ওয়াইথ্রির নতুন সংস্করণ আনল হুয়াওয়ে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের বাজারে ওয়াই সিরিজের নতুন ডিভাইস ‘ওয়াইথ্রি ২০১৭’ সংস্করণ উন্মোচন করেছে হুয়াওয়ে।

বড় মাপের ডিসপ্লে, উজ্জ্বল ফ্ল্যাশ এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের হুয়াওয়ে ওয়াইথ্রি ২০১৭ ডিভাইসটিতে মাল্টিটাস্কিং প্রযুক্তি রয়েছে।

ফোনটিতে আছে ৮ মেগাপিক্সেলের ব্যাক ও দুই মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফোনটিতে আছে এক জিবি র‌্যাম, আট জিবি রম এবং কোয়াড কোর প্রসেসর যা দ্রুত গতিতে মাল্টিটাস্কিং করতে সক্ষম।

Huawei-Y3-2017-Techshohor

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ডিভাইস সেলস ডিরেক্টর জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের বাজেটের মধ্যে কার্যকরী স্মার্টফোন ব্যবহারের চাহিদাকে মাথায় রেখেই আসন্ন পবিত্র ঈদের খুশিকে দ্বিগুণ করতে হুয়াওয়ে ওয়াইথ্রি ২০১৭ সংস্করণ উন্মোচন করা হয়েছে। উৎসবমূখর উপলক্ষে সম্মানিত গ্রাহকদের মুখে হাসি ফোটাতে আমাদের এ প্রচেষ্টা সফল হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মল ও যমুনা ফিউচার পার্কের হুয়াওয়ে এক্সপেরিয়েন্স স্টোরসহ দেশের ৬৪টি জেলার হুয়াওয়ের ব্র্যান্ড শপগুলো থেকে কালো ও সোনালি রঙে পাওয়া যাচ্ছে। দাম আট হাজার ৭৯০ টাকা।

ইমরান হোসেন মিলন

উদ্ভাবনে যৌথ পুরস্কার পেল হুয়াওয়ে-গ্রামীণফোন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চাহিদার ভিত্তিতে মোবাইল ব্রডব্যান্ড (এমবিবি) নেটওয়ার্ক ভিলারেডিও উদ্ভাবনে যৌথ পুরস্কার পেয়েছে হুয়াওয়ে এবং গ্রামীণফোন।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল টেলিকম বিজনেস ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০১৭-এর ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনোভেশন ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার পায় প্রতিষ্ঠান দুটি।

আবাসিক এলাকাগুলোতে গভীরতম ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাভারেজ সমস্যা দূর করাই ভিলারেডিও উদ্ভাবনের মূল উদ্দেশ্য।

অধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, অতিরিক্ত জিএসএম ট্রাফিক, এবং থ্রিজি ও ফোরজি সেবার দ্রুত বর্ধনশীল চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে উন্নত নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষে অভিনব প্রোগ্রাম কভারেজ সল্যুশনস প্রয়োজন যা ব্যবহার করে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে টেকসই অবকাঠামো যেমন-ফাইবার রিসোর্সেস এবং টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ যা বিশ্বের অনেক শহরে এখনও অপ্রতুল।

গ্রামীণফোনের সিইও এবং সিটিও মাইকেল ফোলে বলেন, জায়গার সংকুলান এবং প্রচলিত সমাধান না থাকায় ঢাকা শহরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা একটি কষ্টসাধ্য কাজ। বিভিন্ন এলাকা যেখানে গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়। স্থানগুলোতে ডাটা ও ভয়েস ট্রাফিকের ক্রমবিকাশমান চাহিদা পূরণে ভিলারেডিও সল্যুশনের প্রয়োগ ছিলো একটি সফল পদক্ষেপ যা গ্রাহকসেবার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধন হয়েছে।

হুয়াওয়ের স্মল সেল প্রোডাক্ট লাইনের প্রেসিডেন্ট রিচি পেং বলেন, অপারেটরগুলোর আরওআই উন্নয়ন এবং লভ্যাংশ বৃদ্ধি দ্রুততর করার লক্ষে সম্ভাবনাময় বাজারে বিনিয়োগ শক্তিশালীকরণ ছিল তাদের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলের অংশ। সেটাই করছে হুয়াওয়ে।

ফ্রন্টেড বুকআরআরইউ, ফাইবার হিসেবে আরএইচইউবি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কনভার্জেন্স নোড এবং ব্যাসব্যান্ড প্রসেসিং ইউনিট (বিবিইউ)-এর সমন্বয়ে ভিলারেডিও সল্যুশনটি গঠন করা হয়েছে।

উচ্চমাত্রা একীভূতকরণ এবং ছোট মাত্রার বুকআরআরইউ বৃহৎ নেটওয়ার্ক ধারণক্ষমতাকে সহায়তা করে। আবাসিক এলাকাগুলোর বিভিন্ন পুল ও দেয়ালে সহজেই প্রতিস্থাপন করা যায় এটি, যা উক্ত এলাকার চারপাশে মিশ্রিত আকারে ছড়িয়ে যায়।

অধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা যেখানে ভিন্ন ভিন্ন আকারের দালানকোঠা এবং ব্যয়বহুল নেটওয়ার্ক প্রতিস্থাপনের প্রতিবন্ধকতাকে দূর করে ভিলারেডিও। ৫০ মিটার পর্যন্ত উঁচু দালানকোঠাসমৃদ্ধ আবাসিক এলাকায় গভীর নেটওয়ার্ক কভারেজের ক্ষেত্রে উক্ত সল্যুশনটি উপযুক্ত।

ইমরান হোসেন মিলন

ঈদে সাকিবের সঙ্গে সেলফি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: ঈদ উপলক্ষ্যে গ্রাহকদের জন্য ‘সেলফি উইথ সাকিব’ নামে একটি ক্যাম্পেইন চালু করেছে হুয়াওয়ে।

ক্যাম্পেইনের আওতায়, নির্দিষ্ট মডেলের হুয়াওয়ে স্মার্টফোন কিনলে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে সেলফি তোলার সুযোগ পাওয়া যাবে। মোট ১০০ গ্রাহক এই সুযোগ পাবেন।

sakib-techshohor

এছাড়াও প্রতিটি হ্যান্ডসেটের সঙ্গে থাকছে মটোরবাইক ও অপারেটর বান্ডেল অফারসহ নানান উপহার। রোজার শেষ দিন পর্যন্ত এ অফার চলবে।

যেসব হ্যান্ডসেটে এসব উপহার পাওয়া যাবে সেগুলো হলো- হুয়াওয়ে ওয়াইথ্রি২, ওয়াইফাইভ২, ওয়াইসিক্স প্রো, জিআরফাইভ মিনি, জিআরথ্রি ২০১৭, জিআরফাইভ ২০১৭ স্টান্ডার্ড, জিআরফাইভ ২০১৭ প্রিমিয়াম, পি১০ ও পি১০ প্লাস।

বিস্তারিত জানা যাবে হুয়াওয়ের ওয়েবসাইটে।

আনিকা জীনাত

নতুন সংস্করণের হুয়াওয়ে জিআর৩

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের বাজারে ২০১৭ সংস্করণে জিআর৩ স্মার্টফোন এনেছে হুয়াওয়ে কনজিউমার বিজনেস গ্রুপ।

