বিটিআরসির নির্দেশনা মানেনি রবি-এয়ারটেল, ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আন্ত:সংযোগ অপারেটর বা আইসিএক্সের মধ্য দিয়ে কল যাওয়া সংক্রান্ত বিটিআরসির নির্দেশনা মানেনি রবি-এয়ারটেল।

প্রায় চার মাস আগে বিটিআরসির দেয়া নির্দেশনায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইসিএক্সের মাধ্যমে আন্ত:অপারেটর ডমস্টিক অফ-নেট কল আদান-প্রদানের জন্য বলা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত আপারেটর দুটি সে নির্দেশনা মানেনি।

ওই দিন রবি ও এয়ারটেলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একই চিঠি পৃথকভাবে দেয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘রবি ও এয়ারটেলের একীভূতকরণে বিটিআরসি ২১টি শর্ত দিয়েছিল।’

‘সেই শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম সম্পাদন করে কোম্পানি একীভূতকরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা/কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করে তার কাগজপত্র কমিশনে দাখিল করা হলে কমিশন হতে ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ জারি করা হবে। কিন্তু উক্ত শর্তের মধ্যে কিছু শর্ত এখনও প্রতিপালিত না হওয়ায় রবিকে তা দেয়া হয়নি।’

‘ফলে এয়ারটেল ও রবি কোম্পানিদ্বয় একীভূত হলেও উভয় কোম্পানির অনুকুলে কমিশন হতে ইস্যুকৃত লাইসেন্সসমূহ বা তার শর্তসমূহ একীভূত হয়নি। একই কারণে বর্তমানে কমিশনের অনুমতি ব্যতিত রবি ও এয়ারটেলের অন্ত:অপারেটর কলসমূহ অন-নেট কল হিসেবে পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।’

robi-airtel-techshohor

ব্যাখ্যা চাওয়ার নোটিশে ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বরে সংস্থাটির নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠির উল্লেখ করে বলা হয়, ‘সেখানে আইসিএক্সের মাধ্যমে আন্ত:অপারেটর ডমস্টিক অফ-নেট কল আদান-প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানদ্বয় হতে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’

চিঠিতে মার্জার লাইসেন্স ইস্যু হওয়ার আগে কমিশনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রবি ও এয়ারটেলের ডমস্টিক অফ-নেট কল কেনো আইসিএক্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে না তার ব্যাখ্যা জানাতে ১২ মার্চ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে আন্ত:সংযোগ অপারেটর বা আইসিএক্স হতে  অভিযোগ দেয়া হয়। যেদিন রবি এবং এয়ারটেল অফিস অব দ্যা রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস থেকে অনুমোদন পেয়েছে সেদিন থেকেই এক সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে রবি-এয়ারটেল।

ফলে ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর রাত তিনটার পর হতে রবি থেকে এয়ারটেল বা এয়ারটেলে থেকে রবিতে কল করার ক্ষেত্রে আইসিএক্সের মধ্য দিয়ে কল যাওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা এড়িয়ে নিজেরাই সরাসরি ০১৮ থেকে ০১৬ বা ০১৬ থেকে ০১৮ নম্বরে কল করা শুরু করে দেয়।

কারিগরি একীভূতকরণের চূাড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পূর্বেই এই কাজ করায় একসঙ্গে আইসিএক্স অপারেটররা এবং সরকারও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকে। যার পরিমাণ দিনে ছয় লাখ টাকার মতো।

আল-আমীন দেওয়ান

রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণ এখনও সম্পন্ন হয়নি!

