অবশেষে একীভূতকরণের স্বীকৃতি পাচ্ছে রবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নানা টানা টানাপড়েনের পর অবশেষে এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে রবি।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কাছ থেকে ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ বৃহস্পতিবার পাওয়ার কথা বলে জানা গেছে।

প্রায় নয় মাসে একীভূতকরণের অনুমোদন পাওয়ার পর গত কয়েক মাসে শীর্ষ এ দুই অপারেটর কার্যত রবির মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে আর্থিক দেনাপাওনার হিসাব সংক্রান্ত জটিলতায় বিটিআরসি এতদিন এ লাইসেন্স দেয়নি।

airtel -robi_techshohor

বুধবার মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের বাজেট বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে রবির চিফ পিপলস অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ বলেন, একীভূতকরণ শেষ পর্যন্ত যথাযথভাবে হচ্ছে। এ উদ্যোগ উভয় কোম্পানির জন্য সুফল নিয়ে আসবে।

পর্যায়ক্রমে তা গ্রাহকদের মধ্যেও সঞ্চারিত হবে বলে উল্লেখ করেন।

যদিও এর আগে রবি একাধিকবার বলেছে, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছ থেকে একীভূতকরণ বিষয়ে তাদের এ ধরণের কোনো লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বিটিআরসির দাবি করা বাড়তি টাকা ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েই ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ বুঝে নিচ্ছে রবি।

ইতিমধ্যে তারা এয়ারটেলের ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ বিটিআরসিকে ফেরত দিয়েছে।

 

২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মোট ২১ শর্ত দিয়ে রবি ও এয়ারটেলের একীভূতকরণ অনুমোদন দেয় বিটিআরসি।

১০০ কোটি টাকা একীভূতকরণ ফি ও ৩০৭ কোটি টাকা এয়ারটেলের তরঙ্গ সমন্বয় ফি হিসেবে মোট ৪০৭ কোটি টাকা, যা ভ্যাট-ট্যাক্স মিলে ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।

এর মধ্যে ২০ নভেম্বর ৩১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করে রবি। বাকি ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধের কথা থাকলেও তা দেয়নি অপারেটরটি। শর্ত প্রতিপালন না করায় অনুমোদনের পরও গত প্রায় নয় মাস ধরে একীভূতকরণ চূড়ান্তের বিষয়টি ঝুলে ছিল।

এ দীর্ঘ সময়ে একীভূতকরণের শর্ত পূরণ নিয়ে রবিকে বেশ কয়েক দফা চিঠি দেয় বিটিআরসি। পরে শোকজও করে।

এর মধ্যে একীভূতকরণ বাতিলের হুমকিও দেয়।

পরে টাকা পয়সা পরিশোধের শর্তে অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স নিতে বিটিআরসির কাছে আবেদন করলে এ জটিলতা নিরসন হয়।

মোবাইল ফোনে বাড়তি করে হিতে বিপরীত : অ্যামটব

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর পদক্ষেপ সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে অ্যামটব।

মোবাইল ফোন অপারেটগুলোর এ সংগঠন ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার না করার পাশাপাশি হ্যান্ডসেটে শুল্ক বৃদ্ধিতে বুধবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

সংগঠনটির দাবি অতিরিক্ত করারোপ করা না হলে জাতীয় আয় আরও বৃদ্ধি পেত। এ জন্য এসব বাড়তি কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

amtob-techshohor

আগামী অর্থবছরের বাজেটের আগে ইন্টারনেটের ওপর থেকে ভ্যাট ও সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারসহ মোটা দাগে তিনটি দাবি জানিয়েছিল মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এগুলোর একটিও পূরণ হয়নিই উল্টো প্রস্তাবিত বাজেটে সিম আমদানির পর্যায়ে ভ্যাট যুক্ত হয়েছে।

এর বাইরে মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমাদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যামটব বলেছে, এ কর নীতি ডিজিটাইজেশনের পথকে আরও কঠিন করে দেবে।

এ জন্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নূরুল কবীর দায়ী করেছেন সরকারের রাজস্ব আহরণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)।

“ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের যে ভিশন এবং মোবাইল খাত থেকে এনবিআরের আয়ের যে লক্ষ্য সে দুটি এক সঙ্গে যায় না- সংবাদ সম্মেলনে বলেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, এনবিআরের সমন্বয়হীনতা তাদের চোখে বড় হয়ে ধরা দিচ্ছে।

নূরুল কবীর বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে ইন্টারনেটের ব্যবহারের ওপর থেকে ভ্যাট তুলতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে এ দাবি জানানো হলেও এনবিআর তা বিবেচনাই করছে না।

সিমের ওপর কর বিষয়ে অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ কর কমানোর ফলে সরকারের আয় বৃদ্ধির বিষয়টি সবাই দেখতে পাচ্ছেন। সরকারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক জাতীয় আয়ও বেড়েছে।