মাল্টিটাস্কিং সুবিধাযুক্ত স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৩ জিবি র‌্যাম, ১৬ জিবি রম যা কার্ডের মাধ্যমে ১২৮ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

ফুল এইচডি ডিসপ্লে ৫.২ ইঞ্চি যার রেজুলেশন ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল। ফোনটির পিছনে ১২ মেগাপিক্সেল এবং সামনে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে।

Huawei-gr3-2917-Techshohor

৩০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির ফোনটিতে অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ডয়েড ৭.১ নুগাট। আছে চতুর্থ প্রজন্মের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। কিরিন ৬৫৫ অক্টা-কোর ২.১ ও ১.৭ গিগাহার্টজ প্রসেসর রয়েছে।

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ডিভাইস সেলস ডিরেক্টর জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের বাজেটের মধ্যে চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে উন্নত প্রযুক্তির স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসে হুয়াওয়ে। এই ফোনটিও তরুণদের লক্ষ্য করেই আনা।

এর দাম ১৯ হাজার ৯০০ টাকা।

সঙ্গে ক্রেতারা পাবেন একটি স্পোর্টস ফ্লাস্ক, একটি স্মার্টফোন রিং এবং ৩ মাসের জন্য ৩০০ মিনিট টকটাইমসহ রবির ১৫ জিবি ইন্টারনেট সুবিধা।

ইমরান হোসেন মিলন

দেশে হুয়াওয়ে পি১০ ও পি১০ প্লাস বিক্রি শুরু

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে হুয়াওয়ের সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস পি১০ ও পি১০ প্লাস।

ইতোমধ্যে অগ্রিম ফরমায়েশ দেওয়া ক্রেতাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ফোনটি। এছাড়াও র‍্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে বিজয়ীদের দেওয়া হয়েছে মোটরবাইক পুরস্কার। পাশাপাশি গিফট বক্স, বিজনেস ব্যাগ এবং পাওয়ার ব্যাংক পেয়েছেন নিশ্চিত উপহার হিসেবে।

গত বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে র‍্যাফেল ড্র বিজয়ী দুজনের হাতে মোটরবাইক তুলে দিয়েছে হুয়াওয়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা।

huawei_p10_review_5

এর আগে ২২ এপ্রিল শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর রবির সঙ্গে পি১০ ও পি১০ প্লাস উন্মোচন করে গ্রাহকদের জন্য অগ্রিম বুকিং ব্যবস্থা করে প্রতিষ্ঠানটি। আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য সর্বোচ্চ ২৪ মাসের সহজ কিস্তি সুবিধাও দেয়া হয়।

জার্মান প্রযুক্তির লাইকা ক্যামেরার এই স্মার্টফোনটিকে  হুয়াওয়ে ক্যামেরা ফোন বলছে। আকর্ষণীয় ফিচারের সংযোগে ডিভাইসটি বাজারে ছেড়েছে হুয়াওয়ে।

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ডিভাইস সেলস ডিরেক্টর জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, চলতি বছর তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস পি১০ ও পি১০ প্লাস উন্মোচন করে। রবি বান্ডেল অফারের সঙ্গে কিছু উপহারের ব্যভস্থা রেখে দেশে অগ্রিম বুকিং সুবিধা দেওয়া হয়। যাতে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যায়।

হুয়াওয়ে ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস পি১০ ও পি১০ প্লাসের দাম যথাক্রমে ৫৬ হাজার ৯০০ এবং ৬৬ হাজার ৯০০ টাকা।

ডিভাইস দুটি কিস্তিতে কেনার সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইমরান হোসেন মিলন

অনেক ফিচারের হুয়াওয়ে পি১০ : ছোটখাট ঘাটতি দামেও অসন্তুষ্টি

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হুয়াওয়ে পি সিরিজের ফোনগুলো সবসময়ই ক্যামেরায় সেরা পারফরমেন্স দেখানোর চেষ্টা করে থাকে। ডুয়াল ক্যামেরার পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ক্যামেরা নির্মাতা লাইকার ব্র্যান্ডিং থাকায় কারও মনে এ নিয়ে সন্দেহ থাকে না। পি সিরিজের ফোন থেকে অসাধারণ সব ছবি আশা করেন সবাই।

হাইএন্ডের এ ফোনের নতুন সংস্করণে ক্যামেরা ছাড়া অন্যান্য ফিচারও কম নয়। বেশ কিছু রঙ ও ফিনিসিং, নজরকাড়া স্পেসিফিকেশনসমৃদ্ধ পি সিরিজের সর্বশেষ ফোন পি১০ কি এ ধারা অব্যাহত রেখেছে? চলুন দেখা যাক।

p10-4

এক নজরে হুয়াওয়ে পি১০

  • ডুয়াল সিম বা সিঙ্গল সিম
  • .১ ইঞ্চি, ১৯২০x ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের আইপিএসনিও এলসিডি ডিসপ্লে
  • হাইসিলিকন কিরিন ৯৬০, .৪ গিগাহার্জ গতির ৪টি কর্টেক্স এ৭৩ ও ১.৮ গিগাগার্জ গতির ৪টি কর্টেক্স এ৫৩ কোর সম্বলিত অক্টাকোর প্রসেসের
  • মালি জি৭১ এমপি৮ জিপিউ
  • ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • ৩২ অথবা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, ডুয়াল সিম মডেলে মেমরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭ নুগ্যাটের ওপর তৈরি ইমোশন ইউআই ৫.১ অপারেটিং সিস্টেম
  • ডুয়াল ২০ ও ১২ মেগাপিক্সেল, f/2.2 অ্যাপার্চার, ওআইএস, ফেইজ ডিটেকশন এবং লেজার অটোফোকাস ও লাইকা লেন্সসমৃদ্ধ ব্যাক ক্যামেরা, সঙ্গে রয়েছে ডুয়াল এলইডি ডুয়াল টোন এলইডি ফ্ল্যাশ
  • ৮ মেগাপিক্সেল, f/1.9 অ্যাপার্চার ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ২১৬০পি, ৩০ এফপিএস অথবা ১০৮০পি, ৩০এফপিএস ভিডিও ধারণের সুবিধা
  • ৮০২.১১এসি ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৪., জিপিএস, এনএফসি
  • ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট, হেডফোন জ্যাক
  • ফ্রন্ট মাউন্টেড ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৩২০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি, ফাস্ট চার্জিং

huawei_p10_review_5

ডিজাইন
হুয়াওয়ে পি৮ ফোনটির ডিজাইন সে সময় সাড়া ফেলেছিল। এ ডিজাইনকে ভিত্তি ধরে এরপর পি৯ ও আজকের পি ১০ এসেছে। পি ১০ ফোনটি বেশ কিছু রঙয়ে বাজারে পাওয়া যাবে। সিরামিক হোয়াইট, ড্যাজলিং ব্লু, ড্যাজলিং গোল্ড, প্রেস্টিজ গোল্ড গ্রাফাইট ব্ল্যাক, মিস্টিক সিলভার, রোজ গোল্ড ও গ্রিনারি থেকে পছন্দেরটি বেছে নিতে পারবেন ।

