সালমান, দীপিকাকে ছাড়িয়ে ২ নম্বরে কোহলি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের হাতে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর কোচ কুম্বলকে সড়ে দাঁড়াতে বাধ্য করার ঘটনায় যতই সমালোচনা হোক বিরাট কোহলিকে নিয়ে, ভারতীয় অধিনায়কের ফ্যানের সংখ্যা বাড়ছে।

সালমান, দীপিকা, প্রিয়াংকাদের ছাড়িয়ে এখন দেশটির দ্বিতীয় পছন্দের ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন কোহলি। এখন তার সামনে শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

অধিনায়ক-কোচ দ্বন্দ্বের বিষয়টি আলোচনায় থাকতেই আবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক। ফেইসবুক ভক্তদের তালিকায় দেশটিতে অনুসারীর সংখ্যায় এখন দ্বিতীয় অবস্থান তার। নরেন্দ্র মোদির পর ফেইসবুকে সবচেয়ে বেশি অনুসারী সংখ্যা এখন কোহলির।

indian-facebook-celeb-techshohor

রোববার জনপ্রিয় তারকা সালমানকে টপকে দুই নম্বরে চলে এসেছেন ভারত অধিনায়ক। সোমবার তার অফিশিয়াল পেইজে ফ্যানের সংখ্যা তিন কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে। মোদির অনুসারির সংখ্যা ৪ কোটি ২৩ লাখ ৪১ হাজার। সালমানের ৩ কোটি ৫১ লাখ।

মাঠে ও মাঠের বাইরে যেভাবে এগোচ্ছেন জনপ্রিয় এ ক্রিকেট তারকা, তাতে মোদিকেও ছাড়িয়ে যেতে তার খুব বেশি সময় লাগবে বলে মনে হয় না।

ফেইসবুকে লাইকে এগিয়ে থাকলেও  টুইটারে সংখ্যা একটু কম। কোহলিকে অনুসরণ করেন ১ কোটি ৬০ লাখ। ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ৪০ লাখ।

ভারতে ফেইসবুকের অনুসারি বা ফ্যানদের হিসাবে শীর্ষ তালিকায় বলিউড তারকাদের আধিপত্যই বেশি। পাঁচজনই চলচ্চিত্রের তারকা।

শীর্ষ দশে খেলোয়াড় আছেন শুধু শচীন টেন্ডুলকার। তার অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ৮৫ লাখ।

virat-kohli-facebook-techshohor

অবশ্য সেরা দশে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অফিশিয়াল পেজও আছে; যার লাইকের সংখ্যা ২ কোটি ৮৬ লাখ।

বিশ্বজুড়ে ফেইসবুকে সবচেয়ে বেশি অনুসারী খেলোয়াড়ের। পর্তুগালের ও রিয়ালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ১২ কোটি ১৬ লাখের বেশি ফ্যান নিয়ে। প্রথম ১০ কোটি লাইক পাওয়া শাকিরাকে কিছু দিন আগে পেছনে ফেলেন এ ফুটবলার।

এ তালিকায় কোহলি আছেন ৫২ নম্বরে।

আমরা সঠিক কাজই করছি : জাকারবার্গ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মার্ক জাকারবার্গ গত এক যুগ ধরে সময় ব্যয় করছেন যে কাজটি করে সেটি হলো, আপনার বন্ধুর বাচ্চাটা কী দেখতে পছন্দ করে এবং আপনার সেই স্কুল বন্ধুটি রাজনীতি নিয়ে কী ভাবে সেটি বের করতে।

এবং অবশ্যই এর সঙ্গে মতামত ও খবর যেভাবে গণমাধ্যম এবং রাজনীতিকে পরিবর্তিত করছে… সত্য এবং ভুয়া…বিশ্বের শত কোটি মানুষকে সংযুক্ত করছে সেগুলো নিয়ে।

শিকাগোতে গত বুধবার সিএনএন টেলিভিশনকে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন ফেইসবুকের প্রধান নির্বাহী জাকারবার্গ। ২০১২ সালের পর প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এতো গভীর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন জাকারবার্গ।

অনেকটা আলোচনাধর্মী সাক্ষাৎকারে ফেইসবুকের মিশন এবং নতুন করে ফেইসবুক গ্রুপের বিষয়ে বেশকিছু কথা বলেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত কিছু অংশ তুলে ধরা হচ্ছে টেকশহর ডটকমের পাঠকের জন্য।

Zukerburg-facebook-Techshohor

ফেইসবুক প্রধান নির্বাহী স্বীকার করে নেন যে, অনলাইনের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়।

জাকারবার্গ বলেন, আমরা এমন একটি ধারণা অনুভব করতাম, যদি সেইসব কাজ করতে পারি, তাহলে পৃথিবীতে অনেকগুলি জিনিস নিজেরাই ভালো করে তুলতে পারবো।

কিন্তু এখন অনুভব করছি, এর চেয়ে আরও বেশি কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে আমাদের।