এখন জাতীয় আয় বাড়ছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে। তার দাবি, সিম কর তুলে নিলে এটি ৮ শতাংশের ওপরে চলে যাবে।

একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা করপোরেট কর অন্যান্য খাতের মতো ‘স্বাভাবিক’ পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান।

শীর্ষ তিন অপারেটরের কর্মকর্তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মোবাইল ফোনের ওপর ও মোবাইল ফোনের সেবার ওপর নানা পর্যায়ে কর বাড়ছে। এ কারণে জনগণে সেবা পেতেও বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

মোবাইল ফোন আমদানিতে বাড়তি করসহ সিম আমদানিতে ভ্যাট যুক্ত করা এবং নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাড়তি কর আরোপের কারণে সেবার দামও কিছুটা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করেন তারা।

সর্বনিম্ন স্পেকট্রামে টেলিকম সেবা বাংলাদেশে

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো সবচেয়ে কম স্পেকট্রামে গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকে। আর এটিই তাদের সেবার মান খারাপ হওয়ার প্রধানতম কারণ।

অপারেটরগুলো বলছে, স্পেকট্রাম কম হওয়ার পাশাপাশি একই স্পেকট্রামে নানা রকম সেবা দিতে না পারা বা স্পেকট্রাম নিউট্রালিটির অভাব সেবার মান না বাড়ার অন্তরায়।

বাংলাদেশে গড়ে এক অপারেটরের হাতে আছে ২৮ দশমিক ৪ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম। কিন্তু অন্য দেশগুলোতে সেটা অপারেটরভেদে ৭০ থেকে ১১০ মেগাহার্জ পর্যন্ত রয়েছে বলে সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের এক প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব-এর মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘ক্রমাগত ভয়েসের ডিমান্ডের চেয়ে ডেটার ডিমান্ড বাড়ছে। মোবাইল ফোন অল অ্যাবাউট ডিজিটাল সার্ভিসেস। এখানে ডেটা হচ্ছে প্রধান এনাব্লার। তিন ব্যান্ডের স্পেকট্রামের মধ্যে ২১০০ ব্যান্ডে থ্রিজি আছে। বাকি ১৮০০ ও ৯০০ ব্যান্ডে কিন্তু থ্রিজি নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বহু দিন ধরে বলে আসছি যে আমাদের টেকনোলজি নিউট্রালিটি দেয়া হোক। তার মানে ১৮০০ ও ৯০০ স্পেকট্রামে যদি থ্রিজি ও ফোরজির সুযোগ।’

অ্যামটব মহাসচিব বলছেন, ‘অপারেটরগুলো সীমিত স্পেকট্রাম নিয়ে আছে অন্যদিকে ক্রমাগত ইউজার বেড়ে যাচ্ছে। কোয়ালিটি অব সার্ভিস খুব গুরুত্বপূর্ণ অপারেটরগুলোর জন্য। তাদের গ্রাহক সেবা যদি ভাল না হয়, কেউ কি চায় তাদের গ্রাহককে অসন্তুষ্ট রেখে ব্যবসা করতে। মোবাইল অপারেটরগুলো সেবাকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিচ্ছে কিন্তু তাদের হাত-পা বাধা।’

spectrum_techshohpr

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি স্পেকট্রাম যে গ্রামীণফোনের ৩২ মেগাহার্জ সেটিও অন্যান্য উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের অপারেটরের তুলনায় অনেকাংশে কম। আবার গ্রাহক সংখ্যার বিবেচনায় গ্রামীণফোন ওইসব দেশের অপারেটরগুলোর তুলনায় অনেক এগিয়ে।

বিষয়টি দেখেছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও। সম্প্রতি সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেছেন, দ্রুত তারা আরও স্পেকট্রাম নিলামের আয়োজন করবেন। কিন্তু সেখানে যদি অপারেটরগুলো তাদের প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম না কেনে এবং গ্রাহক সেবার মান যদি ভালো না হয় তাহলে উল্টো অপারেটরদের বিরুদ্ধে তখন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রামীনফোন ছয় কোটি গ্রাহক সামলাচ্ছে। রবি-এয়ারটেল মিলিয়ে সাড়ে তিন কোটি গ্রাহক। রবি আর এয়ারটেল একীভূত হওয়ার পর তাদের স্পেকট্রাম এখন ৩৬ দশমিক ৪ মেগাহার্জ।

আর টেলিটকের আছে ২৫ দশমিক ২ মেগাহার্জ। যদিও তাদের গ্রাহক সংখ্যা কম। কিন্তু বাংলালিংকের হাতে মাত্র ২০ মেগাহার্জ। আর তারা সামলাচ্ছে তিন কোটি ২০ লাখ গ্রাহক।