নজরকাড়া রঙের ফোনটির পেছনের অংশটিতে ডায়মন্ড কাট টেক্সচার দেওয়া হয়েছে, যেটি দেখতে সুন্দর লাগলেও হাতে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে স্যান্ডব্লাস্টিং করা ম্যাট ফিনিসের ফোনগুলো ধরতে তেমন সমস্যা নেই।

ফোনটির কিছুটা গোলাকৃতির কোনাগুলোর ফলে এটি ধরতে ও দেখতে পি৯ বা প৮-এর চেয়ে বেশ ভালো। খুবই ভালো মানের অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ফোনটির শ্যাসি খুবই শক্তপোক্ত। 

তবে সামনের পুরো অংশ তৈরিতে ব্যবহৃত গোরিলা গ্লাস ৫ ব্যবহারের ফলে স্ক্র্যাচ নিয়ে চিন্তা না থাকলেও হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ভঙ্গুর প্রবণতা অবশ্য আজকালের সব ফোনের ক্ষেত্রেই রয়েছে।

সামনে ডিসপ্লের ঠিক নিচে রয়েছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর, যার পাশে অনেকেই ক্যাপাসিটিভ কি আশা করলেও ফোনটিতে ক্যাপাসিটিভ কি দেয়ার বদলে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরে সোয়াইপ করে ব্যাক বা মেন্যুতে যাওয়ার অপশন দেওয়া হয়েছে। অনেকের কাছেই এটি বিরক্তিকর মনে হতে পারে ভেবেই হুয়ওয়ে অনস্ক্রিন ন্যাভিগেশনেরও ব্যবস্থা রেখেছে।

এ ছাড়া ডিসপ্লের ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস, সেন্সরগুলো ও ফ্রন্ট ক্যামেরা। ডান পাশে পাওয়ার বাটন ও ভলিউম কি, বাম পাশে সিমট্রে, ডুয়াল সিম সংস্করণের যার মাঝেই মেমরি কার্ড লাগানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ওপরের দিকে তেমন কিছু নেই। নিচে স্পিকার গ্রিল, ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক রয়েছে।

পেছনে ওপরের অংশে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা, যার পাশে লেজার অটোফোকাস সেন্সর, এলইডি ফ্ল্যাশ ও লাইকা ব্র্যান্ডিং।

ফোনটির পেছনে হুয়াওয়ে লোগো ছাড়া তেমন কিছুই নেই। আর অ্যান্টেনা ব্যান্ডগুলো সুন্দরভাবে বেজেলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার ফলে চোখে পড়ার সম্ভাবনা নেই।

সব মিলিয়ে বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন খুবই দৃষ্টিনন্দন ও উন্নতমানের।

huawei_p10_review_2

ডিসপ্লে
ফুল এইচডি ৫.১ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লের ফোন বাজারে অনেক থাকলেও পি ১০ ফোনে ব্যবহৃত আইপিএস নিও প্রযুক্তির প্যানেল অন্যসব আইপিএস প্যানেলের চাইতে বেশি কন্ট্রাস্ট ও ব্রাইটনেস দিতে সক্ষম। হুয়াওয়ের দাবি, ডিসপ্লেটিতে অন্তত ৬০০ নিট পর্যন্ত ব্রাইটনেস পাওয়া যাবে পরীক্ষা করে তেমনটিই দেখা গেছে।

কন্ট্রাস্টের দিক থেকেও ফোনটি খুবই এগিয়ে রয়েছে- ১৪২৩:১ কন্ট্রাস্ট রেশিও সহজ কথা নয়।

অন্যদিকে কালার অ্যাকুরেসির দিক থেকে ডিসপ্লেটি বেশ পিছিয়ে। রঙের ব্যতিচার বা ডেল্টাই এর মান খুবই বেশি। ৬ দশমিক ৫ ডেল্টাই হবার ফলে প্রায় সব রঙ ডিসপ্লেটিতে কিছুটা নীলচে দেখা গেছে। তবে সেটিংস থেকে ওয়ার্ম ডিসপ্লে মোড ব্যবহার করলে ডেল্টাই কমে ৪ দশমিক ৮-এ নেমে আসে। তবে কোনও অবস্থায়ই ডিসপ্লেটি খুব অ্যাকুরেট কালার দিতে সক্ষম নয়।

সরাসরি রোদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিসপ্লেটি খুবই ভালো। সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে ছাড়া পি১০-এর ডিসপ্লেটিকে এক্ষেত্রে হারাতে পারবে এমন ডিসপ্লে খুব বেশি নেই।

ব্রাইটনেস, কন্ট্রাস্ট ও রোদে ব্যবহারের সুবিধা কালার কোয়ালিটির কিছুটা ঘাটতি বেশ পুষিয়ে দিয়েছে।

পারফরমেন্স
বেশ কিছু বছর ধরে হুয়াওয়ে তাদের ফোনগুলোতে নিজস্ব কিরিন প্রসেসর ব্যবহার করে আসছে। কিরিন ৯৬০ প্রসেসরটিতে ৪টি কর্টেক্স এ৭৩ কোর থাকার ফলে প্রসেসরটি সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

গিকবেঞ্চ অনুসারে প্রসেসরটি সিঙ্গেলকোর পারফরমেন্সে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২১- এর সমান। মাল্টিকোর পারফরমেন্সেও প্রসেসরটি খুবই এগিয়ে রয়েছে। চারটি এ৭৩-এর সঙ্গে আরও চারটি এ৫৩ কোর সম্মিলিতভাবে কাজ করার ফলে এটি স্ন্যাপড্রাগন ৮২১-এর কোয়াডকোর পারফরমেন্সকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

সাধারণত হাইসিলিকন কিরিন প্রসেসরের জিপিউ পারফরমেন্স কোয়ালকম অ্যাড্রিনো জিপিউর চেয়ে বেশ পিছিয়ে থাকে। এ ফোনে ব্যবহৃত মালি জি৭১ এমপি৮ জিপিউটি গ্রাফিক্স পারফরমেন্সে প্রায় অ্যাড্রিনো ৫৩০-এর কাছাকাছি, তবে পুরোপুরি নয়।

বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী এটি অ্যাড্রিনো ৫৩০ এর চাইতে ১০১৫% কম শক্তিশালী। যদিও ১০৮০পি ডিসপ্লেতে এইচডি গেইম চালাতে সমস্যা হবার কথা নয়।

benchmarkp10

র‌্যামের দিক থেকে ফোনটি মূলধারায় রয়েছে। নতুন সকল ফ্ল্যাগশিপেও এখন চার গিগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই মাল্টিটাস্কিং ও টাস্ক সুইচিংয়ে কোনও ল্যাগ পাওয়া যায়নি। অবশ্য ভবিষ্যতে চার গিগাবাইট র‌্যাম কিছুটা কম মনে হতে পারে।