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রবি-এয়ারটেলের কারিগরি একীভূতকরণ সম্পন্ন হয়নি বলে বলছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন বিটিআরসি।

অথচ অপারেটর দুটি গত ১৭ নভেম্বর হতে একসঙ্গে ব্যবসা শুরু করেছে। বিটিআরসি’র কাছ হতে কারিগরি একীভূতকরণের কোনো সার্টিফিকেট এখনও নেয়নি তারা।

গত ২৪ নভেম্বর রবিকে লেখা এক চিঠিতে এ বিষয়টি উল্লেখ করে বিটিআরসি বলছে, এক্ষেত্রে বিটিআরসি দুই কোম্পানিকে যে শর্ত দিয়েছিল তার সবটাই প্রতিপালনের পর বিটিআরসিকে অবহিত করে একটি কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।  কিন্তু সেসব প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। এমনকি ‘অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স’ও জারি করা হয়নি।

সম্প্রতি বিষয়টি সামনে এসেছে আন্ত:সংযোগ অপারেটর বা আইসিএক্সদের একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে। যেদিন রবি এবং এয়ারটেল অফিস অব দ্যা রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস থেকে অনুমোদন পেয়েছে সেদিন থেকেই এক সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে রবি-এয়ারটেল।

ফলে ১৭ নভেম্বর রাত তিনটার পর হতে রবি থেকে এয়ারটেল বা এয়ারটেলে থেকে রবিতে কল করার ক্ষেত্রে আইসিএক্সের মধ্য দিয়ে কল যাওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা এড়িয়ে নিজেরাই সরাসরি ০১৮ থেকে ০১৬ বা ০১৬ থেকে ০১৮ নম্বরে কল করা শুরু করে দেয়।

কারিগরি একীভূতকরণের চূাড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পূর্বেই এই কাজ করায় একসঙ্গে আইসিএক্স অপারেটররা এবং সরকারও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকে। যার পরিমাণ দিনে ছয় লাখ টাকার মতো।

Robi-Airtel-Robi-Techshohor

বিষয়টি ১৮ নভেম্বর আইসিএক্স এসোসিয়েশন বিটিআরসি’র দৃষ্টিতে আনে। তার প্রেক্ষিতে বিটিআরসি রবিকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি’র শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা। সব কিছু প্রমাণিত হলে রবি জরিমানা বা অন্য কোনো শাস্তির মুখে পড়তে পারে বলেও বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চিঠিতে বিটিআরসি বলছে, গত ২৬ অক্টোবর মোট ২১টি শর্ত দিয়ে রবি এবং এয়ারটেলের একীভূতকরণে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বলে দেওয়া হয়েছে যে এক মাসের মধ্যে এই শর্ত প্রতিপালনের বিষয়টি বিটিআরসিকে অবহিত করতে হবে।

সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কাছ থেকে যথাযথ অনুমোদনের পর বিটিআরসি’র কাছে আবেদন করলে বিটিআরসি ‘অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স’ জারি করবে মর্মে জানানো হয়, যা আবারও ২৪ নভেম্বরের চিঠিতেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু এর মধ্যে এক মাস হয়ে গেলেও রবি শর্তপূরণ করে বিটিআরসিকে অবহিত করেনি। তবে শর্ত পূরণের বেশ কিছু কাজ তারা করেছে বলে জানা গেছে।

শর্ত পূরণের মধ্যে স্পেকট্রাম চার্জ এবং একীভূতকরণ ফি হিসেবে ৪০৭ কোটি টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু রবি এর মধ্যে মাত্র ৩১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা পরিশোধ করে বলছে তারা তাদের টাকা দিয়ে দিয়েছেন।

ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও জটিলতা বাঁধতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

হাজারো কোটি টাকা আদায়ে পিছিয়ে বিটিআরসি

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিভিন্ন অপারেটরের কাছে হাজার হাজার কোটি টাকা বাকি পড়ে থাকলেও বিটিআরসি তা সহজে আদায় করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে অপারেটরগুলোর কাছে এক রকম অসহায় হয়ে পড়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অপারেটরের কাছে পাওনার পরিমান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৪৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার বকেয়া হিসাব রয়েছে যেগুলোর কোনো নিস্পত্তি হয়নি।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিপুল এ অর্থ আদায়ে তারা জোরেশোরে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ জন্য উকিল নোটিশসহ মামলা মোকদ্দমা করার প্রস্তুতিও সম্পন্ন করছেন তারা।

