ওয়াইফাইয়ের গতি বাড়াতে ৫ কৌশল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনেকের কাছেই ওয়াইফাই এখন পানি কিংবা বিদ্যুতের মতো অতি প্রয়োজনীয় একটি সেবা। বেশিরভাগ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার তারবিহীন মডেম বা রাউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে থাকে। এবার এই ওয়াইফাইয়ে ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে ৫টি সহজ কৌশল জেনে নেয়া যাক :

১. রাউটার রাখুন কোণায়

অনেকেই মনে করেন, ঘরের একটি কোণায় বা জানালার কাছে রাউটার রেখে দিলে নেটওয়ার্ক কাভারেজ বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে হয় এর উল্টোটা। আদতে ওয়াইফাইয়ের রেঞ্জ সীমিত হয়ে এটির সিগন্যাল সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বাড়ির সর্বত্র নেটওয়ার্ক কভারেজ পেতে রাউটার সব সময় ঘরের মাঝখানে উঁচু কোনো স্থানে রাখা উচিত।

২. অতিথিদের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড

কারও কাছ থেকে প্রাইমারি পাসওয়ার্ডটি গোপন রাখতে চাইলে সিলেক্ট করতে পারেন গেস্ট নেটওয়ার্ক অপশনটি। এটি আপনাকে নতুন একটি পাসওয়ার্ড সেট করতে বলবে। এর পাশাপাশি এতে ব্যবহারকারীদের সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়ারও সুযোগ রাখা হয়েছে।

wifi.techshohor

৩. ব্যবহার করুন রিপিটার

ছোট স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়া পুরো একটি বাড়িতে সাধারণত ওয়াইফাইয়ের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।এই সমস্যা সমাধানে কাজে দেবে ‘রিপিটার’। স্বল্পমূল্যের এই যন্ত্রটি রাউটার থেকে ওয়াইফাই সিগন্যাল নিয়ে শক্তিশালী কভারেজ স্থাপন করে। আলাদাভাবে কিনতে না চাইলে ঘরে থাকা পুরোনো রাউটারকেই রিপিটার বানিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে সেটিংসে গিয়ে কনফিগারেশনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। রিপিটার কানেক্ট করতে রাউটারে থাকা ওয়াইফাই প্রোটেক্টেট সেটআপ (ডাব্লুপিএস) অপশনটি সিলেক্ট করে রিপিটারে থাকা ডাব্লুপিএস বাটনটি চাপতে হবে। ব্যস, এক মিনিটের মধ্যেই কানেক্ট হয়ে যাবে রিপিটার।

৪. বদলে দিন ওয়াইফাইয়ের পাসওয়ার্ড

বছরের পর বছর ধরে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে ওয়াইফাইয়ের গতি কমে যাওয়ার চান্স থাকে। আপনার অজান্তেই হয়তো পাড়া প্রতিবেশি বা কাছের কেউ ব্যবহার করছে পুরানো সেই পাসওয়ার্ড। এতে একদিকে ওয়াইফায়ের গতি যেমন কমে যাচ্ছে তেমনি দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে প্রতি মাসে কেনা ডাটার পরিমাণ। তাই প্রতি ৬ মাসে একবার করে পাসওয়ার্ড বদল করলেই ফিরে পাবেন ওয়াইফাইয়ের সেই প্রথম দিককার গতি।

৫. ব্যবহার করুন ইউএসবি রাউটার

আপনার রাউটারে ইউএসবি পোর্ট থাকলে তা ওয়াইফাই সিগন্যাল ছাড়াও আরও কিছু কাজ করতে সক্ষম। চাইলে এর ইউএসবি পোর্টে এক্সর্টানাল হার্ডড্রাইভ ও প্রিন্টার কানেক্ট করা যাবে।

আনিকা জীনাত

রবির ‘এক নম্বর’ ভিডিও নেটওয়ার্কে গ্রাহকের ত্রাহি অবস্থা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রবির ‘এক নম্বর’ ভিডিও নেটওয়ার্কে গ্রাহকের এখন ত্রাহি অবস্থা। সারাদেশ জুড়েই অপারেটরটির নেটওয়ার্ক নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগের শেষ নেই। রবির নেটওয়ার্ক নিয়ে গ্রাহকরা ‘বাজে’ ‘জঘন্য’ ‘হাস্যকর’ ‘চাঁপাবাজি’ ‘তিন নম্বর’ ‘ঠকানো’ ‘জোকস’ ইত্যাদি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ সিম বন্ধ করে রাখা, অন্য অপারেটরে চলে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।