সব মিলিয়ে, হুয়াওয়ে পি১০ এর কাছ থেকে ফ্ল্যাগশিপ পারফরমেন্স পাওয়া গিয়েছে।সমস্যার দিক থেকে চিহ্নিত করা যায় এটির থার্মাল পারফরমেন্স। টানা ব্যবহারে ফোনটি বেশ গরম হতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে থার্মাল থ্রটোলিংয়ে পরিণত হয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পারফরমেন্স কমে যেতে দেখা গেছে।

huawei_p10_review_6

ক্যামেরা
বরাবরের মতো পি সিরিজের ফোনগুলোতে হুয়াওয়ে ক্যামেরার দিকে বেশি জোর দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম নয়। এর আগের পি৯-এর লাইকা লেন্সসমৃদ্ধ ক্যামেরাটি ছবির ডিটেইলের ক্ষেত্রে তূলনামূলক হতাশ করেছিল। তাই পি১০-এর ক্যামেরার মান নিয়ে সবার কিছুটা শংশয় থাকাই স্বাভাবিক।

ফোনটিতে পেছনে ডুয়াল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। যার একটি ২০ মেগাপিক্সেল ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট সেন্সর ও অপরটি ১২ মেগাপিক্সেল ফুল কালার সেন্সর। বলা যেতে পারে এটিই আসলে ফোনটির মূল ক্যামেরা।

দুটি সেন্সরের সামনেই f/2.2 অ্যাপার্চারের লেন্স দেওয়া হয়েছে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় কিছুটা কম বলা যেতে পারে। কেননা বেশ কিছু বছর ধরেই f/2.0 বা f/1.8 সহ ক্যামেরা মূলধারায় চলে এসেছে।

ক্যামেরায় ডুয়াল সেন্সর থাকার ফলে সেটি তেমন সমস্যা নয়। সেন্সর দুটিতে ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস থাকার পরও এর সঙ্গে লেজার অটোফোকাস যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ফোকাসিংয়ের দিক থেকে পি১০ খুবই এগিয়ে রয়েছে।

ক্যামেরা দুটি এক সঙ্গে কাজ করার ফলে প্রতিটি ছবিরই ডিটেইল, এক্সপোজার, টেক্সচার ও ডাইনামিক রেঞ্জ খুবই ভাল। একমাত্র অতিরিক্ত আলোর মাঝে তোলার সময় ছাড়া উজ্জ্বল ও অনুজ্জ্বল যায়গার মাঝে ডিটেইলে তেমন পার্থক্য দেখা যায়নি।

কম আলোতে ছবি তোলার সময়ও ক্যামেরাটি হতাশ করেনি। বেশ উজ্জ্বল ও কম নয়েজ যুক্ত ছবি এটি ধারণ করতে পেরেছে। হলদে আলোতেও কালার ব্যালেন্স নিয়ে সমস্যা দেখা যায়নি।

তাই বলে ক্যামেরার দিক থেকে ফোনটির সবকিছুই ভালো এমনটি বলা যাবে না। মূল্য অনুসারে ফোনটিতে তোলা ছবিতে যেটুকু নয়েজ, কালার শিফট দেখা যাওয়া উচিৎ তার চেয়ে বেশ অনেকটুকু বেশি দেখা গেছে।

বিশেষত মেঘলা আকাশের মত উজ্জ্বল ও ভিন্ন টেক্সচারের সাবজেক্টের ছবিতে নয়েজ ও আর্টিফ্যাক্ট খুব ভালভাবে বিদ্যমান।

huawei_p10_review_bt_tower_hdr_off

ভিডিওর দিক থেকে ফোনটি পিছিয়ে নেই। ফোর কে রেজুলেশন পর্যন্ত ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরাটিতে অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন ও লেজার অটোফোকাস থাকায় ফোকাসিং ও ভিডিওর কাঁপুনি নিয়ে ভাবনা নেই।

যদিও সবকিছুই একদম নিখুঁত নয়। মূলত কম্প্রেশন আর্টিফ্যাক্ট, নয়েজ, ডিটেইলের অভাব ও মাঝে মাঝে উদ্ভট স্ট্যাবিলাইজেশন ‘জেলি’ ইফেক্ট ক্যামেরাটির ভিডিও ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

huawei_p10_review_indoor

সেলফি ক্যামেরাটির অ্যাপার্চার বেশ বড় হবার ফলে পোট্রেইট তোলার সময় পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড বোকেহ বেশ ভালোভাবে বোঝা গেলেও অনান্য দিক থেকে ক্যামেরাটি বেশ সাধারণ মানের। ক্যামেরাকেন্দ্রিক ফোনের কাছে এর চেয়ে বেশি আশা করাই যায়।

সাউন্ড কোয়ালিটি
পি১০ এর সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ উন্নতমানের। ফোনটির সিগন্যাল টু নয়েজ রেশিও বেশ ভাল, ফ্রিকুয়েন্সি রেসপন্স ২০ হার্জ থেকে ২০ হাজার হার্জ পর্যন্ত একেবারে সমান এবং স্টেরিও ক্রসটকের পরিমানও না ধরার মতই।

সমস্যা বলা যেতে পারে এর ভলিউমে। হেডফোন বা স্পিকারের উভয় ক্ষেত্রেই ফোনটি খুবই কম ভলিউমে সাউন্ড দিতে সক্ষম, যা এ দামের ফোনের ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সঙ্গীত প্রেমীরা ভলিউমে ঘাটতি বেশ ভালোভাবে টের পাবেন।

huawei_p10_review_4

ব্যাটারি লাইফ
ফোনটিতে ব্যবহৃত ৩২০০ এমএএইচ ব্যাটারিটি টানা দুই দিন স্ট্যান্ডবাই দিতে সক্ষম। স্মার্টফোন যেহেতু কেউ স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখতে ব্যবহার করেন না, তাই স্ক্রিন অন টাইমকেই মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অন্তত ৭৮ ঘন্টা স্ক্রিন অন পাওয়া যাবে।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, সাধারণ ব্যবহারে অন্তত এক দিন চার্জ না করেই ব্যবহার করা যাবে। কিছুটা কম ব্যবহারে দু’দিন সহজেই ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।

ফাস্ট চার্জিং ফোনটির বিশেষ ফিচার হলেও অপ্পো বা কোয়ালকমের চেয়ে সেটি বেশ পিছিয়ে রয়েছে। ২ শতাংশ থেকে ৩০ মিনিটে ফোনটি ৫৫ শতাংশ চার্জে যেতে সক্ষম – যা ড্যাশ (ভুক) চার্জ বা কুইকচার্জের চেয়ে ৫১০ শতাংশ কম।

পরিশিষ্ট
মূল্য অনুসারে ফোনটিকে ফ্ল্যাগশিপের কাতারে ফেলা যায়। ইদানিং অবশ্য ফ্ল্যাগশিপের মূল্য আরও বেড়ে যাওয়ায় এটি আসলে মাঝারি বাজেটের মধ্যে উচ্চ মূল্যের কাতারে পরেছে।

সে হিসেবে ডিসপ্লের রেজুলেশনে ঘাটতিম ও কিছুটা খারাপ গ্রাফিক্স পারফরমেন্স হয়ত মেনে নেওয়া যায়। তবে বাধ সেধেছে ওভারহিটিং, ব্যাটারির কুইকচার্জে বেশ ধীরগতি এবং ক্যামেরার ছবি ও ভিডিওতে বেশ বড় ধরনের নয়েজ।

