ইন্টারনেটের বৃষ্টি বিলাস, বছর বছর গ্রাহকের ফাঁস

আল-আমীন দেওয়ান, টেক  শহর  কনটেন্ট কাউন্সিলর : মিরপুরের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম। বৃষ্টি এলেই মন খারাপ হয়ে যায় তার। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যে কয়েকটি কোম্পানির কাজ তিনি করেন তা তখন বন্ধ হয়ে যায়। এতে কখনও কাজটি হারান, কখনও সময় মতো কাজ দিতে পারেন না আবার ক্লায়েন্টের ভৎসনাও শোনেন।

কম্পিউটার বিভাগের এই শিক্ষার্থী জানান, বৃষ্টি আসলে বেশিভাগে সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না। কাউমি অনলাইন নামে একটি আইএসপির সেবা নিয়ে থাকেন তিনি।

শুধু মিরপুরের আশরাফুল নয় বৃষ্টিতে ইন্টারনেট নিয়ে ভোগান্তি দেশের বেশিরভাগ ব্রডব্যান্ড গ্রাহকের। একটু বৃষ্টি হলেই পালায় দেশের ব্রডব্যান্ড  ইন্টারনেট। আর বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় ইন্টারনেটের এই বৃষ্টি বিলাস হয়েছে গ্রাহকের ফাঁস।

ক্যাবল-ঝুলন্ত-তার-ঢাকা-আইএসপি-ইন্টারনেট-টেকশহর

সারাদেশে কর্পোরেট ও বাসা-বাড়ির ব্যবহারী মিলিয়ে ব্রডব্যান্ড সংযোগ আছে ৬০ লাখ। এর মধ্যে বাসা-বাড়ির সংযোগ ২৫ লাখের একটু বেশি। আবার মোট সংযোগের মধ্যে ৫০ লাখই ঢাকার।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(আইএসপিএবি) জানায়, দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহার ৪২১ জিবি। যেখানে ৩০০ জিবি ব্যবহার করে এই ব্রন্ডব্যান্ডের ৬০ লাখ গ্রাহক আর বাকি ১২০ মতো যায় টেলকোর ৬ কোটি গ্রাহকের ব্যবহারে।

বৃষ্টিতে ইন্টারনেটের এই সমস্যার কারণ জানতে গিয়ে ইন্টারনেট যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বিডিনগ বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ সাবির টেকশহরডটকমকে জানান, ‘আমাদের যে ব্রডব্যান্ড সেটা সব জায়গায় সত্যিকার অর্থে ব্রডব্যান্ড হয়ে উঠতে পারেনি। এই জন্যই অবস্থাটা হয়। যেসব সংযোগ এফটিটিএইচ, ভিকম বা ফাইবার অপটিকে একদম বাসা পর্যন্ত কানেক্টিভিটি আছে সেখানে সমস্যাগুলো হয় না।’

‘কিন্তু অধিকাংশ পাড়ায়, বাসায় বা এলাকাতে যে ব্রডব্যান্ডটা দেয়া আছে সেটা হচ্ছে ইথারনেট ক্যাবল টেনে সুইচ করে করে এক বাসা হতে আরেক বাসায় সংযোগ দেয়া। বৃষ্টি হলে এই তারগুলো ফেটে যায়, শর্ট হয়ে যায় বা সুইচবক্স শক হয়ে পুড়ে যায় তখন এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়।’

ঢাকায় কিছু এলাকার বাসায় ফাইবার সংযোগ থাকলেও ফাইবার অপটিক সংযোগ বাসা পর্যন্ত গেছে এমন সংখ্যাটা যে কম এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে উল্লেখ করেন ব্যান্ডউইথ আমদানিকারক কোম্পানি ফাইবার অ্যাট হোমের এই চিফ স্ট্রাটেজিক অফিসার।

আমাদের এই ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা এখনও ওভাবে গড়ে উঠেনি। এটি এখনও দূর্বল। তবে বৃষ্টিতে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি বলছেন।