‘আমরা জানি দুর্দান্ত একটা ভিডিও এক্সপেরিয়েন্সের কতো শক্তি! তাই আপনার জন্যে রবির ১ নম্বর ভিডিও নেটওয়ার্ক। চলে আসুন আমাদের ভিডিও নেটওয়ার্কে আর অনুভব করুন প্রতিটি মুহূর্ত।’-রবির ভেরিফাইড ফেইসবুকে পেইজে এমন স্ট্যাটাসে রয়েছে একটি ভিডিও।

অপারেটরটির চমকপ্রদ এই বিজ্ঞাপনের সঙ্গে কথা ও কাজে মিল খুঁজে পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।

পিনড করে রাখা ওই পোস্টটির কমেন্টেসে হাজার হাজার গ্রাহকের মন্তব্য। যেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ করেছেন, বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

robi-techshohor

আরিফুল ইসলাম বিরক্ত প্রকাশ করে বলেছেন, আমার এলাকা ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার অন্তর্গত মুশুলি ইউনিয়নে। কিন্তু রবি আর এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক এত বাজে যেটা বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। ৩ দশমিক ৫ জি এর নাম করে টুজিও ঠিক মত কাজ করছে না। কাস্টমার কেয়ারে বেশ কয়েকবার জানালেও এক পয়সারও উপকার পাই নাই। আপনারা সব কিছুতে এত পিছিয়ে কি জন্য?

মো. মিজানুর রহমান লিখেছেন, আপনার এক একজনের তথ্য নিয়ে কিসের সমস্যা সমাধান করবেন, সমস্যা তো সব জায়গায়। বরিশাল বিভাগের কোনো জেলাই আপনাদের টু’জি নেটওয়ার্কও পাওয়া যায় না সেখানে ফোরজি বা ৩ দশমিক ৫জি কথা বলাটা হাস্যকর। আমি বরিশাল শহরে থাকি আমার রবি ও এয়ারটেল মিম দুটি খুলে রেখে দিয়েছছি। এমবি আছে ব্যবহার করতে পারছি না।

আবদুর রহমান বলেছেন, কুমিল্লায় রবি নেটওয়ার্কের খুবই খারাপ অবস্থা। আগে রবিতে নেট ব্রাউজিং করতাম। নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল তাই ছেড়ে দিলাম।

মো.ইব্রাহীম হোসেন খুব বিরক্ত প্রকাশ করে লিখেছেন, ভাই রবি আমরা কি দোষ করেছি যে, আপনারা আমাদের টাকাগুলো নষ্ট করছেন। আমরা গোদাগাড়ী মানুষ টাকা দিয়ে এমবি কিনছি কিন্তু আমার এমবি ব্যবহার করতে পারছি না। তার কারণ হচ্ছে থ্রিজি তো দূরের কথা আমারা এখানে টুজি ভালোভাবে পাচ্ছি না।

আশরাফুল আলম রবিকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, নিত্যনতুন অফার না দিয়ে, নেটওয়ার্ক উন্নয়নে মনযোগ দিন। নেটওয়ার্ক ভালো হলে অফারের প্রয়োজন হবে না। দিনাজপুর শহরে (সুইহারী/মুদিপাড়া) থ্রিজি পাওয়া যায় না। আর দুর্দান্ত, জঘন্যতম নেটওয়ার্ক।

robi-ad

প্রচণ্ড বিরক্তি প্রকাশ করে মোহাম্মদ ইমাম হোসেইন বলেছেন, জীবনে কয়েকটা বড় ভুল সিদ্ধান্তের মধ্যে রবি সিম কেনার সিদ্ধান্তটা ছিল একটা। বন্ধু বান্ধব সবার কাছে নাম্বার থাকার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এখনও ব্যবহার করছি। বাট নেট ইউজ করার মত ভুল সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সক্ষম হয়েছি। নেট এ ঢুকলেই যেন মাথা টিনটিন করে সিম কার্ড স্পিডের কারণে।

তিনি কৌতুক করে বলেন, বাসায় ভেতরে টুজি থাকে না ঠিকমত, সে আবার এক নাম্বার  ! শুনে খুব মজা পাইলাম । মানুষদেরকে ঠকানোর ভালো পথ অবলম্বন করেছেন ।

নিজাম উদ্দিন তারেক লিখেছেন, বাসায় ভিতরে টুজি থাকে না ঠিকমত, সে আবার এক নাম্বার। প্লিজ নেকস্ট জোকস।

মেহেদী রহমান লিখেছেন, ভাই কেনো মানুষকে এইসব দেখিয়ে, বোকা বানান। আমার বাসায় তো রবি নেটই থাকে না। আর টাওয়ারটা মাত্র এক কিলো দূরে তবু নেট পাই না বাহিরে যেয়ে কথা বলতে হয়।

