সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ঘুরে এ সপ্তাহে তা এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

প্রধানমন্ত্রী টেলিযোগাযোগ বিভাগেরও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সে হিসেবে লাইসেন্স বাতিল বা নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার মতো বিষয়গুলোতে তাঁর অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ মাসের প্রথম দিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন দেশের সবচেয়ে পুরোনো মোবাইল ফোন অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে সরকারের কাছে।

অনেক দিন হতে সেবায় না থাকা সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে বিটিআরসি মূলত পুরোনো বকেয়া পরিশোধ না করা, আদালতের নির্দেশ অনুসারে চলতি দেনা যেমন স্পেকট্রাম এবং লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করা এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগ আনে।

 

তবে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করার আগে কেনো লাইসেন্স বাতিল করা হবে না সে বিষয়ে সিটিসেলকে কারণ দর্শানো নোটিশও পাঠায় বিটিআরসি। কিন্তু নোটিশের জবাবে উল্টো তারা বিটিআরসিকে জানায় যে, সরকার নয় বরং বিটিআরসিকে হিসাবের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দিয়েছে। ফলে তারা আর বিটিআরসিকে নতুন করে কোনো টাকা দেবে না।

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিটিআরসি সিটিসেলের স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করে দেয়। তখন অবশ্য সিটিসেল সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে ৬ নভেম্বরে সিটিসেলের স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে তাদের এখন আর কোনো গ্রাহক নেই।

ওই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে মোট পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা বকেয়া ছিল বলে দাবি বিটিআরসির। তবে এর মধ্যে অপারেটরটি পরিশোধ করেছে ২৫৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২২২ কোটি পরিশোধ করলেই অপারেটরটি দায় মুক্ত হবে।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে সিটিসেলের একটি পেমেন্ট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যথা সময়ে তা পরিশোধ করেনি অপারেটরটি।

আর. এস. হুসেইন

মোবাইল ডেটার দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ইন্টারনেটের প্রকৃত দাম কত হওয়া উচিত, তা নির্ধারণে কস্ট মডেলিংয়ের বহু প্রতিক্ষীত কার্যক্রম শুরু করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি।

আন্তর্জাতিকে টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের দু’জন বিশেষজ্ঞ এ জন্য কাজ শুরু করেছেন। তারা ধারাবাহিকভাবে বিটিআরসি ও অপারেটরগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কর্মশালা করছেন।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তারা ইন্টারনেটের দামের বিষয়ে প্রতিবেদন দেবেন। এর মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট ডেটার প্রকৃত দাম কতো হওয়া উচিত সেটি নিরূপিত হবে।

smartpthone-techshohor-internet

 

এর আগে বিটিআরসি ভয়েস কল ও এসএমএসের কস্ট মডেলিং করে উচ্চ ও নিন্মসীমা বেঁধে দিলেও ইন্টারনেট ডেটার ক্ষেত্রে এটি কখনও হয়নি।

এদিকে তিন দিনের বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা অপারেটরগুলোর কাছে তাদের সংশ্লিষ্ট সকল ব্যয় ও আয়ের তথ্য চেয়েছেন। পরে এগুলো পর্যালোচনা করে ডেটার সর্বোচ্চ ও সর্বনিন্ম সীমা বেঁধে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ডেটার কস্ট মডেলিং হলে গ্রাহকরা প্রকৃত দামে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

এর আগে গ্রাহকদের একাধিক আবেদনের প্রেক্ষিতে মোবাইল ডেটার মূল্য বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি।

মাঝে একবার এ জন্য বিটিআরসিকে এক মাসের সময়ও বেঁধে দেয় ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটি।

এর আগে ২০১৬ সালের শুরুতে কস্ট মডেলিং করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা করণে তা আর শুরু করতে পারেনি কমিশন।

মাঝে একবার আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছে এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শক চেয়েছিল বিটিআরসি। তবে বিনা খরচায় ইউনিয়ন এ পরামর্শক দিতে চায়নি। পরে ২৫ লাখ ডলার ব্যয়ের চুক্তি করে আইটিইউ থেকে পরামর্শক পেল কমিশন।

বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নত বিশ্বের কোনো দেশই কস্ট মডেলিং ছাড়া ইন্টারনেটের প্যাকেজ সাজায় না। এ ক্ষেত্রে একেক দেশ একেক পদ্ধতি অবলম্বন করে।

