ আপডেটযুক্ত এন্টিভাইরাস ব্যবহার করা উচিত।

এন্টিভাইরাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেনতেনটি ইন্সটল করবেন না। বাজারে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার নাম দিয়ে বেশ কিছু সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো আসলে হ্যাকারদের তৈরি। এগুলো ইন্সটল করলে তথ্য নিরাপদে রাখার চেয়ে চুরি হওয়ার ভয় থাকে। তাই ভালো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা উচিত।

জনপ্রিয় অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে তুলনামূলক কোনটি ভালো তা এভি-কম্প্যারেটিভ ওয়েবসাইট থেকে দেখে নেওয়া যাবে।

সফটওয়্যারের স্বয়ংক্রিয় আপডেট
কম্পিউটারের প্রতিটি সফটওয়্যারের স্বয়ক্রিয় আপডেট অপশনটি অন করে রাখা উচিত। প্রতিটি সফটওয়্যার বিশেষ করে ব্রাউজারগুলোর সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা উচিত।

software_techshohor

কেননা সফটওয়্যার তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো আগের সংস্করণের বিভিন্ন ক্রুটি (বাগ) দূর করে ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করে নতুন সংস্করণ আনে। যা আগের সংস্করণ থেকে বেশি নিরাপদ হয়ে থাকে। এ কারণে সর্বশেষ আপডেট ব্যবহার করা উচিত।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার
অনলাইনে লেনদেন নিরাপদে রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তা। সহজ-সরল শব্দ ব্যবহার করে গোপন নম্বর দেওয়া উচিত নয়। পাসওয়ার্ড দেওয়ার সময় নম্বর, শব্দ এবং সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা ভালো। যেমন:Kas^^**000sfd987

এ ছাড়া নিয়মিত বিরতিতে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করলে তক্কে তক্কে থাকা হ্যাকাররা একাউন্টের নাগাল পাবে না।

ক্যাশ অন ডেলিভারি অপশন
অনলাইনে কোনো কিছু কেনার প্রয়োজন হলে ক্যান অন ডেলিভারি অপশন থাকলে সেটি ব্যবহার করা উচিত। এর অর্থ পন্য হাতে পাওয়ার পর টাকা প্রদান। এতে লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। অর্থ ও পণ্য হারানোর ভয় থাকে না।

অনেক ভুয়া ওয়েবেসাইট রয়েছে যেগুলো টাকা আগে নিলেও পণ্য আর বাসায় পৌঁছায় না। তাই ক্যাশ অন ডেলিভারি অপশনটি সবচেয়ে বেশি নিরপাদ।

স্প্যাম ই-মেইল
হ্যাকাররা ব্যবহারকারীদের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডসহ অন্যান্য অনলাইন লেনদেন মাধ্যমের তথ্য চুরি করার জন্য অনেক কৌশল অবলম্বন করে থাকে। এর মধ্যে উলেখ্যযোগ্য হল স্প্যামিং।

spam_techshohor

ব্যবহারকারীদের ই-মেইলে নানা লোভনীয় অফারের কথা জানিয়ে মেইল পাঠানো হয়। যখন ব্যবহারকারী হ্যাকারের লোভনীয় অফারের লোভে মেইলটিতে ক্লিক করে সেই অনুযায়ী কাজ করবে তখনই ব্যবহাকারীর মেইলের এমনকি কম্পিউটারের সব তথ্য চলে যাবে হ্যাকারের কাছে।

তাই ই-মেইলে আসা লোভনীয় অফারসমৃদ্ধ মেইলগুলো সর্ম্পকে সচেতন থাকা উচিত।

ওয়েবসাইটের সার্টিফিকেট
ওয়েবসাইটের সার্টিফিকেট পরীক্ষা করুণ। নামকরা সাইটগুলো তাদের সাইটের জন্য একধরনের ওয়েব সার্টিফিকেট ব্যবহার করে। এটির অর্থ হচ্ছে ওই সাইটটি পরীক্ষিত।

সাধারনত ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারের পাশে সাইটটির ফেভআইকন (সাধারনত সাইটের লোগোর ছবি) থাকে। সেখানে ক্লিক করলে দেখা যাবে ওয়েবসাইটটি সার্টিফাইড কি-না।

কোনো কোনো ওয়েবসাইট আছে (বিশেষ করে ব্যাংকিং এবং অনলাইন কেনাকাটার নামকরা সাইটগুলো) আপনার ব্যক্তিগত ও গোপনীয় স্পর্শকাতর তথ্য নেওয়ার সময় (যেমন: জন্মতারিখ, বাসার ঠিকানা অথবা কার্ডের নম্বার) এনক্রিপ্টেড কানেকশন ব্যবহার করে। এরকম সাইটে ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে বা স্ট্যাটাসবারে একটা তালার চিহ্ন দেখা যাবে।

ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহার করা
অনলাইনে লেনদেন করার জন্য সাইবার ক্যাফে কিংবা অন্য কোনো বন্ধুর কম্পিউটার ব্যবহার করা উচিত নয়। সাইবার ক্যাফেতে থাকা কম্পিউটারগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে।

ফলে বেশিরভাগ মানুষ এরকম অরক্ষিত কম্পিউটার থেকে অনলাইন কেনাকাটা করতে গিয়ে কার্ডের বা ব্যাংকের সব তথ্য অজান্তেই দিয়ে দেন হ্যাকারদেরকে।

পিশিং
অনেকসময় হ্যাকাররা মূল ওয়েবসাইটের মতো করে নকল একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে রাখে যাকে পিশিং বলা হয়। উদাহারণ হিসাবে মনে করুণ আপনি পেপ্যালের ওয়েবসাইট ঢুকবেন, কিন্তু অ্যাড্রেসবারে টাইপ করতে গিয়ে লেখার পর সেটির ওয়েবঠিকানা এসেছে। সঙ্গে রয়েছে পেপ্যালের লোগো।

এটিকে সঠিক মনে করে স্বাভাবিকভাবে ইউজার নেইম, পাসওয়ার্ড লিখে ঢুকে পরলেন। আসলে এতে যে ঘটনা ঘটলো তাতে এ পদ্ধতিতে হ্যাকাররা আপনার ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ড পেয়ে গেল।

তাই আসল পেপালে ঢোকার সময় কিংবা ব্যাংকিং বা অনলাইন শপিং সাইটে ঢোকার পর আরেকবার মিলিয়ে দেখুন ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস ঠিক আছে কি-না। নিশ্চিত হয়ে লগইন করুণ এবং নিরাপদে লেনদেন সারুন।

পপ আপ বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবেন না
বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করার সময় মাঝে মাঝে বিভিন্ন পপ বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। এ বিজ্ঞাপনগুলোতে ক্লিক করলে হয়ে যেতে পারে অনেক বড় সর্বনাশ। তাই এগুলোতে ক্লিক করার আগে একটু সাবধান থাকবে হবে। মজিলা ফায়ারফক্সে ad blocker এড অন্স ব্যবহার করলে এ সমস্যা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যাবে।

mobile-ads-techshohor

মোবাইলে সব সময় লগ ইন রাখবেন না
আপনি যদি মোবাইল দিয়ে অনলাইন কেনাকাটা করেন তাহলে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। মোবাইল অবশ্যই লক স্ক্রিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। যদি কোনো কারণে আপনার মোবাইলে চুরি হয় তাহলে পুরো ব্যাংক ব্যালেন্স চোরের হাতে দিয়ে দিলেন।

নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার
অর্থনৈতিক যে কোনো কাজ যেমন ব্যাংকিং বা কেনাকাটার জন্য প্রাইভেট ওয়াই-ফাই বা ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করুন। ফ্রি ওয়াই-ফাই নেট ব্যবহার করলে এ ধরণের আর্থিক লেনদেন না করাই ভাল।

ওয়েবসাইট নিরাপদ কিনা যাচাই করুণ
URL দেখেই সাইটটি বিশ্বস্ত কিনা তা জানা যায়। যদি সেখানে “https” থাকে তাহলে চোখ বন্ধ করে ধরে নিন এটা নিরাপদ সাইট। অন্যদিকে শুধু “http” থাকলে এই সাইট নিরাপদ কিনা তা URL দেখে বোঝা যাবে না।

লোকেশন ট্রেস এবং প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক রাখুন
স্মার্টফোনের এই যুগে এখন অনেক অ্যাপস রয়েছে যেগুলো অটোমেটিক GPS লোকেশন ট্যাক করে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা প্রকাশ্যে শেয়ার করে দেয়। ধরুণ আপনার পুরো পরিবার বাইরে বেড়াতে গিয়েছেন। এখন সেই স্থান সবাইকে জানানো নিশ্চয়ই ভাল কথা না। তাই প্রাইভেসি সেটিংস ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

নিরাপদ ব্রাউজার ব্যবহার
অনলাইনে নিরাপদ থাকতে শক্তিশালী ব্রাউজের বিকল্প নেই। অনেকে এখনও ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে থাকে। অথচ এ ব্রাউজারে প্রচুর সিকিউরিটি হোল রয়েছে। তাই মজিলা বা গুগল ক্রোম ব্রাউজারের সাথে ভালো এড অনও ব্যবহার করুন।