শাহেদ আলী বলেছেন, এক নং নেটওয়ার্ক বলিস না রে ভাই ভীষণ লজ্জা লাগে। তার উপর ফোরজি এর কথা শুইনা তো হাসি পায়। ফোরজি না থ্রিজির উন্নতি কর। সেটাই বেটার হবে। কারণ তোদের ভুক্তভোগী যে এই অভাগাও।

মোঃ ওহিদুল ইসলাম, বাজে ইন্টারনেট সার্ভিস। ব্যবহার করছি আর নিজের রাগকে কন্ট্রোল করছি। কারণ একটু পরপরই নেট কানেক্ট অফ করে অন করতে হচ্ছে, নয়তো লোডিং নিচ্ছে না।

আকবর হোসেইন লিখেছেন, রবি দাবি করে থ্রিজি কাভারেজ করে কিন্তু তখন দেখলাম হাফজিও কাভারেজ করে না। নিজের ফোন নাম্বার তুলে তিনি বলেন, রবির নেটওয়ার্কই সবচেয়ে খারাপ।

হামিদ হাসান আলভি বলেছেন, আপনাদের কথা শুনে লজ্জা ও লজ্জা পায় কিন্তু আপানারা পান না। কল নেটওয়ার্ক থাকে না ঠিক মত, এক পাশে হ্যালো হ্যালো করতে গলা ফাটিয়ে ফেলে অন্য পাশে শুনতে পায় না তারা আবার দাবি করে এক নাম্বার!

তিনি শ্লেষ করে লিখেছেন- হ্যাঁ, আপনারা এক নাম্বার! তবে চাঁপাবাজিতে আর লোডিং লোডিং করাতে।

সিকদার তসিন বলেছেন, আপনাদের নেটওয়ার্ক এত্ত বাজে সার্ভিস দিচ্ছে কেন? মেইন সিটির ভিতর ও ইনডোর এ নেট পাই না। আসে আর যায়। কি সমাধান এর? আর কতদিন এমন বাজে সার্ভিস দিবেন?

রাহুল খান, কথা কাজে মিল নাই।

দিপংকর দাস, রবিতে তো কোনো জি’ই পাই না। ভাই কবে থ্রিজি পাবো, কবে একটু অনলাইন ভিডিও দেখবো। আগে থ্রিজিটা দেন তারপর এক নাম্বার বানাবেন।

সাজ্জাদ চৌধুরী লিখেছেন, কী কৌতুক ! বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূর্বল নেটওয়ার্ক। প্রথমে সমস্যার সমাধান করে তারপর বলুন সেরা।

আকরামুল হক বলেছেন, আপনাদের নেট  বর্তমানে এত খারাপ সার্ভিস কেন? থ্রিজি বলেন কোথায় আমার এলাকায় তো ঠিকমত টু’জিও নাই।

প্রিন্স রিশাত লিখেছেন, আমি কাল ৬৯ টাকা দিয়ে এক জিবি কিনেছি কর্পোরেটে। ফেইসবুকও এতে চলে না, এমন অবস্থা। কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গেও কথা বলে নেট সেটিং করেও খুব স্লো চলে। লোড নিতে সময় নেয়। এটা এই এক নাম্বার নেটওয়ার্ক !

নাবিলা বিনতে আলি তমা বলেছেন, এত্ত ফালতু নেটওয়ার্ক। এত স্লো নেট। নেট কানেকশন অফ করে অন করতে হয় একটু পরপর। অসহ্য। এত বাজে ইন্টারনেট নিয়ে আবার নাম্বার ওয়ান। পুরোই হাস্যকর।

মো. আবু নাহেয়ান নিজের ফোন নাম্বার তুলে দিয়ে অভিযোগ করেছেন, রবি আমাদের এখানে তিন নাম্বার নেটওয়ার্ক। থ্রিজি তো দূরের কথা টুজি তাও অনেক কষ্টে। আমরা চিন্তা করলাম রবি বাদ দেবো।

robi-facebok-techshohor

মাহমুদুল হোসাইন সৌরভ বলেছেন, এসব প্রচারের কোনো মানে হয়না। রবি সিম আমি এবং আমার আরও অনেক বন্ধু ব্যবহার করে। ওদের কারও মুখে কখনও আপনাদের নেটওয়ার্কের সুনাম শুনিনি বদনাম ছাড়া। আপনারা কীভাবে বলেন যে আপনাদের নেটওয়ার্ক দুর্দান্ত? সব সময় টুজি থাকে।

শামীম আবদুল্লাহ কৌতুক করেছেন, রবির নেটওয়ার্কে এই ভিডিও দেখলে বাফারিংয়ের ঠেলায় মুরুব্বীর হার্ট অ্যাটাক কনফার্ম!