তারা জানান, অপারেটরের খরচ, বিনিয়োগ ও লাভের অংক ধরেই পরে প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

এবার সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনেক দিন থেকে সেবায় না থাকা দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি।

বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে কমিশন। সম্প্রতি কমিশন বৈঠকে অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করা হলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে তা ফিরে পেয়েছিল অপারেটরটি। তবে আর কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

মূলত পুরনো বকেয়া পরিশোধ না করা এবং আদালতের নির্দেশ অনুসারে চলতি পাওনা, যেমন স্টেকট্রাম ফ্রি ও লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করার পাশাপাশি লাইসেন্সের শর্তভঙ্গ করার অভিযোগ আনা হয়েছে অপারেটরটির বিরুদ্ধে।

citycell-btrc-techshohor

এসব কারণ দেখিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে বিটিআরসি।এ দিকে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা দ্রুতই তা বিটিআরসিকে অবহিত করবে।

গত সপ্তাহে এ সুপারিশ পাঠানো হয় বলে সাংবাদিকদের জানান, কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।তিনি জানান, সরকার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুামোদন করলে তারা সিটিসেলের এ স্পেকট্রাম নিলামে তুলবেন।

বিটিআরসি টেলিযোগাযোগ আইনের ৪৬ ধারা ভঙ্গের অভিযোগও করেছে।

সম্প্রতি বিটিআরসি এ বিষয়ে সিটিসেলকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠালে সিটিসেল উল্টো দাবি করেছে, তারা বরং বিটিআরসিকে হিসাবের অতিরিক্ত টাকা দিয়েছে।

ফলে তারা আর বিটিআরসিকে নতুন করে কোনো অর্থ দেবে না।

 

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর কমিশন অপারেটরটির স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করলে সিটিসেল উচ্চ আদালতে যায়। আপিল বিভাগ স্পেকট্রাম খুলে দেয়ার আদেশ দেন। ৬ নভেম্বর স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে তাদের এখন আর কোনও গ্রাহক নেই।

এর আগে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে মোট পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা বকেয়া ছিল বলে দাবি বিটিআরসি। তবে এর মধ্যে অপারেটরটি পরিশোধ করেছে ২৫৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২২২ কোটি পরিশোধ করলেই অপারেটরটির দায় মুক্ত হওয়ার কথা।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে সিটিসেলের এ পাওনা কিস্তিতে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু যথা সময়ে তা পরিশোধ করেনি অপারেটরটি।

এদিকে, পাওনা আদায়ে সিটিসেলের প্রধান কার্যালয় নিলামে তুলছে ন্যাশনাল ব্যাংক। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ভবনটির ৬ষ্ঠ হতে ১৩তলা পর্যন্ত নিলামে তোলা হবে বলে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও দেয় ব্যাংকটি।

ঢাকা ফাইবার নেট বন্ধ, অভিযোগ ‘জঙ্গি’ সংশ্লিষ্টতার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ঢাকা ফাইবার নেট লিমিটেডের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। লাইসেন্সবিহীন আইএসপি প্রতিষ্ঠানকে ব্যান্ডইউথ সংযোগ, নির্দেশিত আইপি লগ সংরক্ষণ না করা এবং ‘জঙ্গি’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করতে বলেছে বিটিআরসি।

লাইসেন্সের শর্ত ও কমিশনের নির্দেশনা লঙ্ঘন করায় কেনো প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না তা জানাতে সাত দিনের সময় দিয়েছে বিটিআরসি।

গত ৫ জুন পুলিশের ক্রাইম ইউনিট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিটিআরসি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংযুক্ত আইএসপি এবং আইআইজি প্রতিষ্ঠানকে এমন নির্দশনা দিয়েছে।

btrc_techshohor

ঢাকা নেট লাইসেন্স বিহীন প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্ট নেটকে ব্যান্ডউইথ সংযোগ দিয়েছে। পরে কনফিডেন্ট নেটের কাছ থেকে ইন্টারনেট সংযোগ নেয় ১৫০ গ্রাহক। যার মধ্যে কয়েকজন গ্রাহকের ‘জঙ্গি’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে বিটিআরসিকে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তাছাড়া ঢাকা নেট এসবের আইপি লগ সংরক্ষণ না করায় সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কাজের সঙ্গে যুক্তদের সঠিকভাবে সনাক্ত করা সম্ভবও হচ্ছে না।