দেশের বাইরে অন্যদের সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, মালয়েশিয়ার অপারেটরগুলো গড়ে ৫৬ মেগাহার্জ করে স্পেকট্রাম ব্যবহার করছে। ভিয়েতনামেও সেটি ৪১ মেগাহার্জ। আবার দেশগুলোতে রয়েছে স্পেকট্রাম নিউট্রালিটি।

যুক্তরাজ্যের অপারেটরগুলো গড়ে ১১৫ দশমিক ৯ মেগাহার্জ করে স্পেকট্রাম ব্যবহার করছে। জার্মানিতে সেটা ১১৪ দশমিক ৮ মেগাহার্জ এবং অস্ট্রেলিয়াতে সেটা ৭২ দশমিক ৮৫।

spectrum-auction_techshohor

অপারেটরগুলো বলছে, সরকারে হাতে বিভিন্ন ব্যান্ডে ব্যবহার উপযোগী মোট স্পেকট্রাম রয়েছে ৩৩০ মেগাহার্জ, যার মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ১৮২ মেগাহার্জ। আর সবগুলো অপারেটর মিলে ব্যবহার করছে মাত্র ১১৭ মেগাহার্জ।

‘এত অব্যবহৃত স্পেকট্রাম থেকে যাচ্ছে, যেটা বাড়তি কোনো ফলই সরকারকে দেবে না। অথচ গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে এসব স্পেকট্রাম অপারেটরদের দিয়ে দিলে ইন্টারনেটসহ সামগ্রিক সেবার মান বাড়তো এবং তা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নতিতেও সহায়তা করতো।’

এদিকে বিটিআরসি বলছে, তারা নতুন করে স্পেকট্রাম নিলামের আয়োজন করছেন। একইসঙ্গে যেসব অপারেটরের হাতে অব্যবহৃত স্পেকট্রাম আছে সেগুলো নিয়ে নিয়ে ওই নিলামে উপস্থাপনের ব্যবস্থাও করছেন তারা।

তবে অপারেটরগুলোর কথা, শুধু নিলামের আয়োজন করলেই হবে না। নিলামে যদি উচ্চমূল্য থাকে এবং সেটি যদি তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চয়ে যায় তাহলে নিলাম করেও তাদের জন্যে খুব একটা কাজে আসবে না।

ফোরজি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে সোমবার

 

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজি নীতিমালার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে সোমবার। রাজস্ব ভাগাভাগিতে বিটিআরসির ১৫ শতাংশ থাকবে কিনা, লাইসেন্সের আওতা কতখানি হবে, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা কি প্রক্রিয়ায় দেওয়া হবে, বাড়তি চার্জ হবে কিনা আর হলে কত-এমন বিষয়গুলো এদিন ঠিকঠাক হতে পারে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বৈঠক করবেন বলে কথা রয়েছে ।

এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি টেলিযোগাযোগ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি ও পর্যালোচনা বিষয়ক বৈঠক করেন তিনি। ওই সভায় জয় বিভাগের আওতাধীন সকল দপ্তরের কাজের অগ্রগতির খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

সে সময় দেশে যেকোনো মূল্যে ২০১৭ সালের মধ্যেই ফোরজি চালু করতে বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা । আর এই নির্দেশনার পর বিটিআরসি ফোরজি নীতিমালা নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করে।

4g-techshohor

ইতোমধ্যে ফোরজির জন্য বিটিআরসি একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এখন বিবেচনার জন্যে রয়েছে। সেখানে ফোরজি সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে বলেছে বিটিআরসি।

বর্তমানে সকল সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগি করা হয় সাড়ে পাঁচ শতাংশ। আরও এক শতাংশ অপারেটররা দেয় সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে।

এক লাফে রাজস্বের এত বড় ভাগ অপারেটরা ছাড়তে নারাজ। তারা বলছেন, তাদের মোট আয়ের ৪৭ শতাংশই সরকারের কোষাগারে চলে যায়। এটি আরও বাড়াতে বললে তাদের আর কিছুই থাকবে না।

সম্প্রতি এটিসহ ফোরজির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এর কাছে চিঠিও দিয়েছে।

এর আগে অ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যেটা জেনেছি তাতে যে ধরণের নীতিমালা করা হচ্ছে সেখানে বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’

ফোরজির স্পেকট্রামের জন্য এত ফি দিয়ে বিষয়টি সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত ফি সম্ভব না, বিজনেস কেইস কোথায়? আমি থ্রিজি নিলাম এত টাকা দিয়ে, থ্রিজি ব্যবহার করার সুযোগ নিতে পারলাম না। বাংলাদেশে এখন ফোরজি হ্যান্ডসেট আছে ৩ হতে ৪ শতাংশে। আমার ইকোসিস্টেম তো রেডি হতে হবে। এটা না হলে কীভাবে হবে?’