BTRC income-TechShohor

গত সপ্তাহে কমিশনের এক বৈঠকে এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের অপারেটরের কাছ থেকে টাকা আদায়ে সময় বেঁধে দিয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিটিআরসির সচিব মো. সারওয়ার আলম।

ওই কর্মকর্তা জানান, বকেয়া আদায়ের জন্য বিটিআরসি সোচ্চার রয়েছে। এক্ষেত্রে তারা মূলত পাবলিক ফান্ড রিকভারি অ্যাক্টে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জানা গেছে, বকেয়া অর্থের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুই পাওনা রয়েছে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির কাছে। বিটিসিএলের কাছে ১ হাজার ৬৫৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং টেলিটকের কাছে থ্রিজি স্পেকট্রামের অর্থসহ ১ হাজার ৫৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

আর বেসরকারি অপারেটরগুলোর মধ্যে বকেয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে যথারীতি আইজিডব্লিউ। এ খাতের বিভিন্ন অপারেটরের কাছে দীর্ঘদিনের পাওনা ৮৯১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ছয়টি অপারেটর সরকারকে রেভিনিউ শেয়ারিং বা লাইসেন্স ফি না দিয়েই ৬৮৮ কোটি টাকা বাকি রেখে লাপাত্তা হয়ে গেছে।

অন্যদিকে আন্ত:সংযোগ এক্সচেঞ্জগুলোর কাছে বকেয়া ৭৪৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং ইন্টারন্যাশনল ইন্টারনেট গেটওয়ের কাছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

এর বাইরে সিটিসেলের কাছে ২৭৪ কোটি ৬৭ লাখ এবং ওয়াইম্যাক্স অপারেটর বাংলালায়নের কাছে ৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা পাবে বিটিআরসি।

তাছাড়া বেসরকারি ল্যান্ডফোন অপারেটরগুলোর কাছে ৩৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা পাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এর বাইরে শতশত ভিএসপি অপারেটর এবং আইএসপি অপারেটরগুলোর কাছেও কোটি কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে এগুলোর সুনির্দিষ্ট হিসাব চূড়ান্ত হয়নি।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি এ বকেয়া হিসাবে গ্রামীণফোনের তিন হাজার কোটি টাকা ধরা হয়নি।

২০১১ সালে গ্রামীণফোনে অডিট করে ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা পাওনা দাবি করে কমিশন। বিষয়টি আদালতে নিস্পত্তি না হওয়ায় তা হিসাবে অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি।

তাছাড়া গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং সিটিসেলের কাছে ভ্যাট হিসেবেও বিটিআরসি কয়েকশ কোটি টাকা দাবি করলে অপারেটরগুলো এ বিষয়ে আবারও উচ্চ আদালতে যায়। এ মামলাটি এখনও অনিস্পন্ন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক কল আনবে ৭ আইজিডব্লিউর জোট

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে আসা আন্তর্জাতিক ভয়েস কল এখন থেকে শুধু সাত আইজিডব্লিউর মাধ্যমে আনার একটি প্রক্রিয়া চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

একই সঙ্গে ‘নেটওয়ার্ক ট্রপোলজি’ নামের এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সব অপারেটরকে বিদেশ থেকে সব আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল আনতে হবে। সাত আইজিডব্লিউর এ জোটের মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে সব কল আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স ও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে এ সময়ের মধ্যে নতুন এ নিয়ম মেনে কলের রুট নির্ধারণসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলে নির্দেশনা্য় উল্লেখ করা হয়েছে।