ইমরান হোসেন মিলন

অবশেষে একীভূতকরণের স্বীকৃতি পাচ্ছে রবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নানা টানা টানাপড়েনের পর অবশেষে এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে রবি।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কাছ থেকে ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ বৃহস্পতিবার পাওয়ার কথা বলে জানা গেছে।

প্রায় নয় মাসে একীভূতকরণের অনুমোদন পাওয়ার পর গত কয়েক মাসে শীর্ষ এ দুই অপারেটর কার্যত রবির মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে আর্থিক দেনাপাওনার হিসাব সংক্রান্ত জটিলতায় বিটিআরসি এতদিন এ লাইসেন্স দেয়নি।

airtel -robi_techshohor

বুধবার মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের বাজেট বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে রবির চিফ পিপলস অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ বলেন, একীভূতকরণ শেষ পর্যন্ত যথাযথভাবে হচ্ছে। এ উদ্যোগ উভয় কোম্পানির জন্য সুফল নিয়ে আসবে।

পর্যায়ক্রমে তা গ্রাহকদের মধ্যেও সঞ্চারিত হবে বলে উল্লেখ করেন।

যদিও এর আগে রবি একাধিকবার বলেছে, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছ থেকে একীভূতকরণ বিষয়ে তাদের এ ধরণের কোনো লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বিটিআরসির দাবি করা বাড়তি টাকা ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েই ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ বুঝে নিচ্ছে রবি।

ইতিমধ্যে তারা এয়ারটেলের ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ বিটিআরসিকে ফেরত দিয়েছে।

 

২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মোট ২১ শর্ত দিয়ে রবি ও এয়ারটেলের একীভূতকরণ অনুমোদন দেয় বিটিআরসি।

১০০ কোটি টাকা একীভূতকরণ ফি ও ৩০৭ কোটি টাকা এয়ারটেলের তরঙ্গ সমন্বয় ফি হিসেবে মোট ৪০৭ কোটি টাকা, যা ভ্যাট-ট্যাক্স মিলে ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।

এর মধ্যে ২০ নভেম্বর ৩১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করে রবি। বাকি ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধের কথা থাকলেও তা দেয়নি অপারেটরটি। শর্ত প্রতিপালন না করায় অনুমোদনের পরও গত প্রায় নয় মাস ধরে একীভূতকরণ চূড়ান্তের বিষয়টি ঝুলে ছিল।

এ দীর্ঘ সময়ে একীভূতকরণের শর্ত পূরণ নিয়ে রবিকে বেশ কয়েক দফা চিঠি দেয় বিটিআরসি। পরে শোকজও করে।

এর মধ্যে একীভূতকরণ বাতিলের হুমকিও দেয়।

পরে টাকা পয়সা পরিশোধের শর্তে অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স নিতে বিটিআরসির কাছে আবেদন করলে এ জটিলতা নিরসন হয়।

কম দামে বেশি স্পেকট্রাম চায় অপারেটরগুলো

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজি সেবায় বেশি দামে কম স্পেকট্রামের পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামে পুরো স্টেকট্রাম কিনতে চায় মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য দুই কোটি ডলারের নিচে নামিয়ে আনতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে দেশের বড় তিন অপারেটরের মূল কোম্পানি।

গ্রামীণফোনের মূল কোম্পানি টেলিনর, রবির মূল কোম্পানি আজিয়াটা ও বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিয়েনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে গত ২৯ মে পাঠানো যৌথ এ চিঠিতে তিন কোম্পানির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা সই করেছেন।

GP-banglalink-robi-4G-techshohor

তারা বলছেন, ২০১৩ সালে দেশে থ্রিজি চালুর আগে সরকারের হাতে থাকা স্পেকট্রামের মাত্র কিছু অংশ বিক্রি হয়েছিল। উচ্চ মূল্যের কারণেই অপারেটরগুলো অল্প স্পেকট্রাম কিনে থ্রিজি সেবা চালু করতে বাধ্য হয়।