এ দামে এর চাইতে ভালো ক্যামেরা, পারফরমেন্স ও স্ক্রিনের ফোন বাজারে রয়েছে। তাই বলা যায়, ফোনটি বেশ ভালো হলেও কেনার আগে ক্রেতা মনমতো পারফরমেন্স পাবেন কিনা সেটি বিবেচনা করতে হবে।

মূল্য 
ফোনটি প্রিঅর্ডারে সরাসরি হুয়াওয়ের কাছ থেকে ৫৬ হাজার ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।বাইরে গ্রে মার্কেটে আরও কমে ওয়ারেন্টি ছাড়া পাওয়া যেতে পারে।

এক নজরে ভাল

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • ব্যাটারি লাইফ, চার্জিং
  • দৈনন্দিন ব্যবহারে পারফরমেন্স
  • স্টিল ফটোগ্রাফি  

এক নজরে খারাপ

  • গ্রাফিক্স পারফরমেন্স
  • ভিডিওগ্রাফি
  • মূল্য অনুসারে ক্যামেরার ডিটেইলে ঘাটতি
  • সাউন্ডের ভলিউমে বেশ ঘাটতি

হুয়াওয়ে পি১০ বুকিংয়ে মোটরবাইক জেতার সুযোগ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হুয়াওয়ে পি১০ ও পি১০ প্লাস অগ্রিম বুকিং দিলে উপহারের ব্যবস্থা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

পি১০ ও পি১০ প্লাস অগ্রিম বুকিং এ র‌্যাফেল ড্রয়ের ঘোষণা দিয়েছে হুয়াওয়ে কনজ্যুমার বিজনেস গ্রুপ। র‌্যাফেল ড্রতে মূল পুরস্কার হিসেবে থাকছে অ্যাডিক্সিন মোটরবাইক। এর পাশাপাশি গিফট বক্স, বিজনেস ব্যাগ কিংবা পাওয়ার ব্যাংক নিশ্চিত উপহার হিসেবে থাকছে বলে জানিয়েছে হুয়াওয়ে।

আগামী ৪ মে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে র‌্যাফেল ড্র বিজয়ী দুজনের হাতে স্পোর্টস বাইক তুলে দেওয়া হবে। সেখানে যেসব গ্রাহক উপস্থিত থাকবেন তাদের মধ্যে থেকেই বিজয়ী করা হবে। আর সেদিন থেকেই হুয়াওয়ে এক্সপিরিয়েন্স সেন্টারসহ দেশব্যাপী হুয়াওয়ে ব্র্যান্ড শপ থেকে নতুন হ্যান্ডসেট দুটি কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

ADIXIN Bike

গত ২২ এপ্রিল অপারেটর রবির সঙ্গে অংশীদারিত্বে পি১০ ও পি১০ প্লাস উন্মোচন করে হুয়াওয়ে। আর উন্মোচনের দিন থেকেই গ্রাহকদের জন্য অগ্রিম বুকিং ব্যবস্থা করে। আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য সর্বোচ্চ ২৪ মাসের সহজ কিস্তি সুবিধাও দেওয়া হবে।

পি১০ ও পি১০ প্লাসে ব্যবহার করা হয়েছে লাইকা ফ্রন্ট ক্যামেরা। দ্রুততম সময়ে চার্জিং প্রযুক্তি হুয়াওয়ের সুপারচার্জ। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণ নোগাট ৭.১ এবং হুয়াওয়ের নিজস্ব ইন্টারফেস ইএমইউআই ৫.১।

দ্রুতগতিতে কর্ম সম্পাদনের জন্যে হ্যান্ডসেটটিতে ব্যবহার করা হয়েছে হাইসিলিকন কিরিন ৯৬০ চিপসেট, ২.৪ গিগাহার্টজ কোর্টেক্স এ ৭৩ ও ১.৮ গিগাহার্টজ প্রসেসর ও ৪ জিবি র‌্যাম, ৬৪ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি বা রমের পাশাপাশি মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে হ্যান্ডসেটটির ধারণ ক্ষমতা।

দেশে পি১০ ও পি১০ প্লাসের বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৫৬ হাজার ৯০০ এবং ৬৬ হাজার ৯০০ টাকা।

রবি গ্রাহকরা পি১০ কিংবা পি১০ প্লাসের সঙ্গে  পাবেন ১৫ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট ডাটা। এক্ষেত্রে প্রতিমাসে পাঁচ জিবি করে তিনমাসে ব্যবহার করতে পারবেন।

ইমরান হোসেন মিলন

অ্যাপলকে সরিয়ে আবার শীর্ষে স্যামসাং

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আবার স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষে ফিরেছে কোরিয়ান প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। বছরের প্রথম প্রান্তিকেই তারা হারানো স্থানটি দখল করতে পেরেছে।

বৈশ্বিকভাবে গ্যালাক্সি এস৮ এবং এস৮ প্লাস এখনো আৃসেনি। তার আগেই এই অবস্থানে চলে আসাকে অনেকেই প্রতিষ্ঠানটির বাজিমাৎ হিসেবে দেখছেন।

শনিবার বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রান্তিকে ৭৯ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি করেছে।

Samsung-Apple-Huawei-techshohor

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ফোন বিক্রির মাধ্যমে স্যামসাং বাজারের ২২ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ার দখলে নিয়েছে। ঠিক তার আগেই ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে স্যামসাংকে হটিয়ে শীর্ষে আসা প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যাপল বাজারে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার দখলে নিয়ে এখন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের ব্র্যান্ড হুয়াওয়ে। তাদের দখলে রয়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে এখন অপ্পো এবং পঞ্চম স্থানে চলে এসেছে আরেক ব্র্যান্ড ভিভো।

বিস্ফোরণসহ নানা ধরনের অভিযোগে ২০১৬ সালে স্যামসাং তাদের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস নোট ৭ বাজার থেকে উঠিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। তার মধ্যে দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে পড়তি অবস্থানে ছিলো স্যামসাং। তবে স্যামসাং ওই প্রান্তিকে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ বাজার ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

কয়েকটি দেশে ছাড়লেও বেশিরভাগ দেশে স্যামসাং তাদের সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ গ্যালাক্সি এস৮ ও এস প্লাস প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু করেছে। প্রি-অর্ডারেও আগের এস৭ এর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে স্যামসাং।

তবে কোরিয়ায় হ্যান্ডসেটটি হাতে পাওয়ার পর ক্রেতারা কয়েকটি অবিযোগ করেছে স্যামসাংয়ের কাছে। ক্রেতাদের অভিযোগ হ্যান্ডসেটটির পর্দায় লাল হয়ে যাচ্ছে এবং ওয়্যারলেস চার্জারে কিছুটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আবার নতুন করে ফোনটি মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

স্যামসাং অবশ্য পর্দা লাল হয়ে যাওয়াকে সফটওয়্যার জনিত কালন বলছে এবং তা আপডেটের মাধ্যমে ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছে। অন্য অভিযোগ নিয়ে স্যামসাং এখনো কিছু জানায়নি।

ইমরান হোসেন মিলন

হুয়াওয়ে প্রধানের দৃষ্টিতে স্মার্টওয়াচ ‘অপ্রয়োজনীয়’

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনেকটা স্ব-বিরোধী মন্তব্য করে বসেছেন স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রধান এরিক শু। একের পর এক স্মার্টওয়াচ তৈরি করলেও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান স্মার্টওয়াচকে অপ্রয়োজনীয় বলে বলেছেন।

তার কাছে স্মার্টওয়াচ ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও উল্লেখ করেছেন।

অথচ চলতি বছরেই স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে নতুন স্মার্টওয়াচ উন্মোচন করেছে হুয়াওয়ে। এবারই প্রথম নয়, এর আগেও কয়েকটি স্মার্টওয়াচ বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এবার প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজেই এটিকে অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

Huawei-Smart-Techshohor

চীনের শেনজেনে প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণা শীর্ষক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন শু। তাকে প্রশ্ন করা হয়, পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির কারণে স্মার্টফোনের চাহিদা কমে যাচ্ছে কিনা?