মজুমদার মহাপ্রসাদ মন্তব্য করেছেন, দেশের সবচেয়ে ফালতো নেট এটি। খোলা স্থানেও নেট নেই। অফিসে কল দিলে সুন্দর বুঝা যায়, আবার নিজের সমস্যা বলতে গেলে বুঝা যায় না। আবার বলে সেরা, হা হা..।

জাহেদুল ইসলাম, বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজে নেটওয়ার্ক হচ্ছে রবির নেটওয়ার্ক। চাপাবাজি ব্ন্ধ করেন। আগে নেটওয়ার্ক ভাল করেন তারপর চাপা মাইরেন। টুজিই ভাল মত পাইনা। খালি লোডিং……

অভি দে হৃদয় জানিয়েছেন,দুর্দান্ত নেটওয়ার্ক। ভিডিও দেখতে হয় আটকে-আটকে। থ্রিজি স্পিড বাট টানে ৩০-৪০ কেবি পার-সেকেন্ড। ১৫০ এমবি দুই দিন চলে না। স্পিড কম কিন্তু ১০ মিনিট এফবি ইউজ করলে কাটে ৩৫-৪৫ এমবি। এটাই দেশের এক নং নেটওয়ার্ক।

সুজন আহমেদ বলেছেন, নেট সার্ভিস ভুয়া। সিমটা খুলে রাখছি। আপনারা পারেন শুধু দুঃখ প্রকাশ করতে। আপনারা এক নম্বর ডিজিটাল চোর…

শুভ মিত্র জানিয়েছেন, ভাই একটা ৪ এমবি গান ডাউনলোড করতে তিন ঘন্টা সময় লাগছে, কোনো মানুষ বলবে না যে আপনাদের নেটওয়ার্ক ভাল। আমি ২০০৭ থেকে আপনাদের সিম ব্যবহার করি গত ১৬-১৭ দিন আগে আমি ওই সিম বন্ধ করছি।

 আল-আমীন দেওয়ান

এয়ারটেলের নেটওয়ার্কে ধস, রবির দু:খ প্রকাশ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশব্যাপী এয়ারটেল গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক বিছিন্ন হয়ে পড়েছেন। নেটওয়ার্ক ধসের কারণে শুক্রবার দিনভর ০১৬ নাম্বারের গ্রাহকরা ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েন ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রবি এ ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, নেটওয়ার্ক স্থাপন ও উন্নয়নের কাজের জন্য এই বিঘ্ন হয়েছে। এ জন্য আন্তরিকভাবে দু:খ প্রকাশ করা হচ্ছে। এখন কাজ শেষ হয়েছে এবং সেবা আবার চালু রয়েছে ।

তারপরও যদি নেটওয়ার্কের কোনো সমস্যা হয় তাহলে গ্রাহকদের ৭৮৬ নম্বর এবং ০১৬৭৮৬০০৭৮৬ নম্বরে কল করতে বলা হয়েছে।

এর আগে বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটে এয়ারটেলের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজ ‘এয়ারটেল বাজ’-এ এক স্ট্যাটাসে জানানো হয়, ‘এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের যাত্রায় কিছু কিছু এলাকায় নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট ব্যবহারে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল যার সমাধান হয়েছে। সাময়িক এই সমস্যার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’

নেটওয়ার্ক ঠিক হওয়ার ঘোষণার পরও বিভিন্ন এলাকায় নেটওয়ার্ক না পাওয়ার অভিযোগ জানান গ্রাহকরা।

সমস্যা সমাধান হওয়া নিয়ে এয়ারটেলের স্ট্যাটাসে বরিশাল সদরের আমানতগঞ্জ হতে সাহেদ জাকির অপি জানান, ‘ আমাদের এখানে হয়নি এখনও। একটু পর পর সিম ফেইলড হয়ে যাচ্ছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সম্ভব না হলে আমাকে উপায়/সাহায্যের অনুরোধ করছি। প্রিপেইড সিমের কোনো সমস্যা কিনা তাও জানাবেন। সিম ০১৬৩ সিরিজের।’

Robi-Airtel-Robi-Techshohor

এয়ারটেলের পেইজটিতে বেলা পৌনে দুইটায় বিষয়টি নিয়ে বলা হয়, ‘এক নম্বর নেটওয়ার্ক তৈরির এ যাত্রায় সব বন্ধুকে সাথে চাই। তোমার এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সময় নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে নিচের স্টেপস ফলো কর-হ্যান্ডসেট বন্ধ করে চালু কর। সমাধান না হলে ব্যাটারি ও সিম খুলে আবার ইনসার্ট কর ও ফোন চালু কর।’