বৃষ্টির এই ভোগান্তি হতে মুক্তি মিলবে যদি ফাইবার অপটিক ক্যাবলে সংযোগ নেয়া হয়। সুমন জানান, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে বৃষ্টির জন্য ইন্টারনেট চলে যাওয়ার কথা না। তবে বড় ঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ, সড়ক সবকিছুর মতো ইন্টারনেটেও ডিজাস্টার তো হয়ই।

দেশের ইন্টারনেট সেবা দাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি এর সভাপতি এম.এ. হাকিম টেকশহরডটকমকে জানান, ‘কেউ সংযোগ দিতে রাস্তার মধ্যে বক্স বসায়। ওখানে একটা সুইচ দিয়ে আশেপাশে ইউটিপি ক্যাবল টেনে দিচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে সেগুলো বজ্রপাতে পুড়ে যেতে পারে, বিদুৎবাহিত হয়ে কম্পিউটারের মাদারবোর্ড জ্বলে যেতে পারে বিভিন্ন সমস্যার কারণে সবাই পাওয়ার বন্ধ করে বসে থাকে। এটা টেকনোলজিক্যাল কারণ।’

‘যারা ফাইবার অপটিক ব্যবহার করে তাদের এই সুইচ বন্ধের দরকার পরে না। ফাইবার অপটিক বিদ্যুৎ পরিবাহী না। আর যারা ইউটিপি ক্যাবল কিংবা অন্য ক্যবল ব্যবহার করে যেখানে বিদ্যুৎ পরিবাহী হওয়ায় বৃষ্টি-বজ্রের সময় সেটি ব্যবহারী পর্যন্ত চলে আসে।’

সমস্যা সমাধান না হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছেন বলে জানান তিনি। বড় আইএসপিগুলোর যে সব এলাকায় সংযোগ রয়েছে সেগুলোর সর্বনিম্ন সংযোগে চার্জ ১ হাজার বার’শ। কারণ তারা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা দিয়ে নিম্ন প্যাকেজটাও আর কমে না।  আর পাড়া বা এলাকাগুলোতে স্থানীয় ছোট ছোট আইএসপিগুলো যে সংযোগ দেয় তার অফার থাকে ৫’শ টাকায় পাঁচ এমবিপিএস, তিন এমবিপিএস। এগুলো হোম ইউজারদের টার্গেট করেই চলে। তাই বাসাবাড়িতে এসব সংযোগই বেশি। যারা ফাইবার অপটিক ব্যবহার করে না এবং প্রযুক্তিটা ভাল নয়।

প্রতিযোগিতায় এই দামের পার্থক্যের কারণে একেবারে হোম ইউজার টার্গেট করে বড় আইএসপিগুলো এলাকা ও অলিগলিতে যায় না।  গ্রাহকরা কম দামের সংযোগটাই নিতে চান। তারা প্রযুক্তির বিষয়টা খুব একটা বিবেচনায় নেন না বলেন নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এই ব্যবসায়ী।

এছাড়া এলাকাভিত্তিকর মাসল পাওয়ার আরেকটা কারণ হিসেব উল্লেখ করে এম.এ হাকিম। তিন বলেন, স্থানীয়ভাবে এই ব্যবসাটা তারাই করতে চায়। এসব আইএসপির অনেকেরই লাইসেন্সও নেই। ৭০-৮০ শতাংশ অবৈধ আইএসপি। আমরা প্রায়ই বিটিআরসিকে বলি। বিটিআরসি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়, গ্রাহকদের বলে যে তাদের সংযোগ না নিতে, অবৈধ আইএসপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয় কিন্তু এর মাঝখানে এক ফাঁক থেকে যায়।’

ফাঁকটা কোথায় তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ-বিটিআরসি যখন অভিযান চালায় তখন এদের আইডেন্টিফাই করতে পারে না। কারণ লাইসেন্স থাকা কোনো কোনো আইএসপির পপ হিসেবে ওই স্থানীয় অবৈধ আইএসপিরা নিজেদের হাজির করে। আসলে এই আইএসপিগুলো ন্যাশন-ওয়াইড কিন্তু ব্যবসা কম তাদের কেউ সাপোর্ট দিচ্ছে আর মাসে কোনো ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই ওই এলায় ব্যান্ডউইথ দিয়ে ব্যবসা করে। এই অবৈধ আইএসপিরা তো ব্যান্ডউইথ পাচ্ছে, কেউ না কেউ তাদের ব্যান্ডউইথ দিচ্ছে।’