জবাবে শু বলেন, আমি কখনও বুঝতে পারিনি যখন আমাদের দরকার এমন সবকিছু ফোনে আছে, কেনো আমরা স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করবো।

হুয়াওয়ের পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করা তিন প্রধানের একজন শু। প্রতিষ্ঠানটিতে এই তিনজনের প্রত্যেকে ছয় মাস প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

শু-এর বরাত দিয়ে ফোর্বস তাদের এক প্রতিবেদনে বলে, আমি সে মানুষ নই যিনি ঘড়ি পড়েন। আর এই খাত নিয়ে আমি কখনও আশাবাদী ছিলাম না।

তার এই মন্তব্যে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এর আগেও অনেকেই স্মার্টওয়াচ নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন।

বিবিসিকে পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান সিসিএস ইনসাইটের বিশ্লেষক বেন উড বলেন, বিপ্লবী পরিবর্তন আনার বদলে স্মার্টফোন আসলে একটা সমাধান যার সমস্যা খোঁজা হচ্ছে।

শু-এর মন্তব্যেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। এটি হুয়াওয়ের তিনজন প্রধানের মধ্যে শুধু একজনের দৃষ্টিভঙ্গি।

বর্তমানে এই বাজারে শীর্ষে রয়েছে অ্যাপল এবং স্যামসাং। আর বিলসী ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন স্মার্টওয়াচ তৈরিতে নজর দিয়েছে। ২০১৭ সালকে স্মার্টওয়াচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন উড। চলতি বছর বেশ কিছু স্মার্টওয়াচ উন্মোচন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিবিসি ও বিডিনিউজ অবলম্বনে

হুয়াওয়ের সাউথইস্ট এশিয়া ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম অনুষ্ঠিত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হুয়াওয়ে সাউথইস্ট এশিয়া ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘আইসিটি খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষমতায়ন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দুই দিনব্যাপী এ ফোরামে সরকারি কর্মকর্তা, টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়া জুড়ে নিজেদের বিস্তৃতির, ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে মেধার উন্নয়ন কৌশল এবং শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক অপারেটরদের পরীক্ষিত অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা থেকে শেখার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

Huawei-Techshohor

হুয়াওয়ের প্রিন্সিপাল স্ট্র্যাটেজি কনসালটেন্ট ইভান হুয়াং বলেন, ইতোমধ্যেই আইসিটি অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত এবং এটা শিল্পখাতের বিপ্লব-ইন্টেলিজেনটাইজেনের সুযোগ করে দিচ্ছে। এখনই সময় ‘ডিজিটাল’ বিষয় উন্মুক্ত করার।

ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের তথ্যানুযায়ী, এর মাধ্যমেই সম্ভব আগামী ১০ বছরে সমাজ ও শিল্পখাতে সম্ভাব্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের সুযোগ সুরক্ষিত করা। টেলকো অপারেটরদের উচিৎ নতুন প্রযুক্তি ও নতুন ব্যবসায়িক মডেল চালু করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তাগুলো শনাক্ত করা। এ ডিজিটাল যুগ টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংগঠনিক পরিবর্তন ও প্রতিভার রূপান্তরের অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেবে  বলে জানান তিনি।

আইসিটি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশেও হুয়েওয়ে সিডস ফর দ্য ফিউচার সিএসআর ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি করে প্রতিষ্ঠানটি। এ কর্মসূচিতে হুয়াওয়ে সেরা কলেজ শিক্ষার্থী এবং আইসিটি বিভাগ সংশ্লিষ্ট তরুণ সরকারি কর্মকর্তাদের চীনে একটি শিক্ষা সফরের জন্য মনোনীত করে। এ কর্মসূচিতে হুয়াওয়ের আইসিটি বিষয়ে অভিজ্ঞতাগুলো তরুণ আইসিটি পেশাদারদের সঙ্গে শেয়ার এবং স্থানীয় আইসিটি খাতের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।

ইমরান হোসেন মিলন

হুয়াওয়ে জিআর৫ : ডিজাইনের হতাশা কাটবে ডিসপ্লে, ডুয়াল ক্যামেরায়

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডুয়াল ক্যামেরার হুয়াওয়ে পি৯ বাজারে বেশ সাড়া ফেলে দেয়ার পর থেকে মাঝারি মূল্যের ফোনেও সেটি যোগ করতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্বল্প মূল্যের সংস্করণ হলো হুয়াওয়ে জিআর৫ ২০১৭, যা কিছু দেশে অনার ৬এক্স নামে পরিচিত।

মাঝারি স্পেসিফিকেশনের এ ফোনের মূল আকর্ষণ হিসেবে হুয়াওয়ে ডুয়াল ক্যামেরাকে প্রাধান্য দিলেও, এটি কি আসলেই অসাধারণ ছবি উপহার দিতে পেরেছে? চলুন দেখা যাক।

এক নজরে হুয়াওয়ে জিআর৫ ২০১৭ (অনার ৬এক্স নামেও পরিচিত)

gr51

  • ৫.৫ ইঞ্চি, ১৯২০x১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের এলটিপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • ডুয়াল সিম, হাইব্রিড স্লট
  • হাই-সিলিকন কিরিন ৬৫৫ প্রসেসর, চারটি ২.১ গিগাহার্জ ও চারটি ১.৭ গিগাহার্জ কোর সম্বলিত অক্টাকোর সিপিউ
  • মালি টি৮৩০এমপি২ জিপিউ
  • ৩ অথবা ৪ গিগাবাইট র‌্যাম, স্টোরেজের ওপর নির্ভর করে
  • ৩২ অথবা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, হাইব্রিড মাইক্রোএসডি স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড ৬ মার্শম্যালোর ওপর তৈরি ইমোশন ইউআই অপারেটিং সিস্টেম, সামনে অ্যান্ড্রয়েড ৭ আসার কথা রয়েছে
  • ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরা। একটি ১২ মেগাপিক্সেল, অপরটি ২ মেগাপিক্সেল। ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস ও এলইডি ফ্ল্যাশ রয়েছে
  • ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ১০৮০পি, ৩০ এফপিএস ভিডিও
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, হেডফোন জ্যাক
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, এফ এম রেডিও
  • ফিংগারপ্রিন্ট স্ক্যানার
  • অপরিবর্তনযোগ্য ৩৩৪০ এমএএইচ ধারণ ক্ষমতার ব্যাটারি
  • মূল্য : ২০,৫০০-২২,০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ডিজাইন
অ্যালুমিনিয়াম চ্যাসিস ও সামনে গ্লাস প্যানেলে তৈরি ফোনটিতে বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে হুয়াওয়ে কমতি রাখেনি। হাতে নেয়ার সময় প্রথমেই নজরে আসবে এর ওজন। ১৬২ গ্রাম নেহাত হালকা নয়। তবে ওজনের কারণে এটি বেশ শক্তপোক্ত মনে হবে।