মানুষের কণ্ঠস্বরকে সোচ্চার করা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে তাদের মতামতগুলির বৈচিত্র্যতা দিতে হবে। কিন্তু এর উপরে, আপনাকে একটি সবার জন্য সাধারণ প্লাটফর্ম গড়তে হবে। যার মধ্য দিয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।

প্রতিষ্ঠানটির একটি নতুন মিশন রয়েছে যা হচ্ছে, মানুষকে একটি কমিউনিটি তৈরির ক্ষমতা দেওয়া এবং এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীটাকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা।

এবারই প্রথমবারের মতো মার্ক প্রতিষ্ঠানটির মিশন সম্পর্কে এমন খোলামেলা আলোচনা করেছেন। এর আগে অবশ্য তিনি বলেছিলেন, মানুষকে তথ্য শেয়ারের ক্ষমতা দেওয়া এবং বিশ্বটাতে আরও উন্মুক্ত কিন্তু সংযুক্ত করার কথা।

জাকারবার্গ বিশ্বাস করেন যে, তার কাজের জন্য শুধু কিছু সরঞ্জাম রয়েছে। এটা হলো ফেইসবুক গ্রুপ, যেটি বিশ্বের একশো কোটি মানুষ ব্যবহার করে থাকে।

জাকারবার্গ বলেন, আমরা অনেক কিছু তৈরি করতে পারি যেগুলো খুব বড় সমস্যাগুলোকে ফলপ্রসূ আলোচনা ও বিতর্কে ফেলে ভালো কিছু বয়ে আনতে সক্ষম।

শিকাগোতে অনুষ্ঠিত প্রথম ‘কমিউনিটি সামিটে’ ফেইসবুক গ্রুপের জন্য নতুন কিছু ফিচার নিয়ে আসার কথা জানান জাকারবার্গ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তের ৩০০ গ্রুপ অ্যাডমিন দুই দিনের ওই সম্মেলনে অংশ নেন। যেখানে জাকারবার্গ এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের সহযোগীরা বক্তব্য রাখেন। একই সঙ্গে সেখানে কিছু প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফেইসবুকে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন রকমের গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করা অ্যাডমিনরা কথা বলেন সামিটে। এসবের মধ্যে রয়েছে সমকামী শিশুদের সমর্থন জানানো মরমন মায়েরা, বিভিন্ন অজানা দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করার মতো গ্রুপের অ্যাডমিন।

‘আমি মনে করি আমরা সঠিক কাজ করছি’

নতুন করে গ্রুপে জোর দিয়েছে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ। এটাতে জোর দেওয়া মানে জনসাধারণকে আরও সম্পৃক্ত করা, এর মাধ্যমেই কমিউনিটিকে গুরুত্ব দেওয়া বলে জানাচ্ছেন জাকারবার্গ।

তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার সঙ্গে নিয়ে। এরই মধ্যে তিনি হার্ভাডে বক্তব্যও দিয়েছেন। যেখানে উপর থেকে নিচে সব পর্যায়ে কথা বলেছেন। বিষয় ছিল ইমিগ্রেশন ও মানুষের মধ্যে অসমতা নিয়ে।

ঘটনাগুলির সঙ্গে রাজনীতি জড়িত সত্ত্বেও জাকারবার্গ বলেছেন যে, তিনি অফিসের জন্য দৌড়ানো পছন্দ করেন না। বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি ব্যবহারকারীর সামাজিক মাধ্যমের যে প্রভার রয়েছে সেটি তিনি উল্লেখ করেছেন।

জাকারবার্গের লক্ষ্য মানবতার জন্য কাজ করা। যেটা ফেইসবুকের মাধ্যমে করছে। এটাকে শুধু একটি আগাগোড়া বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি।

ফেইসবুকের যেখানে বাজারমূল্য ৪৪০ বিলিয়ন ডলার, এটার অবশ্যই ব্যবহারকারীদের প্রতি দায়িত্ববোধ রয়েছে। ইতিবাচক চিন্তা করার অনেক বিষয় রয়েছে। তিনি বলেন, একারণে এর মূল্য স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাচ্ছে।

জাকারবার্গ বলেন, এজন্য কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ খুব কাজে দেয়। (জাকারবার্গ ফেইসবুকে সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতকে প্রাধান্য দেন।

জাকারবার্গ বলেন, ফেইসবুকের এখন মাসে ১৯০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। সর্বশেষ প্রন্তিকে এটি ৮০০ কোটি ডলার রাজস্ব করেছে। যেটি শুধু এর বিজ্ঞাপন থেকে। এর থেকে আমি বলতে পারি আমরা ঠিক কাজটিই করছি।

কিন্তু গত বছর থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোফাইল কপি করা, ভুয়া সংবাদ ছড়ানো, হত্যার সরাসরি দৃশ্য প্রচারের মতো বিষয়।