‘আমি অকশনে যাবো, অকশনে যাওয়ার জন্য আমাদের বিজনেস কেইসটাও দেখা দরকার, আমাদের পেন্ডিং সে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সরকারের কনসিডার করা উচিত। ইনভেস্টররা যাতে উৎসাহিত হয় সেই জিনিসগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে অকশন গাইডলাইন তৈরি করা উচিত।’

নূরুল কবীর বলেন, ‘যে নীতিমালার কথা আমরা শুনছি তা বিনিয়োগ বান্ধব নয় এবং এখানে ব্যবসায়িক অবস্থাও নেই, এটা অবাস্তব। আমরা বরং সরকারকে বলবো টেকনোলজি নিউট্রালিটি এবং শেয়ারিংয়ের জায়গাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে এবং এতেই কোয়ালিটি অব সার্ভিস বাড়বে।’

আল-আমীন দেওয়ান

ইন্টারনেটের দাম নিয়ে ‘অপপ্রচার’ ঠেকানোর বিজ্ঞাপন অপারেটরগুলোর

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটের মূল্যসংক্রান্ত একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনকে অপপ্রচার উল্লেখ করে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

শুক্রবারের সকল জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপনটি ছাপা হবে। মূলত বুধবার টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারনা হালিম একটি বৈঠকে অপারেটরগুলোকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন ছাপানোর নির্দেশনা দেন।

বিজ্ঞাপনে খুচরা পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর বিষয়ে নানা তথ্য থাকছে। যেখানে বলা হচ্ছে, ‘ইন্টারনেটের মূল্যের দিক হতে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় সর্বনিম্ন  দেশ।

internet ad

অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের নামে যাওয়া বিজ্ঞাপনটিতে বলা হচ্ছে, থ্রিজি চালুর আগে দেশে এক এমবিপিএস গতির এক জিবি ডেটার মূল্য ছিল এক হাজার টাকা যা এখন মাত্র দুইশ টাকায় নেমে এসেছে।

২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতি মেগাবাইট ডেটা ব্যবহারের খরচ ৯৩ শতাংশ কমেছে বলেও এতে বলা হয়েছে। তখন প্রতি মেগাবাইট ডেটার গড় মূল্য ছিল তিন টাকা ৮৯ পয়সা যা এখন মাত্র ২৮ পয়সা-বলছে অ্যামটব।

তারা বলছেন, ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যান্ডউইথের খরচের ভূমিকা অতি সামান্য।এর মূল্য-খরচ নির্ভর করে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্কের উপর যার সঙ্গে লাইসেন্স ফি, তরঙ্গ চার্জ, নেটওয়ার্ক স্থাপনের ব্যয়, অপটিক্যাল ফাইবারের খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, চ্যানেল কমিশন ও প্রণোদনা ব্যয় রয়েছে।

এর বাইরে প্রতি এক’শ টাকা ইন্টারনেট ব্যবহারে ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ চলে যায় ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক এবং সারচার্জ হিসেবে। বিজ্ঞাপনে অপারেটরগুলো তাদের লক্ষাধিক কোটি টাকা বিনিয়োগের হিসাবও তুলে ধরেন।

ইন্টারনেটের ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতি চায় অপারেটরা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রাহক প্রান্তে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর থেকে সব ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে মোবাইল অপারেটররা।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব বলছে, এই ভ্যাট-ট্যাক্স ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। তাই এটি প্রত্যাহার করা উচিত।

সংগঠনটির মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবির বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। ইন্টারনেটের উপর আরোপিত ভ্যাট-ট্যাক্স এক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। এই অন্তরায় রেখে ২০২১ সালের মধ্যে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

NBR-AMTOb-Pre-budget-Techshohor

অ্যামটব বলছে, বর্তমানে দেশের মাত্র ১৮ শতাংশ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। যদিও কার্যকরী সংযোগ রয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ। আর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ৫৪ শতাংশ মানুষ। যা কার্যকর সংযোগের হিসাবে ১৩ কোটি। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ ট্যাক্স এবং এক শতাংশ সারচার্জ রয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) সঙ্গে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনার অ্যামটবের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়েছে। প্রাক-বাজেট আলোচনায় মোবাইল অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী এবং অন্যান্য অপারেটরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অ্যামটবের পক্ষ থেকে ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, অন্য কোনো খাতে আর ভ্যাট-ট্যাক্স যুক্ত না করা। সিম ও রিম কার্ডের উপর থাকা ১০০ টাকা ট্যাক্স প্রত্যাহার করার কথা বলেন বক্তারা।

এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে সরকারের বেশকিছু অমিমাংসিত বিষয় রয়েছে। যার প্রতিটির সঙ্গে হাজার কোটি টাকা জড়িত, সেগুলো সমাধানের দাবি জানায় অ্যামটব। নূরুল কবির বলেন, এসব সমাধান করা না গেলে বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন বিষয়ে বা খাতে বিনিয়োগ করতে বাড়তি ঝুঁকি অনুভব করছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক কম মূল্যে ভয়েজ ও ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহার করতে পারেন ব্যবহারকারীরা। তাই কলরেট ও ডেটা চার্জ কমাতে অপারেটরদের আরও কিছু তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। যেগুলো সামনের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এনবিআরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অ্যামটবের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, এনবিআর রাজস্ব আহরণে কাজ করে। ব্যবসা, বিনিয়োগবান্ধব ও ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন সেক্টরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। অ্যামটবের দাবিগুলো বিবেচনায় এনে তা বাজেট প্রস্তাবে যোগ করা হবে।

ইমরান হোসেন মিলন

থ্রিজিতে বিনিয়োগ ৩০ হাজার কোটি টাকা, ফোরজিতে অনীহা

আর এস হুসেইন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : থ্রিজির জন্য অপারেটররা প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব।

কিন্তু সেই অর্থের বিনিময়ে তারা কেউই এখনও থ্রিজি হতে লাভ ঘরে তুলতে পারেনি।

সে কারণে সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে লেখা চিঠিতে নানা কথা বলার মাঝেও ফোরজির বিষয়ে তাদের খানিকটা অনিহা ধরা পড়েছে।

তারা বলছেন, এতো বিনিয়োগ করেও যেখানে লাভ পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে ফোরজির জন্য বাজার কতটা তৈরি আছে সেটিও দেখতে হবে।

অপারেটরগুলো বলছে, বাজারে এ মুহূর্তে খুব কম হ্যান্ডসেট আছে যেখানে ফোরজির সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া নূন্যতম গ্রাহক প্রতি আয়, উচ্চ মাত্রার ট্যাক্সও তাদের জন্য ফোরজিতে বিনিয়োগ করা বড় প্রতিবন্ধকতা।

tower-techshohor

সম্প্রতি ফোরজির জন্য বিটিআরসি একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এখন বিবেচনার জন্যে রয়েছে। সেখানে ফোরজি সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে বলেছে বিটিআরসি।

বর্তমানে সকল সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগি করা হয় সাড়ে পাঁচ শতাংশ। আরও এক শতাংশ অপারেটররা দেয় সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে।

এক লাফে রাজস্বের এত বড় ভাগ অপারেটরা ছাড়তে নারাজ। তারা বলছেন, তাদের মোট আয়ের ৪৭ শতাংশই সরকারের কোষাগারে চলে যায়। এটি আরও বাড়াতে বললে তাদের আর কিছুই থাকবে না।

এর আগে অ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যেটা জেনেছি তাতে যে ধরণের নীতিমালা করা হচ্ছে সেখানে বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’

ফোরজির স্পেকট্রামের জন্য এত ফি দিয়ে বিষয়টি সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত ফি সম্ভব না, বিজনেস কেইস কোথায়? আমি থ্রিজি নিলাম এত টাকা দিয়ে, থ্রিজি ব্যবহার করার সুযোগ নিতে পারলাম না। বাংলাদেশে এখন ফোরজি হ্যান্ডসেট আছে ৩ হতে ৪ শতাংশে। আমার ইকোসিস্টেম তো রেডি হতে হবে। এটা না হলে কীভাবে হবে?’

‘আমি অকশনে যাবো, অকশনে যাওয়ার জন্য আমাদের বিজনেস কেইসটাও দেখা দরকার, আমাদের পেন্ডিং সে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সরকারের কনসিডার করা উচিত। ইনভেস্টররা যাতে উৎসাহিত হয় সেই জিনিসগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে অকশন গাইডলাইন তৈরি করা উচিত।’

নূরুল কবীর বলেন, ‘যে নীতিমালার কথা আমরা শুনছি তা বিনিয়োগ বান্ধব নয় এবং এখানে ব্যবসায়িক অবস্থাও নেই, এটা অবাস্তব। আমরা বরং সরকারকে বলবো টেকনোলজি নিউট্রালিটি এবং শেয়ারিংয়ের জায়গাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে এবং এতেই কোয়ালিটি অব সার্ভিস বাড়বে।’

চিঠিতেও এই বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফোরজির স্পেকট্রাম ফিতে আপত্তি অপারেটরগুলোর

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজির স্পেকট্রাম ফিতে আপত্তি তুলছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এটিকে বাড়তি বোঝা মনে করছে তারা। এছাড়া ফোরজির যে নীতিমালার কথা আলোচনায় এসেছে তা অবাস্তব, ব্যবসায় অনুকূল নয় বলে জানিয়েছেন তারা।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো সংগঠন অ্যামটব-এর মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যেটা জেনেছি তাতে যে ধরণের নীতিমালা করা হচ্ছে সেখানে বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’

ফোরজির স্পেকট্রামের জন্য এত ফি দিয়ে বিষয়টি সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত ফি সম্ভব না, বিজনেস কেইস কোথায়? আমি থ্রিজি নিলাম এত টাকা দিয়ে, থ্রিজি ব্যবহার করার সুযোগ নিতে পারলাম না। বাংলাদেশে এখন ফোরজি হ্যান্ডসেট আছে ৩ হতে ৪ শতাংশে। আমার ইকোসিস্টেম তো রেডি হতে হবে। এটা না হলে কীভাবে হবে?’