প্রতিকার নেই শুধু অভিযোগেই শেষ বৃষ্টিতে ইন্টারনেট ভোগান্তি। মিরপুর বসবাসকারী তাহমিদ অপটিমা নামে একটি আইএসপির ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করেন। তিনি জানান, বৃষ্টি আসলে ইন্টারনেট লাইন থাকে না। আজকে বৃষ্টির দিনে সারাদিনই ইন্টারনেট ছিলো না।

রাহাত রহমান জানান, আইসিসি নামে প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করেন তিনি। বৃষ্টি আসলেই ইন্টারনেট হয়ে যায় স্লো বা থাকে না। বেশিভাগ সময় বাজ পড়ার শব্দ পেলেই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়।

ফ্রিল্যান্সার মেহেলি পারভীন পান্থপথে একটি আইএসপির সংযোগ ব্যবহার করেন। সোমবার দিনভর বৃষ্টিতে তার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ। যোগাযোগ করলেও বৃষ্টি কমলে সংযোগ চালু হবে বলে তাকে তার আইএসপি জানায়। অথচ এদিন তার দুটি কাজ ডেলিভারি দিতে হবে। বাধ্য হয়ে মোবাইলে ডেটা কিনে কাজ করছেন তাও অনেক ধীর গতির ইন্টারনেটে।

কিশোরগঞ্জে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণ

টেক শহর কন্টেন্ট কাউন্সিলর : কিশোরগঞ্জের ইটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদেরকে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও আইসিটি বিজনেস প্রোমশন কাউন্সিলের আর্থিক সহায়তায় রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ অডিটরিয়ামে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের এক হাজার শিক্ষার্থী এবং  ৫০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

ISPAB-internet-Techshohor

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন চৌধুরী কামরুল হাসান।

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেসিস সভাপতি ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

কর্মশালাটি আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদেরকে কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা। সমাজের উন্নতির জন্য তাদেরকে ইন্টারনেটের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও তথ্য প্রদান করা।

আনিকা জীনাত

সাইবার নিরাপত্তায় শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নারায়নগঞ্জের একটি স্কুলে ইন্টারনেট ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের বান্টি আইডিয়াল হাই স্কুলে এই সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল।

এই স্কুলের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের জন্য ইন্টারনেট ও সাইবার নিরাপত্তার উপর সচেতনতা ও হাতে কলমে কিছু বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে এক হাজার শিক্ষার্থী এবং ৩০ জন শিক্ষক অংশ নেন।

Narayanganj-Awareness-Ispab-Techsohor

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়নগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। এ ধরনের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি আইএসপিএবি ও আইবিপিসিকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের অন্যান্য বিদ্যালয়ে এমন কর্মশালা নিয়মিত আয়োজনের আহ্বানও জানান।

আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বিদ্যালয়টিতে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের জ্ঞানের মাধ্যমে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে একজন দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বান্টি আইডিয়াল হাই স্কুলকে দুটি ল্যাপটপ কম্পিউটার উপহার দেন।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন আইএসপিএবি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন আহমেদ, ট্রেজারার  সুব্রত সরকার, আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের প্রোগ্রাম অফিসার মো. ফয়সাল খান।

কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, অপটিম্যাক্স কমিউনিকেশন লিমিটেডের পরিচালক ইকবাল বাহার জাহিদ, বিজয় কম্পিউটারের প্রধান নির্বাহী জেসমিন জুই।

ইমরান হোসেন মিলন

ইন্টারনেট যন্ত্রাংশে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি আইএসপিএবি’র