তবে গত ফেব্রুয়ারিতে জাকারবার্গ ‘বৈশ্বিক কমিউনিটি তৈরির’ বিষয়টি নিয়ে ৫৭২৬ শব্দের একটি পোস্ট করে তার মিশন শুরুর ইঙ্গিত দেন। সেই পোস্ট দিয়ে তিনি বুঝতে চেয়েছেন এটি সম্পর্কে কে কি ভাবছেন।

২০১০ সালে যখন ফেইসবুক গ্রুপ চালু হয় তখন এটি ছিল ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত মানুষদের সাথে শেয়ারের জায়গা। যেখানে একটি বাচ্চা কিংবা পরিবারের সদস্যরা বা বাচ্চাদের সফ্টবল দলের মতো।

আর এখন এটি প্রত্যেকটি বিষয়ে এমনকি কল্পনাজাত বিষয় নিয়েও খোলা হয়ে থাকে। যেখানে মাত্র কয়েকজন, কোথাও শত বা হাজার লোক থাকে। যেকেউ এখন গ্রুপ খুলতে পারেন। যেটা হতে পারে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, একেবারে নিজেদের, গোপনীয় অথবা নির্দিষ্ট কয়েকজন মিলে। যেখানে এর অ্যাডমিন নির্দিষ্ট করতে পারেন যে, কে গ্রুপে থাকবে, সংযুক্ত হতে পারবে বা পারবে না।

জাকারবার্গ বর্ণনা করেন, গ্রুপে কোনো রাজনৈতিক দলও সক্রিয় থাকতে পারে। আবার তৃণমূল থেকে বৈশ্বিক সবই হতে পারে।

ফেইসবুক গ্রুপ হয়তো কখনো বিশ্বের উষ্ণতা কমাতে পারবে না। তবে এটার সহায়তায় স্বাস্থ্যকর জীবন ও আবহাওয়া পেতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারবে বলে জানান জাকারবার্গ।

মিয়ামির স্থানীয় একটি ফেইসবুক গ্রুপ, ‘ক্লিন আপ মিয়ামি বিচ’ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। কিন্তু সেখানে ১০জন থেকে এখন ৪ হাজার ৫০০শর বেশি মানুষ যুক্ত। যারা অনেকেই মিয়ামি সমুদ্র সৈকত পরিষ্কার রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।

গ্রুপটির অ্যাডমিন মিশেল ডি ফিলিপ্পি। তিনি মিয়ামির একজন রাজনৈতিক কর্মী। আর সেই গ্রুপে রয়েছেন মিয়ামির মেয়র, কাউন্সিলরসহ অনেক ব্যক্তি। যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত। এই গ্রুপ থেকেই সোচ্চার হয়ে মিয়ামি সমুদ্র সৈকতকে পরিষ্কার রাখতে আইন প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান।

জাকারবার্গ বলেন, কথা বলার স্বাধীনতা মানি বিদ্বেষমূলক কিছু ছড়ানো নয়। কথা বলার স্বাধীনতা মানে আপনি কতোটা অন্যকে সহযোগিতামূলক আচারণে কাছে আনতে পারেন সেটারও একটা পরীক্ষা।

ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যগুলোকে রুখাও একটি কর্তব্য আমাদের। ফেইসবুক মানবতার অন্ধকার যে দিকগুলো রয়েছে সেগুলো মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এটা মোকাবিলার মধ্য দিয়েই পৃথিবীকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে বলেন জাকারবার্গ।

ইমরান হোসেন মিলন

ফেইসবুক গ্রুপের জন্য নতুন ফিচার উন্মুক্ত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফেইসবুক গ্রুপের অ্যাডমিনদের জন্য নতুন অনেকগুলো ফিচার উন্মুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকোগোতে অনুষ্ঠিত ফেইসবুক কমিনিউটিস সামিটে ফিচারগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরেন ফেইসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।

তিনি বলেন, নতুন ফিচারগুলো ব্যবহারে গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ ও উপভোগ্য হয় উঠবে।

ফেইসবুক পেইজে থাকা অনেক সুবিধা এতাদিন গ্রুপে ছিল না। এবার ফেইসবুক পেইজের মতই গ্রুপ অ্যানালিটিক্স সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

গ্রুপের অবস্থা কেমন, কোন পোস্ট বেশি জনপ্রিয়, নতুন কয়জন যুক্ত হচ্ছেন, পাঠকের বয়স কেমন ইত্যাদি অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে দেখে নেওয়া যাবে।

শিডিউল পোস্টের সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। চাইলে গ্রুপে কোনো পোস্ট বা ঘোষণা আগেভাগে শিডিউল করে রাখা যাবে।

নতুন যুক্ত হওয়ার টুলসে স্প্যামারদের হাত থেকে সহজে বাঁচতে এক ক্লিকে গ্রুপের যেকোনো সদস্যের কমেন্ট বা পোস্ট মুছে ফেলা যাবে। গ্রুপ টু গ্রুপ লিংকিং ফিচারের সাহায্যে গ্রুপ অ্যাডমিনরা তার গ্রুপে থাকা সদস্যদের অন্য গ্রুপের বিষয়ে জানাতেও পারবেন।