‘আমি অকশনে যাবো, অকশনে যাওয়ার জন্য আমাদের বিজনেস কেইসটাও দেখা দরকার, আমাদের পেন্ডিং সে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সরকারের কনসিডার করা উচিত। ইনভেস্টররা যাতে উৎসাহিত হয় সেই জিনিসগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে অকশন গাইডলাইন তৈরি করা উচিত।’

নূরুল কবীর বলেন, ‘যে নীতিমালার কথা আমরা শুনছি তা বিনিয়োগ বান্ধব নয় এবং এখানে ব্যবসায়িক অবস্থাও নেই, এটা অবাস্তব। আমরা বরং সরকারকে বলবো টেকনোলজি নিউট্রালিটি এবং শেয়ারিংয়ের জায়গাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে এবং এতেই কোয়ালিটি অব সার্ভিস বাড়বে।’

তিনি জানান, ‘সবগুলো অপারেটরই ফোরজি সার্ভিসে যেতে চায় কিন্তু তাদের এখনকার স্পেকট্রামগুলো আছে সেগুলো তারা যদি ফ্লেক্সিবলি ব্যবহার করতে না পারে, নিউট্রালিটি না পায় তাহলে এগুবো কীভাবে? এছাড়া সরকারের কাছে এখন অব্যবহৃত স্পেকট্রাম অনেক পড়ে আছে। সরকার সেগুলো ইফেক্টিভলি কাজে লাগায় না কেনো?’

4g-techshohor

ফোরজির এই স্পেকট্রাম ফি এবং নীতিমালার বিভিন্ন বিষয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত নিলামে অংশ না নেওয়ার হুমকি দেয়া নিয়ে কানাঘুষা চলছে অপারেটরগুলোর মধ্যে।

ইতোমধ্যে তারা সমস্যাগুলো নিয়ে চলতি সপ্তাহেই অর্থমন্ত্রী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে ফেলেছেন।

অপারেটরগুলো বলছে, ফোরজির সেবা দেওয়ার জন্যে স্পেকট্রামের ব্যবহারের যে নিরপেক্ষতা সেই সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন যে নীতিমালার খসড়া করছে সেখানে স্পেকট্রামের নিয়মিত ফি’র বাইরেও প্রতি মেগাহার্জের জন্য আরও সাত থেকে আট মিলিয়ন ডলার ফি নেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে।

‘এমন হলে ফোরজির সেবা গুণগত মান হারাবে। সরকারকেই যদি এতো টাকা দিয়ে দিতে হয় তাহলে তাদের সেবা দেওয়ার জন্য আর কিছুই থাকবে না। ফলে গুণগত সেবা নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।’

সম্প্রতি নতুন একটি মোবাইল ফোন অপারেটর আসার সুযোগ রেখে ফোরজি নীতিমালা অনুমোদনের জন্য পাঠাতে চুড়ান্ত করেছে বিটিআরসি। সেটা সরকারের কাছে পাঠিয়েও দিয়েছে বিটিআরসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নীতিমালায় ফোরজির লাইসেন্স ফি ১৫ কোটি টাকা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছরের ফি আছে আরো সাড়ে সাত কোটি টাকা।

লাইসেন্স নিয়েই ২১০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রামেরই সেবা দেওয়া শুরু করতে পারবেন অপারেটররা। সব মিলে ফোরজি সেবা আসতে কয়েক মাস লাগতে পারে।

এদিকে ফোরজি’র জন্যে বাড়তি যে স্পেকট্রাম নিলাম করা হবে তার প্রতি মেগাহার্জ ২৫ মিলিয়ন ডলার করে মূল্য ধরা হচ্ছে। এর ওপর বর্তমানে ব্যবহৃত স্পেকট্রামের ওপর কেউ ফোর জি সেবা দিতে চাইলে সেই অপারেটরকে প্রতি মেগাহার্ডজে আরও সাত-আট মিলিয়ন ডলার দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিটিআরসি।

আর এরই বিরোধিতা করে অপারেটরগুলো অর্থমন্ত্রী এবং টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