IGW-image_techshohor

বর্তমানে দেশে ২৯টি আইজিডব্লিউ লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি আইজিডব্লিউকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ ‘নেটওয়ার্ক ট্রপোলজি’। নতুন নিয়মে বিদেশ থেকে যত কল আসবে সেগুলোর সবই আসবে এ সাত অপারেটরের মাধ্যমে। এতে করে কোনো আইজিডব্লিউ কোনো কল আনলে সেটিও ওই সাত আইজিডব্লিউর মাধ্যমে আনতে হবে।

এ সাত প্রতিষ্ঠান হলো- ইউনিক ইনফোওয়ে, ডিজিকন টেলিকমিউনিকেশন্স, রুটস কমিউনিকেশন্স, গ্লোবাল ভয়েস, মীর টেলিকম, বাংলা ট্র্যাক ও নভো টেলিকম।
বর্তমানে দেশে বৈধ বিদেশি কল আসে মূলত আন্তর্জাতিক গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) মাধ্যমে। আর পরে সেটি আন্তসংযোগ এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) হয়ে কোনো মোবাইল বা ল্যান্ডফোন অপারেটরের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়।

বিটিআরসি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কোটি মিনিটের আন্তর্জাতিক কলের বাজার রয়েছে।

এ কল আদান-প্রদান প্রক্রিয়ায় সবগুলো অপারেটরের মধ্যে রাজস্ব (রেভিনিউ) ভাগাভাগি হয়। নতুন নিয়মে এ সাত আইজিডব্লিউ অপারেটর অন্যগুলোর চেয়ে অনেক বেশি রাজস্ব পাবে। ভাগাভাগির এ অনুপাত হবে ১:১.৯। এতে সাত অপারেটর অন্যগুলোর চেয়ে অনেক বেশি আয় করবে।

toll free call_techshohor

তা ছাড়া ছয় মাস আগে সরকার আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের প্রতি মিনিটের টার্মিনেশন রেট তিন সেন্ট থেকে কমিয়ে দেড় সেন্ট করে দিয়েছে। ফলে এ সাত আইজিডব্লিউ নিজেদের মধ্যে সিন্ডেকেট করে অনেক বেশি দামে কল আনলেও সরকারকে বা অন্য সকলকে তা শেয়ার করবে দেড় সেন্ট হিসেবেই।

আর এখানেই প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকা বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। সব মিলে বছরে এ পন্থায় বেশ বড় অংকের আয় করা সম্ভব বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতিমধ্যে কয়েকটি আইজিডব্লিউ এর বিরোধিতা করলেও প্রভাবশালী এসব অপারেটরগুলোর কর্তাব্যক্তিদের চাপে তা টেকেনি।

এর আগে ২০১২ সালে পাকিস্তানেও একই পন্থায় সিন্ডিকেশন করা হয়েছিল। এ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

এক পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো কল দেশটিতে যেতে দিচ্ছিল না। কারণ পাকিস্তানেও কয়েকটি আইজিডব্লিউ অপারেটর আন্তর্জাতিক ক্লিয়ারিং হাউজ প্রতিষ্ঠা করে ইনকামিং কলের টার্মিনেশ রেট এক সেন্ট নির্ধারণ করলেও সেগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে কল আনছিল আট থেকে দশ সেন্ট রেটে। আবার ক্লিয়ারিং হাউজের কারণে বিদেশিরা বাধ্য হয়ে ওই নির্ধারিত রেটেই কল দিতে বাধ্য হচ্ছিল।

পরে গতবছর জুনে পাকিস্তানের উচ্চ আদালত এ আন্তর্জাতিক ক্লিয়ারিং হাউজকে অবৈধ ঘোষণা করলে সরকার ওই নির্দেশনা স্থগিত করে।

প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বিটিআরসির মিথ্যাচার!