এই স্ট্যাটাসের রবিউল সুমন নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘আর যেই ফোনের ব্যাটারি খোলা যায় না? পাগলের সংলাপ’।

এরপর বিকাল ৪টা ১০টা মিনিটে এক স্ট্যাটাসে জানানো হয়, ‘এয়ারটেলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের যাত্রায় কিছু কিছু এলাকায় নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট ব্যবহারে সাময়িক অসুবিধা হওয়ায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এই সমস্যা সমাধানে আমরা তৎপর এবং সমাধান হওয়া মাত্র আমরা তোমাদের ইনফর্ম করবো। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’

আল-আমীন দেওয়ান

 

অবশেষে সীমান্তে জিপির নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান

জামান আশরাফ, টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা নয় জেলায় নেটওয়ার্ক নিয়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।

সোমবার দক্ষিণ এশিয়ার টেলিকম নিয়ন্ত্রকদের তিন দিনের সম্মেলন আয়োজন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

২০১৪ সালের শুরুর দিকে উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলায় গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কে সমস্যা দেখা দেয়। শিলিগুড়ির ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অ্যান্টেনার কারণে এ সমস্যা হয়।

গ্রামীণফোন-টেকশহর

শাহজাহান মাহমুদ বলেন, সেই থেকে সমস্যাটি চলে আসছিল। এরপর থেকে সেটি সমাধানের জোর প্রচেষ্টা চলে।

বিষয়টি নিয়ে তারা ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনার পর দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, তাদের আলোচনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদেরকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে। যে যন্ত্রটি থেকে নেটওয়ার্কের সমস্যা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে সেটি সরিয়ে নেওয়ার কথা জানায়। সম্প্রতি সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর থেকে গ্রামীণফোন এ বিষয়ে আর কোনো সমস্যার কথা জানায়নি।

BTRC-techshohor

ওই একই সময় ভারতের আসাম এলাকায় মোবাইল অপারেটরদের চলমান নেটওয়ার্ক উন্নয়নের (আপগ্রেড) কারণে কুমিল্লা সীমান্ত এলাকায় এয়ারটেলের নেটওয়ার্কে সমস্যা হয়।

তবে এটির সমাধান এখনও করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান শাহজাহান মাহমুদ। তিনি বলেন, এ এলাকায় দুই পক্ষের টাওয়ার অনেক উচু এলাকায় বসানো হয়েছে। ফলে অ্যান্টিনা ঘুরিয়ে দিয়েও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হচ্ছে না।

এসব বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ভারতের হাইকমিশনারসহ আরও বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেন।

দুই পক্ষের অনেক দিনের আলোচনার পর বিটিআরসি প্রতিনিধি দল জুলাইয়ে ভারত সফর করে।

অ্যাপে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অসংখ্য প্রযুক্তি পণ্য, যন্ত্র আর নিত্য নতুন উদ্ভাবন জীবনকে সহজ করে তুললেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্পের পূর্বাভাসের পদ্ধতি এখনো মানুষের নাগালের বাইরে। তবে হালের স্মার্টোফোন হতে চলেছে ভূমিকম্প পূর্বাভাসের হাতিয়ার। এমনটাই ধারণা প্রযুক্তিবিদ ও বিশ্লেষকদের।

গত শুক্রবার ‘মাইস্যাক’ নামের একটি অ্যানড্রয়েড অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে যুক্ত হয়েছে। অ্যাপটি ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিয়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সক্ষম বলে দাবি করছেন এর নির্মাতারা।

অ্যাপটি ভূমিকম্পের টাইপ রেকর্ড করতে পারবে, নির্দিষ্ট পরিসীমায় ব্যবহারকারীরা কম্পনের কাউন্টডাউন দেখতে পারবেন। ফলে তারা সহজেই চলে যেতে পারবেন একটি নিরাপদ স্থানে।

MyShake

অ্যাপটির বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল অ্যাপটি তৈরি করেছে। অ্যাপটি কোনো ধরনের যন্ত্রপাতি ছাড়াই ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বারবেলি ভূমিকম্প গবেষণাগারের পরিচালক ও মাইস্যাক অ্যাপের প্রজেক্ট প্রধান রিচার্ড আলেন বলেন, অ্যাপটির জন্য ভূমিকম্প নেটওয়্যার্ক ব্যবহার করা হয়নি। তারপরও আমরা প্রত্যাশা করছি, অ্যাপটি দ্রুত ও বড় পরিধিতে ব্যবহারকারীদের কাছে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পোঁছে দেবে।