অপারেটগুলোর বক্তব্যে অ্যামটব মহাসচিব জানান, ‘আমরা সরকারকে বলেছি আমাদের ভয়েসের চেয়ে ডেটার ডিমান্ড বেড়েছে। এখন আমাদের টুজিতে ৯০০ এবং ৮০০ ব্যান্ড আছে, আমাদের থ্রিজিতে ২১০০ ব্যান্ড আছে। আমাদের এই ব্যান্ডটাকে ফ্লেক্সিবল এবং নিউট্রালিটি ব্যান্ড করে দেয়া দরকার। তাতে করে অপটিমাম লেভেলে সার্ভিস দেয়া যাবে এবং কোয়ালিটি সার্ভিস বাড়বে।’

‘এ বিষয়ে আমরা দাবি করেছি এবং সরকারের পলিসি লেভেলেও এটি এগ্রি করেছে কিন্তু জিনিসটা এখনও হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আর ফোরজির অকশন, স্পেকট্রাম এমনিই আমাদের কম । এর নিরপেক্ষতা যত বেশি থাকবে তত কোয়ালিটি অব সার্ভিস ও ইনোভেটিভ সার্ভিস প্রদান করার সুযোগ হবে।’

‘বাংলাদেশে সিম রিপ্লেসমেন্ট কেইসসহ বিভিন্ন অমিমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান করা জরুরি। এগুলো সমাধান না করলে বিনিয়োগকারীরা আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে না এবং ক্রমাগতভাবে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের চাইতে অন্য দেশে বিনিয়োগের চিন্তা করছে। কারণ এত আনসার্টেনিটি আনপ্রেডিক্টেবিলিটিতে তারা ঠিক বুঝতে পারছে যে কীভাবে তারা এগুবে।’

সাত বছরে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে ২৪০০ গুণ !

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গত সাত বছরে দেশে ইন্টারনেট ডেটার পরিমাণ অন্তত দুই হাজার চার’শ গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব।

সম্প্রতি মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবার মান উন্নয়ন এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠকের কার্যবিবরণীতে পাওয়া গেছে এ তথ্য।

ওই বৈঠকে অ্যামটব বলছে ২০০৯ সালে দেশে যে পরিমাণ ইন্টারনেট ডেটার ব্যবহার হত ২০১৬ সালের শেষে এসে তা দুই হাজার ৪০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তাদের প্রতিবেদনে ডেটার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে ২০১৩ থ্রিজি সেবার যাত্রার পর থেকে ডেটার ব্যবহার দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে বলেও বৈঠকে মন্তব্য করেন মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা।

Internet cable undersea-TechShohor

তারা বলছেন, বর্তমানে দেশের ৪০ শতাংশ ভূখণ্ডে থ্রিজি সেবা আছে। আর জনসংখ্যার হিসেবে ৬৫ শতাংশ জনগণ দ্রুতগতির এই ইন্টারনেট সেবার মধ্যে রয়েছে।

বর্তমানে দেশে সাড়ে ছয় কোটি মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক রয়েছে যার মধ্যে থ্রিজি ব্যবহার করছে অর্ধেক গ্রাহক।

অপারেটরগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, স্পেকট্রাম স্বল্পতা এবং ৯০০ ও ১৮০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রামের নিরপেক্ষতা না থাকায় তাদের পক্ষে যথেষ্ট ভাল সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তবে বৈঠকে গ্রাহক সেবা বৃদ্ধির জন্য বর্তমানে চালু থাকা টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর বিদ্যমান বহু স্তর কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আইটিইউর তথ্যপ্রযুক্তি সূচকে পিছিয়েছে দেশ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টেলিকম ও তথ্য প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রেই বেশ ভালো করেছে বাংলাদেশ। বহি:বিশ্বে বেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অনেক গল্প এখন বিশ্বজুড়ে উদাহরণ। এরপরও আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়ন বলছে, এ সংক্রান্ত উন্নয়ন সূচকে বেশ খানিকটা পিছিয়েছে এ দেশ।

সংস্থার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ উন্নয়ন সূচকে আগের চেয়ে ভালো করলেও অবস্থান পিছিয়ে গেছে অন্য দেশগুলো আরও ভালো করায়।

আইটিইউর সম্প্রতি প্রকাশিত ২০১৬ সালের প্রতিবেদন বলা হচ্ছে, আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছিল। এবার বিশ্বের ১৭৫ দেশের মধ্যে অবস্থান হয়েছে ১৪৫তম।

আইটিইউর এ সূচকে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়েছে। ২০১০ সালে প্রথম সূচকে অবস্থান ছিল ১৪৮তম।

sim-internet-use-techshohor

আন্তর্জাতিক এ সংস্থা বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের দেশওয়ারি তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতি বছর ‘গ্লোবাল ডেভেলমেন্ট ইনডেক্স’ তৈরি করে। নভেম্বরের একেবারে শেষ দিকে এ প্রতিদেন প্রকাশ করা হয়।

এ বছর বাংলাদেশের পয়েন্ট দুই দশমিক ৩৫। গত বছর যা ছিল দুই দশমিক ২৭।
এর আগে ২০১৪ সালে বিশ্বের ১৬৬ দেশের মধ্যে এ অবস্থান ছিল ১৪৫তম।