সোনালী, ধূসর ও রূপালী এ তিন রঙের মধ্যে মূলত ধূসর রঙের মডেলটি ক্রেতাদের বেশি টেনেছে।

Huawei-GR5-2017-08-1

ডিজাইনের দিক থেকে তেমন নতুনত্ব নেই, বিশেষত যারা এর আগের জিআর৫ দেখেছেন তাদের কাছে প্রায় একই ফোন মনে হবে।

কোনও ক্যাপাসিটিভ বা হোম বাটন না থাকায় এটির ফ্রন্ট প্যানেলে ডিসপ্লের ঠিক নিচে কিছুটা খালি জায়গা রয়েছে – মনে হতে পারে কিছু একটা নেই। অনার মডেলটিতে অবশ্য সেখানে লোগো থাকায় সেটি তেমন প্রকট নয়।

ডিসপ্লেতে তেমন বেজেল নেই। এর চাইতে কম বেজেল শুধু ফ্ল্যাগশিপ ফোনের কাছেই আশা করা যায়। স্ক্রিনের ঠিক ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস, ডান পাশে সেলফি ক্যামেরা ও বামে রয়েছে বেশ কিছু সেন্সর।

একমাত্র বেজেলে সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, ধূসর ফোনে দেওয়া হয়েছে কালো রঙ।

পেছনের অংশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম। নিচে ও উপরের কিছু অংশ সিগন্যাল অ্যান্টেনার জন্য প্লাস্টিক রাখা হয়েছে। পেছনে নিচের অংশে লোগো, মাঝে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর ও ঠিক তার ওপরে ডুয়াল ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ ছাড়া কিছুই নেই।

ক্যামেরা দুটি বরাবরের মতই বডি থেকে হালকা পরিমান বেরিয়ে রয়েছে। ক্যামেরা বাম্প যাদের পছন্দ নয়, তাদের কাছে যা দৃষ্টিকটু মনে হতে পারে।

এ ছাড়া ডানে রয়েছে ভলিউম কি ও পাওয়ার বাটন, বামে সিম স্লট ও মাইক্রো এসডি কার্ড ট্রে (মেমরি কার্ড ব্যবহারের জন্য ২য় সিম স্লট ছেড়ে দিতে হবে)। ওপরে রয়েছে হেডফোন জ্যাক ও নিচে স্পিকার গ্রিল, মাইক্রোফোন ও মাইক্রোইউএসবি পোর্ট।

সব মিলিয়ে, ডিজাইন ও বিল্ডে মানের দিক থেকে কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। ডিজাইনে ফোনটি আর দশটি মাঝারি মূল্যের চীনা ব্র্যান্ডের চাইতে আলাদা নয়। আশা করা যায়. পরের সংস্করণে হুয়াওয়ে ডিজাইনে কিছু চমক দেখাবে।

Huawei-GR5-2017-10-2

ডিসপ্লে
মাঝারি মূল্যের ফোনে সাধারণত আইপিএস এলসিডি প্যানেলের ডিসপ্লে ব্যবহার করেই নির্মাতারা ক্ষান্ত দিয়ে থাকেন। এলটিপিএস ডিসপ্লে ব্যবহারে হুয়াওয়ে এখানে বেশ ব্যতিক্রম।

কেননা রঙ ও ভিউ অ্যাঙ্গেলের দিক থেকে আইপিএস এলসিডির চাইতে তেমন তফাত না হলেও এলটিপিএস প্যানেল আরও ব্যাটারি সাশ্রয়ী, আরও উজ্জ্বল এবং আরও ভালো কন্ট্রাস্ট দিতে সক্ষম।

এলটিপিএস প্যানেল ব্যবহারের ফলে ফোনটি কড়া রোদেও বেশ ভালভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।  কন্ট্রাস্টের দিক থেকে এ তাসের প্রায় সব ফোনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ও কালার অ্যাকুরেসিও খুবই ভাল।

একমাত্র সমস্যা বলা যেতে পারে এলটিপিএস প্যানেলের হোয়াইট ব্যালেন্স সবসময়ই কিছুটা নীলচে থাকে, সেটি এখানেও রয়েছে। ব্রাইটনেসেরও কোনও কমতি নেই, ৫০০+ নিট ব্রাইটনেসের ডিসপ্লেটি অন্ধকারে ৫.৫ নিট পর্যন্ত নেমে যেতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে ডিসপ্লের দিক থেকে ফোনটি দুর্দান্ত – যার একমাত্র বাজে দিক বলা যেতে পারে পিক্সেল ঘনত্ব। ৪০১ পিপিআইর ফোনটি ভিআর কন্টেন্ট দেখার উপযোগী নয়। এ দামে সেটা আশা করাও ভুল।

পারফরমেন্স
হুয়াওয়ের নিজস্ব কিরিন ৬৫৫ প্রসেসরটি মূলত মাঝারি কাজের জন্য তৈরি, যা সহজেই কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬০০ সিরিজ ও মিডিয়াটেক অক্টাকোরের সঙ্গে টেক্কা দিতে সক্ষম। যদিও তা স্ন্যাপড্রাগন ৬৫0+ সিরিজের প্রসেসরের চাইতে বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

চিপটিতে চারটি হাই পারফরমেন্স ও চারটি পাওয়ার সেভিং কোর ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোয়ালকমের প্রসেসরের মতই। মিডিয়াটেকের সবগুলো একই কোর ব্যবহার থেকে ভিন্ন। আটটি সিপিউ কোর ছাড়াও একেবারে স্বল্প কাজের জন্য একটি লো পাওয়ার কোরও চিপটির মাঝে দেওয়া হয়েছে।

প্রসেসিং ক্ষমতার দিক থেকে কিরিন ৬৫৫ একমাত্র স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২-এর চাইতে পিছিয়ে রয়েছে – তাও খুব বেশি নয়। তবে যারা ফোনে ভারি কাজ করে অভ্যস্ত তাদের স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২ চালিত ফোন নেওয়াই ভালো হবে। তবে সেটি খুব বেশি ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও সবগুলো কোর ব্যবহারের ফলে কিরিন ৬৫৫ স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২কে বেশ ভালোভাবেই হারিয়ে দিয়েছে।

গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার লক্ষ্য করা গেছে – একমাত্র স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২ ছাড়া বাকি সব মাঝারি মূল্যের চিপসেটকেই হারিয়ে দিয়েছে মালি টি৮৩০এমপি২।