এছাড়া অ্যাডমিনের জন্য গ্রুপে সার্চের ফিচার উন্নত করা হয়েছে। এখন খুব সহজে স্থান, লিঙ্গ বা বয়স অনুসারে সার্চ করে গ্রুপের মেম্বারদের খুঁজে বের করা যাবে।

সিনেট অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে উদ্যোগ নিল ফেইসবুক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনলাইনে বিশেষ করে ফেইসবুকে ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে উদ্যোগ নেওয়া শুরু করলো ফেইসবুক। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যে চরমপন্থা এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য মোকাবেলায় জন্য স্থানীয় সংস্থাগুলিকে প্রশিক্ষণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।

এই ঘোষণাটি এলো সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইট থেকে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড সরিয়ে দিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানোর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই।

পদক্ষেপটির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অনলাইন সিভিল কারেজ ইনিশিয়েটিভের প্রাথমিক অংশীদার হিসেবে রয়েছে জো কক্স ফাউন্ডেশন।

TransferWise+launches+international+money+transfers+via+Facebook-Techshohor

গত বেশকিছু দিন থেকেই ফেইসবুকে সন্ত্রাসী, হিংসাত্মক, ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগের এই প্লাটফর্ম।

নানা ধরনের প্রপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করলেও সেখানে খুব বেশি পরিমাণে প্রতিক্রিয়া দেখায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

ফেইসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার শেরলি সান্ডবার্গ বলেন, সম্প্রতি লন্ডন ও ম্যানচেষ্টারের মতো জায়গায় সন্ত্রাসী হামলা বিভিন্ন জায়গাতেই হচ্ছে। এটা খুবই বেদনাদায়ক।

কেউই সন্ত্রাসীদের এমন আক্রমণ থেকে রেহাই নাও পেতে পারে। তাই এই বিষয়গুলো যাতে ফেইসবুককে ব্যবহার করে না ছড়ানো যায় সেই ব্যবস্থা তারা করবে।

ইমরান হোসেন মিলন

টিম কুক, বেজোস, নাদেলাদের সঙ্গে বসছেন ট্রাম্প

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নির্বাচিত হয়ে হোয়াইট হাউজে আসার আগে থেকেই দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছুটা হলেও বিষোদগার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেসময় অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মী এমন কী সিলিকন ভ্যালির কর্মকর্তারাও আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিতে বাধ্য হয়েছিল।

তবে নতুন খবর হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন প্রযুক্তি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্কের বরফ গলাতে চাইছেন। সেজন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াইট হাউজে একটি সম্মেলন আয়োজন করছেন।

আগামী সোমবার সম্মেলনের সময় নির্ধারণ করে গত মাসেই সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। আর এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আমেরিকান টেকনোলজি কাউন্সিল হোয়াইট হাউজে বসতে যাচ্ছে।

Trump-Techshohor

সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া গ্রুপটি এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রাম সংস্কার নিয়ে কথা বলবেন। তবে ট্রাম্প অনেক আগেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর। ট্রাম্প বিষয়টিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সুযোগের অপব্যবহার করে অন্যদেশ থেকে স্বল্পমূল্যে শ্রমিক আমদানি করা হয় বলে অভিযোগ তোলেন।

এই কাউন্সিলের আরও একটি এজেন্ডা হচ্ছে, রাষ্ট্রের প্রযুক্তি অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং সাইবার আক্রমণ থেকে কম্পিউটারগুলো কিভাবে রক্ষা করা যাবে।

প্রশাসনিক এক কর্মকর্তা বলছেন, সম্মেলনে ১৮টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে তারা আসার প্রত্যাশা করছেন। যার মধ্যে রয়েছে, অ্যামাজন প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস, অ্যাপল সিইও টিম কুক, মাইক্রোসফট সিইও সত্য নাদেলা, ফাউন্ডার ফান্ডস এর পিটার থিয়েল এবং গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেটের সহযোগী চেয়ারম্যান এরিক স্মিত।

তবে গত মাসেই এই আয়োজন হওয়ার কথা ছিল যখন ট্রাম্প জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার ঘোষণা দেয় এবং চুক্তিতে সই করেননি সেসময়।

তখন অবশ্য ফেইসবুক প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, গুগল সিইও সুন্দর পিচাই, জেনারেল ইলেক্ট্রনিক সিইও জেফ ইমমেট, অ্যাপল সিইও টিম কুক এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছিলেন।

তবে এমন সম্মেলন নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

অন্যরা গেলেও টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক সেখানে অংশ নেবেন না। কারণ তিনি প্যারিস জলবায়ু সিদ্ধান্তের পর এই অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করেন।