২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন মানদণ্ডে উন্নতি করায় ২০১৫ সালে বেশ ভালো অগ্রগতি হয়েছিল।

২০১৫ সালের জন্য এ সূচক তৈরিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করা হয়।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ৮৪ শতাংশ মানুষ এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় থাকলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করছে মাত্র ৪৭ শতাংশ মানুষ। গত বছর যা ছিল ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিশ্বে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২০ কোটি, যা মোট জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ।

সূচকে শীর্ষ ২০- এ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছয়টি দেশ রয়েছে। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এরপর ক্রমানুসারে ডেনমার্ক ও আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। সর্বশেষ ১৭৫তম অবস্থানে রয়েছে নাইজার।

টেলিকম বিশেষজ্ঞ মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব আবু সাইদ খান বলছেন, তথ্যের অপর্যাপ্ততার কারণেও রেটিংয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। এ জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে দায়ি করেন তিনি।

এ ছাড়া বিদ্যমান অনেক নীতির কারণে খাতটি একই জায়গায় আটকে আছে বলে মনে করেন এ টেলিকম বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, দেশের ইন্টারনেট গ্রাহকদের বড় অংশই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংযুক্ত। অথচ এরা সঠিক ব্যান্ডউইথ পাচ্ছে না মূলত ফাইবার অপটিক বিষয়ে সরকারের সঠিক ও বাস্তবসম্মত নীতি না থাকায়।অ

এরই নেতিবাচক ফল পড়েছে আইটিইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করে আবু সাঈদ বলেন, ‘এ অঞ্চলের মধ্যে শুধু আফগানিস্তান এখন বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে। তবে যেভাবে এখন সব কিছু চলছে, আরও সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নিলে তারাও সামনের দিনে আমাদের টপকে যাবে।’

সিমের ধাক্কা লাগেনি ইন্টারনেটে

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনন্টেন্ট কাউন্সিলর : বায়োমেট্টিকের প্রভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছে মোবাইল ফোনের সক্রিয় সিম। এতে শুরুতে ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যায় একটু হেরফের হলেও বছরের শেষের দিকে ডেটা ব্যবহারে চমকই দেখা গেছে।

সিম নিবন্ধনে আঙ্গুলের ছাপ বাধ্যতামূলকের নতুন পদ্ধতি চালুর পর প্রতি মাসে যেখানে দফায় দফায় কার্যকর সিম সংখ্যা কমেছে, সেখানে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধিকে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে দেখছে খোদ অপারেটররাও।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাইজশনের পথে এগিয়ে যাওয়ার বড় একটি প্রমান এটি। সেদিন হয়ত আর বেশি দূরে নয়, যখন দেশে ইন্টারনেট সংযোগবিহীন একটা সিমও থাকবে না।

sim-internet use-techshohor

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি এখন পর্যন্ত সেপ্টেম্বর মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, এ সময় পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা ছয় কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার। এর মধ্যে ৯৪ দশমিক ১৮ শতাংশই মোবাইল ইন্টারনেট।

এর বাইরে এ সময়ে দেশে ফিক্সড ইন্টারনেট সংযোগ বেড়ে হয়েছে ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার। ওয়াইম্যাক্স সংযোগ আছে এক লাখ।

২০১৫ সালের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এ সময়ে দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বেড়েছে এক কোটি ২৭ লাখ ৪২ হাজার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধির হার ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে দেশে নতুন ইন্টারনেট সংযোগ বেড়েছিল এক কোটি চার লাখ ১৬ হাজার। ২০১৪ সালের প্রথম নয় মাসে সংযোগ বেড়েছিল মাত্র ৬৪ লাখ ৯১ হাজার।

চলতি বছর আলোচিত সময়ে ফিক্সড ইন্টারনেট সংযোগ বেড়েছে ১২ লাখ ৭৬ হাজার। মোট সংযোগের সঙ্গে তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫০ শতাংশ।

অন্যদিকে এক লাখ ৪৮ হাজার সংযোগ নিয়ে বছর শুরু করেছিল ওয়াইম্যাক্স। তবে নয় মাসে গ্রাহক কমেছে ৪৮ হাজার।

ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়কে একটু ভিন্নভাবেই দেখছেন মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, যেভাবে প্রযুক্তিখাত বেড়ে উঠছে তাকে কোনো অবস্থাতেই সুষম বৃদ্ধি বলা চলে না।

তার মতে, দেশে মেট্টো নেটওয়ার্ক বলে কিছু নেই। এমনকি ঢাকা শহরের সব জায়গাতেও গ্রাহকরা ইন্টারনেটের সমান সুবিধা পান না। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যেই বড় ধরণের বৈষম্য সৃস্টি হচ্ছে।