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ বা আইএসপিএবি আসন্ন বাজেটে ইন্টারনেট যন্ত্রাংশের উপর থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় তাদের করা প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আইএসপিএবি পাঁচটি দাবি সংম্বলিত বাজেট প্রস্তাব করেছে। তাদের দাবিতে বলেছে, ইনফর্মেশন টেকনোলজি এনাবল সার্ভিসেস (আইটিইএস) এর বর্তমান সংজ্ঞায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বাদ পড়ায় এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার বিপরীতে প্রযোজ্য ভ্যাট বা অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা কোম্পানিগুলোকে আইটিইএস এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

NBR_ISPAB_PREBUDGET_TECHSHOHOR

তাই সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে এই আইটিইএস এর বর্তমান সংজ্ঞায় বাদপড়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে।

বর্তমানে আইএসপিএবি প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎসে কর কর্তনের যে বিধান রাখা হয়েছে তা প্রত্যাহার এবং এনবিআর থেকে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আসন্ন বাজেটে আইএসপিএবি প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস বা বাড়িভাড়ার উপর যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে তা প্রত্যাহারেরও দাবি করেছে আইএসপিএবি।

ইন্টারনেট ইকুইপমেন্ট যেমন, মডেম, ইথারনেট ইন্টারফেইস কার্ড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সুইচ, হাব, রাউটার, সার্ভার, ব্যাটারিসহ অন্যান্য পণ্যে বর্তমানে ২২.১৬ শতাংশ ভ্যাট ও শুল্ক রয়েছে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

এছাড়াও সরকার যে ৩৫ শতাংশ কর্পোরেট ট্যাক্স রয়েছে সেটি সামনের বাজেটে আইএসপিএবি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার দাবি জানিয়ে বাজেট প্রস্তাব করেছে।

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় আইএসপিএবির প্রতিনিধিরা এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের কাছে এই বাজেট প্রস্তাব জমা দেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা বলেন, ইন্টারনেটকে সবার জন্য সহজলভ্য করতে ইন্টারনেট সম্পর্কিত পণ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমানোর বিকল্প নেই।

তাদের দেওয়া বাজেট প্রস্তাব সামনের বাজেটে প্রতিফলন ঘটবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবসায়িক ও উদ্যোক্তা বেশ কয়েকটি সংগঠন একসঙ্গে পৃথক এই বাজেট প্রস্তাব করে। যেখানে নেতৃত্বে ছিলেন বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার।

বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য (মূসকনীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. পারভেজ ইকবাল (করনীতি), মো. লুৎফর রহমান (শুল্কনীতি)।

ইমরান হোসেন মিলন

ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড়া ইন্টারনেট দিন  

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আসছে বাজেটে ভ্যাট-ট্যাক্স মুক্ত ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা, কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে তথ্যপ্রযু্ক্তি খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলো।

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ২০১৭-১৮ সালের প্রাক-বাজেট আলোচনায় আলাদা আলাদা প্রস্তাবনা জমা দেয় খাতটির সংগঠনগুলো। রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনগুলোর পক্ষে মূল বক্তব্য রাখেন দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিসের সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

সংগঠনগুলোর নেতারা ছাড়াও সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য (মূসকনীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. পারভেজ ইকবাল (করনীতি), মো. লুৎফর রহমান (শুল্কনীতি)।

মোস্তাফা জব্বার বক্তব্যে বলেন, ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড়া ইন্টারনেট দিন। ভ্যাটের কাছে মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে না।

বেসিস প্রণোদনা, কর, মূসক, শুল্ক বিষয়ে আলাদা আলাদা করে ১৫ বিষয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইন্টারনেট হতে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার। এছাড়া রয়েছে ডিজিটাল ডিভাইসের খুচরা বিক্রির ওপর কর ও ভ্যাট তুলে নেয়া। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা । তথ্যপ্রযুক্তি সেবার সংজ্ঞার সম্প্রসারণ। কম্পিউটার, ট্যাব ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের যন্ত্রাংশের ওপর কর ও ভ্যাট না থাকা।

basis.nbr

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) তাদের প্রস্তাবনায় ছয়টি বিষয়ের উল্লেখ করছে।