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আন্তর্জাতিক টেলিফোন কলের টার্মিনেশন রেট প্রতি মিনিটে তিন থেকে নামিয়ে দেড় সেন্ট করার নতুন প্রস্তাব দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নতুন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্যে বেশ কিছু মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্যও দিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

এর আগে একবার বিটিআরসি বলেছিল, টার্মিনেশন রেট কমালে সরকারের ১ হাজার ৭৩ কোটি টাকার লোকসান হবে। তখন ফেব্রুয়ারিতে অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব ফেরত পাঠায়। আর এখন মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে বিটিআরসি আবার সেই একই প্রস্তাব নতুন করে পাঠিয়েছে। যেখানে তারা বলছে, সরকারের উল্টো পৌনে দুইশ কোটি টাকা লাভ হবে।

BTRC income-TechShohor

এই মিথ্য প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তারা তথ্য জালিয়াতি করেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কেউ কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

বর্তমানে আইজিডব্লিউগুলো প্রতি মিনিটের কল দেশে আনে তিন সেন্ট রেটে। বিটিআরসি এটি দেড় সেন্ট করার পক্ষে গত কিছু দিন থেকে প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান নিয়মটি চালু হয় ২০০৮ সালে একটি উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে। কিন্তু নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এটি পরিবর্তন করতে চাইছে। আইনজ্ঞরা বলছেন, উন্মুক্ত নিলামের ফল নির্বাহী আদেশে বদলানো যায় না।

বিদ্যমান নিয়ম অনুসারে, তিন সেন্টের ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পায় সরকার। ১৫ শতাংশ পায় আন্ত:সংযোগ অপারেটর (আইসিএক্স), ২০ শতাংশ পায় মোবাইল বা ল্যান্ডফোন অপারেটর যেখানে শেষ পর্যন্ত কলটি যায়। আর বাকি ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পায় আইজিডব্লিউ অপারেটর।

কিন্তু টার্মিনেশন রেট ৩ সেন্ট থেকে দেড় সেন্টে নামিয়ে আনতে গিয়ে রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের এই কাঠামোও ভাঙার প্রস্তাব করেছে বিটিআরসি।

নতুন প্রস্তাব অনুসারে, সরকার পাবে ৪০ শতাংশ। ১৮ শতাংশ পাবে আইসিএক্স অপারেটর, মোবাইল বা ল্যান্ডফোন অপারেটর পাবে ২২ শতাংশ আর আইজিডব্লিউ পাবে ২০ শতাংশ।

এই প্রস্তাবকে জায়েজ করতে বিটিআরসি বলছে, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন সাড়ে তিন কোটি মিনিটের বৈধ কল আসে এবং টার্মিনেশন রেট কমিয়ে দেওয়া হলে তা নয় কোটি মিনিটে পৌছবে। ফলে সরকারের কোনও লোকসান হবেই না বরং আরও দুইশ কোটি টাকা বেশি আয় হবে।

সূত্র জানিয়েছে, বিটিআরসি এখানে মিথ্যাচার করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন বৈধ পথে বিদেশ থেকে টেলিফোন কল আসে ছয় কোটি মিনিট। কিন্তু তারা এটি প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে উল্লেখ করছে।

বিটিআরসি’র প্রতিবেদন অনুসারে, এপ্রিলে বৈধ কল ছিল গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ৭০ লাখ মিনিট। মার্চে তা ছিল গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ৯০ লাখ মিনিট। ফেব্রুয়ারিতে তা ছিল ৫ কোটি ৫ লাখ মিনিট।

আবার গত এক বছরে কখনোই গড় কল ৫ কোটি মিনিটের নীচে নামেনি।

বিটিআরসি সরকারের কাছে প্রতি মাসেই বৈধ পথে আসা আন্তর্জাতিক টেলিফোন কলের হিসেব পাঠায়। সেসব প্রতিবেদন যাচাই বাছাই করে বা গত কয়েক বছরের বিটিআরসি বার্ষিক প্রতিবেদনেও দেখা গেছে ২০১২ সালের ডিসেম্বরের পরে আর কখনোই ইনকামিং টেলিফোন কল চার কোটি মিনিটের নীচে নামেনি।
সর্বশেষ তিন মাসেও প্রতিদিন বৈধপথে দেশে আসা ফোন কলের পরিমাণ ছয় কোটি মিনিটের ওপরে।