গেইম খেলার জন্য যারা ফোন কিনতে চাচ্ছেন তাদের আশাহত হবার কোনও প্রয়োজন নেই। এটিতে সব গেইম ভালোভাবে খেলা যাবে। তবে হাই গ্রাফিক্সে খেলার আশা ছেড়ে দিতে হবে।

Huawei-GR5-2017-12-1

র‌্যামের ঘাটতি ফোনটির কোনও সংস্করণেই নেই। ৩ গিগাবাইট র‌্যামে মাল্টিটাস্কিং খুবই স্মুথ। ৪ গিগাবাইট র‌্যামের সংস্করণে স্বাভাবিকভাবেই গতি আরও বেশি।

তবে স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২-এর চাইতে পারফরমেন্সে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও কিরিন ৬৫৫ টানা চলার সময় গরম কিছুটা কম হয়ে থাকে। বেশ কিছু অ্যাপ্লিকেশন এক সঙ্গে চালানাের ক্ষেত্রেও কিরিন ৬৫৫ বেশ এগিয়ে।

অতএব একটি অ্যাপ্লিকেশনে পারফরমেন্স জরুরি, নাকি দীর্ঘ সময় কম গরমে ফোন চালু রাখা জরুরি- সেটির উপর নির্ভর করে ব্যবহারকারীরা কোন প্রসেসর সমৃদ্ধ ফোন কিনবেন তা নির্ধারণ করা উচিৎ।

edf

ক্যামেরা
ফোনটির মূল আকর্ষন ডুয়াল ক্যামেরা। ১২ মেগাপিক্সেল মূল সেন্সরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাটি ছবির গভীরতা নির্ণয়ের কাজ করে। এটি ব্যবহার করে ক্যামেরাটি f/0.95 থেকে f/16 পর্যন্ত ভার্চুয়াল অ্যাপার্চারে ছবি তুলতে সক্ষম।

তবে মনে রাখতে হবে এটি লেন্সের অ্যাপার্চার নয়, বরং এটি ব্যবহার করে অ্যাপার্চার কমানো বা  বাড়ানোর ইফেক্ট ছবিতে যোগ করা হয়ে থাকে।

ডুয়াল ক্যামেরার এ বিশেষ মোড ছাড়া  জিআর৫ ২০১৭ ফোনটি সাধারণ মোডেও ছবি তুলতে সক্ষম। বরং বলা যেতে পারে, ওয়াইড অ্যাপার্চার মোড ছাড়া ডুয়াল ক্যামেরার তেমন কোনও ব্যবহারই আসলে ফোনটিতে নেই।

সাধারণ অটো মোডে ছবি তোলার সময় দেখা গেছে এক্সপোজার, ডাইনামিক রেঞ্জ ও নয়েজের দিক থেকে ফোনটি বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বিষয়টি ক্যামেরাকেন্দ্রিক একটি ফোনে ঠিক মেনে নেয়া যায় না। কেননা কাছাকাছি মূল্যে আরও ভাল ক্যামেরার ফোন বাজারে রয়েছে।

লো-লাইট বা এইচডিআর মোডের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে। যেখানে ডুয়াল ক্যামেরা ব্যবহারে দুটি ক্ষেত্রেই ছবিতে বেশ ভাল পরিমানে মান-উন্নয়ন করা যেত, সেখানে হুয়াওয়ে সেটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে বেশ নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছে।

একই সমস্যা ডুয়াল ক্যামেরা ব্যবহারকারী মোড ওয়াইড-অ্যাপার্চার শটেও রয়ে গিয়েছে – শুধু পার্থক্য বোকেহ যুক্ত করা বা না করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

sdr
sdr

সেলফি ক্যামেরাতেও ডাইনামিক রেঞ্জের অভাব অপরিবর্তিত রয়েছে। ৮মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের ফ্রন্ট ক্যামেরাটিতে সাবজেক্টের ডিটেইল ভালোভাবে বোঝা গেলেও, ব্যাকগ্রাউন্ড ডিটেইল ও হাইলাইটস নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, স্টিল ক্যামেরার প্রায় সকল সমস্যা ভিডিওর ক্ষেত্রে নেই। শার্পনেসের অল্প ঘাটতি আর স্টেবিলাইজেশনের অভাব ছাড়া ১০৮০পি ভিডিওগুলোর অন্য কোনও দিকে তেমন ঘাটতি দেখা যায় নি।

এমনকি, ক্যামেরা অ্যাপটি ভিডিওর ক্ষেত্রেও ম্যানুয়াল মোডে রেকর্ড করার সুবিধা দিচ্ছে – যা অনেক ফ্ল্যাগশিপেও নেই।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, ফোনটিতে ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে কোনও ঘাটতি নেই। সমস্যা মূলত সফটওয়্যারে।

আশা করা যেতে পারে ভবিষ্যতের আপডেটে সেটি শুধরে নেয়া হবে। এর আগে পর্যন্ত ফোনটির ক্যামেরার কোয়ালিটি নিয়ে বেশ হতাশ হওয়া ছাড়া গতি নেই।

সাউন্ড কোয়ালিটি
সাউন্ড কোয়ালিটির দিক থেকে এটি বেশ এগিয়ে। এ দামের অনেক ফোনের হেডফোনে কম ভলিউমে সাউন্ড দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। এক্ষেত্রে সে সমস্যাটি নেই – তবে স্টেরিও ক্রসটক ও ফ্রিকুয়েন্সি রেসপন্সের দিক থেকে কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, মাঝারি মূল্যের এ ফোন বেশ ভালো মিউজিক প্লেয়ার হতে পারে।

Huawei-GR5-2017-05-1

ব্যাটারি লাইফ
ক্যামেরার মতই ব্যাটারি লাইফেও কিছুটা মিশ্র পারফরমেন্স দেখা গেছে। মূলত স্ট্যান্ডবাই টাইমের দিক থেকে পারফরমেন্স খুবই ভালো। অন্তত ৬-৭ ঘন্টা বা আরও বেশি স্ক্রীন অন টাইম পাওয়ার আশা করা যেতেই পারে।

এর খারাপ দিকটি হচ্ছে, বিশাল সাইজের ব্যাটারিটি দ্রুত চার্জের কোনও উপায় নেই। হুয়াওয়ে কোনও প্রকারের ফাস্ট চার্জিং সুবিধা যুক্ত করেনি।

এক নজরে ভাল

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • ব্যাটারি লাইফ
  • প্রসেসিং ক্ষমতা ও মাল্টি-টাস্কিং
  • মিউজিক প্লে-ব্যাকের মান
  • ডিসপ্লে কোয়ালিটি

এক নজরে খারাপ

  • মাঝারি মানের ক্যামেরা
  • কিছুটা দুর্বল জিপিউ
  • মূল্য অনুসারে কিছুটা পানসে ডিজাইন

মূল্য: বাজারে ৩২গিগাবাইট সংস্করণটি ২১,৯০০ টাকায় ও ৬৪ গিগাবাইট সংস্করণটি ২৭,৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনানুষ্ঠানিক ভাবে দেশে আসা ফোনগুলোর মূল্য এর থেকে বেশ কিছুটা কম হতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।