এতে রয়েছে কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট যাবতীয় হার্ডওয়্যার সামগ্রী আমদানি পরবর্তী পর্যায়ে সরবরাহ বা যেকোনোভাবে সরবরাহ অথবা বিক্রির উপর প্রযোজ্য মূসক হতে অব্যহতি প্রদান

কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনকারীদের প্রদত্ত মূসক অব্যাহতি সুবিধা ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহাল রাখা। ২৮ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটার মনিটর হতে শুল্ক প্রত্যাহার।

ওয়াই-ফাই,ওয়াইম্যাক্স, রাউটার, ওয়াইম্যাক্স ল্যানকার্ডসহ ইত্যাদি কম্পিউটার পণ্য হিসেবে শুল্কায়ন ।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এর প্রস্তাবনায় রয়েছে পাঁচটি বিষয়।

আইএসপি সেবা উৎস কর আওতামুক্ত করা। আইটি এনাবেল সার্ভিসের তালিকায় বাদ পড়া বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্তি।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর্পোরেট ট্যাক্স কমিটি ১৮ শতাংশ করা। ইন্টারনেট মডেম, ইথারনেট ইন্টারফেস কার্ড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সুইচ, হাব, রাউটার, সার্ভার ব্যাটারিসহ প্রযুক্তিপণ্যের ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার।

আল-আমীন দেওয়ান

ইন্টারনেটে ভ্যাট চায় না সরকারও

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটে ভ্যাট চায় না সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ ফোরাম ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স।

আর এই ভ্যাট কমাতে বা অবলোপন করা বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে টাস্কফোর্স নির্বাহী কমিটি। যেখানে বাস্তবায়নকারী হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়কেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির সভায় সদস্যরা ইন্টারনেটের বিলের উপর যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয় তা কমানো বা অবলোপন করার আলোচনা করেন। বিষয়টি উত্থাপন করেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

এ সময় সভায় উপস্থিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (বোর্ড প্রশাসন) এস এম আশফাক হুসেন জানান, ‘এ বিষয়টি ভ্যাট আইন দ্বারা নির্ধারিত। তবে নতুন ভ্যাট আইনটি ২০১৭ সালের জুলাই হতে কার্যকর হবে।’

এরপর নির্বাহী কমিটি রাজস্ব বোর্ডকে এই ভ্যাট কমানো বা অবলোপনের নির্দেশনা দেন। টাস্কফোর্সের ৭ম ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট তুলে দেয়ার দাবি সাধারণ মানুষসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের সকল ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের।

internet service providers-techshohor

দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিস-এর সভাপতি মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইন্টারনেট হচ্ছে মহাসড়ক। এই মহাসড়কে টোল থাকা উচিত নয়। জনগণের ইন্টারনেট ব্যবহারে কোনোভাবেই ভ্যাট থাকবে না। এই ভ্যাট তুলে দেয়ার দাবি দীর্ঘদিনের এবং সকলের।

এই নির্দেশনার জন্য টাস্কফোর্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন বাস্তবায়নকারীরা এর গুরুত্ব বুঝবেন আশা করছি।

অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনস অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) এর মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে জানান, ইন্টারনেট ব্যবহারের ৯৫ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধাপে ভ্যাট দেয়া হচ্ছে। যার চাপ প্রান্তিক মানুষের উপর পড়ছে। মোবাইল ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট ও ট্যাক্স রহিত করা উচিত।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এর সভাপতি এম এ হাকিম টেকশহরডটকমকে বলেন, ইন্টারনেট হতে সকল ভ্যাট-ট্যাক্স উঠিয়ে দেয়া হোক। এই দাবি দীর্ঘদিনের। যদি একান্তই ভ্যাট একেবারে তুলে না নেয়া যায় তাহলে অন্যান্য ইউটিলিটি সাভিসে যেমন নেয়া হয় ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও তেমন নেয়া হোক।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন টেকশহরডটকমকে জানান,  আউটসোর্সিং সেবার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইন্টারনেট। এখন এই ইন্টারনেট কিনতে হচ্ছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে আর ক্লায়েন্টের কাছে সেবা হিসেবে নিতে পারছি সাড়ে ৪ শতাংশ। মওকুফ করলে খুবই ভাল কিন্তু যদি তা না হয় তাহলে এটা অন্তত সাড়ে ৪ শতাংশ করা হোক।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর পরিচালক শাহিদ-উল-মুনীর টেকশহরডটকমকে জানান, ইন্টারনেটের ভ্যাট মুক্তের দাবির বিকল্প নেই। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে এই ইন্টারনেটের ভ্যাট অনেককিছুর খরচ বাড়িয়ে দেয়। এটি থাকা উচিত নয়।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর সভাপতি রাজীব আহমেদ টেকশহরডটকমকে জানান, ই-কমার্স খাতের অন্যতম ভিত্তি হল এই ইন্টারনেট। সেখানে ভ্যাট একটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই আছে। এটি তুলে নিলে ই-কমার্সের সম্প্রসারণ দ্রুতগতির হবে।