এখন থ্রিজি ব্যান্ডে অনেক অবিক্রিত স্পেকট্রাম রয়ে গেছে। সরকার তখন নিলামে এই স্পেকট্রামের ভিত্তিমূল্য ধরেছিল প্রতি মেগাহার্ডজ দুই কোটি ডলার। নিলামে তা দুই কোটি ১০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।

দেশে ফোর জি সেবা চালু করতে এখন কয়েকটি ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বিক্রি করতে চায় বিটিআরসি। নিরামে এগুলোর কোনোটির ভিত্তিমূল্য তিন কোটি থেকে সাড়ে তিন কোটি ডলার পর্যন্ত ধরা হচ্ছে।

এত দাম না বাড়িয়ে অপারেটরগুলো বরং সরকারকে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে অনুরোধ করছে। তারা প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য দুই কোটি ডলারের নিচে নামিয়ে আনার অনুরোধ করেছে।

দাম কমানো হলে অপারেটরগুলো বেশি স্পেকট্রাম কিনতে বিনিয়োগ করতে পারবে, তাতে ফোরজিতে গ্রাহক সেবার মান উন্নত হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে তারা ফোরজিতে অপারেটরগুলোর রাজস্ব ভাগাভাগি কিছুটা কমিয়ে আনা এবং স্পেকট্রামে বাড়তি মূল্য না নিয়ে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা দেওয়ার ‍অনুরোধ করেন।

ফ্রি সিমে এয়ারটেলের লোকসান ২৫০ টাকা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শুধু দোকানে নয়, বাসা বাড়িতে গিয়েও ফ্রি সিম দিচ্ছে এয়ারটেল। রবির সঙ্গে একীভূত হওয়া এ অপারেটর গ্রাহক বাড়াতে এ জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিও মেনে নিচ্ছে। সিমপ্রতি আড়াইশ টাকা লোকসান দিচ্ছে।

মুখে অবশ্য ফ্রি বললেও খানিকটা চাতুরি রেখে দিয়েছে তারা। এ কারণে বড়সড় করে কোনো প্রচারণাও চালাচ্ছে না।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একশ’ টাকায় একটি এয়ারটেল সিম দিচ্ছেন তারা। গ্রাহক এজন্য টক টাইম পাবেন ৯৬ টাকার। এটিকেই ফ্রি বলছে অপারেটরটি।

বর্তমানে একটি সিমে সরকারের একশ’ টাকা ট্যাক্সসহ রিটেইলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশনসহ সব মিলে রবির অন্তত আড়াইশ’ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একীভূত অপারেটরটি গ্রাহক বাড়াতে সাময়িক এ ক্ষতি মেনে নিলেও তা কতটুকু ফলপ্রসু হবে সেটা দেখার বিষয়। কেননা একটা সিম ফ্রি গ্রাহকের হাতে গেলে সেটি শেষ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ব্যবহার হয় না।

বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে অন্তত নতুন পাঁচটা সিম বাজারে গেলে শেষ পর্যন্ত টেকে মাত্র একটি। সে হিসাবে প্রতিটি নতুন গ্রাহক ধরতে একীভূত কোম্পানির অন্তত এক হাজার ২০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

রবির সঙ্গে একীভূত হওয়ার ২১ শর্তের একটি হলো আগামী দুই বছর এয়ারটেলের ব্র্যান্ডনেম ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে ০১৬ সিরিজের নম্বরও তারা এ সময় পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবে।

এ সুযোগ নিয়ে দেদারছে ০১৬ বিক্রি শুরু করেছে অপারেটরটির মূল কোম্পানি রবি-আজিয়াটা। মাঝখানে রবি সিমের সঙ্গে একটি এয়ারটেল সিম ফ্রি হিসেবেও দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুই বছর পর ০১৬ বা এয়ারটেল ব্র্যান্ড বন্ধ হওয়ার আগেই বড় একটি গ্রাহক সংখ্যা তৈরির পরিকল্পনা থেকে রবি এমন কৌশল নিয়েছে।

একই ভাবে ০১৬ নম্বর সিরিজ ধরে রাখতেও এমন পদক্ষেপ নিয়েছে অপারেটরটি। কেননা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ০১৬ সিরিজের নম্বরকে ০১৮-এ নিয়ে আসতে বললে তখন গ্রাহক সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে যাতে সেটি ‘অসম্ভব’ হয়ে পড়ে সেটিও আছে রবির পরিকল্পনায়। 