বর্তমানে ৩০০ স্মার্টফোনে মাইস্যাক ইন্সটল করে ১১০ কিলোমিটার এলাকায় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে। এর পরিধি বাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়ার পরিকল্পনা করছেন অ্যাপটির নির্মাতারা। অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে এ ঠিকানায়

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে শামীম রাহমান

শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করছে ফেইসবুক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রান্তিক ও দরিদ্র অঞ্চলগুলোকে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে ফেইসবুক। এজন্য জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি একটি নতুন ধরনের ডেটা নেটওয়ার্ক তৈরি করছে। নতুন এ নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা হবে মিলিমিটার ওয়েভ বন্ডস।

প্রযুক্তিটির জন্য খুব বেশি অবকাঠামোর প্রয়োজন হবে না। স্টারি’র মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেয়া হবে সেসব অঞ্চলে।

এটি বিশ্বের ইন্টারনেট সংযোগ বঞ্চিত মানুষদের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছানো প্রক্রিয়ার একটি অংশ।

Global-computer-network

তবে ফেইসবুক প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে কতদূর এগোতে পারবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। কেননা বেশকিছু ক্ষেত্রে ব্যাপক ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে এটি নিজের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

মিলিমিটার ওয়েভ ইন্টারনেট সার্ভিস নিয়ে গবেষণার বিষয়টি ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে। ‘পরবর্তী প্রজন্মের ডাটা নেটওয়ার্ক’ সম্পর্কে বর্ণনা করার জন্য মাধ্যমটির কর্মকর্তা সনজ কোহলিকে দেওয়া হয়েছে দুটি পেটেন্ট।

ফেইসবুক বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ছড়িয়ে দিয়ে আরও একটি পদ্ধতিতে কাজ করছে। গত বছর স্যাটেলাইট ও জায়ান্ট ড্রোন ব্যবহার করে যেভাবে আফ্রিকায় ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে এ পদ্ধতি সেরকমই।

দ্য নেক্সট ওয়েব অবলম্বনে শামীম রাহমান

ওলো ফোর জি নেটওয়ার্কের আওতায় এবার সিলেট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে প্রথমবারের মতো ফোর জি এলটিই নেটওয়ার্ক এনেছে ওলো ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক। দ্রুতগতির এই ইন্টারনেট সেবার আওতায় প্রথমেই আসে যশোর ও গোপালগঞ্জ জেলা। এবার পুরো সিলেট বিভাগকে এই নেটওয়ার্ক সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের (বিআইইএল) ব্র্যান্ড নেইম ওলো সিলেটে ফোর জি এলটিই নেটওয়ার্ক সেবা শুরু করতে যাচ্ছে। এখানে নেটওয়ার্ক চালুর শুরুতেই ওলো দিচ্ছে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী এলটিই সিগন্যালের প্রতিশ্রুতি।

শুরুতে সিলেটে ওয়ান বিটিএস দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী এক মাসের মধ্যে আরও দুই বিটিএস যোগ হবে কভারেজ এরিয়ায়। প্রথম পর্যায়ে সিলেট শহরের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার লোকজন এই নেটওয়ার্ক সেবা উপভোগ করতে পারবেন। তবে শুধু শহরাঞ্চলেই নয়, ওলো তার সর্বাধুনিক ফোর জি ইন্টারনেট সেবা ধীরে ধীরে বিভাগটির গ্রামগঞ্জেও পৌঁছে দেবে।

ollo 4g network

সিলেটে ওলোর যাত্রা উপলক্ষে মঙ্গলবার আয়োজন করা হয় আকর্ষণীয় এক অনুষ্ঠানের। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নিয়াজ ইসলামসহ সিলেট শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ওলো ফোর জি এলটিই একটি ইউএসআইএম নির্ভর প্রযুক্তি। ব্যবহারকারীকে তার এলটিই সমর্থিত স্মার্টফোন, ওয়াইফাই রাউটার, মডেম, ট্যাব বা একই ধরনের অন্যান্য ডিভাইসে এই সিম ব্যবহার করতে হয়। সিমটির মূল্য ৯৯৯ টাকা। এরসঙ্গে গ্রাহক বিনামূল্যে ৩০ দিনের জন্য ২০ জিবি ডাটা পাবেন।

আহমেদ মনসুর

নেটওয়ার্ক তৈরি না করায় আটকে আছে ৩০০ কোটি টাকার জামানত

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থ্রিজি নেটওয়ার্ক তৈরিতে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে ব্যাংক গ্যারান্টি হিসাবে অর্থ জামানত রাখার শর্ত বেধে দেয় বিটিআরসি। এ জন্য ৪৫০ কোটি টাকা জামানত রাখে চার অপারেটর।