আইএসপিএবির সভাপতি হাকিম, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(আইএসপিএবি) এর নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এম.এ. হাকিম এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক। তারা ২০১৭-১৯ কার্যমেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়াও নবনির্বাচিত পরিষদের সাধারণ সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন লিঙ্ক থ্রি টেকনোলজিস লিমিটেডের এফ.এম. রাশেদ আমিন।

President & General Secretary

২০১৭-১৯ মেয়াদের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কার্যনির্বাহী পরিষদের সাত সদস্য নির্বাচিত হয়।

এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে গঠিত আইএসপিএবি নির্বাচন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন পরিচালিত হয়। এ সময় নির্বাচন বোর্ডের সদস্য হাজী হাফেজ হারুন ও মো. আবুল খায়ের এবং আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ভরসা, প্রকাশ কান্তি দাস ও মো. বরকাতুল আলম নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও দুই বছরের জন্য মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেডের মঈন উদ্দিন আহমেদ সহ-সাধারণ সম্পাদক, আলো কমিউনিকেশনস লিমিটেডের সুব্রত সরকার শুভ্র কোষাধ্যক্ষ, এডিএন টেলিকম লিমিটেডের খন্দকার মোহাম্মদ আরিফ ও রেস অনলাইন লিমিটেডের পরিচালক মো. কামাল হোসেন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।

ইমরান হোসেন মিলন

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে চাই যথাযথ আইন’

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সাইবার আক্রমণের হুমকি এবং পরিমাণ। যা দেশের আর্থিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। এই হুমকি মোকাবেলায় আমাদের সচেতন হতে হবে। জানতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হুমকি ঠেকাতে হবে। এজন্য খাতটিতে দক্ষ জনবল তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর ফকির ফিরোজ আহমেদ।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সাইবার ও নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা’ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন।

আইএসপিএবি এবং আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের আর্থিক সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি শুরু হয়েছে সকালে।

ISPAB-Cyber sucurity-TECHSHOHOR

কর্মশালায় বিভিন্ন আইএসপি, আইআইজি, পুলিশ, সিআইডি, ডিবি, পিবিআই, ডিএমপি, বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন ব্যাংক, বিটিআরসিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রায় ৬৫ জন নেটওয়ার্ক ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার। তবে কার্যক্রমের গতি আরও দ্রুততর করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুততম প্রতিকারের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বেসিস সভাপতি আরও বলেন, বেসরকারি পর্যায় থেকে তারাও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তবে দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ আইন নেই। তাই প্রথমত আইনের সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তৈরি করতে হবে সামাজিক সচেতনতা।

বাংলাদেশের অনেক প্রশিক্ষক আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গণে সফলতার সাথে অবদান রেখে চলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রে তাদেরকে কাজে লাগাতে হবে। এই ধরনের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের আরও বেশি দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, আইএসপিএবি’র সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান মঞ্জু ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) সভাপতি আহমাদুল হক ববি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএসপিএবি সভাপতি এমএ হাকিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদুল হক। সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন অপটিম্যাক্স কমিউনিকেশনস লি. পরিচালক ইকবাল বাহার জাহিদ।

তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য তথ্য প্রযুক্তিবিদ অ্যাপনিকের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফখরুল আলম, বিডিকম অনলাইন লিমিটেডের জিএম জিজেড কবির এবং অ্যাম্বার আইটি লিমিটেডের সিস্টেম এজিএম সুমন কুমার।

ইমরান হোসেন মিলন

ইন্টারনেটে ধীর গতি, স্বাভাবিক হতে মাসখানেক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশে গত কিছুদিন হতেই ইন্টারনেটের গতি ধীর। আর এই ধীর গতি স্বাভাবিক হতে অপেক্ষা করতে হবে জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত।

আইটুআই ও টাটা ইনডিকম ক্যাবল (টিআইসি) নামে দুটি সাবমেরিন ক্যাবল এবং ইন্ডিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ (আইএমইডব্লিউ) সংযুক্ত উচ্চ ক্ষমতার ফাইবার অপটিক ক্যাবল অকেজো হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়ে যায়।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) এর সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদুল হক টেকশহরডটকমকে জানান, এসব ক্যাবল ঠিক হয়ে ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক হতে মাসখানেক সময় লেগে যেতে পারে।

আইএসপিএবি জানায়, দেশে বর্তমানে দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএস অতিক্রম করেছে। এই ৪০০ জিবিপিএসের মধ্যে ১২০ জিবিপিএস আসে বিএসসিসিএলের মাধ্যমে। বাকি ২৮০ জিবিপিএস ব্যবহৃত ইন্টারনেট আইটিসি ব্যান্ডউইথ যা ভারত থেকে আমদানি করা হয়।

দেশে মোট ব্যান্ডউইথের ৭৫ শতাংশের বেশি ইন্টারনেট আইটিসি দিয়েই আসে। ভারত হতে টাটা কমিউনিকেশন ও ভারতী এয়ারটেল বাংলাদেশে আইটিসি ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে।

internet.techshohor

আইটুআই সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারত যুক্ত। এই ক্যাবলের মালিকানায় রয়েছে ভারতের ভারতি এয়ারটেল লিমিটেড। এই ক্যাবলে ৮ জোড়া ফাইবার রয়েছে যার মধ্য দিয়ে ৮ দশমিক ৪ টেরাবাইট/সেকেন্ড ব্যান্ডউইথ সঞ্চালন সম্ভব। কিন্তু গত ১৩ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ের সমুদ্রতীর হতে ৪০ কিলোমিটার দূরে ক্যাবলটি কাটা পড়ে।

টাটা ইনডিকম ক্যাবল (টিআইসি) ক্যাবলেও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারত সংযুক্ত রয়েছে। এটি টাটা ইনডিকম ইন্ডিয়া-সিঙ্গাপুর ক্যাবল সিস্টেম (টিআইআইএসসিএস) নামেও পরিচিত।

৩ হাজার ১৭৫ কিলোমিটাল দীর্ঘ এই ক্যাবলটি ভারতের চেন্নাই ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে সংযোগ করেছে। এটিতেও ৮ জোড়া ফাইবার রয়েছে যা ৬৪*১০ জিবিপিএস টেকনোলজিতে তৈরি। এটি ৫ দশমিক ১২ টেরাবাইট/সেকেন্ড ব্যান্ডউইথ পরিবহনে সক্ষম। এটির শতভাগ মালিকানা টাটা কমিউনিকেশন্সের। বুধবার (৪ জানুয়ারি) রাতে এটিও অকেজো হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে ইন্ডিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ (আইএমইডব্লিউই) ক্যাবল অকেজো হয়ে যায়। এটি দিয়ে ভারত মধ্যপ্রাচ্যের মধ্য দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত।

আইএসপিএবি সাধারণ সম্পাদক জানান, এসব ক্যাবল মেরামত সময়সাপেক্ষ। আইএমইডব্লিউই চলতি সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। আইটুআই ক্যাবল ঠিক হওয়ার কথা আগামী ২০ জানুয়ারি। আর টিআইসি ক্যাবলের বিষয়ে কোনো আপডেট এখনও জানানো হয়নি।