বিটিআরসি’র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, এটি মিথ্যা তথ্য। কিন্তু তাদের কেউ এ বিষয়ে মুখ খুঁলতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, তাদেরকে যেভাবে প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে তারা সেভাবেই তৈরি করেছেন।

এদিকে, গত দুই দিন আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্যে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসের অফিসে গিয়ে বসে থাকলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে একসময় দেশে ৮ সেন্টে ফোন কল আসতো। পরে সেটি ছয় সেন্ট করা হয়। আর ২০০৮ সালে নিলামের সময় টার্মিনেশন রেট নামিয়ে ৩ সেন্ট করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মালদ্বীপে প্রতি মিনিটের টার্মিনেশন রেট ২৫ সেন্ট। নেপালে সাড়ে নয় সেন্ট, শ্রীলংকায় ৯ সেন্ট এবং পাকিস্তানে সম্প্রতি টার্মিনেশন রেট বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৮ সেন্টে উন্নীত করা হয়েছে।

কিন্তু এখানেও তথ্য লুকিয়ে বিটিআরসি বলছে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এই রেট ১ সেন্ট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তথ্য সঠিক।

আট আইজিডব্লিউর বিরুদ্ধে জিপির মামলা

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আটটি আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটরের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে মামলা করেছে। এসব অপারেটরের কাছে শীর্ষ মোবাইল অপারেটরটির মোট পাওনার পরিমাণ ৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

আইজিডব্লিউগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এবং বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের মালিকাধীন কোম্পানিও রয়েছে।

এ আইজিডব্লিউগুলোর কাছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনও (বিটিআরসি) প্রায় ৬১৩ কোটি টাকা পাবে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে চারটি অপারেটরের বিরুদ্ধে কমিশনও মামলা করেছে।

grameenphone_techshohor

এসব আইজিডব্লিউ অপারেটরগুলোর কাছে অন্যান্য মোবাইল ফোন অপারেটররাও আরও প্রায় শতাধিক কোটি টাকা পাবে। তা ছাড়া আইসিএক্স অপারেটরগুলোও তাদের কাছে টাকা পাবে।

জানা গেছে, গ্রামীণফোন গত সপ্তাহে সাতটি এবং চলতি সপ্তাহে আরেকটি আইজিডব্লিউর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলা করার আগে বিষয়টি বিটিআরসিকে অবহিত করেছে টেলিকম অপারেটরটির কর্মকর্তারা।

আইজিডব্লিউগুলো মূলত প্রতি মিনিটে তিন সেন্ট হিসেবে বিদেশ থেকে কল আনে এবং সেগুলো আন্তসংযোগ এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) হয়ে মোবাইল বা ল্যান্ডফোন অপারেটরের গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপে ওই তিন সেন্ট ভাগাভাগি হয়।

২০০৮ সালের নিলাম অনুসারে ওই তিন সেন্টের মধ্যে ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পায় বিটিআরসি। আইজিডব্লিউগুলো পায় ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। আইসিএক্স পায় ১৫ শতাংশ এবং বাকি ২০ শতাংশ পায় মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

আটটি আইজিডব্লিউর কাছে ওই ২০ শতাংশ জমা হয়ে গ্রামীণফোনের পাওনা প্রায় ৮৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সূত্র।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হকের কোম্পানির কাছে গ্রামীনফোনের পাওনা এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নানকের মেয়ে এবং স্ত্রীর নামে থাকা রাতুল টেলিকমের কাছে পাওনা ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসানের কোম্পানি কে টেলিকমের কাছে পাওনা ১৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের মেয়ের নামে এক সময় ভিশন টেলিকমের মালিকানা থাকলেও এখন সেখান থেকে তিনি নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ওই কোম্পানির কাছে গ্রামীণফোনের পাওনা ২০ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