উবার প্রধান নির্বাহী ত্রাভিস কালানিকও সম্মেলন যোগ দেবেন না বলে জানা গেছে।

অন্য যারা যারা অংশ নেবেন বলে অনেকটা নিশ্চিত করেছেন তারা হলেন, মাস্টারকার্ড সিইও অজয় বঙ্গ, ওপেনগভ সিইও জাকারি বুকম্যান, ওরাকলের কো-চিফ এক্সিকিউটিভ সাফরা কার্টজ, ক্লাইনার পেরকিনস চেয়ারম্যান জন ডোরে, ভিএমওয়্যারের সিইও প্যাট গেলসিঙ্গার, প্ল্যানটির সিইও অ্যালেক্স ক্রাপ, ইন্টেল সিইও ব্রেইন কারজানিস, আকামাই সিইও টম লেইটন, স্যাপ সিইও বিল ম্যাকডারমোট, কোয়ালকম সিইও স্টিভেন মোলেনকফ, অ্যাডোবি সিইও সান্তনু নারায়ণ, আইবিএম সিইও গিন্নি রোমেট্টি এবং অ্যাকসেঞ্চার সিইও জুলিয়া সুইট।

ইমরান হোসেন মিলন

নিরাপত্তা ত্রুটিতে শঙ্কায় ফেইসবুক মডারেটররা!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সামাজিক যোগাযোগ জায়ান্ট ফেইসবুকের হাজারের অধিক মডারেটর কিছুটা আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে নিজেদের পরিচয় সন্ত্রাসবাদে জড়িতদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দেয়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, অপ্রত্যাশিতভাবে ফেইসবুকের এই মডারেটরদের পরিচয় সন্ত্রাসীবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাছে প্রকাশ হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে কিছুটা শঙ্কিত তারা। তবে এটি একটি ত্রুটির কারণে হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ মাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের পোস্ট, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদী, হিংসাত্মক বা বিদ্বেষমূলক, যৌনতাসংক্রান্ত বা বিভিন্ন সন্ত্রাসী প্রচারণামূলক কনটেন্ট দেখভালের জন্য ফেইসবুকের পৃথক ২২টি বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগের হাজারের অধিক মডারেটর কাজ করে থাকেন।

এই আশঙ্কা কিছু বাড়িয়ে দিয়েছে যখন হঠাৎ করেই মডারেটরদের কাছে অপরিচিত ব্যক্তিদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসতে শুরু করে। যাদের সঙ্গে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বোঝাপড়া রয়েছে।

facebook-techshohor

ওই প্রতিবেদনে এক মডারেটরকে উদ্ধৃতি করে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বর নাগাদ ভুলের ঘটনাটি ঘটেছিল। যখন ফেইসবুকের কিছু নিরাপত্তা ত্রুটির ফলে মডারেটরদের প্রোফাইল নোটিফিকেশন অনেকের মধ্যে শেয়ার হয়ে যায়। আর এসব মডারেটররা কাজ করেছিলেন জঙ্গি সংগঠন আইএস, হিজবুল্লাহ ও কুর্দিস্তান ‘সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর’ কনটেন্ট নিয়ে।

তবে এসব মডারেটররা ক্ষতিগ্রস্তরা কোনো ধরনের হুমকি পেয়েছেন কিনা, তার কোনো প্রমাণ নেই বলে জানানো হয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয় ব্যক্তির ফেসবুক প্রোফাইল সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের দ্বারা দেখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে যে মডারেটরের সঙ্গে গার্ডিয়ান প্রতিবেদকরা কথা বলেছেন তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে ওই ব্যক্তি ঘটনার পর নিজেকে লুকিয়েছেন। আইএস সমর্থকরা তার প্রোফাইল দেখে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তবে ফেইসবুক এমন কোনো প্রোফাইল খুঁজে পায়নি, যা সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গিরা পর্যবেক্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে।

ইমরান হোসেন মিলন

উস্কানিমূলক ভিডিও রিডাইরেক্ট করবে গুগল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইউটিউবে উস্কানিমূলক বা উগ্রবাদী কোনো বিষয়বস্তু পেলে তা সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গুগল। ধর্মভিত্তিক উগ্রবাদী ভিডিও খুঁজে তা মুছে ফেলার জন্য গুগল নতুন করে প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যেসব ভিডিও প্রচার করে মানুষকে উগ্রবাদী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করা হয় সেসব ভিডিও খুঁজতে আরও উন্নত প্রযুক্তিও ব্যবহার করবে গুগল। অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদীদের কাছে পৌঁছে, উস্কানিমূলক ভিডিওগুলো রিডাইরেক্ট করে জঙ্গি বিরোধী ভিডিও দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

youtube-techshohor

গুগলের জেনারেল কাউন্সিল কেন্ট ওয়াকারের মতে,সবাই উগ্রবাদী বিষয়বস্তু মুছে ফেলতে তৎপর। তবে প্রযুক্তি শিল্পের সবারই এটা স্বীকার করে নেওয়া উচিত, আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয়।

জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনে সন্ত্রাসী হামলার পরই উগ্রবাদী বক্তব্য ও ভিডিও সরাতে ফেইসবুক,টুইটার ও গুগলের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে দেশগুলোর সাধারণ নাগরিকরা। উগ্রবাদী বিষয়বস্তু সরাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে তারা।