এর মধ্যে শর্ত পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের আগে সারা দেশে নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়ায় শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোন ১৫০ কোটি টাকা জামানতের পুরোটাই তুলে নিয়েছে।

অন্যদিকে বাকি তিনটি মোবাইল ফোন অপারেটরের ৩’শ কোটি টাকার ব্যাংক পারফরম্যান্স গ্যারান্টি নামের এ জামানত এখনও আটকে রয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে।

টেলিকম-নেটওয়ার্ক-টেকশহর

তবে থ্রিজি নেটওয়ার্ক তৈরির ক্ষেত্রে নীতিমালায় যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে সে অনুসারে রবি, এয়ারটেল এবং বাংলালিংকের হাতে এখনও যথেষ্ট সময় আছে। ফলে এখনই ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা কাটা যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি।

গত বছর সেপ্টেম্বরে এ চার মোবাইল ফোন অপারেটর থ্রিজির লাইসেন্স পায়। তখন সাতটি বিভাগীয় শহরে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধার এ নেটওয়ার্ক নিয়ে যাওয়ার জন্য নয় মাস সময় দেয় বিটিআরসি।

দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মাসের মধ্যে বিভাগীয় জেলা বাদে আরও অন্তত ৩০ শতাংশ জেলা সদর এবং তৃতীয় ধাপে ৩৬ মাসের মধ্যে সবগুলো জেলায় থ্রিজি নেটওয়ার্ক নিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়।

আর এর প্রতিটি ধাপের জন্যে ৫০ কোটি টাকা করে ব্যাংক গ্যারান্টি রাখতে হয় প্রতিটি অপারেটরকে।

বেসরকারি অপারেটর চারটি থ্রিজির লাইসেন্স পাওয়ার নয় মাস পরে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে বিটিআরসি। তাতে দেখা যায় গ্রামীণফোন এ সময়ের মধ্যে ৬৪ জেলায় নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলেছে। ফলে তাদের ১৫০ কোটি টাকার জামানত পুরোটাই ছাড় করে দেয় কমিশন।

ওই কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে বাংলালিংক এবং রবি সাতটি বিভাগীয় জেলা বাদে ১৬টি করে জেলায় নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পেরেছে। শতাংশের হিসেবে যা ২৫ শতাংশ।

একইভাবে এয়ারটেল সাতটি বিভাগীয় জেলা বাদে আর ১৩টি জেলায় নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পেরেছে, যা মাত্র ২০ শতাংশ।

এ প্রতিবেদন অনুসারে পরের তিনটি অপারেটর কেবল নীতিমালার প্রথম ধাপ পূরণ করেছে। ফলে তাদের প্রত্যেকের ৫০ কোটি টাকা করে জামানত ছাড় করা হলেও এখনও প্রতিটির আরও একশ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে।

যদিও এর মধ্যে বাংলালিংক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছে তারা ৬৪ জেলায় নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। একটি চিঠির মাধ্যমে বিটিআরসিকে জানিয়েছেও তা।

এবার নেটওয়ার্ক সেবা দেবে গুগল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নেটওয়ার্ক ব্যবসার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে অনেকগুলো এ সেবা দিতে কাজ শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রেও পিছয়ে থাকতে চায় না সার্চ জায়ান্ট থেকে টেক জায়ান্টে পরিণত হওয়া গুগল। এবার নেটওয়ার্ক সেবা দিতে নাম লেখাচ্ছে গুগল।

গুগল অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দেয়া শুরু করেছে আগে থেকেই। তাদের নজর এখন তারবিহীন নেটওয়ার্কের দিকে।

গুগলের একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দ্রুত নেটওয়ার্ক সেবা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করবে গুগল। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিজেদের সেবায় আরও বৈচিত্রময়তা আনতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

google-wireless_techshohor

গুগল বড় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নেটওয়ার্ক কিনে তা গ্রাহকদের সরবরাহ করবে। এ জন্য গুগল বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছে।

টেক জায়ান্টটি ইতোমধ্যে ভেরিজনের ও স্প্রিন্টের মতো টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এ নেটওর্য়াক সেবা মূলত ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

এদিকে  সেবা প্রদানের জন্য স্টারবাকসের সঙ্গে চুক্তি করেছে গুগল। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাত হাজার ওয়াই-ফাই হটস্পট স্থাপন করবে জায়ান্টটি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্যান্য সেবার মতো গুগলের এ সেবাও জনপ্রিয়তা পাবে। তবে অনেক বিশ্লেষক নেটওয়ার্ক ব্যবসায় গুগলের আগমনকে ভাল চোখে দেখছেন না।