এখন ৭২ লাখের মতো ০১৬ নম্বর কার্যকর থাকলেও বাজারে এ সিরিজের নম্বর আছে তিন কোটির মতো।

ফলে নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যে এ সংখ্যা আরও দুই-তিন কোটি বাড়িয়ে নিতে পারলে তখন প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অন্তত এ জায়গায় এগিয়ে থাকবে একীভূত রবি-এয়ারটেল কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি অপারেটরের কাছে দুটি নম্বর সিরিজ থাকা মানেই- সে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ এগিয়ে থাকছে।

গ্রামীণফোন তাদের ০১৭ সিরিজ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন আর নতুন সিরিজ চেয়েও পাচ্ছে না। সে কারণে বাজারে তাদের গ্রাহক সংখ্যাও সেই অনুসারে বাড়াতে পারছে না।

তবে দুটি নম্বর সিরিজ থাকলে ১০ কোটির চেয়েও কয়েক কোটি বেশি গ্রাহকের কাছে সিম বিক্রি করতে পারবে রবি। এ কারণেই ০১৬ সিরিজ ধরে রাখতে ভবিষ্যতের কথা ভেবে বড় আর্থিক ক্ষতিও মেনে নিচ্ছে তারা।

আর. এস হুসেইন

সর্বনিম্ন স্পেকট্রামে টেলিকম সেবা বাংলাদেশে

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো সবচেয়ে কম স্পেকট্রামে গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকে। আর এটিই তাদের সেবার মান খারাপ হওয়ার প্রধানতম কারণ।

অপারেটরগুলো বলছে, স্পেকট্রাম কম হওয়ার পাশাপাশি একই স্পেকট্রামে নানা রকম সেবা দিতে না পারা বা স্পেকট্রাম নিউট্রালিটির অভাব সেবার মান না বাড়ার অন্তরায়।

বাংলাদেশে গড়ে এক অপারেটরের হাতে আছে ২৮ দশমিক ৪ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম। কিন্তু অন্য দেশগুলোতে সেটা অপারেটরভেদে ৭০ থেকে ১১০ মেগাহার্জ পর্যন্ত রয়েছে বলে সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের এক প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব-এর মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘ক্রমাগত ভয়েসের ডিমান্ডের চেয়ে ডেটার ডিমান্ড বাড়ছে। মোবাইল ফোন অল অ্যাবাউট ডিজিটাল সার্ভিসেস। এখানে ডেটা হচ্ছে প্রধান এনাব্লার। তিন ব্যান্ডের স্পেকট্রামের মধ্যে ২১০০ ব্যান্ডে থ্রিজি আছে। বাকি ১৮০০ ও ৯০০ ব্যান্ডে কিন্তু থ্রিজি নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বহু দিন ধরে বলে আসছি যে আমাদের টেকনোলজি নিউট্রালিটি দেয়া হোক। তার মানে ১৮০০ ও ৯০০ স্পেকট্রামে যদি থ্রিজি ও ফোরজির সুযোগ।’

অ্যামটব মহাসচিব বলছেন, ‘অপারেটরগুলো সীমিত স্পেকট্রাম নিয়ে আছে অন্যদিকে ক্রমাগত ইউজার বেড়ে যাচ্ছে। কোয়ালিটি অব সার্ভিস খুব গুরুত্বপূর্ণ অপারেটরগুলোর জন্য। তাদের গ্রাহক সেবা যদি ভাল না হয়, কেউ কি চায় তাদের গ্রাহককে অসন্তুষ্ট রেখে ব্যবসা করতে। মোবাইল অপারেটরগুলো সেবাকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিচ্ছে কিন্তু তাদের হাত-পা বাধা।’

spectrum_techshohpr

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি স্পেকট্রাম যে গ্রামীণফোনের ৩২ মেগাহার্জ সেটিও অন্যান্য উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের অপারেটরের তুলনায় অনেকাংশে কম। আবার গ্রাহক সংখ্যার বিবেচনায় গ্রামীণফোন ওইসব দেশের অপারেটরগুলোর তুলনায় অনেক এগিয়ে।