বৃহষ্পতিবার এক ব্লগ পোস্টে ফেইসবুক এসব পোস্ট সরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রযুক্তি ছবি মিলিয়ে এবং ভাষা চিনে উগ্রবাদী পোস্ট মুছে ফেলতে সক্ষম। ইউরোপের জঙ্গিদলগুলো কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ফেইসবুক ব্যবহার করছে এমন অভিযোগ ওঠার পরেই ফেইসবুক এ ঘোষণা দেয়।

রয়টার্স অবলম্বনে আনিকা জীনাত

ভারতে জনপ্রিয় ১০ অ্যাপ

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সারা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। হাতে থাকা স্মার্টফোনে অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই যেকোনো কিছু করে ফেলা যায়। সে কারণে অ্যাপের প্রতি ঝুঁকছে সববয়সী প্রযুক্তিপ্রেমী।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত অ্যাপের একটি বড় একটি বাজার বলে পরিচিত। সে দেশের মানুষ কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন তার উপর নির্ভর করে সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়াতে ভারতের সেরা দশ অ্যাপ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

হোয়াটসঅ্যাপ 
ভারতের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপের নাম হোয়াটসঅ্যাপ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে জানা যায়, দেশটিতে ২০০ মিলিয়ন সক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে ভারতে সবচেয়ে বেশি ফোনকল করা হয় এই সেবাটির মাধ্যমে। হোয়াটসঅ্যাপ মূলত একটি বার্তা আদান-প্রদানকারী ম্যাসেজিং অ্যাপ।

ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার
গত বছরে ভারতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপ প্রথমে ছিল ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার। তবে চলতি বছর হোয়াটসঅ্যাপের কাছে অবস্থান হারাতে হলো।

শেয়ারইট
এক ফোন থেকে আরেক ফোনে ফাইল আদান-প্রদানে জনপ্রিয় অ্যাপ শেয়ারইট। ভারতে বাজরে তৃতীয় অবস্থানে অ্যাপটি। গত বছরে অ্যাপটির অবস্থা ছিল ৫ নম্বরে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে সারা বিশ্বে ১০০কোটির বেশি নিবন্ধিত গ্রাহক শেয়ারইট ব্যবহার করেন।

ট্রুকলার
বেশ দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে অ্যাপটি। এটির সাহায্যে অপরিচিত ফোন নম্বর থেকে কল আসলে কে ফোন করলো সেই সম্পর্কে জানা যায়। গত বছর ভারতে সবচেয়ে ব্যবহৃত অ্যাপের মধ্যে ১১তম অবস্থানে ছিল। চলতি বছর জনপ্রিয়তা ও ব্যবহারকারীদের ভিত্তিতে ৪ নম্বরে উঠে এসেছে।

ফেইসবুক
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানে থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপটি রয়েছে পঞ্চম স্থানে। গেলো বছরে ফেইসবুক অ্যাপ শীর্ষ তিনে ছিল। বর্তমানে ভারতে ২১৩ মিলিয়ন মানুষ ফেইসবুক ব্যবহার করে।

ইউসি ব্রাউজার
চীনের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান আলিবাবার অধিগ্রহণকৃত ইউসি ব্রাউজার ভারতের ৬ নম্বরে রয়েছে। গেলো বছর ব্রাউজারটির অবস্থান ছিল ৪ নম্বরে। ইউসি ব্রাউজার অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ও উইন্ডোজ প্লাটফর্মে রয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে অপেরা মিনিটে টপকে গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে ব্রাউজারটি।

এমএক্স প্লেয়ার
ভিডিও দেখার অ্যাপ এমএক্স প্লেয়ার সপ্তাম অবস্থানে রয়েছে। গত বছর ১৩তম স্থানে ছিল জনপ্রিয়তার দৌঁড়ে।

হোস্টস্টার
অনলাইন ভিত্তিক স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম হোস্টস্টারে প্রায় ৫০ হাজার ঘণ্টার অধিক ভিডিও রয়েছে আটটি ভাষার। ভারতে বাজারে অনলাইন স্ট্রিমিংয়ে ক্ষেত্রে এটি বেশ জনপ্রিয় এবং অষ্টম অবস্থানে রয়েছে।

জিওটিভি
এই অ্যাপে ৪৫৪টি টিভি চ্যানেল রয়েছে। সম্প্রতি অ্যাপটিতে ২২ নতুন চ্যানেল যুক্ত করেছে। এটি নয় নম্বরে রয়েছে ভারতের অ্যাপ বাজারে।

ফেইসবুক লাইট
দশ নম্বরে রয়েছে ফেইসবুক লাইট অ্যাপটি। কম গতির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি ব্যবহার কর সহজেই সামাজিক মাধ্যমটি ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুন:

  • ভিডিও চ্যাটের পাঁচ জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন
  • বছর সেরা অ্যাপ ফেইসবুক, শীর্ষ দশে নেই মাইক্রোসফট

বয়স্কদের ১০ জনের ৯ জনই ফেইসবুকে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বয়স্কদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ও স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়স্কদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের চার জনই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান অফকমের জরিপের এক ফলাফলে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এমনকি একই বয়সী প্রায় অর্ধেক মানুষের সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্টও রয়েছে। ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই বেছে নিচ্ছেন ফেইসবুক।

৬ শতাংশ মানুষ  হোয়াটসঅ্যাপ এবং এক শতাংশ মানুষ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছেন। তবে যাদের বয়স ৭৫ এর অধিক তারা অনলাইনে কার্যক্রম বাড়াতে আগ্রহী নন।

 

social-media-techshohor

বয়স্ক ব্যক্তিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হলেও তাদের মধ্যে অনলাইনে সময় কাটানোর প্রবণতা কম। তরুণদের তুলনায় যা অর্ধেক।

যুক্তরাজ্যের বয়স্ক মানুষদের ভেতর ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেলেও অনেকেই আছেন যারা সার্চ করতে গিয়ে হিমশিম খান। তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে।

অনেকেই নতুন করে ইন্টারনেট ব্যবহার শিখছেন। এক্ষেত্রে তাদেরকে সহায়তা করতে তরুণদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন অফকমের হেড অব মিডয়া লিটেরেসি অ্যালিসন প্রেসটন।

বিবিসি অবলম্বনে আনিকা জীনাত

খেলা মাঠে, উন্মাদনা ফেইসবুকে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ না হলেও চ্যাম্পিয়ানস ট্রফির এই খেলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে চরম উত্তেজনা শুরু হয়েছে। যার নমুনা দেখা যাচ্ছে ফেইসবুক, টুইটারে।

ব্যবহারকারীদের একজন বাংলাদেশের জেতার সম্ভাবনা কত শতাংশ তা নিয়ে জানতে চাচ্ছেন। অনেকেই নিজেদের প্রোফাইলে পতাকার ছবি দিয়েছেন, কেউ দিচ্ছেন প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি। যেখানে লেখা আছে আই লাভ বাংলাদেশ।

অতীতের স্মৃতি টেনে অনেকেই আবার শঙ্কা প্রকাশ করছেন আইসিসির পক্ষপাতিত্ব নিয়ে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন, এবারের ম্যাচেও যদি ২০১৫ বিশ্বকাপের মতো কিছু হয়?

galary-techshohor

মেলবোর্নে ভারত-বাংলাদেশের সেই ম্যাচে অাম্পায়ারদের বির্তকিত দুটি সিদ্ধান্তে দেশেতো বটেই, পুরো ক্রিকেট বিশ্বেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। সরগরম হয়ে ওয়ে ফেইসবুকের হোমপেইজ।

এবার খেলার আগেই যে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে তার কিছুটা আঁচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও লেগেছে। টালিগঞ্জের অভিনেতা আবির চট্টপাধ্যায় দুই বাংলার এই বিভেদ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তার মতে, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের জায়গাটাই অনেকেই গুলিয়ে ফেলছেন।

বিবিসি বাংলার সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান ফেইসবুকে তার টাইমলাইনে লিখেছেন, বাংলাদেশীদের কাছে ক্রিকেট যেনো নব্য আফিমের মতো। যতো অন্যায় অত্যাচার অবিচার হত্যা মৃত্যু অনাহার সাম্প্রদায়িকতার ঘটনাই ঘটুক, সবকিছুকে ভুলিয়ে দিতে পারে এই মহৌষধ। আজও এরকম এক উন্মাদনার দিন। দেশপ্রেমের নামে ভারত ও পাকিস্তানকে কতোটা ও কিভাবে গালিগালাজ করতে পারি, মাঠের খেলা দেখার পাশাপাশি ফেইসবুকের এই খেলাও আজ গভীর আগ্রহের সাথে দেখবো। জয় হোক টাইগার বাহিনীর।

তবে ফেইসবুক অনেকটাই ছেয়ে গেছে একে অন্যের ট্রল করে। কেউ বাংলাদেশকে নিয়ে করছে তো কেউ ভারতে। দেখে মনে হচ্ছে একটি ভীষণ যুদ্ধ লেগেছে দুদেশের ক্রিকেটে।

ওয়াহিদ ইবনে রেজা নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন,মাঠে আম্পায়াররা ভুল সিদ্ধান্ত দিবে আমাদের বিরুদ্ধে এইটা আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট নিশ্চিত. তাদের জন্য আমার নানুর ভাষায় দুইটা কথা! -তোদের উপর ঠাডা পড়বে! আল্লাহর গজব নাজিল হবে! আর ভুলেও যদি একটা দুইটা সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে যায়, আরে ভাই খেলায় তো এরকম হবেই! চেতেন ক্যান?