মামলা দায়ের করা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এসএম কমিউনিকেশন্সের কাছে সাড়ে তিন কোটি, বেস্টটেকের কাছে ১৩ কোটি ৪৯ লাখ, অ্যাপল গ্লোবাল টেলকমের মাছে ৯ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং টেলেক্স লিমিটেডের কাছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে ভিশন টেল, কে কমিউনিকেশন্স, টেলেক্স এবং বেস্টটেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিটিআরসি।

প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যক্রম বন্ধ রেখে অনেক কোম্পানি ইতোমধ্যে লাপাত্তা হয়ে গেছে। ফলে টাকা পাওয়ার বিষয়টি এখন অনেকটাই অসম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে।

বছরে সরকারের ক্ষতি ১৩৪ কোটি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে সরকার দুই ধরনের গেটওয়ে অপারেটরের লাইসেন্স নবায়ন ফি অর্ধেক কমিয়ে দিল। এতে বছরে সরকারের ক্ষতি হবে ১৩৪ কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) লাইসেন্স নবায়ন ফি বছরে সাত কোটি থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা এবং আন্তসংযোগ এক্সচেঞ্জের (আইসিএক্স) ফি আড়াই কোটি থেকে এক কোটি ২৫ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। ২০০৮ সালে প্রথমবার লাইসেন্স নবায়ন ফি ঠিক করা হয়েছিল।

IGW_ICX_BTRC_TechShohor

অর্থমন্ত্রণালয় মঙ্গলবার লাইসেন্স নবায়ন ফি কমানোর এ সিদ্ধান্তের কথা টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়কে জানিয়েছে। এর আগে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সুপারিশ ক্রমে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় অর্থমন্ত্রনালয়ের কাছে লাইসেন্স ফি কমানোর প্রস্তাব পাঠায়।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের একাধিক কর্মকর্তা লাইসেন্স নবায়ন ফি কমানোর এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুবিধাভোগীদের বিশেষ সুবিধা দিতেই ফি কমানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, অর্থমন্ত্রনালয় এত দ্রুত এ প্রস্তাব অনুমোদন করবে তা তারা ভাবতে পারেননি। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন গেটওয়ে অপারেটরগুলো এ নিয়ে বিটিআরসি এবং সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীদেরকে দফায় দফায় চাপ দিচ্ছে। রাজনৈতিক অনেক ব্যক্তির স্বার্থ জড়িত হওয়ার কারণেই ফাইল এত দ্রুত পাস হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিটিআরসির প্রস্তাবে ২০১৩ সালের লাইসেন্স নবায়ন ফি থেকেই এটি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রনালয় তা ২০১৪ সাল থেকে কার্যকর করতে বলেছে। ফলে অনেক আইজিডব্লিউ এবং আইসিএক্স লাইসেন্স নবায়ন ফি বাকি রাখলেও এখন এগুলোকে আগের নিয়মেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

বর্তমানে ২৯টি আইজিডব্লিউ এবং ২৬টি আইসিএক্স ব্যবসা করছে। ২০০৮ সালে মাত্র ৪টি আইজিডব্লিউ এবং তিনটি আইসিএক্সকে লাইসেন্স দেওয়া হয়।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের লাইসেন্স দিতে গিয়ে অপারেটরের সংখ্যা বাড়ানো হয়। এরপর থেকে এসব অপারেটর একবারও লাইসেন্স নবায়ন ফি দেয়নি। গত এপ্রিলে প্রতিটি অপারেটরের এক বছর পার হয়েছে। পরে মন্ত্রী এ বিষয়ে কিছুটা সময় বাড়ান। সর্বশেষ ১১ আগস্ট সেই নির্ধারিত সময়ও শেষ হয়েছে।

দুই ধরনের অপারেটরের কাছে মোট ১৭২ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি ছাড়াও আইজিডব্লিউগুলোর কাছে সরকারের পাঁচশ কোটি টাকার বেশি এবং আইসিএক্সগুলোর কাছে আরও দু’শ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।