বিষয়টি দেখেছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও। সম্প্রতি সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেছেন, দ্রুত তারা আরও স্পেকট্রাম নিলামের আয়োজন করবেন। কিন্তু সেখানে যদি অপারেটরগুলো তাদের প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম না কেনে এবং গ্রাহক সেবার মান যদি ভালো না হয় তাহলে উল্টো অপারেটরদের বিরুদ্ধে তখন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রামীনফোন ছয় কোটি গ্রাহক সামলাচ্ছে। রবি-এয়ারটেল মিলিয়ে সাড়ে তিন কোটি গ্রাহক। রবি আর এয়ারটেল একীভূত হওয়ার পর তাদের স্পেকট্রাম এখন ৩৬ দশমিক ৪ মেগাহার্জ।

আর টেলিটকের আছে ২৫ দশমিক ২ মেগাহার্জ। যদিও তাদের গ্রাহক সংখ্যা কম। কিন্তু বাংলালিংকের হাতে মাত্র ২০ মেগাহার্জ। আর তারা সামলাচ্ছে তিন কোটি ২০ লাখ গ্রাহক।

দেশের বাইরে অন্যদের সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, মালয়েশিয়ার অপারেটরগুলো গড়ে ৫৬ মেগাহার্জ করে স্পেকট্রাম ব্যবহার করছে। ভিয়েতনামেও সেটি ৪১ মেগাহার্জ। আবার দেশগুলোতে রয়েছে স্পেকট্রাম নিউট্রালিটি।

যুক্তরাজ্যের অপারেটরগুলো গড়ে ১১৫ দশমিক ৯ মেগাহার্জ করে স্পেকট্রাম ব্যবহার করছে। জার্মানিতে সেটা ১১৪ দশমিক ৮ মেগাহার্জ এবং অস্ট্রেলিয়াতে সেটা ৭২ দশমিক ৮৫।

spectrum-auction_techshohor

অপারেটরগুলো বলছে, সরকারে হাতে বিভিন্ন ব্যান্ডে ব্যবহার উপযোগী মোট স্পেকট্রাম রয়েছে ৩৩০ মেগাহার্জ, যার মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ১৮২ মেগাহার্জ। আর সবগুলো অপারেটর মিলে ব্যবহার করছে মাত্র ১১৭ মেগাহার্জ।

‘এত অব্যবহৃত স্পেকট্রাম থেকে যাচ্ছে, যেটা বাড়তি কোনো ফলই সরকারকে দেবে না। অথচ গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে এসব স্পেকট্রাম অপারেটরদের দিয়ে দিলে ইন্টারনেটসহ সামগ্রিক সেবার মান বাড়তো এবং তা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নতিতেও সহায়তা করতো।’

এদিকে বিটিআরসি বলছে, তারা নতুন করে স্পেকট্রাম নিলামের আয়োজন করছেন। একইসঙ্গে যেসব অপারেটরের হাতে অব্যবহৃত স্পেকট্রাম আছে সেগুলো নিয়ে নিয়ে ওই নিলামে উপস্থাপনের ব্যবস্থাও করছেন তারা।

তবে অপারেটরগুলোর কথা, শুধু নিলামের আয়োজন করলেই হবে না। নিলামে যদি উচ্চমূল্য থাকে এবং সেটি যদি তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চয়ে যায় তাহলে নিলাম করেও তাদের জন্যে খুব একটা কাজে আসবে না।

র‍্যানসম নিয়ে বিটিআরসির পরামর্শ

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : র‌্যানসমওয়্যার ম্যালওয়্যার হতে নিরাপদ থাকতে জনগণকে পরামর্শমূলক এসএমএস পাঠিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন(বিটিআরসি)

শুক্রবার পাঠানো ওই এসএমএসে বলা হয়েছে, দ্রুত উইন্ডোজ ৮ ব্যবহারকারীরা যেন ডাটা ব্যাকআপ করে নেয়। উইন্ডোজ ১০ এবং আগের সংস্করণের জন্য মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইট হতে নিরাপত্তামূলত প্যাচ ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নেয়।

ransomware-expert-tips-featured-techshohor

উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারীরা এই ঠিকানা থেকে প্যাচটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করা যাবে। এছাড়া কম্পিউটারে থাকা প্রয়োজনীয় ফাইল পোর্টেবল হার্ডড্রাইভে ব্যাকআপ রাখতে পারেন।

চলতি মাসের ১২ তারিখ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাইবার হামলা হয়েছে । একযোগে ১০০টির বেশি দেশ এই হামলার শিকার হয়েছিলো।র‌্যানসমওয়্যার নামে এক ধরনের ম্যালওয়্যারে দেশগুলোর বিভিন্ন খাতের অনেক বড় প্রতিষ্ঠানেসহ হাজার হাজার কম্পিউটার সিস্টেম অচল হয়ে যায়। তখন আক্রান্ত কম্পিউটারের বার্তা দিয়ে হ্যাকাররা ৩০০ ডলারের বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণ ফিরেয়ে দেয়ার কথা জানায়।

আবারও হামলা হতে পারে এমন আশংকার কথাও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই সতর্ক থাকতে এই পরামর্শ

তুসিন আহমেদ

আরও পড়ুন:

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস পালিত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন হচ্ছে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। দেশে দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সকালে রমনায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

tele-day-techshohor

এছাড়াও বিকেলে দিবসটিকে কেন্দ্র করে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

এসময় অনলাইনে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং হ্যাকাথনের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) ১৫২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস পালন করা হয়। বিশ্বজুড়ে আইটিইউয়ের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্র দিবসটি পালন করে।

বাংলাদেশও আইটিইউয়ের সদস্য রাষ্ট্র হওয়ায় দিবসটি উদযাপনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী রয়েছেন। ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছেন ৬ কোটি। তাই ডাটা ব্যবহারের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বিগ ডেটা ফর বিগ ইমপ্যাক্ট’।

আনিকা জীনাত

সাইবার নিরাপত্তায় শুরুতে প্রচারণা, পরে সমন্বয় বৈঠক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। এরপর সরকারি সংস্থাগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা কাটাতে একটি উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক করা হবে।

দেশে ও বিশ্বজুড়ে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের প্রেক্ষিতে টেলিযোগাযাগ বিভাগে এক বৈঠকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিটিআরসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।

খুব দ্রুতই প্রচারণার কাজ শুরু করতে বৈঠক থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ র‌্যানসমওয়্যার হতে নিরাপদ থাকতে ও ক্ষতি এড়াতে ৬টি পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

এতে বলা হয়, পেন ড্রাইভ, সিডি, হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ করে নিয়মিত ডেটা ব্যাকআপ রাখতে হবে।

উইন্ডোজ কম্পিউটারে ms17-010 প্যাচ (patch) দিয়ে হালনাগাদ করা, নিয়মিত উইন্ডোজ আপডেট এক্ষেত্রে উইন্ডোজ অটোমেটিক হালনাগাদ চালু রাখা।

কোনো অনিরাপদ বা অবিশ্বস্ত সোর্স হতে র‌্যানসমওয়্যার রিমুভ্যাল টুল ডাউনলোড না করা। কারণ এটি নতুন হামলা হতে পারে।

মেইলের সোর্স যাচাই না করে সেগুলো ক্লিক করা যাবে না। এগুলোতে দেয়া লিঙ্কগুলোতেও না। এছাড়া সিস্টেমে অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করা।

ransomware

এদিকে সাইবার  নিরাপত্তায় দেশে বিভিন্ন সংস্থা নানাভাবে কার্যক্রম চালালেও কাজের মধ্যে সমন্বয় নেই বলে বৈঠকে অনেকেই মত প্রকাশ করেন। এতে করে যে কোনো সাইবার আক্রমণ হলে দেশের তথ্য প্রযুক্তি ও ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।

টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সভাপতিত্বে সোমবারের বৈঠকে টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ, বিটিআরসি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত শুক্রবার থেকে র‍্যানসমওয়্যার পৃথিবীজুড়ে আক্রমণ শুরু করে, যার খানিকটা প্রভাব বাংলাদেশেও লেগেছে।

দেশে ইতিমধ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কয়েক ডজন কম্পিউটার র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দু’এক দিনের মধ্যেই সব টেলিভিশন এবং অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে প্রচারণার কাজ শুরু করবে বিটিআরসি।

বৈঠকে সকল সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সমন্বয় বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়। ওই বৈঠকে সকলের কাজের অগ্রগতি ও সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলা হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে চিঠি লেখা হবে, যাতে তারা বৈঠকটি আয়োজন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

জামান আশরাফ