তবে ভারত-বাংলাদেশ এখন ক্রিকেট দুনিয়ায় একটা বড় শত্রুতা এমনটাই লিখেছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা।

খেলা শুরু হতে বাকি আর মাত্র ঘণ্টা দেড়েক। তবে এই যুদ্ধাদেহী মনোভাব খেলার মাঠের বাইরে গড়াবে না এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমীদের। টাইগারদের জন্য অবশ্যই শুভকামনা থাকছে সবার।

আনিকা জীনাত

‘জাকারবার্গ আসলে সারা বিশ্বের একজন স্বৈরশাসক’

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ‘গোড়ার দিকে ইন্টারনেট একটি নিরপেক্ষ জায়গা ছিল। সেখানে সবার অধিকার সমান ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমরা সবকিছু কেন্দ্রীভূত করে ফেলেছি। ব্যবহারকারীর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে তা বড় বড় কোম্পানির কাছে তুলে দিচ্ছি। সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হলো, আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো না। তবে এর ক্ষতির পরিমাণ হয়তো কমানো যাবে।’

সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য নেক্স ওয়েব’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটা বলেছেন পাইরেট বে’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিটার সানদে। তিনি সেই সাক্ষাৎকারে কিভাবে বিকেন্দ্রীকরণের বদলে ইন্টারনেটের সবকিছু কেন্দ্রীভূত হয়ে যাচ্ছে সেসব বিষয় নিয়ে আলাপ করেছেন।

পিটারের মতে, আগামীতে কী হবে তা নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। কিন্তু এখন কী হচ্ছে তা নিয়ে কারো মাথাব্যাথাই নেই। প্রায়ই মানুষ তাকে প্রশ্ন করেন, কেমন হবে বর্ণহীন ডিজিটাল ভবিষ্যতের জীবন?

সত্যিটা হচ্ছে, আমরা এই বর্ণহীন জীবনটাতেই বেঁচে আছি। সবকিছুই ভুল দিকে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কী হবে প্রশ্ন সেটা নয়, প্রশ্ন হচ্ছে এখন কী হচ্ছে?

pirate-bay-founder-techshohor

মার্ক জাকারবার্গ নামে এক ব্যক্তির হাতে আমরা সব তথ্য তুলে দিচ্ছি। জাকারবার্গ আসলে সারাবিশ্বের একজন স্বৈরশাসক! কারণ কেউ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেনি। আর জাকারবার্গের হাতে যা আছে তা চলে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে। তাই আমার মনে হয়, যা কিছু ভুল পথে যাওয়ার ছিল তা ভুল দিকেই গেছে। এই ভুল শোধরানোর কোনো উপায় নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, এটি কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়। ইন্টারনেট তৈরি করা হয়েছিল তথ্যের ক্ষমতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন আমরা সবকিছু কেন্দ্রীভূত করার বিষয়টিকেই সবার ওপরে স্থান দিয়ে রেখেছি।

গত ১০ বছরে যত টেক কোম্পানি বা ওয়েবসাইট এসেছে তার প্রায় সবগুলোই কিনে নিয়েছে শীর্ষে থাকা পাঁচ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো অ্যামাজন, গুগল, অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও ফেইসবুক। কোনো রকমে প্রযুুক্তি জায়ান্টগুলোর নাগাল থেকে ছোট কোম্পানিগুলো রক্ষা পেলেও পরবর্তীতে তারাও আর কেন্দ্রীভূত না হয়ে টিকে থাকতে পারছে না।

এখন আর আমরা কিছু উদ্ভাবন বা সৃষ্টি করছি না। এর পরিবর্তে আমরা ভার্চুয়াল জিনিসগুলো নিয়েই পড়ে আছি। উবার, আলিবাবা কিংবা এয়ারবিএনবিয়ের কথাই ধরুন। এদের কি কোনো পণ্য আছে? না, নেই। পণ্যভিত্তিক মডেল থেকে আমরা এখন ভার্চুয়াল পণ্যের দিকে বেশি মনযোগ দিচ্ছি। অথচ ভার্চুয়াল জগতে কোনো পণ্যই নেই। এভাবেই সবকিছু কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। পাশাপাশি আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেক ধরনের প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা রয়েছে যা কেন্দ্রীভূত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিয়ে আমরা অনেক উত্তেজিত। কিন্তু কার কাছে এই গাড়ি আছে? গাড়িটি কোথায় যেতে পারবে আর কোথায় পারবে না তা কি কেউ জানে? আমি এমন কোনো গাড়িতে উঠতে চাই না যা আমাকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারবে না।

বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আর্থিক সাফল্যকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়। জনগণ ও সমাজের প্রয়োজনের কথা তারা পরে ভাবে। তাই প্রযুক্তি ও মালিকানার বিষয়ে একটি নৈতিক আলোচনা হওয়া দরকার। না হলে আমরা কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত সমাজের বাসিন্দা হয়ে যাবো। যেটি বর্তমানের চেয়ে আরও খারাপের দিকে চলে যাবে।

দ্য নেক্সট ওয়েব অবলম্বনে আনিকা জীনাত