– ইয়াহু নিউজ অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

সিটিসেলের লাখো গ্রাহক নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কয়েক লাখ গ্রাহক শুক্রবার রাত থেকে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ডেটা বেজে সমস্যা হওয়ায় অপারেটরটির ১০ থেকে ১৫ শতাংশ গ্রাহক নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

তবে শনিবার সকালে তারা দাবি করেছেন সমস্যা সমাধানের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সকলে নেটওয়ার্কে ফিরে আসতে পারবেন।

citycell_techshohor

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি বকেয়া আড়াইশ কোটি টাকা পরিশোধ না করলে সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর শুক্রবার নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অনেক গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে অপারেটরটির অ্যাক্টিভ গ্রাহক সংখ্যা ১৩ লাখ ৪০ হাজার।

অপারেটরটি জানিয়েছে, ডেটাবেজ আপডেটের কাজ শেষ হলে ভুক্তভোগী সকল গ্রাহককে এসএমএস দিয়ে অসুবিধার জন্যে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়া হবে।

১৯৮৯ সালে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর হিসেবে সিটিসেল লাইসেন্স পায়। ১৯৯৩ সাল থেকে গ্রাহক সেবা দিতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দেশের সবচেয়ে পুরনো অপারেটর হলেও এটি অন্য অপারেটরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তেমন সুবিধা করতে পারেনি।

মোবাইল নেটওয়ার্কে সমস্যা বাড়াবে থ্রি জি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর প্রতিবেদক: উচ্চগতির থ্রি জির নেটওয়ার্ক তৈরির কারণে মোবাইল ফোনের গ্রাহক সেবায় হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের আশংকা বিদ্যমান টু জি প্রযুক্তির নেটওয়ার্ককে থ্রি জিতে আপগ্রেড করার সময় অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারেন। আগামী ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত গ্রাহকরা এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে নির্বিঘ্নে ভয়েস কলের সংযোগ পাওয়া, হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা কল ড্রপের পরিমাণ আগের চেয়ে বাড়তে পারে। সব মিলে ছয় থেকে নয় মাস এ অবস্থা চলতে পারে বলে বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের আশংকা।

শীর্ষস্থানীয় এক মোবাইল অপারেটরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, ঈদের মধ্যেও গ্রাহক ভোগান্তি চরমে উঠতে পারে। নেটওয়ার্কে চাপ বাড়ায় এমনিতেই প্রতি ঈদে কিছু না কিছু সমস্যা হয়। এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে থ্রি জির আপগ্রেডেশনের বিষয়টি। এ কারণে ঈদের দিন সকালে গ্রাহকরা মোবাইল কল করা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করতে পারেন।

থ্রি জি চালু করা নতুন চার মোবাইল ফোন অপারেটরের কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বলেছেন, ছয় মাস লাগবে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে। তারপর আরও তিন মাস লাগবে এর অপটিমাইজেশন করতে। এই সময় পর্যন্ত গ্রাহকদের খানিকটা সমস্যা হবে বলে জানান তারা।

network_techshohor

ইতিমধ্যে দেশের ১৮ জেলায় থ্রি জি নেটওয়ার্কের কাজ শেষ করা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, গত বছর অক্টোবরে প্রথম দিকে থ্রি জি নেটওয়ার্ক তৈরির সময় তাদের গ্রাহকরাও এমন ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। থ্রি জির নতুন চার অপারেটরকেও এ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

মুজিবুর রহমান বলেন, গ্রাহক ভোগান্তির বিষয়টি নির্ভর করছে কিভাবে তারা এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে সেটির ওপর।

লোগোতে লাল রঙের আধিক্য রয়েছে এমন একটি মোবাইল অপারেটরের এক কর্মকর্তা বলেন, ইতোমধ্যে তারা বিটিএসগুলো থেকে ১৮০০ ব্যান্ডের উপযোগী অ্যান্টিনা খুলে নিতে শুরু করেছেন। এর বদলে সেখানে যোগ করছেন ১৮০০ ও ২১০০ ব্যান্ডের উপযোগী ডুয়েল অ্যান্টিনা। এসব পরিবর্তনের সময়ে ওই এলাকাগুলোতে গ্রাহক ভোগান্তি অনেক বেশি হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যতোদিন পর্যন্ত পুরো দেশের নেটওয়ার্ক তৈরি ও আপগ্রেডেশনের কাজ শেষ না হবে ততোদিন পর্যন্ত এলাকা ভেদে কম-বেশি সমস্যা থাকবে। এর আগে অপারেটরগুলো যখন নেটওয়ার্ক সোআপ করেছে তখনও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।