আল-আমীন দেওয়ান

টেলিকম ব্লাকআউটের মহড়া চলবে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সব ধরনের টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধের মহড়া ভবিষ্যতেও চলবে। এটিকে চলমান প্রক্রিয়া বলছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বুধবার বিটিআরসিতে দেশে অপটিক্যাল ফাইবারের নেটওয়ার্কের ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি নিয়ে এক সংবাদ সংম্মেলনে সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, ভবিষ্যতেও এমন মহড়া হবে।

ছুটির দিনে এই মহড়া হবে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিব খান বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। গ্রাহকের কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য এই মহড়া হবে রাতে।

মহড়া পরিচালনার প্রধান এই কর্মকর্তা বলেন, এমন মহড়া আরও আগে করা উচিত ছিল। নিজেদের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এই মহড়ার প্রয়োজন রয়েছে।

no network

গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীতে সব ধরনের টেলিযোগাযোগ সেবা সাময়িক বিচ্ছিন্নের মহড়া দেয় বিটিআরসি। রাত ১টা হতে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ওই মহড়া হয়েছে বলে জানান আহসান হাবিব খান।

তবে কোন এলাকায় এই মহড়া চলানো হয়েছে তা জানাননি তিনি। জানা গেছে, ওই দিন রমনা এলাকায় মহড়া হয়েছে। ওইদিন শুরুতে মোবাইল ফোন অপারেটররা ভয়েস সার্ভিস সেবা বন্ধের মহড়া দেয়। সঙ্গে ইন্টারনেট কনটেন্ট বন্ধে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাও দেখা হয়।

এই মহড়া চলাকালে হাসপাতাল, ফায়ারসার্ভিসসহ অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে এমন স্থাপনা এড়িয়ে চলা হবে।। ২০ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য এ মহড়া দেওয়া হবে।

মহড়ার সময় নির্দিষ্ট ওই এলাকায় মোবাইল ফোন কাজ করবে না। সব ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ বা ল্যান্ডফোনও সে সময়ে অকার্যকর থাকবে।

হলি আর্টিসান রেস্তোরায় ১ জুলাই জঙ্গী হামলার সময় গুলশানে ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করতে বেশ বেগ পোহাতে হয়। সেদিন পুরোপুরি সংযোগও বন্ধ করা সম্ভব হয়নি বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ।

আল-আমীন দেওয়ান

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে : পলক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশবাসীকে যেকোনো ধরনের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বুধবার রাজধানীর গুলশানে সাইবার ‘সিকিউরিটি ও নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এ আহ্বান জানান তিনি।

দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল। বুধবার সকাল ১০টায় এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি এবং আক্রমণের ঘটনা। তাই যেকোনো ধরণের সাইবার আক্রমণ মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এ সময় তিনি এমন একটি কার্যকরী কর্মশালা আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

Photo

তিনি আরও বলেন, আইএসপিএবি এবং তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে দক্ষ তথ্য প্রযুক্তিবিদ গড়ে তুলতে পারে। এ সময় তিনি ২০০ জন তথ্য প্রযুক্তিবিদকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য আইএসপিএবিকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন।

আইএসপিএবির প্রেসিডেন্ট এমএ হাকিমের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর ফকির ফিরোজ আহমেদ, সম্মানিত অতিথি ছিলেন আইএসপিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট আখতারুজ্জামান মঞ্জু। আরও উপস্থিত ছিলেন আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক, কোষাধ্যক্ষ সুব্রত সরকার শুভ্র, গাজী জিহাদুল কবির প্রমুখ।

Photo

দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নেটওয়ার্ক কীভাবে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখা যায় সে সম্পর্কে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পুলিশ, সিআইডি, এসবি, ডিবি ডিজিএফআই, এনএসআই, পিবিআই, বিভিন্ন ব্যাংক, বিটিআরসিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০ জন নেটওয়ার্ক ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এতে অংশ নিয়েছেন।

শামীম রাহমান

আরও পড়ুন: