পুরোনো অ্যান্ড্রয়েডে হোয়াটসঅ্যাপ সাপোর্ট ২০২০ সাল পর্যন্ত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যান্ড্রয়েডের পুরাতন সংস্করণ ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর নিয়ে এলো হোয়াটসঅ্যাপ। ২০২০ সাল পর্যন্ত পুরাতন অ্যান্ড্রয়েড ওএসে বিনামূল্যে কথা বলার জনপ্রিয় এ ম্যাসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের সাপোর্ট দেওয়া হবে।

এর আগে হোয়াটসঅ্যাপ গত বছর থেকে অ্যান্ড্রয়েডের ২.১ থেকে শুরু ও ২.২ সংস্করণে চালিত ডিভাইসে সাপোর্ট দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এতে অনেকে এ অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যায় পড়েন।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী পুরাতন ওএস ব্যবহারকারীরা এখন পুরোদমে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন।

WhatsApp-cheats-and-tricks-techshohor

এদিকে চলতি বছর ৩০ জুনের পরে নকিয়া সিম্বিয়ান এস৬০ প্লাটফর্মে হোয়াটসঅ্যাপ সুবিধা বন্ধ করে দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্ল্যাকবেরি ওএস, ব্ল্যাকবেরি ওএস ১০ এবং উইন্ডোজ ফোন ৮’সহ পুরাতন সংস্করণেও সাপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ।

তবে নকিয়া এস৪০ প্লাটফর্মে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাপোর্ট পাওয়া যাবে বলে এক ব্লগপোস্টে জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ।

২০০৯ সালে ইয়াহুর সাবেক কর্মী ব্রায়ান অ্যাক্টন ও জান কউম মিলে হোয়াটসঅ্যাপ তৈরি করেন। ২০১৪ সালে ১৯ বিলিয়ন ডলারে জনপ্রিয় এ ম্যাসেজিং অ্যাপ কিনে নেয় ফেইসবুক। এখন দৈনিক ৩০ বিলিয়নের বেশি মেসেজ আদান-প্রদান হয় এ মাধ্যম ব্যবহার করে ।

জিএসএম এরিনা অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

অ্যাপ থেকে জানা যাবে কোন গাড়ি কোন রুটে চলে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এই নগর জীবনের যাত্রা কালে পথে ভুল হতেই পারে। বিশেষ করো এতো সব বাসের মাঝে কোনটি কোন রুটে যায় তা অনেক সময়ই আমরা ভুলে যাই। বিশেষ করে নতুন কোনো জায়গায় গেলে তা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। এই ঝামেলা থেকে মুক্তি দিবে ‘ঢাকা সিটি বাস রুট’ নামে অ্যাপ্লিকেশনটি।

এক নজরে অ্যাপ্লিকেশনটির ফিচার সমূহ:
অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজ ভাষায় ঢাকার রাস্তায় চলাচল করা বাসগুলোর রুট সম্পর্কে জানা যাবে।

অ্যাপটিতে সার্চ করার সুবিধা রয়েছে। এতে যেকোনো বাসের নাম সার্চ করে জেনে নেওয়া যাবে বাসটি কোন কোন রুটে যাতায়ত করে।

dhaka-bus-techshohor-apps

চাইলে অ্যাপটি থেকে টেক্সট কপি করেও শেয়ার করা যাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অফলাইনেও থাকলেও অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে। তাই একবার ডাউনলোড করা হলে পুনরায় ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না।

অ্যাপটির প্রতিটি পেইজে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়। বিষয়টি অনেকের কাছে বিরক্তকর মনে হতে পারে।

৪.২ রেটিং প্রাপ্ত অ্যাপ্লিকেশনটি গুগল প্লে থেকে ১০ হাজারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। এই ঠিকানা থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে বিনামূল্যে ব্যবহা করা যাবে।

আরও পড়ুন: 

নকিয়া ৩ : কমদামি অ্যান্ড্রয়েডে ভাবাবে ডিসপ্লে, চিপসেট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাম্রাজ্য হারানো নকিয়ার আটঘাট বেঁধে অ্যান্ড্রয়েডে পদার্পণ মূলত নকিয়া ৬ ফোনটি দিয়ে। তবে এর দাম যাদের কাছে বেশি মনে হয়েছে, তাদের মন ভরাতে নকিয়া ৩ মডেলের স্বল্পমূল্যের একটি ফোন এনেছে কোম্পানিটি।

এ ফোন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে অনেকের মধ্যে। ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার মতো কী ফিচার রয়েছে ফোনটিতে, সেটিই দেখে নেওয়া যাক।

nokia_3_review_thumb800

এক নজরে নকিয়া ৩

    • ৫ ইঞ্চি, ১২৮০*৭২০ পিক্সেল রেজুলেশনের আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
    • ডুয়াল ও সিঙ্গেল সিম দুটি সংস্করণেই রয়েছে
    • মিডিয়াটেক এমটি ৬৭৩৭, ১.৩ গিগাহার্জ গতির কর্টেক্স এ৫৩ কোয়াডকোর প্রসেসর
    • মালি টি৭২০এমপি২ জিপিউ
    • ২ জিবি র‌্যাম
    • অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ নুগাট অপারেটিং সিস্টেম
    • ১৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
    • ৮ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপারচার ব্যাক ক্যামেরা
    • ৮ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপারচর ফ্রন্ট ক্যামেরা (সামনের ক্যামেরাতেও অটোফোকাস রয়েছে)
    • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, এনএফসি, এফএম রেডিও
    • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক
    • ২৬৫০ মিলি-অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ধারণক্ষমতার ব্যাটারি

ডিজাইন
স্বল্পমূল্যের মডেল হলেও, আগের মতোই নকিয়া বিল্ড কোয়ালিটি নিয়ে কোনো প্রকার আপোস করেনি। ফোনটির ফ্রেম বা শ্যাসি তৈরিতে ম্যাশিন করা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার হয়েছে। এ কারণে হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিভাইসটি মজবুত ও টেকসই, এমনই কথা মাথায় আসবে।

অবশ্য পেছনের প্যানেলে চোখ পড়লে এর দামের কথাটি মনে ভাসবে। পলিকার্বনেট প্লাস্টিকের তৈরি ব্যাক প্যানেলের মান ভালো হলেও আর যাই হোক সম্পূর্ণ ধাতব বডির সমকক্ষ নয়।

nokia_3_1

চতুষ্কোন ফোনটির কোনাগুলো কিছুটা গোলাকৃতির করা হয়েছে। একই সঙ্গে এর পাশগুলোর ফিনিশও সম্পূর্ণ সমান না করে কিছুটা গোল রাখা হয়েছে যাতে হাতের সাথে সহজেই মানিয়ে যায়। এ ডিজাইন আগে আমরা লুমিয়া সিরিজে দেখেছি। যদিও এটির ডিজাইন লুমিয়ার মতো নয়।

তুলনামূলক ছোট সাইজের স্ক্রিন হওয়ার ফলে এক হাতে ব্যবহারে এখনকার প্রায় সকল ফ্যাবলেটের চাইতে অনেক সহজ।

পাওয়ার বাটন ও ভলিউম কি ডান পাশের বেশ উপরের দিকে দেওয়া হয়েছে। ফলে হঠাৎ করে ভলিউম বাটনে চাপ পড়ার আশঙ্কা কম। তবে ভলিউম নিয়ন্ত্রণের সময় বা স্ক্রিনশট নিতে বেশ অদ্ভুতভাবে ধরতে হবে।

nokia_3_3ফোনটির ওপরে রয়েছে হেডফোন জ্যাক, বাম পাশে সিম ও মেমোরি কার্ড স্লট এবং নীচে স্পিকার, মাইক্রোফোন ও মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, পেছনে পলিকার্বনেট প্যানেল ব্যবহার করা হলেও ফোনটির ফ্রেমের মাঝেও অ্যান্টেনা ব্যান্ড রয়েছে। এটি ডিজাইনের সময় সহজেই পেছনের প্লাস্টিকের নিচে স্থান দেওয়া যেত।

chorizo-2

ফোনটির ব্যাক প্যানেলের ওপরের মাঝ বরাবর রয়েছে এর উপবৃত্তকার ক্যামেরা বাম্প-যার ওপরের অংশে রয়েছে ক্যামেরা ও নিচে এলইডি ফ্ল্যাশ।

ক্যামেরার অংশটি দেখতে অনেকটাই মটো জি৪+ বা মটো জি৪ এর মতো; প্যানেলের মাঝ বরাবর নকিয়া লোগো না থাকলে দুটি গুলিয়ে ফেলা অসম্ভব কিছু নয়।

সামনের ডিসপ্লের ঠিক ওপরের ডান কোনায় রয়েছে নকিয়া লোগো, মাঝে ইয়ারপিস ও বামে ফ্রন্ট ক্যামেরা। স্ক্রিনের নিচে রয়েছে ক্যাপাসিটিভ ন্যাভিগেশন বাটনগুলো।

নামে নকিয়া হলেও, ফোনটির সঙ্গে অন্যান্য চীনা নির্মাতাদের ডিজাইনের বেশ মিল রয়েছে। আমরা নকিয়ার কাছে আরও অসাধারণ ডিজাইন আশা করতেই পারি। তবে ‘ভেঙে যাওয়া’ একটি কোম্পানি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তাই এ মুহূর্তে এরচেয়ে বেশি কিছু দেখাতে হয়ত সক্ষম হয়নি।

ডিসপ্লে
৭২০ পিক্সেল রেজুলেশনের ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে ২০১৭ সালে বেশ বেমানান। একেবারে কম দামের ফোনেও চীনা নির্মাতারা আজকাল ১০৮০পিক্সেল ডিসপ্লে ব্যবহার করছে।

এক্ষেত্রে অবশ্য ৭২০ পিক্সেল ডিসপ্লে ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। পিক্সেলের পরিমাণ কম থাকায় ফোনের জিপিউ ল্যাগ কম।

র‌্যামে কম পরিমাণ ডাটা রাখার ফলে মাল্টিটাস্কিংয়ে সুবিধা ও সব মিলিয়ে চিপসেটের ওপর কম চাপ পড়ার ফলে ব্যাটারি লাইফ কিছুটা বেড়ে যায়।  

chorizo-1

ডিসপ্লেটির পিক্সেল ঘনত্ব কিছুটা কম হবার ফলে একই সঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানাে, ভিআর কন্টেন্ট দেখা ও খুব কাছ থেকে টেক্সট পড়ার সময় কিছুটা সমস্যা হতে পারে। সেটি তেমন বড় কিছু নয়।

কম দামের ফোনে অনেক নির্মাতারাই টিএন প্যানেল ব্যবহারের ফলে কালার, কন্ট্রাস্ট, ব্রাইটনেস, তীর্যক আলোতে ব্যবহারের সুবিধা ও পাশ থেকে দেখার সুবিধায় বেশ খারাপ প্রভাব পড়ে। ফলে ৭২০ পিক্সেল প্যানেল বলতে চোখের সামনে যে বাজে ডিসপ্লেটি ভেসে ওঠে তার আসলে ৮০ শতাংশ দোষ প্যানেলের। রেজুলেশনে ঘাটতির নয়।

ব্রাইটনেস, কন্ট্রাস্ট ও ভিউইং অ্যাঙ্গেলের সমস্যা আইপিএস প্রযুক্তির প্যানেল ব্যবহারের কারণে প্রায় সম্পূর্ণই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। ডিসপ্লেতে পোলারাইজার ব্যবহারের ফলে প্রখর রোদেও ডিসপ্লেটি সহজেই দেখা যাবে।

সব মিলিয়ে, রেজুলেশনের ঘাটতি ছাড়া সবদিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে নকিয়া ৩।

পারফরমেন্স
মিডিয়াটেক প্রসেসর ‘খুব ভালো’ পারফরমেন্স দেখাতে পারে না। শুরুতেই বলে দেওয়া যেতে পারে, যারা বাজেটের মাঝে গেইম খেলা বা অন্যান্য ভারি কাজ করার জন্য ফোন খুঁজছেন তারা নকিয়া ৩ লিস্ট থেকে বাদ দিতে পারেন।

অন্যদিকে যাদের ল্যাগ ছাড়া দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একটি ফোন প্রয়োজন তাদের জন্য এমটি ৬৭৩৭ চিপসেটটি খারাপ নয়।

চারটি কর্টেক্স এ৫৩ কোর মাত্র ১.৩ গিগাহার্জ গতিতে চলার ফলে সিঙ্গেল কোর ও মাল্টি কোর দু’ক্ষেত্রেই ফোনটি অসাধারণ কোনো পারফরমেন্স দেখাতে পারেনি।

সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সের ঘাটতির ফলে অ্যাপ লোডিং, ফটো এডিটের মতো কাজ বেশ ধীর গতিতে হবে। ল্যাগ দেখা না গেলেও, কোনও কিছুই দ্রুততার সঙ্গে শেষ হবে না।

মাত্র চারটি কোর থাকায়, যার সবগুলো একই ধীরগতির হওয়ার ফলে মাল্টি-থ্রেডেড প্রসেস, অ্যাপ সুইচিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ল্যাগ দেখা যেতে পারে।

মালি টি৭২০এমপি২ জিপিউটি বেশ কয়েক বছর ধরেই নানা হ্যান্ডসেটে ব্যবহার হয়ে আসছে। ফলে এতে খেলা যাবে না এমন গেইম প্লে-স্টোরে নেই। তবে স্লো প্রসেসরের ফলে গেইমের লোডিং টাইম কিছুটা বেশি হবে।

জনপ্রিয় সকল গেইম ২০-৩০ এফপিএস এ খেলা যাবে। গ্রাফিক্স নিজ থেকেই লো সেটিংয়ে চলে যাবে।

দুই জিবি র‌্যাম ৭২০ পিক্সেল রেজুলেশনের ডিসপ্লের জন্য আজও চলনসই। এর থেকে যদিও খুব বেশি মাত্রার মাল্টিটাস্কিং ও ঘনঘন টাস্ক সুইচিং আশা করা যাবে না। অ্যান্ড্রয়েড নুগাটে একসঙ্গে স্ক্রিনে দুটি অ্যাপ চালানোর ব্যবস্থা থাকলেও সেটি ব্যবহারের মতো পারফরমেন্স চিপসেটটির নেই। এ ছাড়া র‌্যামের স্বল্পতাতো রয়েছেই।

সব মিলিয়ে পারফরমেন্স খারাপ নয়। স্ন্যাপড্রাগন চিপসেটে সেটি আরও ভালো হতে পারত। 

ক্যামেরা
বাজেট ফোনে সাধারণত তেমন ভালো ক্যামেরা দেওয়া হয় না। নকিয়া সেদিক থেকে চেষ্টা করেছে ক্যামেরাগুলো যাতে অন্তত ব্যবহারযোগ্য হয়। পেছনের ক্যামেরার রেজুলেশন খুব ভালো না হলেও অ্যাপারচার ও পিক্সেলের সাইজ বড় হবার ফলে নয়েজের পরিমাণ ছবিতে নিয়ন্ত্রণের মাঝেই রয়েছে।

আলোর পরিমাণ যথেষ্ট হলে বা দিনের বেলা বাইরের শটে শার্পনেসের পরিমাণ খুবই ভালো। ছবিগুলো জুম না করলে সোশ্যাল মিডিয়াতে সহজেই ব্যবহার করা যাবে।

হাইলাইট ও শ্যাডোর মাঝের ডিটেইলে পার্থক্য খুবই বেশি। খেয়াল করলে দেখা যাবে, প্রায় সময়ই হাইলাইট ফেটে গিয়েছে, না হয় শ্যাডোর ডিটেইলে চরম ঘাটতি চলে এসেছে।

nokia_3_3

কালার ব্যালেন্সও কিছুটা পানসে মনে হয়েছে। ছবির বিষয়বস্তুতে একই রঙের ভিন্নমাত্রার শেড থাকলে ছবির পার্থক্য বোঝা কঠিন।

ছবির বড় অংশজুড়ে একই রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড, যেমন মাটি বা আকাশ থাকলে সেখানে কিছুটা নয়েজ দেখা গেছে। অন্ধকারে ছবিতে বেশ নয়েজ পাওয়া গেছে। তাই কম আলোয় ব্যবহার না করাই ভালো।

ফ্রন্ট ক্যামেরাটিতেও অটোফোকাস থাকাটা একটা বড় ফিচার। একই অ্যাপারচার ও রেজুলেশনের সেন্সর হওয়ার ফলে সেলফি ক্যামেরাটি তুলনামূলকভাবে ব্যাক ক্যামেরার চাইতে বেশি কাজের। যারা সেলফি ও ভ্লগ করে অভ্যস্ত তাদের বেশ কাজে আসবে ফোনটি।

nokia 3 cam1 nokia 3 cam2 nokia 3 cam3 nokia 3 cam4 nokia 3 cam5

ক্যামেরা স্যাম্পল ছবি জিএসএমএরিনার সৌজন্যে।

ব্যাটারি লাইফ

২৬৫০ এমএএইচ ধারণ ক্ষমতার ব্যাটারি ২০১৭ সালে এসে কম মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। চিপসেট অনুযায়ী এটি নিতান্তই কম নয়।

এর আগে রিলিজ হওয়া মিডিয়াটেক কোয়াডকোর ফোনগুলোতে ১৭০০ এমএএইচ ব্যাটারিও কাজ চালানোর মতো ব্যাকআপ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৪-৬ ঘণ্টা স্ক্রিন অন টাইম ও ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্ট্যান্ডবাই টাইম পাওয়া যাবে। ফার্স্ট চার্জিংয়ের অনুপস্থিতি বেশ ভাবাবে।

nokia_3_4

পরিশেষ ও দাম
নকিয়া ৩ দেশের বাজারে আসার কথা চলতি সপ্তাহেই। এইচএমডি গ্লোবাল ১২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। বাজেটে হ্যান্ডসেট আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর ফলে শেষ পর্যন্ত এ দাম থাকবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়।

এ হিসেবে শাওমি রেডমি সিরিজ, হুয়াওয়ে জি সিরিজ, মটোরোলার ই সিরিজ ও সামনে আসা সি সিরিজের সঙ্গে একে লড়তে হবে।

এক নজরে ভালো

      • বিল্ড কোয়ালিটি
      • মূল্য অনুসারে ক্যামেরা, বিশেষত ফ্রন্ট ক্যামেরা
      • সর্বশেষ ও স্কিনমুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম

এক নজরে খারাপ

    • ডিসপ্লের রেজুলেশনে ঘাটতি
    • দুর্বল চিপসেট
    • ফিচার অনুযায়ী চড়া দাম

রিভিউটি তৈরি করেছেন টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর এস এম তাহমিদ

অ্যান্ড্রয়েড ‘ও’ ইন্সটল করবেন যেভাবে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গুগলের ডেভেলপার সম্মেলনে বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের আপডেট আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এবার জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েডের নতুন আপডেট অ্যান্ড্রয়েড ‘ও’ আনা হয়েছে নতুন অনেক ফিচার সমেত।  তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্নাঙ্গ সংস্করণটি উন্মুক্ত হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

আপাতত অ্যান্ড্রয়েড ও ব্যবহার করা যাবে নেক্সাস ৬পি, নেক্সাস ৫এক্স, নেক্সাস প্লেয়ার, পিক্সেল সি, পিক্সেল, পিক্সেল এক্সএল ডিভাইসে।

আপনি যদি এসব ডিভাইস ব্যবহার করেন, তাহলে ওএসটি পরখ করে নিতে পারবেন। কিভাবে কাজটি করবেন তা এ টিউটোরিয়ালে তুলে ধরা হলো।

andriod-o-techshohor

প্রথমে আপনার ডিভাইসটিকে অ্যান্ড্রয়েড বেটা প্রোগ্রামে নিবন্ধন করে নিতে হবে।

গুগলের সবগুলো নিয়ম মেনে সম্মতি দিয়ে নিবন্ধন করার পরে আপনার ডিভাইসটি আপডেটের জন্য তৈরি হবে। এরপর ডিভাইসটিতে আপডেট পৌঁছে যাবে।

তারপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসা আপডেটটি চেক করতে ফোনের সেটিংস থেকে সিস্টেম আপডেটসে যেতে হবে।

ে

আপডেটটি ডাউনলোড হওয়ার পরে তা সিস্টেম আপডেটসে ক্লিক করে দেখে নেওয়া যাবে। এরপর ডিভাইসটি রিস্টার্ট নিবে এবং অ্যান্ড্রয়েড ও ইন্সটল হয়ে যাবে।

তবে আপনি যদি ডেভেলপার হয়ে থাকেন তাহলে এ ঠিকানায় গিয়ে অ্যান্ডেয়েড ও অপারেটিং সিস্টেমটি ডাউনলোড করে ফোনে ম্যানুয়ালি ইন্সটল করে নিতে পারেন।

ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ও অপারেটিং সিস্টেমটি আপডেট করতে অবশ্যই ডিভাসইটির ফাইলের ব্যাকআপ রাখবেন আগে। যাতে জরুরি কোনো ফাইল মুছে গেলে ঝামেলায় পড়তে না হয়।

তুসিন আহমেদ

আরও পড়ুন 

অ্যান্ড্রয়েড বাগের জন্য ২ লাখ ডলার দেবে গুগল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ছড়িয়ে পড়েছে কিছু ম্যালওয়্যার। এটি হয়েছে অপারেটিং সিস্টেমের কিছু বাগের কারণে। আর সেই ম্যালওয়্যার আক্রমণের পর গুগল ওএসের বাগ সারাতে ২ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

দিন কয়েক আগে অ্যান্ড্রয়েড চালিত ৩ কোটি ৬৫ হাজার ফোন ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়। জুডি নামে সেই ম্যালওয়্যারের কারণে বিপাকে পড়ে গুগল। এরপরই অ্যান্ড্রয়েডের সিকিউরিটি বাগ খোঁজার জন্য হ্যাকারদের উদ্দেশ্যে আর্থিক পুরস্কার হিসেবে ২ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

hacker-techshohor

অ্যান্ড্রয়েডের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি সারাতে গুগল দুই বছর আগে বাগ বাউন্টি নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করে। এই প্রোগ্রামের গবেষক ও ইঞ্জিনিয়াররা বাগ সরাতে পারলে হ্যাকের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে তাদেরকে এই আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। এভাবেই গুগল তাদের নিরাপত্তা ত্রুটি সারিয়ে থাকে। এবার ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কারের হাতছানি থাকলেও এখনো কেউ এই বাগ সারানো প্রস্তাব দেয়নি।

সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম চেক পয়েন্টের মতে, ক্ষতিকর অ্যাপগুলো বেশ কয়েক বছর ধরেই প্লেস্টোরে ছিল। সেখান থেকে ওই অ্যাপগুলো ৪৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ বার ডাউনলোড করা হয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েডের পুরানো ভার্সনগুলোর চেয়ে এখনকার ভার্সনগুলো বেশি শক্তিশালী ও নিরাপদ। তাই পুরানো ভার্সনগুলোকে সহজেই আক্রমণ করে বসে ক্ষতিকর অ্যাপগুলো।

দ্য ইকোনোমিক টাইমস অবলম্বনে আনিকা জীনাত

অ্যাপসের ব্যাটারি খরচ দেখাবে অ্যান্ড্রয়েড

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আপনার ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ কারণ ধরতে পারছেন না? অনেকেই অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে নানা অ্যাপস ব্যবহার করেন। তবে এবার অ্যান্ড্রয়েড এই সমস্যার সমাধান দেবে।

অ্যান্ড্রয়েড অথরিটি রিপোর্টস জানিয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড ও অপারেটিং সিস্টেমে নতুন ব্যাটারি মেনু যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেসব অ্যাপস অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ করছে সেটি জানা যাবে। একইসাথে অ্যাপসটি বন্ধও করা যাবে।

Android Battery Uses-TechShohor

গুগল আই/ও সম্মেলনে অ্যান্ড্রয়েড ও অপারেটিং সিস্টেমের এই নতুন ফিচারের পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধাগুলোও জানানো হয়।

বর্তমানে ব্যাটারি মেনু ব্যবহারকারীদের ব্যাটারি সেভার মুড চালু ও প্রতি অ্যাপ কি পরিমাণ চার্জ শেষ করেছে সেটি দেখা যায়। তবে সেখানে ব্যবহারকারীর করণীয় কিছু নেই। নতুন সুবিধার ফলে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনীয় নানা ফিচার যেমন ব্রাইটনেস নিয়ন্ত্রণ, ব্যাটারিতে চার্জের পরিমাণ ইত্যাদি দেখতে পাবেন।

ম্যাশেবল অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

গুগলের অ্যাসিসটেন্ট দেখতেও পাবে, আরও ৫ চমক

আনিকা জীনাত, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হবে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত। টেক জায়ান্টগুলো নিয়মিত কাজের বাইরে তাই এখন চোখ রাখছে এআই নামে পরিচিতি পাওয়া এ অভিনব উদ্ভাবনে। গুগল শুধু পিছিয়ে থাকতে নয়, সবাইকে টেক্কা দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারিশমা দেখানোর মিশনে নেমে পড়েছে।

গুগল হোম বাটন দিয়ে ফোন করা ও গুগল অ্যাসিসটেন্টের দেখতে পাওয়ার মতো চমকপ্রদ ফিচার আনার ঘোষণা দিয়েছে সার্চ থেকে টেক জায়ান্টে পরিণত হওয়া কোম্পানিটি।

গুগল আইও নামে জনপ্রিয়তা পাওয়া ডেভেলপারদের বার্ষিক সম্মেলনে এবার জায়ান্টটি এতদিনের প্রচলিত পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে জোর দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়। তাদের নতুন ছয় উদ্ভাবনের ঘোষণায় সেটির প্রমাণও মিলেছে।

Google -IO-Techshohor

ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ে গুগলের হেডকোয়ার্টারে চলছে এ সম্মেলন। বুধবার এ ছয়টি বড় ঘোষণা এসেছে। এতদিন অ্যান্ড্রয়েড ও ক্রমকে কেন্দ্র করেই তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনার সাজানো হলেও এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এআই।

এ ছয় ফিচার নিয়ে এ প্রতিবেদন।

গুগল হোম দিয়ে ফোন করা যাবে
স্মার্টফোনের এ যুগে স্পিকারেরও স্মার্ট ভার্সন চলে এসেছে। দেখতে অনেকটা বডি ডিওড্রেন্টের মতো ডিভাইসটি দিয়ে এখন থেকে বিনামূল্যে কথা বলা যাবে।

আইএসডি কল করার ক্ষেত্রও কোনো মূল্য চার্জ করা হবে না। ব্যবহারহারীরা চাইলে ডিভাইসটিতে তাদের ফোন নম্বরও যুক্ত করে দিতে পারবেন।

গুগল হোমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তা বিভিন্ন ব্যক্তির  কণ্ঠও শনাক্ত করতে পারে। এতে ‘প্রোটেক্টিভ অ্যাসিসটেন্ট’ নামে আরেকটি ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।

স্পিকারটির আলো জ্বলে উঠলে ব্যবহারকারীরা গুগল হোমের কাছ থেকে জেনে নিতে পারবেন তাদের জন্য ফ্লাইট ডিলে সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ আপডেট আছে কিনা।

গুগল অ্যাসিসটেন্ট দেখতেও পারে
আইফোনের সিরি বা আমাজনের আলেক্সাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গুগল তৈরি করেছে গুগল অ্যাসিসটেন্ট। ইংরেজি বাদে অন্য কোনো ভাষায় নির্দেশ দিলেও বানানসহ তার উত্তর দেবে এটি।

ইতিমধ্যে গুগলের পিক্সেল ফোনে গুগল অ্যাসিসটেন্ট ফিচারটি যুক্ত করা হয়েছে।

Google-IO-2017-3-Techshohor

এখানেই থেমে নেই, কয়েক মাসের মধ্যে এ বিশেস সহকারী দেখতেও পাবে বলে দাবি করেছে টেক জায়ান্টটি। অন্য ভাষার চিহ্নের দিকে ফােন তাক করলে সেটি চোখে দেখার আগেই অনুবাদ করে দেবে।

শুধু তাই নয়, সিনেমা হলের দিকে ফোনের ক্যামেরা তাক করলেও এটি মুহূর্তেই বলে দেবে সিনেমার শো টাইম। এর সঙ্গে দেখাবে টিকিট কেনার অপশন।

‘অ্যান্ড্রয়েড ও’
অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণ ‘ও’ নিয়ে হাজির হয়েছে গুগল। অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহার করলে টেক্সট কপি পেস্ট করার ব্যাপারটি অনেক সহজ হয়ে যাবে।

কোনো ঠিকানা কপি করতে হলে ‘অ্যান্ড্রয়েড ও’ পুরোটা ঠিকানাটিই কপি করে নিবে। শুধু তাই নয়, গুগল ম্যাপে তা পেস্ট করারও অপশনও দেখাবে।

‘অ্যান্ড্রয়েড ও’ ফোনের নিরাপত্তা, ব্যাটারি লাইফ বৃদ্ধি করবে। ভিডিও চালু করলে তা মিনিমাইজ করে রাখার অপশনও এতে যুক্ত করা হবে।

অ্যান্ড্রয়েড গো
লো অ্যান্ড অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নতুন সফটওয়্যার গুগল এখন স্বল্প মূল্যের ফোনগুলোর জন্য নতুন একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এর নাম ‘অ্যান্ড্রয়েড গো’।

সাধারণত ৪ জিবি র‌্যামের ফোনগুলোকে হাইএন্ড ও ১ জিবি র‌্যামযুক্ত ফোনগুলোকে লোএন্ড ফোন বলা হয়।

‘অ্যান্ড্রয়েড গো’ ভার্সনটি চালু করার ফলে এখন লোএন্ড ফোন ব্যবহারকারীরাও ইউটিউবে ভিডিওর প্রিভিউটি দেখতে পারবে। ভিডিওটি দেখতে কত পরিমাণ ডাটা খরচ হবে তাও বলে দিবে অ্যান্ড্রয়েট গো সফটওয়্যারটি।

ফোন ছাড়াই ভিজুয়্যাল রিয়েলিটি
এখন থেকে ভিআর হেডসেটে গান শুনতে হলে তা স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে না।

গুগল ঘোষণা দিয়েছে এ বছরের শেষেই বাজারে ছাড়া হবে স্বয়ংসর্ম্পূণ ভিআর হেডসেট। এর নকশা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোয়ালমকে।

রিয়েল লাইফ অ্যালবাম
গুগল এখন থেকে ফোনের গ্যালারি ফিচার থেকে ছবি বেছে ফটো অ্যালবাম তৈরি করে দেবে।

গুগল ফটোস অ্যাপটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ছবি দিয়ে অ্যালবাম সাজাতে পারবেন।

শুধু তাই নয়, চাইলে ফটো অ্যালবামটি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও শেয়ার করা যাবে।

২০০ কোটির মাইলফলকে অ্যান্ড্রয়েড

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২০০ কোটি। গুগলের আই/ও ডেভেলপার কনফারেন্সে এই তথ্য জানিয়েছেন শীর্ষ প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই।

গুগলের সবচেয়ে বড় বার্ষিক আয়োজনের শুরুটা অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ঘোষনা দিলে উদযাপন শুরু হয়।

Android 2 billion user-TechShohor

সক্রিয় মোবাইল ডিভাইসের ব্যবহারকারীর সংখ্যার পাশাপাশি পিচাই গুগলের আরও সাতটি সেবার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ঘোষনা করেন। সার্চ, অ্যান্ড্রয়েড, ক্রোম, ইউটিউব, ম্যাপস, গুগল প্লে এবং জিমেইল মিলে প্রতিমাসে সর্বমোট ব্যবহারকারী ১০০ কোটি বলে জানান পিচাই।

সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতিমাসে গুগল ড্রাইভ ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮০ কোটি। এছাড়া প্রতিমাসে গুগল ফটো ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের গুগল আই/ও ডেভেলপার কনফারেন্সে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারী ১০০ কোটিতে পৌছানোর ঘোষনা দেওয়া হয়।

ম্যাশেবল অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

অনেক ফিচারের হুয়াওয়ে পি১০ : ছোটখাট ঘাটতি দামেও অসন্তুষ্টি

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হুয়াওয়ে পি সিরিজের ফোনগুলো সবসময়ই ক্যামেরায় সেরা পারফরমেন্স দেখানোর চেষ্টা করে থাকে। ডুয়াল ক্যামেরার পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ক্যামেরা নির্মাতা লাইকার ব্র্যান্ডিং থাকায় কারও মনে এ নিয়ে সন্দেহ থাকে না। পি সিরিজের ফোন থেকে অসাধারণ সব ছবি আশা করেন সবাই।

হাইএন্ডের এ ফোনের নতুন সংস্করণে ক্যামেরা ছাড়া অন্যান্য ফিচারও কম নয়। বেশ কিছু রঙ ও ফিনিসিং, নজরকাড়া স্পেসিফিকেশনসমৃদ্ধ পি সিরিজের সর্বশেষ ফোন পি১০ কি এ ধারা অব্যাহত রেখেছে? চলুন দেখা যাক।

p10-4

এক নজরে হুয়াওয়ে পি১০

  • ডুয়াল সিম বা সিঙ্গল সিম
  • .১ ইঞ্চি, ১৯২০x ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের আইপিএসনিও এলসিডি ডিসপ্লে
  • হাইসিলিকন কিরিন ৯৬০, .৪ গিগাহার্জ গতির ৪টি কর্টেক্স এ৭৩ ও ১.৮ গিগাগার্জ গতির ৪টি কর্টেক্স এ৫৩ কোর সম্বলিত অক্টাকোর প্রসেসের
  • মালি জি৭১ এমপি৮ জিপিউ
  • ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • ৩২ অথবা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, ডুয়াল সিম মডেলে মেমরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭ নুগ্যাটের ওপর তৈরি ইমোশন ইউআই ৫.১ অপারেটিং সিস্টেম
  • ডুয়াল ২০ ও ১২ মেগাপিক্সেল, f/2.2 অ্যাপার্চার, ওআইএস, ফেইজ ডিটেকশন এবং লেজার অটোফোকাস ও লাইকা লেন্সসমৃদ্ধ ব্যাক ক্যামেরা, সঙ্গে রয়েছে ডুয়াল এলইডি ডুয়াল টোন এলইডি ফ্ল্যাশ
  • ৮ মেগাপিক্সেল, f/1.9 অ্যাপার্চার ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ২১৬০পি, ৩০ এফপিএস অথবা ১০৮০পি, ৩০এফপিএস ভিডিও ধারণের সুবিধা
  • ৮০২.১১এসি ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৪., জিপিএস, এনএফসি
  • ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট, হেডফোন জ্যাক
  • ফ্রন্ট মাউন্টেড ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৩২০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারি, ফাস্ট চার্জিং

huawei_p10_review_5

ডিজাইন
হুয়াওয়ে পি৮ ফোনটির ডিজাইন সে সময় সাড়া ফেলেছিল। এ ডিজাইনকে ভিত্তি ধরে এরপর পি৯ ও আজকের পি ১০ এসেছে। পি ১০ ফোনটি বেশ কিছু রঙয়ে বাজারে পাওয়া যাবে। সিরামিক হোয়াইট, ড্যাজলিং ব্লু, ড্যাজলিং গোল্ড, প্রেস্টিজ গোল্ড গ্রাফাইট ব্ল্যাক, মিস্টিক সিলভার, রোজ গোল্ড ও গ্রিনারি থেকে পছন্দেরটি বেছে নিতে পারবেন ।

নজরকাড়া রঙের ফোনটির পেছনের অংশটিতে ডায়মন্ড কাট টেক্সচার দেওয়া হয়েছে, যেটি দেখতে সুন্দর লাগলেও হাতে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে স্যান্ডব্লাস্টিং করা ম্যাট ফিনিসের ফোনগুলো ধরতে তেমন সমস্যা নেই।

ফোনটির কিছুটা গোলাকৃতির কোনাগুলোর ফলে এটি ধরতে ও দেখতে পি৯ বা প৮-এর চেয়ে বেশ ভালো। খুবই ভালো মানের অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ফোনটির শ্যাসি খুবই শক্তপোক্ত। 

তবে সামনের পুরো অংশ তৈরিতে ব্যবহৃত গোরিলা গ্লাস ৫ ব্যবহারের ফলে স্ক্র্যাচ নিয়ে চিন্তা না থাকলেও হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ভঙ্গুর প্রবণতা অবশ্য আজকালের সব ফোনের ক্ষেত্রেই রয়েছে।

সামনে ডিসপ্লের ঠিক নিচে রয়েছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর, যার পাশে অনেকেই ক্যাপাসিটিভ কি আশা করলেও ফোনটিতে ক্যাপাসিটিভ কি দেয়ার বদলে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরে সোয়াইপ করে ব্যাক বা মেন্যুতে যাওয়ার অপশন দেওয়া হয়েছে। অনেকের কাছেই এটি বিরক্তিকর মনে হতে পারে ভেবেই হুয়ওয়ে অনস্ক্রিন ন্যাভিগেশনেরও ব্যবস্থা রেখেছে।

এ ছাড়া ডিসপ্লের ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস, সেন্সরগুলো ও ফ্রন্ট ক্যামেরা। ডান পাশে পাওয়ার বাটন ও ভলিউম কি, বাম পাশে সিমট্রে, ডুয়াল সিম সংস্করণের যার মাঝেই মেমরি কার্ড লাগানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ওপরের দিকে তেমন কিছু নেই। নিচে স্পিকার গ্রিল, ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক রয়েছে।

পেছনে ওপরের অংশে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা, যার পাশে লেজার অটোফোকাস সেন্সর, এলইডি ফ্ল্যাশ ও লাইকা ব্র্যান্ডিং।

ফোনটির পেছনে হুয়াওয়ে লোগো ছাড়া তেমন কিছুই নেই। আর অ্যান্টেনা ব্যান্ডগুলো সুন্দরভাবে বেজেলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার ফলে চোখে পড়ার সম্ভাবনা নেই।

সব মিলিয়ে বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন খুবই দৃষ্টিনন্দন ও উন্নতমানের।

huawei_p10_review_2

ডিসপ্লে
ফুল এইচডি ৫.১ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লের ফোন বাজারে অনেক থাকলেও পি ১০ ফোনে ব্যবহৃত আইপিএস নিও প্রযুক্তির প্যানেল অন্যসব আইপিএস প্যানেলের চাইতে বেশি কন্ট্রাস্ট ও ব্রাইটনেস দিতে সক্ষম। হুয়াওয়ের দাবি, ডিসপ্লেটিতে অন্তত ৬০০ নিট পর্যন্ত ব্রাইটনেস পাওয়া যাবে পরীক্ষা করে তেমনটিই দেখা গেছে।

কন্ট্রাস্টের দিক থেকেও ফোনটি খুবই এগিয়ে রয়েছে- ১৪২৩:১ কন্ট্রাস্ট রেশিও সহজ কথা নয়।

অন্যদিকে কালার অ্যাকুরেসির দিক থেকে ডিসপ্লেটি বেশ পিছিয়ে। রঙের ব্যতিচার বা ডেল্টাই এর মান খুবই বেশি। ৬ দশমিক ৫ ডেল্টাই হবার ফলে প্রায় সব রঙ ডিসপ্লেটিতে কিছুটা নীলচে দেখা গেছে। তবে সেটিংস থেকে ওয়ার্ম ডিসপ্লে মোড ব্যবহার করলে ডেল্টাই কমে ৪ দশমিক ৮-এ নেমে আসে। তবে কোনও অবস্থায়ই ডিসপ্লেটি খুব অ্যাকুরেট কালার দিতে সক্ষম নয়।

সরাসরি রোদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিসপ্লেটি খুবই ভালো। সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে ছাড়া পি১০-এর ডিসপ্লেটিকে এক্ষেত্রে হারাতে পারবে এমন ডিসপ্লে খুব বেশি নেই।

ব্রাইটনেস, কন্ট্রাস্ট ও রোদে ব্যবহারের সুবিধা কালার কোয়ালিটির কিছুটা ঘাটতি বেশ পুষিয়ে দিয়েছে।

পারফরমেন্স
বেশ কিছু বছর ধরে হুয়াওয়ে তাদের ফোনগুলোতে নিজস্ব কিরিন প্রসেসর ব্যবহার করে আসছে। কিরিন ৯৬০ প্রসেসরটিতে ৪টি কর্টেক্স এ৭৩ কোর থাকার ফলে প্রসেসরটি সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

গিকবেঞ্চ অনুসারে প্রসেসরটি সিঙ্গেলকোর পারফরমেন্সে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২১- এর সমান। মাল্টিকোর পারফরমেন্সেও প্রসেসরটি খুবই এগিয়ে রয়েছে। চারটি এ৭৩-এর সঙ্গে আরও চারটি এ৫৩ কোর সম্মিলিতভাবে কাজ করার ফলে এটি স্ন্যাপড্রাগন ৮২১-এর কোয়াডকোর পারফরমেন্সকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

সাধারণত হাইসিলিকন কিরিন প্রসেসরের জিপিউ পারফরমেন্স কোয়ালকম অ্যাড্রিনো জিপিউর চেয়ে বেশ পিছিয়ে থাকে। এ ফোনে ব্যবহৃত মালি জি৭১ এমপি৮ জিপিউটি গ্রাফিক্স পারফরমেন্সে প্রায় অ্যাড্রিনো ৫৩০-এর কাছাকাছি, তবে পুরোপুরি নয়।

বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী এটি অ্যাড্রিনো ৫৩০ এর চাইতে ১০১৫% কম শক্তিশালী। যদিও ১০৮০পি ডিসপ্লেতে এইচডি গেইম চালাতে সমস্যা হবার কথা নয়।

benchmarkp10

র‌্যামের দিক থেকে ফোনটি মূলধারায় রয়েছে। নতুন সকল ফ্ল্যাগশিপেও এখন চার গিগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই মাল্টিটাস্কিং ও টাস্ক সুইচিংয়ে কোনও ল্যাগ পাওয়া যায়নি। অবশ্য ভবিষ্যতে চার গিগাবাইট র‌্যাম কিছুটা কম মনে হতে পারে।

সব মিলিয়ে, হুয়াওয়ে পি১০ এর কাছ থেকে ফ্ল্যাগশিপ পারফরমেন্স পাওয়া গিয়েছে।সমস্যার দিক থেকে চিহ্নিত করা যায় এটির থার্মাল পারফরমেন্স। টানা ব্যবহারে ফোনটি বেশ গরম হতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে থার্মাল থ্রটোলিংয়ে পরিণত হয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পারফরমেন্স কমে যেতে দেখা গেছে।

huawei_p10_review_6

ক্যামেরা
বরাবরের মতো পি সিরিজের ফোনগুলোতে হুয়াওয়ে ক্যামেরার দিকে বেশি জোর দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম নয়। এর আগের পি৯-এর লাইকা লেন্সসমৃদ্ধ ক্যামেরাটি ছবির ডিটেইলের ক্ষেত্রে তূলনামূলক হতাশ করেছিল। তাই পি১০-এর ক্যামেরার মান নিয়ে সবার কিছুটা শংশয় থাকাই স্বাভাবিক।

ফোনটিতে পেছনে ডুয়াল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। যার একটি ২০ মেগাপিক্সেল ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট সেন্সর ও অপরটি ১২ মেগাপিক্সেল ফুল কালার সেন্সর। বলা যেতে পারে এটিই আসলে ফোনটির মূল ক্যামেরা।

দুটি সেন্সরের সামনেই f/2.2 অ্যাপার্চারের লেন্স দেওয়া হয়েছে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় কিছুটা কম বলা যেতে পারে। কেননা বেশ কিছু বছর ধরেই f/2.0 বা f/1.8 সহ ক্যামেরা মূলধারায় চলে এসেছে।

ক্যামেরায় ডুয়াল সেন্সর থাকার ফলে সেটি তেমন সমস্যা নয়। সেন্সর দুটিতে ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস থাকার পরও এর সঙ্গে লেজার অটোফোকাস যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ফোকাসিংয়ের দিক থেকে পি১০ খুবই এগিয়ে রয়েছে।

ক্যামেরা দুটি এক সঙ্গে কাজ করার ফলে প্রতিটি ছবিরই ডিটেইল, এক্সপোজার, টেক্সচার ও ডাইনামিক রেঞ্জ খুবই ভাল। একমাত্র অতিরিক্ত আলোর মাঝে তোলার সময় ছাড়া উজ্জ্বল ও অনুজ্জ্বল যায়গার মাঝে ডিটেইলে তেমন পার্থক্য দেখা যায়নি।

কম আলোতে ছবি তোলার সময়ও ক্যামেরাটি হতাশ করেনি। বেশ উজ্জ্বল ও কম নয়েজ যুক্ত ছবি এটি ধারণ করতে পেরেছে। হলদে আলোতেও কালার ব্যালেন্স নিয়ে সমস্যা দেখা যায়নি।

তাই বলে ক্যামেরার দিক থেকে ফোনটির সবকিছুই ভালো এমনটি বলা যাবে না। মূল্য অনুসারে ফোনটিতে তোলা ছবিতে যেটুকু নয়েজ, কালার শিফট দেখা যাওয়া উচিৎ তার চেয়ে বেশ অনেকটুকু বেশি দেখা গেছে।

বিশেষত মেঘলা আকাশের মত উজ্জ্বল ও ভিন্ন টেক্সচারের সাবজেক্টের ছবিতে নয়েজ ও আর্টিফ্যাক্ট খুব ভালভাবে বিদ্যমান।

huawei_p10_review_bt_tower_hdr_off

ভিডিওর দিক থেকে ফোনটি পিছিয়ে নেই। ফোর কে রেজুলেশন পর্যন্ত ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরাটিতে অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন ও লেজার অটোফোকাস থাকায় ফোকাসিং ও ভিডিওর কাঁপুনি নিয়ে ভাবনা নেই।

যদিও সবকিছুই একদম নিখুঁত নয়। মূলত কম্প্রেশন আর্টিফ্যাক্ট, নয়েজ, ডিটেইলের অভাব ও মাঝে মাঝে উদ্ভট স্ট্যাবিলাইজেশন ‘জেলি’ ইফেক্ট ক্যামেরাটির ভিডিও ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

huawei_p10_review_indoor

সেলফি ক্যামেরাটির অ্যাপার্চার বেশ বড় হবার ফলে পোট্রেইট তোলার সময় পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড বোকেহ বেশ ভালোভাবে বোঝা গেলেও অনান্য দিক থেকে ক্যামেরাটি বেশ সাধারণ মানের। ক্যামেরাকেন্দ্রিক ফোনের কাছে এর চেয়ে বেশি আশা করাই যায়।

সাউন্ড কোয়ালিটি
পি১০ এর সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ উন্নতমানের। ফোনটির সিগন্যাল টু নয়েজ রেশিও বেশ ভাল, ফ্রিকুয়েন্সি রেসপন্স ২০ হার্জ থেকে ২০ হাজার হার্জ পর্যন্ত একেবারে সমান এবং স্টেরিও ক্রসটকের পরিমানও না ধরার মতই।

সমস্যা বলা যেতে পারে এর ভলিউমে। হেডফোন বা স্পিকারের উভয় ক্ষেত্রেই ফোনটি খুবই কম ভলিউমে সাউন্ড দিতে সক্ষম, যা এ দামের ফোনের ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সঙ্গীত প্রেমীরা ভলিউমে ঘাটতি বেশ ভালোভাবে টের পাবেন।

huawei_p10_review_4

ব্যাটারি লাইফ
ফোনটিতে ব্যবহৃত ৩২০০ এমএএইচ ব্যাটারিটি টানা দুই দিন স্ট্যান্ডবাই দিতে সক্ষম। স্মার্টফোন যেহেতু কেউ স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখতে ব্যবহার করেন না, তাই স্ক্রিন অন টাইমকেই মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অন্তত ৭৮ ঘন্টা স্ক্রিন অন পাওয়া যাবে।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, সাধারণ ব্যবহারে অন্তত এক দিন চার্জ না করেই ব্যবহার করা যাবে। কিছুটা কম ব্যবহারে দু’দিন সহজেই ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।

ফাস্ট চার্জিং ফোনটির বিশেষ ফিচার হলেও অপ্পো বা কোয়ালকমের চেয়ে সেটি বেশ পিছিয়ে রয়েছে। ২ শতাংশ থেকে ৩০ মিনিটে ফোনটি ৫৫ শতাংশ চার্জে যেতে সক্ষম – যা ড্যাশ (ভুক) চার্জ বা কুইকচার্জের চেয়ে ৫১০ শতাংশ কম।

পরিশিষ্ট
মূল্য অনুসারে ফোনটিকে ফ্ল্যাগশিপের কাতারে ফেলা যায়। ইদানিং অবশ্য ফ্ল্যাগশিপের মূল্য আরও বেড়ে যাওয়ায় এটি আসলে মাঝারি বাজেটের মধ্যে উচ্চ মূল্যের কাতারে পরেছে।

সে হিসেবে ডিসপ্লের রেজুলেশনে ঘাটতিম ও কিছুটা খারাপ গ্রাফিক্স পারফরমেন্স হয়ত মেনে নেওয়া যায়। তবে বাধ সেধেছে ওভারহিটিং, ব্যাটারির কুইকচার্জে বেশ ধীরগতি এবং ক্যামেরার ছবি ও ভিডিওতে বেশ বড় ধরনের নয়েজ।

এ দামে এর চাইতে ভালো ক্যামেরা, পারফরমেন্স ও স্ক্রিনের ফোন বাজারে রয়েছে। তাই বলা যায়, ফোনটি বেশ ভালো হলেও কেনার আগে ক্রেতা মনমতো পারফরমেন্স পাবেন কিনা সেটি বিবেচনা করতে হবে।

মূল্য 
ফোনটি প্রিঅর্ডারে সরাসরি হুয়াওয়ের কাছ থেকে ৫৬ হাজার ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।বাইরে গ্রে মার্কেটে আরও কমে ওয়ারেন্টি ছাড়া পাওয়া যেতে পারে।

এক নজরে ভাল

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • ব্যাটারি লাইফ, চার্জিং
  • দৈনন্দিন ব্যবহারে পারফরমেন্স
  • স্টিল ফটোগ্রাফি  

এক নজরে খারাপ

  • গ্রাফিক্স পারফরমেন্স
  • ভিডিওগ্রাফি
  • মূল্য অনুসারে ক্যামেরার ডিটেইলে ঘাটতি
  • সাউন্ডের ভলিউমে বেশ ঘাটতি

ফেইসবুকে অটো প্লে ভিডিও বন্ধ করবেন যেভাবে

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অফিসে কাজের ফাঁকে ফেইসবুকে হোম ফিড দেখছেন। হঠাৎ জোরে শব্দ করে কোনো ভিডিও চালু হয়ে গেল। তখন কিছুটা হলেও অপ্রস্তুত হতে হয়। ফেইসবুকে ভিডিও দেখতে অটো প্লে নামের নতুন ফিচারের কারণেই আচমকা ভিডিও চালু হয়।

এ কারণে ফেইসবুকের হোম পেইজ দেখার সময় ভিডিওয়ের প্লে বাটনে ক্লিক না করলেও ভিডিও চালু হয়ে যায়।

চাইলে অবশ্য অটো প্লে বন্ধ রাখা যায়। কিভাবে কাজটি করতে হবে এ টিউটোরিয়ালে তা তুলে ধরা হলো।

 

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে
ফেইসবুক অ্যাপে লগইন করার পর ডান পাশে সেটিংস আইকনে (তিনটি লাইন বাটন) ক্লিক করতে হবে।

তারপর ক্রলডাউন করে ‘app settings’-এ ক্লিক করতে হবে।

সেখান থেকে ‘autopay’ অপশনে যেতে হবে। সেখান থেকে ‘never autopay video’  অপশনটিতে ট্যাপ করে অফ করে দিতে হবে।

আইওএস ডিভাইসে ক্ষেত্রে
ফেইসবুকে অ্যাপে লগইনের পর ডান পাশে থাকা সেটিংস বাটনে ক্লিক করতে হবে।

সেখান থেকে ‘settings’-এ গিয়ে Account Settings-এ যেতে হবে।

এরপর Sounds-এ গিয়ে ‘Videos in News Feed Start with Sound’ অপশনটি বন্ধ করে দিতে হবে।

তাহলে ফেইসবুক ফিডে দেখতে না চাইলে ভিডিও অটো প্লে হবে না।

আরও পড়ুন

নকিয়া ৬ : বিল্ড কোয়ালিটি হার মেনেছে পারফরমেন্সের হতাশায়

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : একসময় নকিয়া ছাড়া আর কোনও ব্র্যান্ডের ফোন কেনার কথা কেউ তেমন চিন্তা করতো না। মূলত মজবুত, টেকসই ও প্রচুর ফিচারসমৃদ্ধ ফোন বাজারে এনে ফিনল্যান্ডের কোম্পানিটি সবার মন জয় করেছিল। তবে কালের আবর্তে, বেশ কিছু বাজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে ব্র্যান্ডটি কদর হারাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি মোবাইল ফোন কার্যক্রম থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয় ।

তবে কিছুদিন আগে নকিয়ার কিছু পুরাতন কর্মী নতুন করে এ ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বাজারে আনেন। নতুন ফোনটি নিয়ে হৈচৈও পরে যায়। এখন দেখে নেওয়া যাক এ ব্র্যান্ডের প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ ফোন নোকিয়া ৬-এর খুঁটিনাটি, যা ফ্যানদের আশাবাদী নাকি আশাহত করেছে।

একনজরে নকিয়া ৬

  • ৫.৫ ইঞ্চি, ১৯২০x১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশন আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • ডুয়াল সিম
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪৩০, ১.৪ গিগাহার্জ গতির কর্টেক্স এ৫৩ অক্টাকোর প্রসেসর
  • অ্যাড্রিনো ৫০৫ জিপিউ
  • ৩ বা ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১ নুগ্যাট অপারেটিং সিস্টেম
  • ১৬ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপার্চার ব্যাক ক্যামেরা, ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস ও ডুয়াল-টোন ফ্ল্যাশ
  • ৮ মেগাপিক্সেল, f/2.0 অ্যাপার্চার সেলফি ক্যামেরা
  • ১০৮০পি, ৩০এফপিএস ভিডিও ধারণক্ষমতা
  • ৩২ বা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, রেডিও, এনএফসি
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক
  • সামনে অবস্থিত ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৩০০০ মিলি অ্যাম্পায়ার ধারণক্ষমতার ব্যাটারি।

xxSp7j9GjvP4jK4xNR728b-1200-80

ডিজাইন
সাধারণত নকিয়ার সব ফোনের ডিজাইন কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী হলেও এক্ষেত্রে আর দশটি অ্যান্ড্রয়েডের থেকে নকিয়া ৬-এর ডিজাইনে তেমন পার্থক্য নেই। এটি তৈরিতে পুরোটাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বরাবরের মতই অন্য নকিয়ার মতো এতেও রয়েছে বেশ শক্তপোক্ত বডি।

ডিসপ্লের নিচে রয়েছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর, যার দুপাশে ক্যাপাসিটিভ কি ও স্ক্রিনের ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস ও ডানে সেলফি ক্যামেরা এবং পাশে ব্র্যান্ডের লোগো।

o5m2vSYBT8tYbG9UVM6LBa-650-80

পেছনে ম্যাট ফিনিস দেওয়া হয়েছে। এতে আঙ্গুলের ছাপ বা অন্যান্য ময়লার দাগ তেমন চোখে পড়বে না। ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ ছাড়া পেছনে আর তেমন কিছু নেই।

ফোনটি তেমন পাতলা না হওয়ায় ক্যামেরা বাম্প থাকাটা বেশ অস্বাভাবিক। ক্যামেরা বাম্পের ডিজাইনে বেশ কিছুটা মটো জি৪-এর ক্যামেরার মিল রয়েছে।

এ ছাড়া ডান পাশে রয়েছে ভলিউম ও পাওয়ার বাটন, সিম ও মেমরি কার্ড ট্রে, ওপরে হেডফোন জ্যাক ও তলদেশে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও স্পিকার গ্রিল।

44sCZ9ixuEeqCMCPSywHXa-650-80

সব মিলিয়ে, নকিয়ার কাছ থেকে সবাই যে বিল্ড কোয়ালিটি আশা করে, তার পুরোটিই রয়েছে এ মডেলে।

ডিসপ্লে
ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লের ফোনের কাতারে অবস্থান করলেও এটির ৫২২ নিট ব্রাইটনেস ও ১৩২৮:১ কন্ট্রাস্ট বাকি সব ডিসপ্লে থেকে আলাদা করেছে। যদিও ৫.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লেটিতে ১০৮০পি রেজুলেশন ব্যবহারের কারণে পিক্সেল ঘনত্ব ভিআর কন্টেন্ট দেখার জন্য যথেষ্ট নয়।

রোদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিসপ্লেটি বেশ মাঝারি মানের হলেও ব্যবহারের অযোগ্য নয়। মূল সমস্যা বলা যেতে পারে ডিসপ্লেটির হোয়াইট ব্যালেন্স।

নিউট্রাল মোড বা কুল মোডে হোয়াইট ব্যালেন্স খুবই নীলচে মনে হবে। ওয়ার্ম মোডে অবশ্য ব্যালেন্সটি প্রায় পিউর হোয়াইটের কাছাকাছি চলে আসে।

সব মিলিয়ে, ডিসপ্লেটি আর দশটি মাঝারি মানের ফোনের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও খুব বেশি নয়।

পারফরমেন্স
নকিয়া ড-এ যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি হতাশ করার মতো তা হলো প্রসেসর। স্ন্যাপড্রাগন ৪০০ সিরিজের প্রসেসর সবসময়ই মাঝারি মূল্যের মাঝে মোটামুটি নিম্ন পারফরমেন্সের প্রসেসর হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এখানেও ব্যাতিক্রম নয়।

প্রসেসরটিতে আটটি কোর থাকলেও সব কয়টি কোর-ই কর্টেক্স এ৫৩ ও ১.৪ গিগাহার্জ গতির হওয়ায় প্রসেসিং পারফরমেন্সে ফোনটি খুবই পিছিয়ে রয়েছে।

সিঙ্গেলকোর পারফরমেন্স স্বল্পগতির হওয়ায় অনেক মাঝারি মানের প্রসেসরের চেয়েও পিছিয়ে গিয়েছে। আটটি কোর থাকার কারণে যদিও মাল্টিকোর পারফরমেন্সে ফোনটি কিছুটা ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে দেবে।

গ্রাফিক্সের দিক থেকে অ্যাড্রিনো ৫০৫ জিপিউটি বেশ নিম্নমানের। থ্রিডি-মার্ক অনুযায়ী জিপিউটি মাঝারি পারফরমেন্সের বেশ কিছুটা নিচের দিকে পরেছে। ফলে সকল গেমই ৩০ এফপিএসের উপর খেলার তেমন আশা নেই।

বেশ কিছু গেইম যেগুলোর গ্রাফিক্স কোয়ালিটি বদল করা সম্ভব, সেগুলো হাই গ্রাফিক্সে দেওয়ার পর ২০ এফপিএসের নিচে ফ্রেম-রেট পাওয়া গিয়েছে। এ কারণে বলা যেতে পারে, খুব দ্রুত ফোনটিতে আর এইচডি গেইম ভাল মতো খেলা যাবে না।

র‌্যামের স্বল্পতা না থাকায় মাল্টি-টাস্কিং ও টাস্ক সুইচিং নিয়ে তেমন সমস্যা নেই। তবে প্রোগ্রাম লোড হওয়ার সময় সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সের ঘাটতি বেশ ভালভাবে টের পাওয়া যাবে। তার মানে এ নয়, ফোনটি স্লো- কিন্তু মূল্য অনুযায়ী যথেষ্ট দ্রুতগামী নয়।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, দৈনন্দিন স্মার্টফোন ব্যবহারে নকিয়া ৬ যথেষ্ট এগিয়ে থাকলেও গেমিং ও ভারি অ্যাপ্লিকেশন চালানাের মতো কাজে এটি বেশ পিছিয়ে। বিশেষত মূল্য অনুযায়ী পারফরমেন্স বেশ হতাশাজনক।

Nokia-6-camera-sample-4

ক্যামেরা
নোকিয়া ৬ এর পেছনে রয়েছে f/2.0 অ্যাপার্চার লেন্স সমৃদ্ধ ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর, যা কাগজে কলমে বেশ ভাল ছবি তুলতে সক্ষম হলেও বাস্তবে ক্যামেরাটি বেশ আশাহত করেছে।

ক্যামেরা অ্যাপ্লিকেশনটি সম্পূর্ণ নকিয়ার নিজস্ব ডিজাইনের। অনেকের কাছেই এটি প্রয়োজনের তূলনায় অতিরিক্ত সাধাসিধে মনে হতে পারে। হাতে গোনা কয়েকটি সেটিং ছাড়া তেমন কিছুই সহজে বদলে নেওয়ার উপায় নেই।

সেটিংসের ভেতরে একটু ঘাটলে অ্যাডভান্সড মোড পাওয়া গেলেও ম্যানুয়াল মোডের অভাব রয়েই গেছে। ম্যাক্রো, ইনফিনিট ও অটো ফোকাস ছাড়া ফোকাসিংয়ের আর কোনও অপশন নেই। নেই আইএসও ও এক্সপোজার সেট করে দেওয়ার সুবিধাও।

এসব বিপরীতে গাইডলাইন, এক্সপোজার ভ্যালু সেট করার সুবিধা কিছুটা কাজের বলা যেতে পারে।

রেজুলেশনের ঘাটতি না থাকার ফলে ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিগুলোতে ডিটেইলের পরিমান বেশ ভাল। এইচডিআর মোডে ছবি তুললে সেগুলোতে ডাইনামিক রেঞ্জে তেমন পার্থক্য না হয়ে উল্টো ডিটেইল কিছুটা কমে যায়। তাই এ মোড ব্যবহার না করাই শ্রেয়।

ক্যামেরাটির মূল সমস্যা বলা যেতে পারে কালার ব্যালেন্স – প্রায় প্রতিটি রঙই ছবিতে বেশ অনুজ্জ্বল ও কন্ট্রাস্টের বেশ ঘাটতি রয়েছে। ফলে ছবি তোলার পর সেগুলোকে এডিট করা ছাড়া গতি নেই।

সেলফি ক্যামেরার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা বিরাজমান। অবশ্য ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার শটগুলো সেলফি হিসেবে যথেষ্ট ভালো।

ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ক্যামেরাটি সর্বোচ্চ ১০৮০পি রেজুলেশনে ৩০ এফপিএস ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। ৭২০পিতে ৬০ এফপিএস ও ৪৮০পিতে ৯০ এফপিএস পর্যন্ত ভিডিও করা যাবে।

ক্যামেরার স্থিরচিত্রের তূলনায় ভিডিওতে বেশ ভাল ডিটেইল ও ডাইনামিক রেঞ্জ পাওয়া গেছে। বলা যেতে পারে স্থির চিত্রধারণের চেয়ে ভিডিও ধারণে বেশে উপযোগী ফোনটি।

সাউন্ড কোয়ালিটি
মাঝারি রেঞ্জের হওয়ার পরও ফোনটি সাউন্ড কোয়ালিটির দিক থেকে বেশ এগিয়ে রয়েছে। স্টেরিও স্পিকারের কল্যাণে ভিডিও দেখা বা স্পিকারে গান শোনার মতো কাজও এর মাধ্যমে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।

অন্যদিকে হেডফোনে একমাত্র অল্পবিস্তর ভলিউমের অভাব ছাড়া আর কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি। স্টেরিও ক্রসটক বা সিগন্যাল টো নয়েজ রেশিও অন্যসব মাঝারি মূল্যের ফোনের চেয়ে বহুগুনে এগিয়ে রয়েছে।

যারা মিউজিক একটু কম ভলিউমে শুনতে পছন্দ করেন, তারা ফোনটি কিনে ফেলতে পারেন।

ব্যাটারি লাইফ
আজকাল তিন হাজার মিলি অ্যাম্পায়ার ধারণক্ষমতার ব্যাটারি ৫.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের ফোনে কিছুটা কম মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। ব্যাটারি লাইফ পরীক্ষায় সেটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

কিছুটা কম শক্তিশালী প্রসেসর ব্যবহার করায় ফোনটি ৭-৮ ঘন্টা পর্যন্ত স্ক্রিন অন টাইম দিতে সক্ষম, যা সর্বাধিক শক্তিশালী অ্যান্ড্রয়েড ফোনের তূলনায় খুব একটা বেশি নয়।

স্ট্যান্ডবাই টাইমে অবশ্য নকিয়া ব্র্যান্ডের মর্যাদা ধরে রেখেছে। হালকা ব্যবহারে দু’দিন নিশ্চিন্তে চালানো যাবে।

vLoGnpL6vx8nEnCCCiqzaa-650-80

পরিশিষ্ট
বিল্ড কোয়ালিটি, ব্র্যান্ড নিশ্চয়তা ও দ্রুত অপারেটিং সিস্টেম আপডেট থাকার পরও ক্যামেরার কোয়ালিটিতে কিছুটা ঘাটতি ও পারফরমেন্সে অনেক ঘাটতি থাকায় দাম অনুযায়ী এটি কেনা কতটা যৌক্তিক তা একটু তুলনা করলেই নতুন ক্রেতাদের কাছেও পরিস্কার হবে।

তবে যারা নকিয়ার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য আজ অবধি অপেক্ষা করে আছেন, তারা শখ পূরণের জন্য এতক্ষণ হয়ত বসেও নেই।

মূল্য : দেশে গ্রে-মার্কেটে ওয়ারেন্টি ছাড়া ফোনটি ২৫,০০০ থেকে ২৭,০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

একনজরে ভালো

  • অসাধারণ বিল্ড কোয়ালিটি
  • সর্বশেষ অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ
  • উন্নতমানের সাউন্ড

একনজরে খারাপ

  • পারফরমেন্সে অনেক ঘাটতি
  • ক্যামেরার মানে শংশয়
  • অতিরিক্ত মূল্য